অন্তঃস্রোত

0
494
অন্তঃস্রোত
অন্তঃস্রোত
Print Friendly, PDF & Email

অন্তঃস্রোত

– কেতন শেখ

পলাশকে যে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠিয়েছে, তার নাম শ্বেতমুক্তা জাবিন … প্রোফাইল পিকচারে একটা ফর্সা ঘরোয়া টাইপ মেয়ের বিষন্ন চেহারা।

গত দুইদিন ধরে শ্বেতমুক্তা জাবিনের ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট ঝুলে আছে, পলাশ এ্যাকসেপ্ট করেনি। রাতে মেয়েটার সাথে পলাশের কথাবার্তা হচ্ছে। পলাশ এই নামে কাউকে চেনে না, তবুও কথা চালিয়ে যাচ্ছে। শ্বেতমুক্তা জাবিনের আইডি ফেইক মনে হলেও আইডির মালিক একজন মেয়েই মনে হচ্ছে। পলাশের প্রথমে মনে হয়েছে মন্দ কি … ফেসবুকে এরকম অপরিচিত কোনো মেয়ের সাথে কথাবার্তা চলতে থাকলে একসময় রগরগে সেক্সচ্যাট চালানো যাবে। আর এটা সেফ … পলাশের এই আইডিতে ওর আসল নাম নেই।

তবে সত্যিকারের মেয়েমানুষ বলেই হয়তো প্রথমে রগরগে কোনো কথাবার্তা আগালো না। দুই-একটা হিন্ট দিয়েও পলাশ কোনো রেসপন্স পেলো না। প্রথমদিনই পলাশ মোটামুটি নিশ্চিত হলো যে এই বান্দা একটা বোরিং টাইপের মেয়েমানুষ। এরকম মানুষজনকে পলাশ পছন্দ করে না। আর রাতে ফেসবুকে রগরগে কথাবার্তা না হলে পলাশ যে কারো ব্যাপারে আগ্রহ হারিয়ে ফেলে।

রগরগে কথাবার্তা না হলেও শ্বেতমুক্তা জাবিনের সাথে একটা অদ্ভূত কারণে গত দুইদিন ধরে পলাশ কথাবার্তা চালিয়ে যাচ্ছে। এই মেয়েটাকে নিয়ে পলাশ একটা গভীর রহস্য আর ভয় অনুভব করছে। এর কারণ হলো এই মেয়েটা পলাশের অনেক কিছু জানে। গত পরশু রাতে যখন মেয়েটার ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট আসলো, সাথে একটা মেসেজও আসলো … হাই, হাউ আর ইউ ?

পলাশের মনে হয়েছিলো ওর পরিচিত কেউ, তাই লিখলো, কে রে ?

– আই জাস্ট ওয়ান্ট টু বি ইওর ফ্রেন্ড !

– ও, ফ্রেন্ড হইবা …., তুমি মেল না ফিমেল … ?

– ছবি দেখে কি মনে হয় … ?

– ছবি দেইখা ফেইক মনে হয় …. দেখি বলো তোমার ব্রা-র সাইজ কতো …

শুরুতেই এমন কথা বললে যে কারো ঘাবড়ে যাওয়া উচিত। কিন্তু মেয়েটা লিখলো, সেটা বললেই কি আর ফেইক লাগবে না ?

– আরে বলো না …. লজ্জা পাও কেন …. ব্রা-তো পরো, নাকি পরো না ?

– আজকে জুয়ায় অনেকগুলো টাকা হেরে মনে হয় তোমার মন খারাপ, তাই আজেবাজে কথা বলছো। আমি বরং আজকে আসি, কালকে কথা হবে …

পলাশ একটু চমকে গিয়েছিলো। অবশ্য পরমুহূর্তেই মনে হলো হয়তো রোজকার জুয়ার আসরের কেউ। ও সাথে সাথে লিখলো, ‘ইতরামী করো, না ?’ …. এরপর সেই রাতে ও আর কোনো উত্তর পেলো না।

গতকাল রাতে প্রায় একই সময় মেয়েটা মেসেজ করলো …., আজকে মাথা ঠান্ডা আছে, না আজকেও হেরেছো ?

