ভালবাসি নিভৃতে

0
428
ভালবাসি নিভৃতে
Print Friendly, PDF & Email

ভালবাসি নিভৃতে

– আবুল ফাতাহ মুন্না

এক

‘তুমি কি আসলেই কখনো অবাক হওনা, নাকি সবসময় নির্লিপ্ততার ভাব নাও? ‘এটাই চারবছরের দাম্পত্য জীবনে রায়হানের প্রতি কবিতার একমাত্র অভিযোগ।
এবং এই অভিযোগটার জবাবে রায়হান বরাবর শুধু দুষ্টুমির একটা হাসি ঠোঁটে ঝুলিয়ে কবিতার দিকে তাকিয়ে থাকত।
একপর্যায়ে কবিতা যখন রাগে কোমরে হাত রেখে রায়হানকে চোখের আগুনে ভস্ম করার চেষ্টা করেও ব্যার্থ হতো, ঠিক তখনই একসাথে দুজনে হেসে ফেলত।ব্যাস, কবিতা তার জবাবটা কখনোই পায়নি।
প্র্যাকটিকাল একজন মানুষের সংজ্ঞা পুরোপুরি আরোপ করা যায় রায়হানের উপর।
বেশিরভাগ বাচ্চাই ছোটবেলা থেকেই নিজের ভবিষ্যৎ পেশা বেছে নেয়।অদ্ভুত সব পেশা। আইসক্রিমওয়ালা, বাস ড্রাইভার কিংবা ফায়ার সার্ভিসের লাল গাড়িতে চড়ে আকাশ পাতাল কাঁপিয়ে ঢং ঢং করতে করতে ছুটে যাওয়ার ইচ্ছা সব বাচ্চার মধ্যেই প্রবলভাবে কাজ করে।
রায়হানের মধ্যেও কি করত?করত।
তবে ওর পেশা আজগুবি ছিলোনা কখনোই।
একেবারে ছোট্ট থাকতে যখন ওর মা মারা গেল দুদিনের জ্বরে ভুগে, বিনা চিকিৎসায়, তখন থেকেই ডাক্তার হবার প্রচন্ড ইচ্ছা ওকে পেয়ে বসেছিল।
রায়হানের বাবা যখন ওদের ছেড়ে গিয়ে আরেকটা বিয়ে করেছিল তখন ওর জন্মও হয়নি।কেন যে কাজটা করেছিল বাবা তা কখোনোই জানতে পারেনি রায়হান।জানতে চায়ওনি।মৃত একজন মানুষের সন্তান ভেবে এসেছে সবসময় নিজেকে।
বাপ মা হারা হবার পর চাচার ঘরে মানুষ হতে গিয়ে পুরোপুরি বাস্তববাদী হয়ে গেল কিংবা হতে হল রায়হানকে।
দুঃখের গল্প উপন্যাসের মত ওর চাচা চাচি “খল ” ছিলেননা।কিন্তু মধ্যবিত্ত এই দম্পতিরও তো তিনটে সন্তান ছিল।ছয়জনের এই সংসারটা টানতে গিয়ে চাচার পাশাপাশি রায়হানকেও ঘাম ঝরাতে হত।পড়াশোনার পাশাপাশি রোজগারের চিন্তা ওকে আবেগপ্রবণ হতে দেয়নি।
আজ ত্রিশ বছরের রায়হান একজন প্রতিষ্ঠিত ডাক্তার। চাচা চাচি অনেকদিন আগেই দুনিয়া ছেড়েছেন।ও কিন্তু এতটুকুও কাঁদেনি তখন।
শেষ কান্না ছিল ওর মা মারা যাবার সময়।এরপর আর নিজেকে ছোঁবার অনুমতি ও দুঃখ কষ্টকে দেয়নি।কখন যেন অজান্তে এ নিষেধাজ্ঞার আওতায় বাঁধা পড়ে গেছে আনন্দ উত্তেজনাগুলোও।
এমন নয় যে,ওর মধ্যে অনুভূতিগুলো নেই।আছে।নেই শুধু সেগুলোর বাঁধভাঙা বহিপ্রকাশ।
মাঝেমাঝে ওরও চিৎকার করে কাঁদতে ইচ্ছে করে।ইচ্ছে করে আনন্দের আতিশয্যে প্রাণখোলা হাসি দিতে।কিন্তু পারেনা ও, কখনোই পারেনা।শুধু একটা নির্লিপ্ত হাসি দিয়েই সব সেরে ফেলতে চায়।
ও বিস্মিতও হয়, যেমনটা হয়েছিল কবিতাকে প্রথম দেখায়।
