রুপচর্চায় নখের যত্ন

0
763
রুপচর্চায় নখের যত্ন
Print Friendly, PDF & Email

সবাইকে শুভেচ্ছা। ত্বকের যত্ন ও রুপচর্চার ব্যপারে আমরা কম-বেশি সচেতন। কিন্তু নখের যত্নের ব্যপারে তেমনটি নয়। অথচ নখের যথাযথ যত্ন আপনার রূপচর্চার ক্ষেত্রে পূর্ণতা আনে। এবারের আলোচনায় তাই থকছে কিভাবে নখের যত্ন নিয়ে নিজেকে আরও সুন্দর ও আকর্ষণীয় করে তোলা যায়, সে নিয়ে কিছু কথাবার্তা। প্রথমেই আসা যাক নখ পরিষ্কার করার বিষয়ে দু’চার কথায়। নখে যদি নেল পালিশ লাগানো থাকে তবে তা তোলার জন্য ব্যবহার করুন অ্যাসিটোন ফ্রি রিমুভার। অ্যাসিটোন উপাদানের মধ্যে নানা ধরনের কড়া কেমিক্যাল থাকে, তাই ওই ধরনের কেমিক্যাল না ব্যবহার করাই ভাল। ৮-১০ দিন পর পর নেল পালিশ তুলে আবার লাগান। নেল পালিশ নখ ভাল রাখে, তাই নেল কালার লাগাতে না চাইলে অন্তত ট্রান্সপারেন্ট কালার ব্যবহার করুন। নখের ময়লা পরিষ্কার করার জন্য কুসুম গরম পানিতে হাত ডুবিয়ে রাখুন। ৩-৪ মিনিট ভিজিয়ে রাখলেই হবে। এতেই নখের ময়লা পরিষ্কার হবে। খুব বেশিক্ষন গরম পানিতে নখ ভিজিয়ে রাখলে দুর্বল ও ভঙ্গুর হয়ে যেতে পারে। সপ্তাহে দু’বার এটি করলেই চলবে। কুসুম গরম পানির মধ্যে সামান্য সুদিং ফ্রেগরেন্স, যেমন এসেনশিয়াল লোশন কিংবা হ্যান্ড লোশন মেশান। নখের রং হলুদ হলে সামান্য লেবুর রস মেশান। এতে নখের হলদেভাব দূর হবে। নখকে সুন্দর দেখানোর জন্য প্রতিদিন নেলব্রাশ দিয়ে নখ পরিষ্কার করুন। বিশেষ করে লম্বা নখ থাকলে অতি অবশ্যই প্রতিদিন এ কাজটি করতে ভুলবেন না। শুধু নখের ওপরের অংশ ব্রাশ না করে পেছনের দিকটিও ব্রাশ দিয়ে পরিষ্কার করুন। খুব শক্ত বা নরম ব্রাশ ব্যবহার কবেন না। নখ ঘষে মসৃণ করলে নখের আকৃতি সুন্দর হয়। নখের কোনের অংশ থেকে নেল ফাইলিং(নখ ঘষা)শুরু করুন। নখ কাটার সময়ও প্রথমে নখের কোনের অংশ কাটুন। তার পর নখের মাঝের অংশ কাটবেন। নখের যে কোন দিক ধরে নেল ফাইল করুন। আগে-পিছে নেল ফাইল করলে নখের ধারে অংশ নরম হয়ে ভেঙে যেতে পারে। অভাল,স্কোয়ার বা সফট স্কোয়ার শেপে নখ কাটতে পারেন। স্কোয়ার শেপের নখ, যার কোনের অংশগুলো রাউন্ড শেপের,সেই ধরনের নখ সহজে ভেঙে যায় না। বড় ও মোটা আঙুলে স্কোয়ার শেপের নখ খুব একটা ভাল লাগে না। যাঁরা সারাদিন অনেকটা সময় কম্পিউটারে কাজ করেন তাঁরা নিজের আঙুলের থেকে ১/৬ বা ১/৮ ইঞ্চি লম্বা আকারে নখ কাটুন। স্টিলের নেল ফাইলের পরিবর্তে এমেরি বোর্ড বেছে নিন। শক্ত নখের জন্য এমেরি বোর্ড ভাল কাজ করে। এটি ব্যবহারে নখের শেপ বজায় থাকবে। নখ সহজে ভেঙে যাবে না। নখের অবাঞ্চিত কিউটিকলস সফটনার বা জেল দিয়ে রিমুভ করুন।