– ও, তুমি! কোন মাথার কথা বলছো ? উপরের মাথা আজকে ঠান্ডা, নীচের মাথা অলওয়েজ হট। এখন বলো, তোমার ব্রা-র সাইজ কতো। ব্রা-সাইজ ছোট হলে আমি নট ইন্টারেস্টেড।

– এসব আগ্রহের জন্যই কি নিজের নাম কাসানোভা রাসপুটিন রেখেছো ? পলাশের মতো এতো সুন্দর একটা নামকে লুকিয়ে রেখেছো কেন ?

পলাশ তখনই একটা ধাক্কা খেলো … কিন্তু সাথে সাথে ওর মনে হলো এটা পরিচিত কেউ, এবং ওর ছেলেবন্ধুদের কেউ। পলাশের মেয়েবন্ধুরা ওর জেনুইন ফেসবুক এ্যাকাউন্টে আছে, এটাতে নেই। এই ফেইক এ্যাকাউন্টে পলাশ পরিচিত কারো সাথে যোগাযোগ রাখে না। ওর মনে হলো কেউ বোধ হয় এই এ্যাকাউন্টের খোঁজ পেয়ে গেছে। পলাশ উত্তরে লিখলো, ‘এই … তুই কোন শালা বল … নাইলে তোরে সাইবার-ক্রাইমে ফাঁসায়ে দিমু’।

– দাও। সাইবার-ক্রাইমে ফাঁসানো তোমার জন্য খুব সহজ ব্যাপার। তুমি আর সুজন মাইদুলকে সেভাবেই ফাঁসিয়েছিলে। আমি জানি।

পলাশ আবার চমকে গেলো। গতবছর জুয়ার বোর্ডে সুজনের একটা চুরি ধরে ফেলার কারণে মাইদুল নামের একটা ছেলেকে ও আর সুজন সাইবার-ক্রাইমে ফাঁসিয়েছিলো। ওরা এমনভাবে মাইদুলকে ফাঁসালো যে কেউ টেরও পেলো না, আর মাইদুলও জেলহাজতে চলে গেলো। সেই চক্রান্তের কথা সুজন ছাড়া আর কারো জানার কথা না। পলাশের হঠাত মনে হলো এই আইডি হয় তো সুজনেরই। ও লিখলো, সুজন শালার পুত, ফাইজলামি করো … না … !

– আমি সুজন না। সুজন ওর রুমে ঘুমাচ্ছে। যাও দেখে আসো।

পলাশ নিজের অজান্তেই সুজনের রুমে উঁকি দিয়ে দেখলো সুজন বেঘোরে ঘুমাচ্ছে। এতে অবশ্য অবাক হওয়ার কিছু নেই। যে এটা করছে সে নিশ্চই খুব কাছের বন্ধুদের একজন … যে জানে সুজন রাত এগারোটায় ঘুমিয়ে পড়ে। পলাশ রুমে ফিরে ফেসবুক মেসেজে শ্বেতমুক্তাকে লিখলো, এই হারামী, কে রে তুই ! আমি কিন্তু সত্যি সত্যি তোর এ্যাকাউন্ট হ্যাক করুম ….

– আমার এ্যাকাউন্ট হ্যাক করা সম্ভব না, তবে চেষ্টা করে দেখতে পারো। সেটার জন্য আমি তোমাকে একদিন সময় দিলাম। আমার নাম শ্বেতমুক্তা … আমাকে মুক্তা বলে ডাকবে, আর তুমি করে বলবে। তুই-তোকারি বা গালাগালি কোরো না। এসব করলে আমি তোমার আর সুজনের সাইবার-ক্রাইমের চক্রান্তটা পুলিশকে আর মাইদুলের পরিবারকে জানিয়ে দিবো। আমার কাছে সেটার প্রুফ আছে। প্রুফও ওদেরকে দিয়ে দিবো।

পলাশ টের পেলো যে ওর রোম খাড়া হয়ে গেছে, বুক ধড়ফর শুরু হয়ে গেছে। কি যেন একটা ভয় ওকে গ্রাস করছে। ওর আর সুজনের চক্রান্তের কথা আর কার জানার কথা ? সুজন কি কাউকে বলে দিয়েছে ? সুজন কি ওকে ফাঁসানোর চক্রান্ত করছে ? পলাশ ভয়ে ভয়ে লিখলো, কে আপনি ভাই …. কি প্রুফ আছে আপনার কাছে ….?