কবিতা ওর এক স্যার, ডাঃ আশরাফের একমাত্র মেয়ে।
ডাঃ আশরাফ যেদিন প্রথম রায়হানকে দেখেন সেদিনই ওর প্রতি একধরনের মমতা অনুভব করেন।ভাবলেশহীন এই ছেলেটার মধ্যে কি যেন একটা দেখতে পেয়েছিলেন তিনি।একটা স্পৃহা, একটা প্রত্যয়।যার জোরেই হয়ত পড়াশোনা শেষ হবার দুবছরের মধ্যেই নিজের অবস্থান মোটামুটি নিশ্চিত করে ফেলেছিল রায়হান।
একদিন তিনি নিজেই ওর কাছে তাঁর মেয়েকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে বসেন।
পুরোপুরি বাস্তবাদী হওয়ায় ও মেয়ে দেখতে রাজি হয়ে যায়।
ওর আত্মীয় বলতে ওর চাচাতো ভাই বোনেরা।তাদেরও কোনো খোঁজখবর নেই ওর কাছে।বিয়ে শাদী হয়ে যাওয়ায় সবাই একেকটা বিচ্ছিন্ন দ্বীপে পরিণত হয়েছে। ওর কোন বন্ধুও নেই।রসকষহীন একটা মানুষকে কে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করবে?বন্ধু হতে হয় উচ্ছল, প্রানবন্ত।
রায়হান একাই গিয়েছিল পাত্রী দেখতে।
সাধারণ সৌন্দর্যের সংজ্ঞায় কবিতাকে ঠিক সংজ্ঞায়িত করা যায়না।ওর রুপে কি যেন একটা আছে, যা মানুষকে চমকে উঠতে বাধ্য করে।
রায়হানও প্রথমবার কবিতাকে দেখে বিস্মিতই হয়েছিল।তবে সবসময়ের মত একটা মুখোশ এঁটে রেখেছিল মুখটায়।
আর কবিতা? রায়হানের চোখে নিজের সর্বনাশ দেখে ফেলেছিল ও।রাজপুত্তুরের মত এই আত্মভোলা মানুষটার প্রেমে ও সেদিনই পড়ে গিয়েছিল।
ওদের বিয়ে হয়ে যায়।
বিয়ের প্রথম দিন থেকেই ওর প্রতি রায়হানের ভালবাসা অনুভব করতে শুরু করে কবিতা। সেটা এতটাই গভীর যেন শরীর আছে।ও ইচ্ছে করলে ছুঁয়েও দিতে পারবে।তবে কখনো কখোনো এই ভালবাসার জাহির না দেখে অস্থিরও হয়ে উঠত।
বাসররাতের কথাই ধরা যাক। বাসররাতে বকবক করে স্বামীর কানের বারোটা বাজিয়ে দেবার একটা পরিকল্পনা বহু আগে থেকেই ছিল কবিতার।
কিন্তু রায়হান কি করল?
রুমে ঢুকে ওর সামনে বসে একদৃষ্টে তাকিয়ে রইল কবিতার দিকে।
কি লজ্জাটাই না পেয়েছিল কবিতা! কি ধরনের অসভ্যতা এটা!
মাথা নিচু করে আছে কবিতা। মুখ তুলে একটা ভেংচি কেটে দিলে খুব বেশি খারাপ হবে কিনা ভাবছিল।এমনসময় ওকে অবাক করে দিয়ে রায়হান বলল, ‘আমার না খুব ঘুম পাচ্ছে।আমি শুয়ে পড়ি? ‘
এরপর কবিতার জবাবের অপেক্ষা না করেই পাশ ফিরে শুয়ে পড়ল রায়হান।
খানিকটা হকচকিয়ে গিয়েছিল কবিতা।এটা কি হল!
তবে শোয়ার তিন মিনিটের মাথায় বাচ্চাদের মত গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন রায়হানের মুখের দিকে তাকিয়ে অপার্থিব কিছু একটা অনুভব করল ও।জানেনা এর উৎস কোথায়।
মানুষটাকে সারাজীবন অনেক দুঃখ সইতে হয়েছে। বাকিটা জীবন তাকে আগলে রাখার প্রতিজ্ঞা ঠিক তখনই করে ফেলে কবিতা।