কিউটিকল রিমুভ করার সময় কিউটিকল পুশার ব্যবহার করলে দক্ষ কারও সহযোগিতা নেওয়াই ভাল। একান্তই নিজে পুশার ব্যবহার করলে নব্বই ডিগ্রি অ্যাঙ্গেলে পুশার হালকা হাতে ব্যবহার করুন। নখের উপর বৃত্তাকারভাবে রিমুভার কয়েক মিনিট মাসাজ করুন। নখের কোনের অংশ থেকে জেল রিমুভার করার জন্য অরেঞ্জ স্টিক ব্যবহার করুন। মোটা কিউটিকল থাকলে সপ্তাহে দু’বার কিউটিকল রিমুভ করুন। কিউটিকল রিমুভ করার সময় একটু লাগতে পারে,তবে যন্ত্রণা হবে না। রাতে ঘুমানোর আগে নখে কিউটিকল অয়েল মাসাজ করুন। কিউটিকলসের কাছে অয়েল দিয়ে হালকা করে মাসাজ করুন। গরমকালে দিনে একবার ও শীতকালে দিনে দু’বার ময়েশ্চারাইজার করা জরুরি। হাত ও পায়ের নখের জন্য হ্যান্ড বা নেল ক্রিম ব্যবহার করুন। ড্রাই কিউটিকলস বা নখ খাওয়ার অভ্যেসের কারণে নখের কোনের অংশের স্কিন নখ থেকে একটু একটু করে উঠে এসে। কখন কখনও নখের কোনে ব্যথা হয়। এই সমস্যাকে বলা হয় হ্যাংনেল। হ্যাংনেলের সমস্যা সহজে সারানো মুশকিল। এই সমস্যা সমাধান করতে হলে প্রফেশনাল কারও শরাণাপন্ন হওয়া উচিত। বিউটি পার্লারে মাসে অন্তত একবার ম্যানিকিওর কিংবা পেডিকিওর করতে পারলে ভাল হয়। অনেক সময় নখের মসৃণতা নষ্ট হয়ে গিয়ে নখ এবড়োখেবড়ো হয়ে যায়। একে বলে রিজডনেল। লম্বালম্বিভাবে অমসৃণ হলে খুব একটা চিন্তার কিছুই নেই। কিন্তু আড়াআড়িভাবে অমসৃণ হলে চিকিৎসকের প্রয়োজন হতে পারে। খাবারের ভারসাম্যের অভাবে, ক্যালসিয়ামের অভাব বা অন্য কোনো শারীরিক সমস্যার কারণে এটি দেখা দেয়। অত্যাবশ্যকীয় ভিটামিনের অভাবে নখের কেরাটিন গঠনে সমস্যা দেখা দেয়। এর ফলে নখ অমসৃণ হয়ে পড়ে। এক্ষেত্রে নেল পলিশ লাগানোর আগে রিজ ফিলার ব্যবহার করুন বা নখ অল্প ঘষে নিন। নখ ভঙ্গুর হয়ে পড়লে ডায়েটের দিকে নজর দেওয়া দরকার। ক্যালসিয়াম বা ভিটামিন সমৃদ্ধ খাবার খান। এই সময় নখ ছোট রাখুন। খুব বেশি বড় না করে তাড়াতাড়ি কেটে ফেলুন। নখের সৌন্দর্য বৃদ্ধির ক্ষেত্রে নখের রঙেরও একটা ভূমিকা থাকে। এক্ষেত্রে উজ্জ্বল রং যেমন গোলাপি, লাল, কমলা, ফ্লুরোসেণ্ট ইত্যাদি বেছে নিতে পারেন। এসব উজ্জ্বল রং পছন্দ না হলে কালচে নীল, কালচে সবুজ পছন্দ করতে পারেন। নীল ও ধূসর রঙের শেডে ম্যাট নেল কালার ভাল লাগবে। তবে ক্লাসিক কালারগুলোর জন্যে গ্লসি লুকই ভাল। নেল কালার লাগানোর আগে বেস কোট খুব গুরুত্বপূর্ণ। বেস কোট নেল কালারে উপস্থিত কড়া কেমিক্যাল থেকে নখকে রক্ষা করে। নেল কালার বা লাগালেও বেস কোট জরুরি। পানি থেকে নখ ভাল রাখতে বেস কোট সাহায্য করে। ম্যানিকিওর ও পেডিকিওর কিটে যে জিনিসগুলো অপরিহার্যভাবে থকতে হবে সেগুলো হলোঃ(ক) কটন বল। নখ ফাইলিং করার পর ভেজা কটন বল দিয়ে নখ মুছে ফেলতে হয়। এ ছাড়া রিমুভার ব্যবহার পর নেল পলিশ মুছে ফেলবার জন্যও কটন বল ব্যবহার করতে পারেন। (খ) কুসুম গরম পানি । নখের ময়লা পরিষ্কার করার জন্য কুসুম গরম পানি ব্যবহার করুন। (গ) নেল পলিশ রিমুভার। পুরনো নেল পলিশ তুলতে আপনার চাই নেল পলিশ রিমুভার। অন্য কোনো উপায়ে নেল পলিশ তুললে নখের ক্ষতি হতে পারে।