উরুর সংযোগস্থলে অস্বস্তিকর চুলকানি রোগ ও ৮টি প্রতিকার

0
4633
উরুর সংযোগস্থলে অস্বস্তিকর চুলকানি
উরুর সংযোগস্থলে অস্বস্তিকর চুলকানি
Print Friendly, PDF & Email

চুলকানি খুব সাধারণ অসুখ মনে হলেও বিরক্তিকর ও অসহনীয় সমস্যার মধ্যে অন্যতম সমস্যা হলো চুলকানি। চুলকানি এতোটাই অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে ফেলে যে লোক-লজ্জা ভুলে যায় যেটা মুখে ব্যাখ্যা করা সম্ভব না। সাধারণ চামড়ার বাইরের অংশে, নখের ফাঙ্গাল ইনফেকশনের কারণে এই রোগটি দেখা যায়। এই রোগটি শরীরের কোন একটি অংশে হলে অন্যান্য অংশেও খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এছাড়া এটি বিভিন্নভাবে অন্যের শরীরেও ছড়িয়ে যায় তাই এর প্রতিকার পেতে উপায় সমূহ-

চুলকানি বা দাদ কি?

চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় চুলকানি সমস্যা কে বলা হয় “জক ইচ” এক প্রকার রিং ওয়ার্ম বা দাদ। জক ইচ হওয়ার মূল কারণ হচ্ছে ফাঙ্গাস। চামড়ার উপরিভাগেই ছত্রাক আক্রমণ করে থাকে। আমাদের শরীরের আর্দ্র স্থান যেমন কটিসন্ধি, উরু বা রানের সংযোগস্থল এবং নিতম্বে এই ফাঙ্গাস বা ছত্রাক বেশি জন্মায়। সাধারণত শরীরের এই স্থানগুলোতে ঘাম বেশি হয়, এবং তৈলাক্ত থাকার কারণে ফাঙ্গাস তার উপযুক্ত পরিবেশ পেয়ে যায় তার বংশ বৃদ্ধি করতে।

চুলকানি রোগের বাহক

এই রোগের ভাইরাস বিভিন্নভাবে এক শরীর থেকে অন্য শরীরের ছড়িয়ে পড়তে পারে। ব্যবহৃত পোশাক, পানি, বিছানা ইত্যাদি এর বাহক হিসেবে কাজ করে। দুই রানের বা উরুর মধ্যবর্তী স্থানে অস্বস্তিকর চুলকানি রোগে আক্রান্তদের মধ্যে পুরুষের সংখ্যাই বেশি থাকে।

চুলকানি বা দাদ রোগের লক্ষণগুলো কি কি?

১. উরুর সংযোগস্থল ও নিতম্বে তীব্র চুলকানি ভাব অনুভূত হওয়া।

২. লাল বা খয়েরি রঙয়ের র‍্যাশ ও পানি ভর্তি ফুসকুড়ি দেখা দেয়া।

৩. চুলকানোর পর এই পানি ভর্তি ফুসকুড়িগুলো ফেটে যাওয়া।

৪. আক্রান্ত স্থানে পানি ছোয়া মাত্রই প্রচন্ড জ্বালাপোড়া হওয়া।

৫. আক্রান্ত স্থান কালো এবং শুষ্ক হয়ে যাওয়া।

এর বিরুদ্ধে প্রতিকার ও প্রতিরোধের উপায় গুলো
১. জীবাণুনাশক সাবান ব্যবহার

চুলকানির স্থান প্রতিদিন পরিষ্কার করতে হবে। কোন অবস্থাতেই অপরিষ্কার থাকা যাবে না। গোসলের সময় জীবাণুনাশক সাবান দিয়ে আক্রান্ত স্থান ভালভাবে ধুয়ে ফেলুন এবং অবশ্যই লক্ষ্য রাখুন সাবানটি যেন আপনার পরিবারের অন্য কোন সদস্য ব্যবহার না করে। নাহলে তারাও এতে আক্রান্ত হবে।

২. অন্তর্বাস ব্যবহার

প্রতিদিন পরিষ্কার অন্তর্বাস ব্যবহার করুন। প্রতিদিন নতুন অন্তর্বাস পরুন সম্ভব না হলে একদিন ব্যবহারের পরেই ধুয়ে পরিষ্কার করে ভালো ভাবে রোদে শুকিয়ে নিন।

৩. ক্ষতিকর অভ্যাস

চুলকাবেন না। যত বেশি চুলকাবেন ততই তা শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়বে। এছাড়া এটি আপনার অভ্যাসে পরিণত হয়ে যাবে, ফলে যখন-তখন বিব্রতকর অবস্থায় পরতে হবে।

৪. টয়লেট ব্যবহারের পর করনীয়

আক্রান্ত স্থান যথা সম্ভব শুষ্ক রাখার চেষ্টা করুন। প্রত্যেক বার টয়লেট ব্যবহারের পর, বেশি করে পানি ব্যবহার করার সাথ সাথে মুছে আক্রান্ত স্থান শুষ্ক রাখা।

৫. এন্টিফাঙ্গাল ক্রিম ব্যবহার

প্রতিদিন আক্রান্ত স্থানে এন্টিফাঙ্গাল ক্রিম ব্যবহার করুন। ফার্মেসিতে গিয়ে আপনার সমস্যার কথা গুলো খোলাখুলি বলে ঔষধ খোঁজ করুন। কিছু ওষুধ রয়েছে যা বিনা প্রেসক্রিপশনেই আপনি যে কোন ফার্মেসিতে পেয়ে যাবেন।

৬. সুতির অন্তর্বাস পরিধান

সুতির অন্তর্বাস পরিধান করুন। মনে রাখবেন অন্য কারো প্যান্ট, অন্তর্বাস পরিধান করা থেকে বিরত থাকুন।

৭. রোদে শুকানো

চুলকানি রোগ থাকা অবস্থায় আপনার বিছানাপত্র আলাদা করে রাখুন। এই রোগ সেরে গেলে বিছানাপত্র ও জামা কাপড় জীবানুনাশক দিয়ে গরম পানিতে সিদ্ধ করে কড়া রোদে শুকিয়ে নিবেন যাতে অন্য কেউ আক্রান্ত না হতে পারে।

৮. ঢিলে ঢালা পোশাক

বেশী টাইট পোশাক পরবেন না। গোপন অঙ্গে চুলকানি হলে ঢিলেঢালা পোশাক পরাই সবচাইতে ভালো।

আরও জানুন » স্পর্শকাতর অঙ্গের ১৭টি যত্ন »

আপনার হাতই আছে এ রোগের সবচেয়ে সহজলভ্য প্রতিকার তাই জানুন ব্যবহার করুন। আপনার সুস্থতাই আমাদের উদ্দেশ্য, ভালো থাকুন সব সময়।

আরও জানুন » দুর্গন্ধযুক্ত ঘাম থেকে মুক্তি পেতে ১১ টি কার্যকরী পরামর্শ »

Comments

comments