দুই

জোছনায় ভেসে যাওয়া একটা রাত। একেই বোধহয় নেশা ধরানো জোছনা বলে।রায়হান আর কবিতা ওদের ছোট ফ্ল্যাটের ততধিক ছোট্ট বারান্দায় দাড়িয়ে কফি খাচ্ছে।কফি খুবই প্রিয় একটা জিনিস রায়হানের।প্রতিদিন চেম্বার থেকে ফিরে রাতের খাবার খেয়ে কবিতার হাতের এককাপ কফি না হলে ঘুমাতে পারেনা ও।
কফি তেমন একটা পছন্দ না করলেও এই মুহুর্তটুকু খুব বেশি প্রিয় কবিতার।অনেক কিছুই ও ছাড়তে পারে এই কয়েকটা মিনিটের জন্য।
যেদিন আকাশে চাঁদের বাহুল্য থাকে সেদিন কবিতার উচ্ছ্বাস বাঁধভেঙে যায়।উচ্ছ্বাসটা হয়ত স্পর্শও করে যায় রায়হানকে।
কফি খাবার একপর্যায়ে কবিতা বাচ্চাদের মত বলে উঠল, ‘দেখো, কত্ত আলো চাঁদটার! ‘
‘কোথায়? এর চাইতে আমাদের বাথরুমের লাইটটাতে তো বেশি আলো হয়! ‘হাই চাপতে চাপতে বলল রায়হান।
চমৎকার একটা রসিকতা এটা হতেই পারত।কিন্তু মুশকিল হল কথাগুলো রায়হান রসিকতা করে বলেনি!
এখানেই কবিতা ক্ষেপে ওঠে, ‘তুমি কি আসলেই কখনো অবাক হওনা নাকি সবসময় নির্লিপ্ততার একটা ভাব নাও।’
তবে কখোনোই কি কবিতা রায়হানের এই স্বভাবটাকে মনে মনে কৃতজ্ঞতা জানায়নি?
জানিয়েছে।যখন বিয়ের তিনবছর পার হবার পরও ওদের সংসারে নতুন কোনো অতিথির আগমন ধ্বনি পাওয়া গেলোনা তখন ডাক্তারের কাছে যায় ওরা। রিপোর্টে জানা গেল, কবিতা কখনোই মা হতে পারবেনা। সমস্যাটা ওরই।
রায়হান না বলা সত্বেও কথাটা জেনে বাচ্চাদের মত হাউমাউ করে কেঁদেছিল কবিতা।পাগলের মত হয়ে গিয়েছিল।
রায়হান তখন সান্ত্বনার কয়েকটা কথাই শুধু বলেছিল কবিতাকে।
সেদিন সত্যি সত্যিই কবিতা রায়হানের এই নির্লিপ্ততায় কৃতজ্ঞ হয়।রায়হানের জায়গায় অন্য কেউ কি এতবড় ধাক্কাটা নিতে পারত?এই “অপরাধের “জন্য কি শাস্তি পেতে হতনা কবিতাকে? জানেনা ও।শুধু জানে নির্লিপ্ত এই মানুষটার নীরব সাহচর্য সেই দুঃসহ দিনগুলোতে কতবড় অবলম্বন হয়ে ছিল।
