আল্ট্রাসনিক ফিঙ্গারপ্রিন্ট স্মার্টফোনের সুরক্ষা জোরদার করবে

0
98
আল্ট্রাসনিক ফিঙ্গারপ্রিন্ট স্মার্টফোনের সুরক্ষা
Print Friendly, PDF & Email

বহুল প্রচলিত স্মার্টফোন এখন সব ধরনের কাজেই ব্যবহার হয়ে আসছে। এমনকি আর্থিক লেনদেনের কাজেও এখন স্মার্টফোনের ব্যবহার পিছিয়ে নেই। তাই এসব কারণেই স্মার্টফোনের নিরাপত্তা নিয়ে এখন বাড়তি চিন্তা কাজ করছে প্রযুক্তিবিশ্বে।

এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের নজির দেখেছে প্রযুক্তিবিশ। এরই মধ্যে ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর থেকে শুরু করে নানা ধরনের বায়োমেট্রিক সেন্সর প্রযুক্তির মাধ্যমে ব্যবহার করার চেষ্টা চলছে।

এত প্রচেষ্টার পরেও নিশ্চিন্ত হতে পারছেন না প্রযুক্তি গবেষকরা। কেননা প্রচলিত বিভিন্ন পদ্ধতিরই সীমাবদ্ধতা বেড়িয়ে এসেছে এবং এসব পদ্ধতির দুর্বলতা কাজে লাগিয়ে হ্যাকিংয়ের ঘটনাও ঘটেছে। তাই স্মার্টফোনের সুরক্ষাকে আরও জোরদার করতে নানা ধরনের প্রযুক্তির পরীক্ষামূলক ব্যবহার থেমে নেই। তাই এই তালিকায় যোগ হলো আল্ট্রসনিক সেন্সরের মাধ্যমে ফিঙ্গারপ্রিন্ট স্ক্যানিংয়ে থ্রিডি ইমেজিং প্রযুক্তির ব্যবহার। প্রচলিত ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সরের মাধ্যমে ফিঙ্গারপ্রিন্ট স্ক্যান করলে একটি টুডি বা দ্বিমাত্রিক ইমেজ তৈরি হয়। ফলে আঙুলের একটি ছবি তুলে সেটিও ব্যবহার করার সুযোগ থাকে এই পদ্ধতিতে।

পুরাতন পদ্ধতির সীমাবদ্ধতা থেকে বেরিয়ে নতুন পদ্ধতি বের করেছেন প্রযুক্তি গবেষকরা। নতুন পদ্ধতিতে সেই সুযোগ থাকছে না। কেননা থ্রিডি ইমেজিংয়ের এই প্রযুক্তিতে ফিঙ্গারপ্রিন্ট স্ক্যান করে একটি ত্রিমাত্রিক বা থ্রিডি ইমেজ তৈরি করা হয়। এখানে আঙুলের রেখা কেবল নয়, আঙুলের প্রতিটি ভাঁজ বা খাঁজ এবং এর নিচের টিস্যুগুলোও উঠে আসে থ্রিডি ইমেজে। ফলে একে নকল করা দুঃসাধ্য একটি বিষয় বলেই জানিয়েছেন এই পদ্ধতির উদ্ভাবকরা।

উদ্ভাবকদের একজন ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, ডেভিসের ডেভিড এ হর্সলে তিনি বলেন, ‘স্মার্টফোনের জন্য পাসওয়ার্ড ব্যবহার নিয়ে শংকা ছিল আগে থেকেই। তাই স্মার্টফোনের সুরক্ষার জন্য বায়োমেট্রিক সলিউশনের ব্যবহার অনুমিতই ছিল। অ্যাপল তাদের আইফোনে ফিঙ্গারপ্রিন্ট ব্যবহারের ঘোষণা দেওয়ার পর আরও অনেকেই এই প্রযুক্তি দ্রুত আত্মীকরণ করবে সেটাও ছিল স্বাভাবিক। তবে এই ক্ষেত্রে আমাদের আল্ট্রাসাউন্ড বা আল্ট্রাসনিক প্রযুক্তির ব্যবহারকে নতুন সংযোজন বলতে হবে। চিকিৎসা খাতে যেভাবে আল্ট্রাসাউন্ডের ব্যবহার করা হয়, একইভাবে আমরা এখানেও আল্ট্রাসাউন্ডের ব্যবহার করেছি। ফলে চিকিৎসা খাতের জন্য আল্ট্রাসাউন্ড পরীক্ষার রিপোর্টকে যেভাবে নির্ভুলভাবে চিহ্নিত করা সম্ভব, এখানেও সেই নিশ্চয়তা রয়েছে। আর থ্রিডি ইমেজিং পদ্ধতির কারণে এর প্রতিরূপ তৈরি করাটা প্রকৃতপক্ষে অসম্ভবই। ফলে এই প্রযুক্তির ব্যবহার স্মার্টফোনকে নিরাপদ রাখতে সক্ষম।’ এই পদ্ধতিতে মূলত ব্যবহার করা হয়েছে মাইক্রো-ইলেক্ট্রো-মেকানিক্যাল সিস্টেম। আর এর জন্য তৈরি করা হয়েছে অত্যন্ত ক্ষুদ্রাকৃতির আল্ট্রাসাউন্ড ইমেজার। গবেষকরা আশা করছেন দ্রুতই স্মার্টফোন নির্মাতারা এই প্রযুক্তিকে নিয়ে আসবেন তাদের স্মার্টফোনে। স্মার্টফোনের সুরক্ষা ছাড়াও ভবিষ্যতে এই প্রযুক্তির ব্যবহার চিকিৎসা খাতে স্বল্পখরচে আল্ট্রাসাউন্ডের ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারে বলেও জানান তিনি।

আরও জানুন » মাইক্রোসফট দিচ্ছে বিনা মূল্যে উইন্ডোজ ১০ অপারেটিং সিস্টেম »

Comments

comments