পেশা পরিবর্তন করবেন কেন?

0
145
পেশা পরিবর্তন
Print Friendly, PDF & Email

কর্মজীবনের পরিকল্পনা করতে খুব বেশী সময় নেবেন না। কারণ বর্তমান সময় খুব প্রতিযোগিতার সময়। আপনি যদি আপনার কর্মজীবনের সঠিক দিক খুঁজতে বেশী সময় নিয়ে নেন তাহলে দেখবেন একটা সময় আপনি আর আপনার পছন্দসই কোন কাজই করতে পারছেন না। তাই আজ থেকেই একটি সঠিক পরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রয়াস চালানো শুরু করুন। আপনার বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করতে নিজেকে মূল্যায়ন করা জরুরী। বর্তমান চাকরিটা আপনি চালিয়ে যাবেন, নাকি এটি ছেড়ে দেবেন, তা বুঝতে পরিস্থিতির সাথে নিজেকে মূল্যায়ন করুন ও বুঝে নিন আপনার করনীয় কি?

নিজেকে মূল্যায়ন করতে হ্যাঁ বোধক উপলব্ধিগুলো যদি আপনার মাঝে দেখা দেয়, তাহলে চাকরিটা আপনার জন্য সঠিক ভাবতে পারেন। ক্যারিয়ার পরবর্তন নিয়ে গুরুত্ব দিয়ে ভাবুন।

১. কাজ করার মানসিকতা

প্রতিদিন প্রচুর কাজ করার মানসিকতা নিয়ে আপনি যদি অফিসে যান। তাহলে চাকরিটা আপনার জন্য সঠিক সিদ্ধান্ত।

২. নিজেকে উপলব্ধি

আপনার নিয়োগদাতা আপনাকে ন্যায়সঙ্গত ভাবে একজন কর্মচারী হিসেবে সম্মান জানায় এবং পেশাগত অবদানের জন্য যদি নিজেকে মূল্যবান ও স্বীকৃত একজন হিসেবে উপলধ্বি করেন। তাহলে চাকরিটা আপনার জন্য সঠিক সিদ্ধান্ত।

৩. উদ্বিগ্ন

আপনি নিজের মত কাজ করেন, কেউ আমাকে যাচাই করছে কি না তা নিয়ে উদ্বিগ্ন নন আপনি। তাহলে চাকরিটা আপনার জন্য সঠিক সিদ্ধান্ত।

৪. মতামতের গুরুত্ব

আপনি কোম্পানির গুরুত্বপূর্ণ প্রজেক্টগুলোতে অন্তর্ভুক্ত। অফিসের গুরুত্বপূর্ণ সব সিদ্ধান্তে বা পেশাগত উন্নয়নের ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্মকতা সব সময় আপনার সাথে আলোচনা করেন। তাহলে চাকরিটা আপনার জন্য সঠিক সিদ্ধান্ত।

৫. সৃজনশীলতায় উদ্দীপ্ত

নতুন কাজের দায়িত্ব দেয়া হয় আপনাকে। কাজের মাধ্যমে মেধা ও সৃজনশীলতায় আরো উদ্দীপ্ত হচ্ছেন আপনি। তাহলে চাকরিটা আপনার জন্য সঠিক সিদ্ধান্ত।

৬. ইতিবাচক অবদান

কাজের মাধ্যমে সমাজের জন্য একটা ইতিবাচক অবদান রাখছেন বলে মনে হয় আপনার। তাহলে চাকরিটা আপনার জন্য সঠিক সিদ্ধান্ত।

৭. আর্থিক স্বচ্ছলতা

চাকরিটার জন্য আর্থিকভাবে সব ধরনের সুবিধা পাচ্ছেন আপনি। তাহলে চাকরিটা আপনার জন্য সঠিক সিদ্ধান্ত।

৮. নিজেকে সফল মনে হয়

বর্তমান কাজের মাধ্যমে আপনার সত্যিকারের ব্যক্তিসত্ত্বাই প্রকাশ পায় ও নিজেকে সফল মনে হয় তাহলে চাকরিটা আপনার জন্য সঠিক সিদ্ধান্ত।

৯. নিজেকে নিয়ন্ত্রিত মনে হয়

নিজের সব সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে চাকরি করছেন আপনি। কাজের গতিতে নিজেকে নিয়ন্ত্রিত মনে হয়। তাহলে চাকরিটা আপনার জন্য সঠিক সিদ্ধান্ত।

নিজেকে মূল্যায়ন করতে না বোধক উপলব্ধিগুলো যদি আপনার মাঝে দেখা দেয়, তাহলে চাকরিটা আপনার জন্য সঠিক নয় ভাবতে পারেন। ক্যারিয়ার পরবর্তন নিয়ে গুরুত্ব দিয়ে ভাবুন।

১. বঞ্চিত হচ্ছেন

যখন আপনি কোনো কাজ না পেয়ে এ চাকরিটা গ্রহণ করেছেন, এখন অর্থ, পদ সব দিক থেকেই বঞ্চিত হচ্ছেন। এখন কাজের পরিবেশ যন্ত্রণাদায়ক মনে হয়। তাহলে চাকরিটা আপনার জন্য সঠিক সিদ্ধান্ত নয়।

২. টেবিলেই লাঞ্চ সারতে হয়

কাজ ও বিশ্রাম একে অপরের পরিপূরক। কিন্তু কাজের জন্য আপনাকে প্রায় প্রতিদিনই যদি কাজের টেবিলেই লাঞ্চ সারতে হয় তাহলে চাকরিটা আপনার জন্য সঠিক সিদ্ধান্ত নয়।

৩. মূল্যবোধ

চাকরিটা আপনার মনে প্রায় সময় অশান্তি তৈরি করছে। আপনার আত্মবিশ্বাস নষ্ট করছে। মূল্যবোধগুলোকে দাবিয়ে রেখে কাজ করতে হচ্ছে। আপনার সততা ভুলে অন্যায়ের সাথে আপোস করতে হচ্ছে। তাহলে চাকরিটা আপনার জন্য সঠিক সিদ্ধান্ত নয়।

৪. নতুন কিছু করার ইচ্ছা

নতুন আরেকটি চাকরির জন্য দিবা স্বপ্ন দেখেন আপনি। নতুন কাজ বা ভিন্ন কিছু করার ইচ্ছে জাগে আপনার। বর্তমান চাকরিটায় নিজেকে জিম্মি ও ভারাক্রান্ত মনে হয়। তাহলে চাকরিটা আপনার জন্য সঠিক সিদ্ধান্ত নয়।

৫. ছুটির জন্য

সাপ্তাহিক ছুটির জন্য যদি তীর্থের কাকের মতো অপেক্ষা করতে হয় আপনাকে। কাজের চাপের কারণে স্ত্রী-সন্তান বা আত্মীয়-স্বজনদের সাথে ভালো সম্পর্ক যাচ্ছে না আপনার। তাহলে চাকরিটা আপনার জন্য সঠিক সিদ্ধান্ত নয়।

আরও জানুন » কিভাবে শুরু করবেন ব্যাংকে চাকুরি পাবার প্রস্তুতি! »

Comments

comments