– আমার কাছে তোমার আর সুজনের অনেক ক্রাইমের তথ্যপ্রমাণ আছে। জুঁথীর এমএমএস, শাওন-খেয়া ফেসবুক প্রেমের হ্যাকিং … সব ক্রাইম। তবে আমি কিন্তু তোমার বন্ধুই হতে চাই। আমার সাথে ঠিকঠাকমতো কথা বললে আমি এসব কাউকেই বলবো না।

– আমার ব্যাপারে আর কি জানেন আপনি …. ?

– জানি তো সবকিছুই … পরে কখনও বলবো।

– দেখেন আপা … আমি পেট চালানোর জন্য টুকটাক এইটা-সেইটা করি, কিন্তু ক্রাইম করি না। আর মেয়েদের সাথে আমার যোগাযোগ নাই। আমি সহজ সরল একটা ছেলে …. আপনি আমারে মাফ করেন। আমি আপনার সাথে বন্ধুত্ব করতে পারবো না।

– এটা তো মিথ্যা বললে পলাশ। তোমার অনেক মেয়েবন্ধু আছে। ওদের সাথে রাত জেগে তুমি সেক্সচ্যাট করো, ওয়েবক্যাম করো। তোমার এই এ্যাকাউন্টেও করো, জেনুইন এ্যাকাউন্টেও করো। তাই না ?

– আপা আপনি কে প্লিজ বলেন … আপনি কি ডিবি-র লোক ? আর আমার ব্যাপারে আপনি এতোকিছু জানেন কেমনে এইটা বলেন। আপনি আমার কাছে কি চান ?

– বলবো, পরে। আজকে না। আর আমি ডিবি-র লোক না। আজকে শুধু একটা কথা বলি। কালকে যখন জুয়াতে বসবে, তৃতীয় দানে ব্লাইন্ড খেলবে। সেই দানে তোমার তিন গোলাম থাকবে, রাজিবের সাত-আট-নয়, আর ইসরাতের টেক্কা-পেয়ার। ওরা যতোক্ষণ শো না দেয় তুমি ব্লাইন্ড খেলবে। যদি আমার কথামতো খেলো, সেই এক দানে উনত্রিশ হাজার সাতশ সত্তর টাকা জিতবে তুমি। আসি। কালকে কথা হবে।

আজকের সারাদিন পলাশের খুব অস্হিরতায় কেটেছে। শ্বেতমুক্তাকে কয়েকটা মেসেজ করলেও সারাদিনে তার উত্তর আসেনি। পলাশ একবার ভাবলো ব্লক করে দিবে, কিন্তু কি ভেবে যেন দিলো না। শ্বেতমুক্তার প্রোফাইল ঘাটাঘাটি করেও তেমন কোনো তথ্য পাওয়া গেলো না। প্রোফাইল ছবি ছাড়া অন্য কোনো ছবি দেখা যাচ্ছে না। পলাশ শুধু জানলো মেয়েটা ফরিদপুর মেডিকেল কলেজে পড়াশোনা করেছে, থাকে ফরিদপুরেই। আর জানলো মেয়েটা ‘ফ্রম সদরপুর উপজেলা’। এই পরিচয়ের কেউ পলাশের পরিচিত হতে পারে না।

পলাশের নিজের বাড়ি ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে। এইচএসসি পাস করার পর ইউনিভার্সিটিতে পড়াশোনার জন্য ও ঢাকায় চলে এসেছে। পড়াশোনা আর করা হয়নি। কিছুদিন আই-টি পড়ার পর ও সুজনের সাথে ব্যবসার চেষ্টা করলো। সেটাতে সুবিধা না হওয়ায় ওরা বেআইনী ধান্দা শুরু করলো … জুয়া, নিষিদ্ধ ভিডিও, এমএমএস, হ্যাকিং, পাইরেসি, সাইবার ব্ল্যাকমেইল … যখন যা পারে তাই করে। ওদের সাথে এরকম ডাক্তার-ইন্জিনিয়ার টাইপের ভদ্রগোছের কোনো মেয়ের বন্ধুত্ব নেই, থাকার কথাও না। আর বাংলাদেশের দক্ষিণান্চলে পলাশের কখনও যাওয়া হয়নি। সুজন অবশ্য মাঝে মাঝে যায়। ও পিরোজপুরের ছেলে, সেখানে এখনো ওর মা থাকেন। সুজনের সেখানে কি সব ধান্দাপাতিও আছে।

