শেষ বসন্তে ৫টি রোগ ও তার প্রতিকার

0
175
শেষ বসন্তে ৫টি রোগ ও তার প্রতিকার
শেষ বসন্তে ৫টি রোগ ও তার প্রতিকার
Print Friendly, PDF & Email

চৈত্রের তাপপ্রবাহ ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে। এ সময় দেখা যায় রাত যত গভীর হয়, তত ঠাণ্ডার মাত্রাটা বাড়তে থাকে। আবার দুপুর থেকে বাড়তে থাকে তাপমাত্রা। এই যে আবহাওয়ার এই লুকোচুরি খেলা চলছে এটা বসন্তকালেরই বৈশিষ্ট্য। এই না ঠান্ডা , না গরম এই আবহাওয়াটা খুব ভালো লাগলেও, বসন্তকাল এলেই কিন্তু নানা রোগের প্রকোপ বেড়ে যায়। সেই সাথে বাড়ে ঝড়ো বৃষ্টির সম্ভাবনা। ঋতুর এমন পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে তাপমাত্রার ওঠানামায় প্রকৃতিতে পরিবর্তন ঘটে। ফলে এ সময়টায় নানানরকম ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে। সংক্রামক ভাইরাসের আক্রমণ হয় শরীরে।

বসন্তকালে হঠাৎ শীত ও হঠাৎ গরম এই তাপামাত্রার লুকোচুরি খেলা আমাদের শরীর মানিয়ে নিতে পারেনা। তাই শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও কমে যায়। আসুন জেনে নেয়া যাক শেষ বসন্তে ৫টি রোগ ও তার প্রতিকার সম্বন্ধে-

১. জ্বর সর্দি

যেহেতু দুপুর বেলা এখন বেশ গরম পড়ছে তাই সবাই ধরে নিয়েছে শীত চলে গেছে। তাই রাতের বেলা অনেকেই শীত নিবারণের ব্যবস্থা রাখছেন না। সন্ধ্যায় গরম পড়ার কারণে অনেকেই সাধারণ কাপড় চোপড় পরিয়ে শিশুদের রাতে ঘুম পাড়াচ্ছেন। কিন্তু ভোর রাতে যখন তাপমাত্রা নেমে যাচ্ছে তখন শিশুর ঠাণ্ডা লেগে যাচ্ছে। ফলে আক্রান্ত হচ্ছে জ্বরসহ শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণে। নিউমোনিয়া কিংবা টাইফওয়েডও হতে পারে। এ অবস্থায় খুব দ্রুত চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যেতে হবে।

 ২. চোখের সমস্যা

প্রকৃতিতে এখন শুধুই ফুলের মেলা। এ সময় ফুলের রেণু বাতাসে ভেসে বেড়ায়। আর কারণ হয়ে দাঁড়ায় চোখের অ্যালার্জির। আমাদের ভোগায়। অ্যালার্জিক কনজাঙ্কাইভাইটিসে চোখ লাল হয়ে যায়। পানি পড়ে। থাকে অসহ্য চুলকানি। সবচেয়ে বেশি ভোগে তাঁরা, যাঁদের পারিবারিক অ্যালার্জির ইতিহাস থাকে।

 ৩. ডায়রিয়া

চৈত্রের শুরুতে ডায়রিয়ার প্রকোপ বাড়তে থাকে এবং আশ্বিনের পর তা কমতে থাকে। এর কারণ গরমে পিপাসা মেটাতে গিয়ে অধিকাংশ লোকজনই যত্রতত্র দূষিত পানি পান করে থাকেন। মূলত দূষিত পানি এবং বাজারের খোলা খাবার ও শরবত পান করার কারণেই বছরের এই সময়টাতে ডায়রিয়ার প্রকোপ বেড়েছে।

বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, ডায়রিয়াই নয়, দূষিত খাবার ও পানিবাহিত অন্যান্যরোগ যেমন টাইফয়েড, হেপাটাইটিসসহ বিভিন্ন ধরনের পেটেরপীড়ার প্রকোপও বেড়ে যায়।

৪. হিট স্ট্রোক

সাধারণত এ সময়ে বয়স্ক ও শিশু কিংবা দীর্ঘমেয়াদি রোগাক্রান্ত ব্যক্তিদের হিট স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি। তবে শ্রমিক, রিকশা ও ভ্যানচালক এবং যাদের প্রখর রোদে কাজ করতে হয়, তাদের হিট স্ট্রোক হওয়ার আশঙ্কাই বেশি। আক্রান্ত ব্যক্তি শারীরিক দুর্বলতা, বমি, মাথা ঘোরা, চোখে ঝাপসা দেখা, খিঁচুনি, এলোমেলো কথা বলা ইত্যাদিসহ একপর্যায়ে অচেতন হয়ে পড়ে।

৫. চিকেন পক্স

এই সময় যেই রোগটি খুব বেশি হয় তা হল- চিকেন পক্স। চিকেন পক্স ভারী ছোঁয়াচে একটি রোগ। পরিবারে একজনের হলে এর থেকে অন্যদের মধ্যে এই ভাইরাস ছড়িয়ে পরতে পারে। তাই এ ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। চিকেন পক্স হলে শরীরে ছোট ছোট ফুস্কুড়ি পড়বে সাথে প্রচন্ড জ্বর। অনেকের কাপুনি দিয়ে জ্বরও আসে।

