অপদার্থ

0
218
Print Friendly, PDF & Email

অপদার্থ

রাজকুমার ঘোষ

মানুষের পাওয়ারও একটা শেষ থাকে, কিন্তু গজাবাবুর ক্ষেত্রে তা নয়। গজাবাবু ভাবতেও পারেনি যে, সে বিসাল সম্পত্তির একমাত্র মালিক হবে। অথচ তার শিক্ষাগত যোগ্যতা সেই ভাবে নেই বললেই চলে। কিন্তু কপালে সম্পত্তি প্রাপ্তি থকলে ঠেকায় কে? নিজের পৈত্রিক সম্পত্তি তো ছিলোই, তারপর দিদিমার কোন ছেলে না থাকায় ছোট থেকেই সে দিদিমার কাছে বিশাল প্রাচুর্যে মানুষ হয়েছিলো। পড়াশোনাতেও তথৈবচ। উত্তরাধিকার সুত্রে সে দিদিমার বিশাল ট্রাস্টের মালিক হয়ে গিয়েছিলো। ইচ্ছা ছিলো সুন্দরী একটা বৌ হবে। সেটাও সম্ভব হয়েছিলো। তার সুন্দরী বৌ আবার পটের বিবি ছিলো। নাম ছিলো সরলা, কিন্তু সরলতার বিন্দুমাত্র লেশ তার মধ্যে ছিলো না। সরলা সেই অর্থে বড়লোক ঘরের মেয়ে নয়, কিন্তু সে ছিলো ডানাকাটা সুন্দরী পরী। গজাবাবু এই কারণে বুক ফুলিয়ে চলা ফেরা করতেন, কিন্তু তার ফোলানো বুক সুন্দরী বৌ সরলার কাছে এলেই বুক চুপসে যেতো। বৌ যা বলতো সে বাধ্য হয়ে তাই করতো। সরলা জটিল প্যাঁচে গজাবাবু সংসার মাতৃছাড়া। বৌকে নিয়ে গজাবাবু এক বিরাট অট্টলিকাসম বাড়িতে নিজেস্ব সংসার শুরু করেছিলো। তার ঠিক তিন বছর বাদে সংসারে এক জন সদ্যোজাত সদস্যের আগমণ হয়েছিলো। খুব আনন্দে সাধ করে গজাবাবু তার সদ্যোজাত ছেলের ‘রোমিও’ নাম রাখলো। যাইহোক, তার এই বিশাল সম্পত্তির একজন উত্তরাধিকারের প্রয়োজন ছিলো। খুব টেনশনে ছিলো, রোমিও আসাতে যা সম্পূর্ণভাবে কেটে গিয়েছিলো।

রোমিও ছোট থেকেই তার মাকে দেখেই বড় হয়েছে। গজাবাবু তার ট্রাস্টি সামলাতেই ব্যস্ত থাকে। সরলতার মতো করেই রোমিওকে বড় করতে থাকে। ছোট থেকেই রোমিও তার মাকেই এক মাত্র বন্ধু হিসেবে পেয়ে এসেছে। সেই ভাবে কোন ছেলের সাথে ওর বন্ধুত্ব গড়ে ওঠেনি। ঘরের সমস্ত কাজে সে তার মাকে খুব সাহায্য করত। পড়াশোনায় তার আগ্রহ ভীষণ কম ছিলো। রোমিও পছন্দ হিসেবে ঝাঁটা দেওয়া, রান্না করা, বাসন মাজা ও আরো সাংসারিক যা কাজ আছে সে গুলো জায়গা পেলো। সে নিজেকে বরাবর ছেলেদের থেকে দূরে সরিয়ে রাখতো। খেলার মাঠে ক্রিকেট বা ফুটবল খেলা তো দূরের কথা, খেলাধূলা সংক্রান্ত কোনো আলোচনা হলেই ওর কাছে চাপের কারণ হয়ে যেতো। তবে একটা ভাল গুণছিলো, ও ভালো আঁকতে পারতো। কিন্তু সেখানেও সমস্ত বিষয়বস্তু নারীকেন্দ্রিক। ও দিন দিন পুরুষ বিদ্বেষী হয়ে গিয়েছিলো। সেটা বোঝাগেলো যখন ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার পর একটা কোর্স করতে দিল্লীতে গেলো, সেখানেও হোটেলে থাকতো। অনেক ছেলের মাঝেও নিজেকে একা মনে করতো। নিরাপদ না ভাবার কারণে ও দু’মাস পরে বিরাট টাকা ডোনেশনে জলে দিয়ে ঘরে ফিরে এলো। নিজের বাড়িতে ফিরে এসে সে আবার সাংসারিক কাজকর্মে মন দিলো। মা সরলাকে এক মাত্র বন্ধু ছাড়াও রোমিও ঐ সময় প্রতিবেশি কিছু বৌদিদের বন্ধু হিসেবে পেয়ে গেলো, যারা মোটামুটিভাবে পাড়ার বিশিষ্ট নিউজ রিপোটার। পাড়ার সমস্ত বাড়ির হাঁড়ির খবর রোমিও এন্ড বৌদি কোম্পানীর কাছে গেলেই পাওয়া যেতো। রোমিও দিনে দিনে কমিক চরিত্রে পরিণত হয়ে গেলো।