পলাশ একবার ভাবলো শ্বেতমুক্তার ব্যাপারটা নিয়ে সুজনের সাথে কথা বলবে। পরে ভাবলো সেটা এখন করা ঠিক হবে না। ওদের সাইবার ক্রাইমের চক্রান্তের কথা যদি সত্যিই এই মেয়ে জানে, তাহলে আগে সুজনকে না জানিয়ে ব্যাপারটা ভালোমতো জেনে নেয়া দরকার। মনে হচ্ছে সুজন এটা প্রচার করেছে। হয়তো সুজন পলাশকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে। ওদের ধান্দায় ভালো টাকাপয়সা আসছে। এখন পলাশকে ফাঁসিয়ে দিলে সুজন একাই সব ব্যবসা বাগিয়ে নিতে পারে। বেআইনী আর বেঈমানীর ধান্দায় কাউকেই বিশ্বাস করা যায় না।

এসব কথা যুক্তির কথা হলেও সন্ধ্যায় জুয়ার আসরে যা ঘটলো সেটা পলাশকে আরও ভয় পাইয়ে দিলো। কোনো একটা কারণে পলাশ তৃতীয় দানে ব্লাইন্ড খেলা শুরু করলো। ইসরাত আর রাজিবও খেলছে। পলাশ কোনো একটা ঘোরের মধ্যে ছিলো … ব্লাইন্ডেই স্টেক বাড়িয়ে দিলো। রাজিব আর ইসরাত এরপরও খেলতে থাকলো। অবিশ্বাস্যভাবে পলাশ আসরের সেই দানে একুশ রাউন্ড ব্লাইন্ড খেলে উনত্রিশ হাজার সাতশ সত্তর টাকা জিতলো। শো করার সময় দেখলো ওর হাতে তিন গোলাম, রাজিবের সাত-আট-নয়, আর ইসরাতের টেক্কা-পেয়ার!

এরপর পলাশ আর খুব বেশী খেললো না, অন্যমনস্ক হয়ে বসে রইলো। অতিরিক্ত মদ্যপান করার কারণে হয়তো রাতের খাবারও মুখে রুচলো না। সুজন ঘুমিয়ে পড়ার পরপরই পলাশ ফেসবুকে ঢুকলো, এবং এক মিনিটের মাথায় শ্বেতমুক্তার মেসেজ আসলো।

– জিতে কেমন লাগছে ?

– তুমি কেডা বস্ ? আমার কাছে কি চাও ?

– আমি শ্বেতমুক্তা জাবিন। আমি একজন ডাক্তার। ফরিদপুরের মসজিদ বাড়ি রোডে আমার বাসা। আমি তোমার বন্ধু হতে চাই।

– আমি তোমার সাথে দেখা করতে চাই।

– কেন দেখা করতে চাও ? … আমার ব্রা-র সাইজ জানার জন্য ?

– তুমি … কে ? …. তুমি কি জানো আমার সম্পর্কে ?

– সব। তোমাদের জুগলীর বাড়িতে তিনদিন আগে ডাকাতি হয়েছে। তোমার মা তোমাকে আসতে বলেছে, তাই না পলাশ ?

পলাশ ঘামছিলো। ওর নিশ্বাস আটকে আসছিলো। ও কাঁপা হাতে লিখলো, এই হারামী, তুই কে রে ? …. ঠিকঠাক বল নাইলে তোরে আমি শেষ কইরা দিমু ….

– তুমি আমাকে শেষ করতে পারবে না পলাশ। তোমার সেই ক্ষমতা নেই। তুমি এসব কথা বাদ দাও। এসো, আমরা স্বাভাবিকভাবে কথা বলি। স্বাভাবিকভাবে কথা বললে আমি তোমার কোনো ক্ষতি করবো না। এখন বলো, এতো টাকা জিতে তোমার কেমন লাগছে ?