(ঘ) নেল কাটার। নখকে পরিমাণ মত কেটে নখের স্বাস্থ্য ও সৌন্দর্য বজায় রাখার জন্য নেল কাটার ব্যবহার করুন। কেউ কেউ ব্লেড দিয়ে নখ কেটে থাকেন, যা কখনও কখনও বিপদ ঘটাতে পারে। (ঙ) নেল ফাইলার। নখ কেটে নখ মসৃণ করার জন্য নেল ফাইলার ব্যবহার করুন। (চ) নরম ব্রাশ, পেপার টাওয়েল, নেল পলিশ। এগুলো অবশ্যই থাকা চাই। নখ পরিষ্কার করার জন্য সবসময় নরম ব্রাশ ব্যবহার করুন। পেপার টাওয়েল নখ ও হাত মোছার জন্য ব্যবহার করতে পারেন। এ ছাড়া নেল পলিশ অবশ্যই আপনার কিটে থাকা চাই। এবার বাড়িতে পেডিকিওর করার পদ্ধতি বলছি। প্রথমে ১৫ মিনিট কুসুম গরম পানিতে পা ডুবিয়ে রাখুন। পানিতে অলিভ অয়েল, শ্যাম্পু এবং কোর্স সল্ট মেশাতে পারেন। এতে ত্বকের মরা কোষ উঠে আসবে। এতে পায়ের চামড়া নরম হয়ে যায়। স্ক্রাব ব্যবহার করেও মরা কোষ তুলতে পারেন। এতে পায়ের ত্বক উজ্জ্বল দেখাবে। বাড়িতে স্ক্রাব তৈরি করতে হলে চালগুঁড়ো বা কাট বাদাম বাটা দইয়ের সঙ্গে মিশিয়ে স্ক্রাব হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন। স্ক্রাব দোকানেও কিনতেও পাওয়া যায়। স্ক্রাবিং হয়ে গেলে নেল ফাইলিং করতে হবে। এর জন্য প্রথমে নেল ব্রাশ ব্যবহার করে নখ পরিষ্কার করে নিন। এরপর ভাল করে পা ধূয়ে ক্লিপার দিয়ে নখ ছোট করে কেটে নিন। নখ ফাইল করার সময় একদম সোজাসুজি করবেন। শেপ জরার দরকার নেই।নখ শেপ করার জন্য ভাল মানের নেল কাটার ব্যবহার করুন। পায়ের চামড়া যাতে কোমল ও মোলায়েম থাকে সে জন্য ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা জরুরি। এ জন্য পা ভাল করে তোয়ালে দিয়ে মুছে নারিশিং ক্রিম লাগান। এর পর গরম পানিতে ভেজানো তোয়ালে দিয়ে পা মুড়ে রাখুন। এতে ত্বক ভাল করে ক্রিম শুষে নিতে পারবে। এভাবে পাঁচ মিনিট রেখে তোয়ালে খুলে ফেলুন। এবার ভাল করে ক্রিম পায়ের ওপর মাসাজ করে অতিরিক্ত ক্রিম মুছে ফেলুন। এবার বাড়িতে কিভাবে ম্যানিকিওর করবেন তা নিয়ে কিছুটা আলোচনা করা যাক। প্রথমে আগে লাগানো নেল পলিশ তুলতে হবে। এজন কটব বলে রিমুভার লাগিয়ে নেল পলিশ তুলে ফেলুন। নখের কোনের দিকে নেল পলিশ উঠাতে না চাইলে পেপার টাওয়েল দিয়ে মুছে ফেলুন। এরপর নখ ফাইলিং করতে হবে। নখের ওপরের অংশ মসৃণ রাখার জন্য ও অমসৃণ নেল সারফেস মসৃণ করার জন্য