আরও কিছু লক্ষণের মধ্যে প্রচন্ড মাথা ব্যাথা, বমি বমি ভাব, পুরো শরীরে ব্যাথা, খিদে কমে যাওয়া এমনকি অনেকের থ্রোটও ছোট হয়ে যায় ফলে খেতে বা খাবার গিলতে কষ্ট হয়।

মনে রাখবেন প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ ভালো

১. হোটেলের বা বাইরের খাবার

হোটেলের বা বাইরের খোলা খাবা্রে উপকারের চে্যে ক্ষতি বেশি, তাই বাইরের খাবার এড়িয়ে চলুন। এই সময়ে বাড়ির খাবারই খাবেন।

২. বিশুদ্ধ পানি

পানি ফুটিয়ে ঠান্ডা করে খান, বাইরের পানি ভুলেও খাবেন না। এছাড়া অধিক ঠাণ্ডাপানির পরিবর্তে স্বাভাবিক তাপমাত্রার অথবা হালকা ঠাণ্ডাপানি পান করুন।

৩. চিকেন পক্স হলে করণীয়

চিকেন পক্স হলে গরম ও তাপদাহ থেকে যথাসম্ভব দূরে রাখতে হবে। নির্দিষ্ট সময় পরপর ভেজা কাপড়ে গা মুছে দেওয়া যেতে পারে। চিকেন পক্সের ভাইরাস যেহেতু দ্রুত ছড়িয়ে পরে তাই অপ্রাপ্ত বয়স্কদের বা যাদের এর আগে কখনও পক্স হয়নি অথবা টিকা দেয়া নেই তারা আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে দূরে থাকবেন।

৪. চোখ বাঁচাতে

ধুলোবালির জায়গা, ফুলের বাগান, পার্ক ইত্যাদি স্থানে কম যাতায়াত করুন। অবশ্য আমাদের তিলোত্তমা ঢাকার সর্বত্রই তো ধুলোবালু। তাই ঘরে ফিরে ভালোভাবে চোখ ধুয়ে নিন। পরিষ্কার পানি দিয়ে ঘন ঘন চোখ ধুয়ে ফেলুন। পানির ঝাপটা দিয়ে চোখ ধুয়ে ফেলুন।

৫. হিট স্ট্রোকে করণীয় 

আক্রান্ত ব্যক্তিকে দ্রুত ছায়াপূর্ণ স্থানে সরিয়ে নিতে হবে। শরীরের জামা-কাপড় খুলে গোটা শরীর ঠাণ্ডা পানিতে ভেজানো কাপড় দিয়ে বারবার মুছে দিতে হবে। এসব রোগীকে ফ্যানের বাতাসের নিচে রাখা যেতে পারে। হাত-পা এবং শরীরের সব মাংশপেশি ম্যাসেজ করতে হবে। শিরাপথে স্যালাইনের ব্যবস্থা করতে হবে। খুব দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে।

৬. পুষ্টিকর খাবার ও ভিটামিন সি

যেকোন রোগেই শরীরে খাদ্য ঘাটতি দেখা দেয়। তাই রোগ প্রতিরোধে পুষ্টিকর খাবার এই সময় বেশি খেতে হবে। ভিটামিন এ এবং সি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।

৭. টাটকা শাক সবজি

খাবারে প্রচুর টাটকা শাক সবজি রাখবেন বিশেষ করে বাঁধাকপি, গাজর, টমেটো, পালংশাক এই ধরনের সবজিগুলো খাওয়ার চেষ্টা করবেন। নিয়মিত ফলের রস খাওয়ার চেষ্টা করুন, যেমন- কমলার রস। কিন্তু ভুলেও বাইরের প্যাকেটের জুস খাবেন না। ঘরে তৈরি করা যায় এধরনের ফলের জুস খাবেন।

৮. মসলা যুক্ত খাবার

বেশি মশলা আছে এমন খাবার খাবেন না। এতে মুখে জ্বালাভাব আসতে পারে। নরম খাবার খাবেন, যেমন- আলু সেদ্ধ, স্যুপ, জাউ ভাত, দুধ ভাত নরম করে খেলে হজমের জন্যও ভালো হবে এবং এগুলো পুষ্টিকরও।

৯. পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা

গরমে প্রচুর ঘাম হওয়ায় পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা মেনে চলতে হবে। ঢিলেঢালা পোশাক পরিধান করা আবশ্যক। পোশাকের ক্ষেত্রে সুতির কাপড় পড়া সবচেয়ে ভালো।

১০. সূর্যের তাপে শরবত

সূর্যের তাপ থেকে রক্ষার পেতে এ সময় ডাব, লেবুর শরবত, বেলের শরবত, পেপের জুস, আখের রস কিংবা আখের গুড়ের শরবত স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী।

১১. ছাতা ব্যবহার

সূর্যের তাপ থেকে রক্ষার জন্য প্রয়োজনে ছাতা ব্যবহার করুন।

ঋতু পরিবর্তনের ফলে এধরনের অসুখ নতুন নয়। সবসময়ই তা দেখা যায়। তাই আগে থেকেই সাবধান হয়ে থাকুন।

আরও জানুন » উচ্চ শব্দে গান শোনার কারণে কানের শ্রবণশক্তি কমে যাচ্ছে – বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা » 

Comments

comments