সুমিষ্ট গন্ধ ও পুষ্টিগুণে পাকা আনারসের ১৪টি গুণ

0
552
পাকা আনারসের ১৪টি গুণ
পাকা আনারস
Print Friendly, PDF & Email

সারাবিশ্বে জনপ্রিয় ফলগুলোর একটি আনারস। আনারস বর্ষা কালীন ফল তবে এখন আনারস সারাবছরই পাওয়া যায়। প্রতিদিন খাদ্য তালিকায় যে কোনো একটি ফল থাকলে মন্দ হয় না। আর চাইলে প্রতিদিনের খাবারে আনারস রাখা যেতেই পারে। কাঁচা আনারস স্বাদে অম্ল। অম্ল মধুর রস, সুমিষ্ট গন্ধ ও স্বাদ এবং পুষ্টিগুণে পাকা আনারস ভরপুর ও অতুলনীয়। তাছাড়া এতে আছে এমন কিছু পুষ্টি উপাদান যা আমাদের শরীরের জন্যও প্রয়োজনীয়। 

আনারসের চাহিদা দেশ-বিদেশের বাজারে খুব বেশি। আনারস দিয়ে জ্যাম, জেলি, স্কোয়াশ, রস প্রভৃতি তৈরি হয় এবং তা বিদেশে প্রক্রিয়াজাত করা হয়। এছাড়া আনারস থেকে কোনো কোনো সময় অ্যালকোহল ভিনেগার, সাইট্রিক এসিড উৎপাদন করা হয়। এছাড়াও বিভিন্ন ধরনের খাবার রান্নায় ও সালাদে আনারসের ব্যবহার তো আছেই। আসুন জেনে নেওয়া যাক দেশীয় ফল আনারসের গুণগুলো কি কি-

১. মুখের রুচি বাড়াতে

ফল ও সবজিতে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বেশি পাওয়া যায়। আর আনারসেও রয়েছে প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। আনারস ক্ষুধা বর্ধক হিসেবে কাজ করে। তাই যে কোন অসুস্থ্যতার পরে মুখে যখন রুচি থাকে না, তখন কিন্তু আনারস খেতে পারেন।

২. জ্বর ও ব্যথা

গরম-ঠাণ্ডার জ্বর, জ্বর-জ্বর ভাব দূর করে এই ফল। এতে আছে ভিটামিন ‘বি’ কমপ্লেক্সের ফলেট,  থিয়ামিন, পাইরিওফিন, রিবোফ্লাভিন ব্যথা দূরকারী উপাদান। এটি দেহের গ্ল্যান্ড বা গ্রন্থিগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করে। তাই শরীরের ব্যথা দূর করার জন্য এর অবদান গুরুত্বপূর্ণ।

৩. কৃমি নাশক

আনারস কৃমিনাশক। কৃমি দূর করার জন্য খালি পেটে ( সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে ) আনারস খাওয়া উচিত।

৪. রক্ত সঞ্চালন করে

দেহে রক্ত জমাট বাঁধতে বাধা দেয় এই ফল। ফলে শিরা-ধমনির ( রক্তবাহী নালি ) দেয়ালে রক্ত না জমার জন্য সারা শরীরে সঠিকভাবে রক্ত যেতে পারে। হৃদপিন্ড আমাদের শরীরে অক্সিজেনযুক্ত রক্ত সরবরাহ করে। আনারস রক্ত পরিষ্কার করে হৃদপিণ্ডকে কাজ করতে সাহায্য করে।

৫. দাঁতের মাঢ়ি সুস্থ রাখে

এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি। জিহ্বা, তালু, দাঁত, মাড়ির যে কোনো অসুখের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে আনারস।দাঁতের মাঢ়ি সুস্থ ও মজবুত হয়।

