পটেটো চিপসে মারাত্মক ক্যান্সারের ঝুঁকি

0
577
পটেটো চিপসে মারাত্মক ক্যান্সারের ঝুঁকি
পটেটো চিপসে মারাত্মক ক্যান্সারের ঝুঁকি
Print Friendly, PDF & Email

বেশ কয়েক বছর ধরে প্রায় সব ধরনের খাবারে ভেজাল মিশ্রণ যেন অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছে। শিশুরা মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছে। বুদ্ধিমত্তা কমে যাওয়ার পাশাপাশি তারা কিডনি, লিভার ও বিভিন্ন অঙ্গ প্রত্যঙ্গ নষ্ট, আক্রান্ত হাড়ের জোড়ার দূরত্ব সৃষ্টির পাশাপাশি ব্যাকপেইনসহ এমনকি মরণব্যাধি ক্যান্সারসহ বিভিন্ন জটিল রোগে বিভিন্ন ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম।

পটেটো চিপস খুবই রুচিকর একটি খাদ্য। মজাদার, সস্তা, জলখাবার হিসেবে এর জুড়ি নেই। তবে স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে এই জলখাবার নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। পটেটো চিপসে থাকা উচ্চ ক্যালরি যা শরীরের ওজন বৃদ্ধি করে। মচমচে আলুর চিপস খেতে কে না ভালোবাসেন। কিন্তু জানেন কি, মজাদার স্বাদের এ চিপসে রয়েছে ক্যান্সারের ঝুঁকি সৃষ্টিকারী রাসায়নিক উপাদান অ্যাক্রিলামাইড। এ উপাদানটি যে কেউ সচেতনভাবে মিশিয়ে দিচ্ছেন, তা কিন্তু নয়। মূলত চিপস তৈরির প্রক্রিয়াটি এমন যে, এমনিতেই এসব ঝুঁকি সৃষ্টি হয়।

শরীরের অনিয়ন্ত্রিত কোষ বিভাজন সংক্রান্ত রোগগুলোর সমষ্টি হলো ক্যান্সার বা কর্কটরোগ। যা বাংলাদেশসহ বিশ্বব্যাপী মরণব্যাধি হিসেবেই পরিচিতি। কারণ প্রাথমিক অবস্থায় এ রোগ সহজে ধরা পড়ে না, ফলে শেষ পর্যায়ে গিয়ে সম্ভব হয় না ভালো কোনো চিকিৎসা দেওয়া।

মানবদেহে শ’ধরনের বেশি ক্যান্সার হতে পারে বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। এসব ক্যান্সারের চিকিৎসা পদ্ধতিও আলাদা।

শর্করা-সমৃদ্ধ যে কোনো খাবার উচ্চ তাপমাত্রায় রান্না করা হলে এমন কিছু রাসায়নিক উপজাতের উদ্ভব হয়, যা ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। ফ্রেঞ্চ ফ্রাই কিংবা পটেটো চিপসই নয় শুধু, এমন আরো যেসব খাবার ২১২ ডিগ্রি ফারেনহাইটের বেশি তাপে রান্না কিংবা প্রক্রিয়াজাত করা হয়; সেগুলোয়ও অ্যাক্রিলামাইড তৈরি হয়। অর্থাৎ যখন কোনো খাবার উচ্চ তাপমাত্রায় একেবারে শুকিয়ে কিংবা ভেজে হলুদ অথবা বাদামি করে ফেলা হয়, তখনই এর উত্পত্তি হয়। এক্ষেত্রে সিরিয়াল, মচমচে রুটিসহ বিভিন্ন ধরনের প্রক্রিয়াজাত স্ন্যাক্সও অ্যাক্রিলামাইড তৈরির ঝুঁকিতে পড়ে যায়। কফির বিকল্প চিকোরিতে অ্যাক্রিলামাইডের মাত্রা আসল কফির চেয়ে দ্বিগুণ বেশি।

গবেষণায় দেখায়, সব ধরনের আলুর চিপসে সহনীয় মাত্রার চেয়ে কমপক্ষে ৩৯ গুণ বেশি অ্যাক্রিলামাইডের উপস্থিতি রয়েছে। আর সর্বোচ্চ মাত্রার হিসেবে তা কোনো কোনো ক্ষেত্রে ৯১০ গুণ বেশি। হয়তো ভাবছেন, সেঁকা আলুর চিপস খেলে নিশ্চয়ই কোনো সমস্যা হবে না।

কিন্তু মনে রাখবেন, অ্যাক্রিলামাইডের উত্পত্তি শুধু ভাজা কিংবা ফ্রাই করলেই হয়, তা নয়; সেঁকা থেকেও হতে পারে। এফডিএর এক জরিপে দেখা যায়, সেঁকা আলুর চিপসে ক্যান্সারের ঝুঁকি সৃষ্টিকারী উপাদানটির উপস্থিতি সাধারণ চিপসের তুলনায় তিন গুণ বেশি থাকে।

আরো কিছু ক্ষতিকর খাবার যেমন মাইক্রোওয়েভ পপকর্ন, নন-অর্গ্যানিক ফল, রেডিমেড খাবার, প্রক্রিয়াজত মাংস, চাষ করা স্যালমন, পটেটো চিপস, হাইড্রোজেনেটেড অয়েল বা উদ্ভিজ্জ তেল, খাদ্যে উচ্চ লবণাক্ততা, প্রক্রিয়াজাত সাদা আটা, পরিশোধিত চিনি, কৃত্রিম চিনি, অ্যালকোহল, রেড মিট বা লাল মাংস ইত্যাদি।

নিউ ইংল্যান্ডের চিকিৎসা জার্নালে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ওজন বাড়ানোর ক্ষেত্রে একটি আলুর চিপস যথেষ্ঠ। এছাড়া রক্তচাপ বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও এটা দায়ী।

আরও জানুন » ঘুম আসতে সাহায্য করবে এমন ৭টি উপায় »

Comments

comments