পরিবেশ দূষণ মুক্ত রাখতে বাতাসে চলবে টাটার গাড়ি

0
186
পরিবেশ দূষণ মুক্ত রাখতে বাতাসে চলবে টাটার গাড়ি
পরিবেশ দূষণ মুক্ত রাখতে বাতাসে চলবে টাটার গাড়ি
Print Friendly, PDF & Email

কম্প্রেসড এয়ার ইঞ্জিনের ধারণাটি শতবর্ষের পুরনো। বিশেষ করে খনি খনন কার্যে বিদ্যুৎ প্রযুক্তি ব্যবহার করার পূর্বে এই প্রযুক্তিতে তৈরি করা গাড়িই ব্যবহার করা হত। বর্তমান সময়ে গাড়ির কারখানাগুলোর নিউমেটিক ইমপ্যাক্ট রেঞ্চ টুলগুলোতে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়।

বিশ্বের বৃহৎ গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো যখন বায়োডিজেল এবং কম্প্রেসড প্রাকৃতিক গ্যাসের মত বিকল্প জ্বালানী ব্যবস্থা নিয়ে গবেষণার প্রতিযোগীতায় ব্যস্ত তখন ভারতীয় গাড়িনির্মাতা টাটা জানিয়েছেন তার গাড়িকে বায়ু দ্বারা পরিচালনা করার চিন্তাভাবনা করছে। এয়ারপড নামক তিন আসন বিশিষ্ট গাড়িটিতে কম্প্রেসড এয়ার বা ঘনীভূত বাতাস ট্যাংকে ভরে নিয়ে এটি পিচঢালা পথ ধরে ছুটে চলবে অন্য দশটি গাড়ির মতোই সমানতালে।

এতে মূল্যবান জ্বালানি তেলের অপচয় রোধের পাশাপাশি পরিবেশ দূষণকারী কোনো গ্যাস নির্গমণের আশঙ্কাও থাকবে না।

এইমডিআই প্রযুক্তিটি নিয়ে কাজ করছিল অনেক দিন ধরে,  ২০০৭ সালে এই প্রযুক্তির সনদ টাটা সংগ্রহ করে এমডিআই এর কাছ থেকে আর ধারণামূলক গাড়িটি প্রথম সকলের সামনে উন্মোচিত হয় ২০১১ সালে।

গাড়িটির ইঞ্জিন চালু করার জন্য কোনো ধরনের জ্বালানির প্রয়োজন হয় না। শুধুমাত্র কম্প্রেসারে রাখা বাতাসের চাপে এটি চলে। কম্প্রেসার চালানোর জন্য চার্জিং স্টেশন রয়েছে। এই গাড়িটির চাকা ঘুরলেই বিদ্যুৎ তৈরি হয়। এমনকি গাড়ির ব্রেক চাপলেও বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়।

টাটা জানিয়েছে গাড়িটির সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘন্টায় ৪৩ মাইল। গাড়িটিতে ব্রেক থেকে বিদ্যুৎ তৈরি করার প্রযুক্তিটিও রাখা হয়েছে।

কম্প্রেসড এয়ার ভিত্তিক গাড়ির ইঞ্জিন সাধারণ ইঞ্জিনের মত কাজ করে: জ্বালানি পিস্টনকে ক্র্যাঙ্কশ্যাফট ঘোরানোর মাধ্যমে গাড়িকে চালিয়ে থাকে। পার্থক্যটা এখানেই, কম্প্রেসড এয়ার ইঞ্জিনের পিস্টনটি তেলের বদলে বাতাসের সাহায্যে ঘুরবে।

ওয়্যান ক্যাট গাড়ির নকশা তৈরিকারী জানান, দূরবর্তী পথে ভ্রমণের ক্ষেত্রে সবসময় গাড়িটির গতিবেগ থাকবে সমান, ঘন্টায় ১২০ মাইল। তবে কোনো একটি শহরের নির্দিষ্ট গন্ডির মধ্যে এই গাড়ি হবে অনেক বেশি সাশ্রয়ী।

জাপানের হোন্ডা ২০১০ সালে বায়ু শক্তি চালিত ধারণামূলক গাড়ি উন্মোচন করে আর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে জিরো পলিউশন মোটরস নামক একটি প্রতিষ্ঠান এ ধরণের গাড়ি উন্মোচন করার অঙ্গিকার করলেও প্রতিষ্ঠানটি এখন অদৃশ্য হয়ে গিয়েছে।

এ বছরের মে মাসে ধারণামূলক ইঞ্জিন টাটার দুটি গাড়িতে পরীক্ষা করে সফলতা পেয়েছে বলে জানিয়েছে। বর্তমানে টাটাই একমাত্র প্রতিষ্ঠান যে এই প্রযুক্তিটি নিয়ে কাজ করছে।

খুব শিগগিরই ভারতের বাজারে এয়ারপড ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছে টাটা। তবে এটির দরদাম নিয়ে এখনো কিছু জানায়নি প্রতিষ্ঠানটি।

আরও জানুন » ক্যাডেল লাস্ট এর দাবি ২০৫০  সালে নতুন প্রজাতির মানুষ »

Comments

comments