একপর্যায়ে যখন কবিতার মানসিক বৈকল্য দেখা দিতে লাগল তখন আবার ডাক্তারের কাছে গেল ওরা।এবার জানা গেল, আগের রিপোর্ট ভুল ছিলো, ওদের কারো কোনো সমস্যা নেই।দেরীতে হলেও ওরা সন্তানের মুখ দেখতে পারবে।এখন শুধু করূণাময়ের করূণার অপেক্ষা।
এরপর থেকে নিয়মিত নামাজ পড়তে শুরু করে ওরা দুজনেই।
এর ঠিক দুমাসের মাথায় নিজের মধ্যে অন্য কারো অস্তিত্ব স্পষ্টই অনুভব করতে পারে কবিতা।
একরকম নিশ্চিতই ছিল কবিতা,এই খবরটা শুনে অন্তত রায়হান ওর গাম্ভীর্যতা ধরে রাখতে পারবেনা।
খবরটা শুনে যখন রায়হান কবিতাকে কোলে নিয়ে নাচতে শুরু করবে, তখন কবিতা কপট রাগের ভঙ্গি নিয়ে কি বলবে সেটাও ঠিক করে ফেলেছিল ও মনে মনে।
সেদিন রাতে কফির মগ নিয়ে ওরা বারান্দায় দাড়ানোর পর লাজুক গলায় কবিতা বলে, ‘ আমি তোমাকে একটা উপহার দেব।’
‘দাও ‘নিস্পৃহ গলায় বলল রায়হান।
‘কিছুদিন দেরি হবে ‘।
‘ও আচ্ছা। ‘
‘ও আচ্ছা আবার কি, এবার কবিতার গলা খানিকটা অধৈর্য শোনায়।’জিজ্ঞেস করলে না কতদিন দেরী হবে? ‘
‘ও তাইতো, বল কতদিন পর দেবে আমার উপহার। ‘
‘দশমাস দশদিন পর। ‘
কবিতা ওর চারবছরের বিবাহিত জীবনে সেবারই প্রথম রায়হানের চোখে কিছুটা বিস্ময় দেখতে পেয়েছিল। কিছুক্ষন কোনো কথা না বলে কবিতার দিকে তাকিয়ে রইল রায়হান।
একটু পর কবিতার একটা হাত তুলে নিয়ে রায়হান বলল, ‘এবার তুমি বলো, তুমি আমার কাছে কি চাও।যা খুশি চাইতে পারো আজ তুমি। ‘
কিছুই চায়নি কবিতা।শুধু অপলক তাকিয়ে ছিল রায়হানের চোখে। সে চোখে এক সমূদ্র ভালবাসা। শুধু সেটার প্রকাশ নেই, কবিতাকে অনুভব করে নিতে হয় সবসময়।
অনুভব করে নিতে হয়েছে পরবর্তী নয়টা মাসও।এতটুকু ভারী কাজ করতে দিতনা রায়হান কবিতাকে।চেম্বার থেকে ফিরে আসত সন্ধ্যা হতে না হতেই।সারাদিন রায়হানের অসংখ্য মেসেজ আর কল কবিতার ফোনটাকে ব্যাস্ত রাখত।
রাতের খাবারটা রায়হানই তৈরী করে কবিতার মুখে তুলে দিত।