নখ ফাইল করা জরুরি। নখ ফাইল করার জন্য এমেরি বোর্ড বা নেল কাটারের সঙ্গে লাগানো ফাইলিং করার অংশটি ব্যবহার করতে পারেন। নখের কোন মাঝখানে তেরছা করে ফাইলিং করুন। নখের শেপ করার সময় নেল কাটার দিয়ে নখ ছোট করে কাটে নিন। অভাল, স্কোয়ার কিংবা রাউন্ড-নিজের পছন্দ মত যে কোনো শেপে কেটে নিন। মাসে অন্তত ১ বার নখ কাটা দরকার। সহজে ভেঙে যায় কিংবা নখের রং বদলে যায়, এমন নখটিম করবেন না। এ ক্ষেত্রে কুসুম গরম পানিতে হাত ভিজিয়ে রাখুন। এতে কিউটিকলস নরম হবে। হালকা নরম ব্রাশ দিয়ে একবার নখ ও হাত ঘষে নিতে পারেন। পানি থেকে হাত বের করে নিয়ে শুকনো করে মুছে নিন। হাতের নখের যত্নে কিউটিকলস রিমুভার করা বিশেষ জরুরি। আমাদের নখের কোণের যে চামড়া ওঠে তাকে বলে কিউটিকলস। কিউটিকলস রিমুভার টিউবের গায়ে লেখা নিয়ম মেনে কিউটিকলস রিমুভার লাগান। তারপর অরেঞ্জ স্টিক বা কিউটিকল পুশার দিয়ে কিউটিকল পুশ করুন। নখের বেসে কিউটিকলস ক্রিম বা লোশন লাগান। কিছুক্ষণ পর কুসুম গরম পানিতে সাবান দিয়ে নখের অংশ ডুবিয়ে নরম ব্রাশ দিয়ে ডাউনওয়ার্ড মোশনে ঘষুন। তারপর শুকানো করে হাত মুছে নিন। ম্যানিকিওর করার শেষ ধাপ হলো নেল পলিশ লাগানো। নখের বেসে থেকে ওপরের দিকে দু’কোট নেল পলিশ লাগান। এতে নখ ভাল থাকে। নখের কোণ থেকে অতিরিক্ত নেল পলিশ মুছে ফেলার জন্য অরেঞ্জ স্ট্রিক রিমুভার ডুবিয়ে ব্যবহার করুন। পায়ের নখের পরিচর্যা ও হাতের নখের যত্ন-উভয়ই সৌন্দর্যচর্চার অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে গন্য করা হয়। সুতরাং ব্যবপারে উদাসীন হওয়ার কোনো অবকাশ নেই। তাই নিয়ম মেনে হাত ও পায়ের নখের যত্ন নিন এবং নিজেকে আরও আকর্ষণীয়ভাবে উপস্থাপন করুন। এবারের মত এখানেই ইতি টানছি। সবাইকে আবারও অনেক শুভেচ্ছা।

আরও জানুন » গরমে ত্বক ও চুলের যত্ন »

লেখাটি আপনার কেমন লাগলো তা আমাদেরকে অবশ্যই জানাবেন। আপনার মতামত আমাদের কাছে খুবই মূল্যবান। আপনি যদি আপনার নিজের লেখা কবিতা, গল্প, প্রবন্ধ বা অন্য যেকোনো বিষয় বাঙালিয়ানা Magazine এ প্রকাশ করতে চান, তবে আমরা অত্যন্ত আনন্দের সাথে আপনার লেখা প্রকাশে সচেষ্ট হব । আগ্রহীদের এই ইমেইল ঠিকানায় bangalianamagazine@gmail.com যোগাযোগের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হল । Copy করা কোন লেখা পাঠাবেন না। দয়া করে আপনাকে নিশ্চিত করতে হবে যে, আপনার পাঠানো লেখাটি অনলাইনে আগে কোথাও প্রকাশিত হয়নি। যদি অনলাইনে আগে অন্য কোথাও আপনার লেখাটি প্রকাশিত হয়ে থাকে, তাহলে আমরা সেটা প্রকাশ করতে পারব না। আমরা অরাজনৈতিক, অসাম্প্রদায়িক এবং নিরপেক্ষ।

Comments

comments