শিশুদের মানসিক বিকাশে বেড়াতে নিয়ে যাওয়া

0
166
শিশুদের মানসিক বিকাশে বেড়াতে নিয়ে যাওয়া
শিশুদের মানসিক বিকাশে বেড়াতে নিয়ে যাওয়া
Print Friendly, PDF & Email

শিশুর মানসিক স্বাস্থ্য গঠনে শিশুকে নিয়ে বেড়াতে যাওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিশুরা ফুলের মতোই কোমল হয়। ফুল যেমন অনুকূল পরিবেশ না পেলে সময়ের আগেই ঝরে যায়, তেমনি শিশুরা বেড়ে ওঠার প্রয়োজনীয় পরিবেশ না পেলে তাদের বিকাশ সুষ্ঠুভাবে হয় না। খেলাধুলা বা বেড়ানো শিশুর বিকাশের জন্য প্রয়োজনীয় একটি বিষয়। মফস্বলের শিশুরা তবুও খেলার জন্য মাঠ পেয়ে থাকে, কিন্ত ঢাকার মতো যান্ত্রিক নগরের শিশুরা খেলার এই সুযোগ থেকে বঞ্চিত। ঘরের এই বদ্ধ পরিবেশে শিশুর বিকাশ হবে না। পিতা-মাতার কাছে সন্তান অমূল্য সম্পদ। তাদের ঘিরেই থাকে সব স্বপ্ন।

জন্মের পর থেকেই শিশুর শিক্ষা শুরু হয়। শিশুর শিক্ষার প্রথম পাঠ শুরু হয় মায়ের কাছ থেকে তথা পরিবার থেকে। একটি শিশুকে গড়া মানে একটি জাতি গড়া। আর জাতি গড়ার এ মহান দায়িত্ব ন্যস্ত হয় বাবা-মা ও পরিবারের উপর।

ঢাকার অভিভাবকরা ছুটির দিনগুলোতে শিশুকে নিয়ে যেতে পারেন চিড়িয়াখানা, শিশুপার্ক, শিশুমেলা, ফ্যান্টাসি কিংডম, নন্দন পার্কে, জাদুঘর আর এতটুকু ঘুরার স্বাধীনতা খুব সহজেই হয়ে উঠতে পারে আপনার সন্তানের আদর্শ শিক্ষক, গড়ে দিতে পারে আপনার সন্তানের ভিত।

নিজের আনন্দ থেকে শুরু করে শিশুর যত্নের সরঞ্জাম কিছুই বাদ না পরে যায়। তাই শিশুকে নিয়ে যেখানেই বেড়াতে যান না কেন কয়েকটি বিষয়ে লক্ষ্য রাখবেন। এগুলো হল-

১. পরিকল্পনা করা 

বেড়াতে যাবার বেশ কিছুদিন আগে থেকেই শুরু করে দিন পরিকল্পনা। ঘুরতে যাওয়ার বিষয়ে বাচ্চাদের পরামর্শ চাওয়া, কোথায় গেলে ভালো হয়, কিভাবে গেলে ভালো হয় ইত্যাদি বিষয়ে তাদের মতামত চাওয়া। এতে সন্তানদের দায়িত্ববোধ, গুরুত্ববোধ, সৃষ্টিশীলতা বৃদ্ধি পায়।

২. গোছগাছ করার তালিকা 

অনেক সময় দেখা যায়, তাড়াহুড়ো করে অনেক গুরুত্বপূর্ন জিনিসই বাদ পড়ে গেছে। এই বিড়ম্বনা এড়াতে আগেভাগে তালিকা করুন জরুরী সব জিনিসের।

৩. প্রয়োজনীয় জিনিস

ছোট শিশুকে নিয়ে বের হলে তার প্রয়োজনীয় জিনিস ও বাড়তি কাপড় অবশ্যই সাথে নিন। বেড়ানোর স্থানের অবস্থাভেদে শিশুর পোশাক, খাবার সবকিছু গুছিয়ে সঙ্গে নিয়ে নিন।

৪. শিশুর খাবার

শিশুরা বাইরের খাবার পছন্দ করলেও এটা তাদের জন্য ক্ষতিকর। তাই বাইরের খাবার যতটা সম্ভব কম খেতে দিন। সীমিত তরল খাবার যাত্রাপথে শিশুকে তরল খাবার দিন সীমিত পরিমাণে। আর যাত্রাপথে সাথে রাখুন হ্যান্ড স্যানিটাইজার, টিস্যু ইত্যাদি জিনিসপত্র।

৫. সর্তকতা অবলম্বন

পার্কে গেলে শিশুদের জন্য ক্ষতিকর এমন রাইডে আপনার সন্তানকে চড়তে দেবেন না। রাগারাগি না করে তাকে বুঝিয়ে বলুন, কেন এটাতে চড়া যাবে না। চিড়িয়াখানা গেলে যেন খাচার খুব বেশি কাছে না যায় লক্ষ্য রাখা।

৬. সঠিক তথ্য  

শিশুরা পরিবেশ থেকে শেখে আপনি যা শিখাবেন তাই শিখবে। জাদুঘর বা শিক্ষামূলক কোনো স্থানে গেলে শিশু যাতে ভুল তথ্য না পায় সেদিকে লক্ষ্য রাখবেন। কারণ শিশুকে নির্ভুল তথ্য জানানো আপনার দায়ীত্ব।

৭. আচরণ 

শিশুরা অনুকরণ করে আর শিশুর ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে এমন কোনো আচরণ শিশু সাথে থাকাকালীন ভুলেও করবেন না। আপনার সন্তানকে দেয়া সময় আপনাদের সম্পর্ককে আরো সহজ ও দৃঢ় করবে। আপনার প্রতি তার ভালবাসা ও শ্রদ্ধা – দুটোই বাড়বে। একই সাথে এই বিনোদনটুকু শিশুর বর্ধন ও বিকাশে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

মনে রাখতে হবে শিশুরাই একটি দেশ, সমাজ ও জাতির ভবিষ্যত কর্ণধার। তাই এরাই সবচেয়ে বেশী গুরুত্ব পাওয়ার দাবীদার।

আরও জানুন » পরীক্ষায় ভালো ফল করতে ১০টি পরিক্ষীত কৌশল »

Comments

comments