কিন্তু এইভাবে তো আর চলতে পারে না। দিন যায়, রাত যায় রোমিও বড় হয়। গজাবাবু ও সরলা তাদের একমাত্র ছেলের বিয়ে দেবার জন্য ভাবতে থাকে। সেই অনুযায়ী মেয়ে দেখাও শুরু করে। এই নিয়ে তাদের খুব একটা খাটতেও হলো না। খুব সহজেই তারা তাদের বৌমা খুঁজে পেয়ে গেলো। কারণ রোমিও হলো তাদের বিশাল সম্পত্তির একমাত্র ভবিষ্যত মালিক। মেয়ের বাড়ি থেকেই এই ব্যপারটা বেশি মাথায় ছিলো, রোমিওকে তাদের আদরের জামাই হিসেবে ভালোই মানাবে। বেশ ঘটা করে রোমিওর বিয়ে হয়ে গেলো। রোমিওর বন্ধুরা মানে পাড়ার ঐ বৌদিরা আরো ঘটা করে আনন্দ করলো। গজাবাবু বিশাল আয়োজন করে বেশ নাম কিনলেন। কিন্তু তার এই নাম কেনার ব্যাপারটা সুখের হলো না। ফুলশজ্জ্যার পরের দিন সকালেই তার বৌমা রাগারাগি করে নিজের বাড়ি ফিরে গেলো। গজাবাবু খুব চিন্তা নি তার বৌমাকে ফিরিয়ে আনতে গেলো। বৌমার কাছে এর কারণ জানতে চাইলে, বৌমা কাঁদতে কাঁদতে তাকে শুধু জানায়,”আপনার ছেলে মিস্টার রোমিও একটা অপদার্থ”।

 

আরও জানুন » অধরা ভালবাসা »

লেখাটি আপনার কেমন লাগলো তা আমাদেরকে অবশ্যই জানাবেন। আপনার মতামত আমাদের কাছে খুবই মূল্যবান। আপনি যদি আপনার নিজের লেখা কবিতা, গল্প, প্রবন্ধ বা অন্য যেকোনো বিষয় বাঙালিয়ানা Magazine এ প্রকাশ করতে চান, তবে আমরা অত্যন্ত আনন্দের সাথে আপনার লেখা প্রকাশে সচেষ্ট হব । আগ্রহীদের এই ইমেইল ঠিকানায় bangalianamagazine@gmail.com যোগাযোগের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হল । Copy করা কোন লেখা পাঠাবেন না। দয়া করে আপনাকে নিশ্চিত করতে হবে যে, আপনার পাঠানো লেখাটি অনলাইনে আগে কোথাও প্রকাশিত হয়নি। যদি অনলাইনে আগে অন্য কোথাও আপনার লেখাটি প্রকাশিত হয়ে থাকে, তাহলে আমরা সেটা প্রকাশ করতে পারব না। আমরা অরাজনৈতিক, অসাম্প্রদায়িক এবং নিরপেক্ষ।
বিঃ দ্রঃ লেখাটি কোনরকম পরিমার্জন ব্যতিরেকে সম্পুর্ণ লেখকের ভাষায় প্রকাশিত হল। লেখকের মতামত, চরিত্র এবং শব্দ-চয়ন সম্পুর্ণই লেখকের নিজস্ব । বাঙালিয়ানা Magazine প্রকাশিত কোন লেখা, ছবি, মন্তব্যের দায়দায়িত্ব বাঙালিয়ানা Magazine কর্তৃপক্ষ বহন করবে না।

রাজকুমার ঘোষ হাটপুকুর, মুচিপারা, জি, আই, পি, কলোনি, হাওড়া- ৭১১১১২।

Comments

comments