পলাশ কপালের ঘাম মুছলো। ওর রুমে এসি চলছে কিন্তু ওর শার্ট ঘামে ভিজে পিঠের সাথে লেপ্টে আছে। ওর মাথা কাজ করছে না। কোনোকিছু না ভেবেই ও লিখলো, ভালো লাগছে।

– গুড। তুমি যদি আমার বন্ধু হয়ে একটা কাজ করো, আমি এভাবে তোমাকে প্রতিদিন অনেক টাকা জিতিয়ে দিবো।

– তুমি কে বস্ ? …. তুমি কিভাবে এসব করবে ?

– আবার এসব বলছো ! বললাম না … স্বাভাবিকভাবে কথা বললে আমি তোমার বন্ধু। কিন্তু আমি যদি তোমাকে জুয়াতে জিতাতে পারি, তাহলে আমি অনেক কিছুই করতে পারি, তাই না ?

– আমার টাকার দরকার নাই। তুমি আমারে মাফ করো আপা। আমি তোমারে ব্লক কইরা দিমু।

– পারবে না। চেষ্টা করতে পারো, তবে চেষ্টা করলে কালকে সকালে তোমার অনেক বড় সর্বনাশ হবে। আমি তোমার আর সুজনের সব অপরাধের প্রুফ পুলিশের কাছে পাঠিয়ে দিবো। তোমাকে বরং আমি একটা নমুনা দেই। তুমি যদি আমাকে এখন ব্লক করো, তাহলে আমি পুলিশকে একটা ভিডিও পাঠাবো। নাও সেই ভিডিওটা দেখো। দেখো তো এটা চিনতে পারো কি না ?

একটা ভিডিও লিঙ্ক এসেছে। পলাশ ভয়ে ভয়ে খুললো। গতমাসের ভিডিও, আনুশকা নামের একটা মেয়ের সাথে সুজনের ভিডিও। পলাশ এই ভিডিও ভালোমতোই চেনে, কারণ এই ভিডিও ও নিজেই করেছে, সুজনের রুমে। এই ভিডিওর এমএমএস এখনো রিলিজ করা হয়নি। শ্বেতমুক্তার কাছে এই ভিডিও কিভাবে আসলো ? সুজন কি গোপনে লিক করে দিয়েছে ? সেরকম হলে সুজন নিশ্চই পলাশকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে। এই মেয়েকে দিয়ে সেটা করাচ্ছে। জুয়ার ব্যাপারটাও কি সুজনের সেটিং ? কিন্তু সেটিং হলে সুজন কিভাবে জুয়ার বোর্ডের একজাক্ট এ্যামাউন্ট সেট করলো ? সেই হিসাব তো মিলছে না!

এসব ভাবতে ভাবতে পলাশ খেয়াল করেনি কখন ভিডিওর পরের পার্ট শুরু হয়ে গেছে। মেয়েটার অচেতন অবস্হায় করা সুজনের কেলেঙ্কারি শেষ হওয়ার পর পলাশ ভিডিও করা বন্ধ করেছিলো। কিন্তু তখন মেয়েটার জ্ঞান ফিরে আসে, আর মেয়েটা সুজনকে কি কি সব বলতে থাকে। সুজন মেয়েটাকে এলোপাথারি মারতে থাকলে মেয়েটা আবার অজ্ঞান হয়ে যায়। এরপর পলাশ আর সুজন মিলে মেয়েটাকে খুন করে। এখনকার ভিডিওতে সেই দৃশ্য দেখা যাচ্ছে। পলাশকেও দেখা যাচ্ছে। ভয়াবহ ব্যাপার! সুজন মেয়েটার পা চেপে ধরেছে, আর পলাশ মেয়েটার মুখ আর গলা টিপে হত্যা করছে। মেয়েটার শরীর কাঁপছে, পেছনে বাঁধা হাত মোচড়াচ্ছে। এই ভিডিও কে করলো! সুজন কি এটার ব্যবস্হা করে রেখেছিলো ? পলাশকে এভাবে ফাঁসানোর পরিকল্পনা করেছিলো সুজন ? কি সাংঘাতিক!