তিন

আজ কবিতাদের ঘরে নতুন অতিথি আসবে।সকালবেলাই পেইন ওঠে কবিতার।সঙ্গে সঙ্গে অ্যাম্বুলেন্সে খবর দেয় রায়হান।
প্রায় ঘন্টাখানেক আগে ওটিতে ঢুকেছে কবিতা।সব কিছু খুব স্বাভাবিক।রায়হান ওটির সামনে হাঁটাহাঁটি করছে।
গর্ভধারণের পুরোটা সময় কবিতার অবস্থা ততটাই ভাল ছিল, এসময়টাতে যতটা ভাল থাকা যায়।
রায়হানের অত্যন্ত পরিচিত এক ডাক্তার কবিতার অপারেশনটা করছেন।
আল্ট্রসোনোগ্রাম থেকে জানা গেছে ওদের নতুন অতিথি একটা রাজকন্যা!
রাজকন্যার অপেক্ষায় ওটির বাইরে পায়চারি করছে রায়হান।একটা অস্থিরতা ওর মধ্যে কাজ করলেও সেটা গোপনই থাকছে।
ওটিতে ঢোকার আগমূহুর্তে অদ্ভুত একটা হাসি দিয়েছিল কবিতা রায়হানের দিকে তাকিয়ে। হাসিটা খুব বেশি মনে পড়ছে।
কিছুক্ষন পর ডাক্তার বেরিয়ে এলেন।মুখে এখনও সার্জিক্যাল মাস্ক থাকাতেই হয়ত তাঁর অভিব্যক্তিটা ঠিকমত পড়তে পারলনা রায়হান।
‘রায়হান তুমি ভেতরে যাও। ‘
কেমন আছে ওরা?’ একটু বোধহয় ব্যাকুলতা ফুটে উঠল রায়হানের গলায়।
চুপ করে আছেন ড.মাহমুদ।
‘কি ব্যাপার ডক্টর? ‘এবার যথেষ্ঠই অস্থির শোনাল রায়হানের কন্ঠ।
‘আচ্ছা,’ধীরে ধীরে মুখ থেকে মাস্কটা সরিয়ে জানতে চাইলেন ড.মাহমুদ, ‘ কবিতার ডেলিভারীর ডেট কবে ছিল? ‘
‘পনেরোদিনের মত বাকি আছে এখনও, কেন? ‘
‘আজ এগজ্যাক্টলি কি হয়েছিল কবিতার? ‘
‘সকালে বাথরুমে গিয়েছিল।কিছুক্ষন পর এসে জানাল ,ওর নাকি পেইন শুরু হয়েছে ,ব্লিডিংও নাকি হচ্ছে।পরে আমি অ্যাম্বুলেন্স খবর দেই। ‘
‘আমার ধারণা সকালে ও বাথরুমে গিয়ে বড় ধরনের আঘাত পেয়েছে।পড়ে টড়ে গিয়েছিল হয়ত’ বললেন ড. মাহমুদ।
‘আমাকে তো কিছু বলল না ও। ‘
‘তুমি টেনশন করবে ভেবে হয়ত কিছু বলেনি।তবে আঘাতটা গুরুতর। ইন্টারনাল হেমারেজ হয়েছে। ‘
‘তো? ‘
‘দেখো,তুমি তো একজন ডাক্তার, ব্যাপারটা ভাল বুঝবে। মনটা শক্ত করো। ‘
‘প্লিজ, ভনিতা করবেন না। ‘চাপা গলায় গর্জে উঠল রায়হান।
‘আমি খুবই দুঃখিত, আসলে. . . .আমরা কাউকেই বাঁচাতে পারিনি।

পরিশিষ্টঃ

ওটিতে তিনজন মানুষ। একজন জীবিত, দুজন মৃত।
রায়হান কবিতা আর ওর রাজকন্যার পাশে বসে অঝোরে কাঁদছে।পুরো ফ্লোরে কান্নার সে আওয়াজ বিষাদ ছড়িয়ে দিচ্ছে। হাসপাতালে কান্নার আওয়াজ নতুন কিছু না, কিন্তু রায়হানের কান্না সবার অন্তরাত্মা কাঁপিয়ে দিচ্ছে কেন যেন।
আজ আর কবিতার কোনো অভিযোগ থাকবার কথা না।
আজ রায়হান অবুঝ বাচ্চাদের মত ডুকরে ডুকরে কাঁদছে। ওর দুচোখে রাজ্যের বিস্ময় ,অবিশ্বাস ,হৃদয় মোচড়ানো কষ্ট,সবই আছে।নেই শুধু কবিতা।
কবিতা বেঁচে থাকলে আবেগের এই চরম বহিপ্রকাশে খুশি হত কি?কে জানে।

আরও জানুন » ডাইনীর চোখে জল »

জন্ম ৭ এপ্রিল ১৯৯১। আদি নিবাস সিরাজগঞ্জ হলেও বেড়ে ওঠা, পড়াশোনা ফরিদপুর শহরে। লেখালেখির শুরু ছয় বছর আগে, থ্রিলার উপন্যাস দিয়ে। রহস্য সাহিত্যের দিকেই ঝোঁকটা বেশি। এখন পর্যন্ত লিখেছেন অসংখ্য ছোটগল্প, বেশ কিছু উপন্যাসিকা এবং ছ’টি উপন্যাস। প্রথম একক উপন্যাস গ্রন্থ ‘প্রহর শেষে’।

Comments

comments