৬. ওজন নিয়ন্ত্রণে করে

ওজন কমাতে আনারসের জুড়ি নেই।  ভাবছেন আনারস কিভাবে ওজন কমাবে! আনারসে ক্যালরির পরিমাণ খুবই কম, আর রয়েছে প্রচুর আঁশ। তাই ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রতিদিন সকালে কিংবা দুপুরে আনারস খেয়ে নিন।

৭. স্কিন ক্যান্সারে প্রতিরোধে

আনারসে রয়েছে প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। ক্যান্সার ও হৃদ যন্ত্রের নানা রোগ প্রতিরোধেও সাহায্য করে এই অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট।এটি ওভারিয়ান, ব্রেস্ট, লাং কোলন ও স্কিন ক্যান্সারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

৮. চুল ও হাড় মজবুতকরে

গবেষণা করে দেখা গেছে, আনারসে রয়েছে খনিজ লবণ ম্যাঙ্গানিজ, যা দাঁত,  হাড়, চুলকে করে শক্তিশালী।আনারসে থাকা খনিজ পদার্থ হাড়কে মজবুত করে। এক কাপ আনারসের রস পুরো শরীরের খনিজ পদার্থের ৭৩ শতাংশ পর্যন্ত পূরণ করতে পারে। সঙ্গে শরীরের অন্য অঙ্গগুলোকেও ভালো রাখে।

৯. মৃত কোষ ও ত্বক ব্রলিরেখা রোধ করে

এতে রয়েছে প্রচুর ক্যালরি, যা আমাদের শক্তি জোগায়। প্রোটিন খাবার এ ফলটি ত্বকের মৃত কোষ দূর করে, ত্বককে কুঁচকে যাওয়া থেকে বাঁচায়। আনারস টাটকা খাওয়াই ভালো।

১০. জ্বরের ও জন্ডিস রোগের উপকারী

আনারস জ্বরের ও জন্ডিস রোগের জন্য বেশ উপকারী। আর্থ্রাইটিস রোগ উপশমে সহায়তা করে।নিয়মিত আনারস খান এমন ব্যক্তিদের ঠাণ্ডা লাগা, গলা ব্যথা, সাইনোসাইটিসজাতীয় অসুখগুলো কম হয়।

১১. রূপলাবণ্যে বাড়াতে

আনারসে আছে ভিটামিন ‘বি’ কমপ্লেক্সের ফলেট, তৈলাক্ত ত্বক, ব্রণসহ সব রূপলাবণ্যে ধরে রাখে আনারস।

১২. হজমে সাহায্য করে

ক্ষুদ্রান্ত্রের জীবাণু ধ্বংসে আনারস খুবই উপকারী। দিন কিংবা রাতে খাবার শেষে আনারস খেতে পারেন ডসার্ট হিসেবে। আনারস হজমে সাহায্য করে।

১৩. কোষ্ঠ কাঠিন্যে দূর করে

যারা দীর্ঘদিন ধরে কোষ্ঠ কাঠিন্যে ভুগছেন. তারা নিয়ম করে আনারস খেতে পারেন। কোষ্ঠকাঠিন্য কমায় এবং মর্নিং সিকনেস অর্থাৎ সকালের দুর্বলতা দূর করে।

১৪. চোখের সমস্যায়

পাকা আনারস  ছোটদের চোখের সমস্যা  ও বার্ধক্যজনিত চোখের ত্রুটি প্রতিরোধে সাহায্য করে।

কিছু কিছু আনারস জ্বরের ও জন্ডিস রোগের জন্য বেশ উপকারী। দেহের তৈলাক্ত ত্বক, ব্রণসহ সব রূপ লাবণ্যে বজায় রাখতে আনারসের যথেষ্ট কদর রয়েছে। মোট কথা, দেহের পুষ্টি সাধন এবং দেহকে সুস্থ সবল ও নিরাময় রাখার জন্য আনারসকে একটি অতুলনীয় এবং কার্যকরী ফল বলা চলে।

আরও জানুন » পেটের মেদ কমানোর ৫ টি কার্যকরী পরামর্শ »

Comments

comments