পানি ব্যবহারে সচেতনতা বাড়াতে না পারলে ভয়াবহ হুমকির মুখে দেশ

0
60
পানি
Print Friendly, PDF & Email

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের সবশেষ হিসেব অনুযায়ী নদীর সংখ্যা কমতে কমতে ৩১০ এ ঠেকেছে। যা নদী মাতৃক বাংলাদেশের জন্য অশুভ সংকেত।

দেশের জনসংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পানির চাহিদা বাড়লেও পানির উৎস বাড়ছে না। আগামীতে সরকার যাতে পানি উৎপাদন কার্যক্রম এগিয়ে নিতে পারে সেভাবেই কাজ করতে হবে।

পানি ব্যবহারে সচেতনতা- অপচয় বন্ধ না হলে সামনে ভয়াবহ সময় অপেক্ষা করছে

বৈশ্বিক তাপমাত্রা

পৃথিবীতে তিনভাগ জল ও একভাগ স্থল থাকলেও মানুষের ব্যবহারের উপযোগী পানির পরিমাণ খুব সামান্য। বৈশ্বিক তাপমাত্রা বাড়তে থাকায় হুমকির মুখে ভবিষ্যতের কৃষি। চাষাবাদে পানির চাহিদা মেটানো সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন পরিবেশ বিজ্ঞানীরা। বর্তমানে প্রায় একশ’ কোটি মানুষ পানিসংকট মোকাবেলা করলেও এতে যোগ হতে পারে আরও পঞ্চাশ কোটি মানুষ। এক প্রতিবেদনে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক ওয়েবসাইট ভার্জ জানিয়েছে, বৈশ্বিক তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ায় বিভিন্ন এলাকায় নতুন করে পানির সংকট দেখা দিচ্ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন পরিবেশ বিজ্ঞানীরা।

মাটির নিচে পানির স্তর

একদিকে যেমন মানুষের চাপ বাড়ছে সাথে বাড়ছে সুপেয় পানির চাহিদা। অপরিকল্পিত নগরায়ন এবং মাত্রাতিরিক্ত পানি উত্তোলনের ফলে ঢাকায় মাটির নিচে পানির স্তর নিচে নেমে যাবার চিত্র ভয়াবহ। ১৯৮০ সালে যেখানে পানির স্তর ছিল ৫৬ ফুট নিচে, ২০১০ এ এসে তা দাঁড়িয়েছে ২০৮ ফুট। প্রতি বছর গড়ে নামছে ৭ ফুট করে। আর ২০১৫ তে কতটা নিচে গেলে পানি পাওয়া যাবে, তা আমরা অনুমাণ করতে পারি।

অর্থনীতিতে প্রভাব

ঢাকার পানি সংকটের কারনে পয়:নিষ্কাশন ব্যবস্থা জটিল থেকে জটিলতর আকার ধারন করছে, তেমনি দূষণযুক্ত পানি ব্যবহারে পেটের পীড়া ডায়ারিয়া, আমাশয়সহ মারাত্বক ব্যাধিতে মহিলা, শিশু, আবাল-বৃদ্ধ বণিতাসহ সকলেই আক্রান্ত হচ্ছে। হোটেল রেস্টুরেন্টগুলোতে যারা খাওয়া-দাওয়া করে তাদের অধিকাংশেই জন্ডিসে আক্রান্ত হচ্ছে। চিকিৎসা গ্রহনের জন্য প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ অপ্রতুল চিকিৎসা কেন্দ্রে হানা দিচ্ছে, বাড়ছে পারিবারিক দুর্ভোগ। প্রতিটি ঘর যেন এক একটি হাসপাতালে পরিণত হচ্ছে, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে অর্থনীতিতে।

সামাজিক বিশৃঙ্খলা

পরিশেষে বক্তারা বলেন, বিশুদ্ধ পানির নামে বোতলজাত পানিবাণিজ্য চলতে থাকলে এবং নিত্য প্রয়োজনীয় এই পানির নিয়ন্ত্রণ যদি বেসরকারি খাতে চলে যায় তবে হু হু করে তা উচ্চমূল্যে চলে যাবে, যা সামজিক বিশৃঙ্খলার কারণ হয়ে দাঁড়াবে। আমাদের দেশের যেখানে ৬০ ভাগ লোক অতি দরিদ্র। সেই ক্ষেত্রে পানি বাণিজ্যিক খাতে চলে গেলে মূল্য বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি বিশৃঙ্খলার দিকে পতিত হবে।

অবৈধ দখল

নদ-নদী এবং অসংখ্য খাল-বিল, দিঘি-পুকুর, পানি প্রাপ্তির এক বিরাট উৎস। এগুলোর সঠিক ব্যবস্থাপনা, অবৈধ দখলে থাকা জলাধারগুলোর উদ্ধার এবং প্রতিটি বাড়িতে পানি পুন:ব্যবহার প্রক্রিয়া চালু ও পানি ব্যবহারে সচেতনতার মাধ্যমে আমরা পানির এ সংকট হ্রাস করতে পারি।

বৃষ্টির পানির সর্বোচ্চ ব্যবহার

এ সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে এখনই বৃষ্টির পানির সর্বোচ্চ ব্যবহার করতে হবে। রাজধানী ঢাকাতে গড়ে প্রতি বছর বৃষ্টিপাত হয় ২১০০ মিলিমিটার। এর একটি উল্লেখযোগ্য অংশ যদি খাবার পানির চাহিদা পুরণে এবং ভূগর্ভস্থ পানির রিচার্জে ব্যবহার করা যায় তাহলে সেটা অনেকটা স্বস্তিদায়ক হবে।

সর্বোপরি বিপুল জনসাধারণের সুবিধার কথা বিবেচনা করে সরকারের সঠীক পরিকল্পনা প্রণয়ন ও তার সঠিক বাস্তবায়নের মাধ্যমে পানি সংকট মোকাবেলা করা সম্ভব।

আরও জানুন » নাগরিক সুবিধার প্রতীক্ষায় ছিটমহলের মানুষ »

Comments

comments