পলাশের অপ্রকৃতস্হ অনুভূতি হচ্ছে। ওর গলা খরখরে শুকনো, শরীর দরদর করে ঘামছে। নিশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে। মাথা বনবন করে ঘুরছে। এরপরের দৃশ্য নিশ্চই মেয়েটার লাশ কাটার দৃশ্য। পলাশ ভিডিও বন্ধ করলো। শ্বেতমুক্তার মেসেজ এসেছে।

– ভিডিওটা চিনতে পেরেছো পলাশ ? পুরোটা তো দেখলে না!

– আপনি … আমারে মাফ কইরা দেন আপা। আমি কিছু করি নাই।

– এই ভিডিও দেখে কি পুলিশ ভাববে যে তুমি কিছু করোনি ?

– আপা আপনি কি চান ? … আপনি কি আনুশকার কেউ ? আমি আনুশকারে ধর্ষণ করি নাই। সুজন করছে। সুজনের মেয়েদোষ আছে আপা … আমার নাই।

– দুইটা জিনিস ভুল বলেছো পলাশ। এই মেয়েটার নাম আনুশকা না, ওর নাম পলি। তবে সেটা তুমি জানো না, কারণ সুজন তোমাকে বলেছে আনুশকা। আর তোমার মেয়েদোষ আছে। রাত জেগে তুমি মেয়েদের সাথে সেক্সচ্যাট করো, মেয়েদের ভিডিও করো। কিন্তু মেয়েদের সাথে তুমি সত্যিকারের কিছু করতে পারো না … কারণ তোমার একটা শারীরিক সমস্যা আছে। তোমার সেই সমস্যার কথা যেই মেয়েটা জানতো, তার নাম জুঁথী। তাই না পলাশ ?

পলাশের এখন আর কোনো অনুভূতি নেই। ওর মনে হচ্ছে ওর সমস্ত বোধশক্তি হারিয়ে গেছে। ও কিছু ভাবতে পারছে না। শ্বেতমুক্তা আবার লিখলো, শোনো পলাশ। তুমি আমার একটা কাজ করে দাও। তাহলে আমি তোমার কোনো ক্ষতি করবো না।

– বলেন কি কাজ।

– পলাশ … তোমরা যাকে ধর্ষণ আর খুন করেছো, যার লাশ কেটে ফেলে দিয়েছো, তার নাম পলি। মেয়েটা আমার বান্ধবী, আমার ফরিদপুরের বাসায় থাকতো। পলির সাথে সুজনের প্রেম ছিলো। আমি সুজনকে আমাদের বাসায় আসতে দেখেছি। সুজনও আমাকে চেনে। গতমাসের তিন তারিখে পলি বাসায় ফিরলো না। ওর মোবাইলে ফোন করেও আমি পাচ্ছিলাম না। তখন আমি সুজনকে ফোন করি। তোমার কি সেই রাতের কথা মনে আছে ?

পলাশ নিজের অজান্তেই লিখলো, জ্বী, আছে। গতমাসের তিন তারিখে ঐ মেয়েটাকে সুজন বাসায় নিয়ে আসে, এরপর অজ্ঞান করে … আর ওর সাথে …. আমি সেটা ভিডিও করি।

– তুমি আরেকটা কথা বলোনি ….

– জ্বী। এরপর আমরা ঐ মেয়েটাকে খুন করি, আর তার লাশ কেটে বস্তায় ভরে ফেলে দিয়ে আসি।

– ঠিক বলেছো। আমি যখন সুজনকে ফোন করি, তখন তোমার সামনেই সুজন আমার সাথে কথা বলেছিলো। তোমার মনে আছে ? তোমরা ততোক্ষণে পলিকে খুন করে ফেলেছো।

– জ্বী মনে আছে। সুজন আমাকে বললো আনুশকার বান্ধবী মেহজাবিন ফোন করেছে। আর বললো এখন আনুশকার লাশ গায়েব করতে হবে।

– গুড। তোমার বন্ধু সুজনের সাথে আমাকে এসব নিয়ে কথা বলতে হবে। সে একটা জঘণ্য অপরাধ করেছে। পিশাচও এরকম করে না। আমি তার সাথে কথা বলে তাকে আইনের হাতে তুলে দিতে চাই। তুমি যদি তার সাথে আমার কথা বলার ব্যবস্হা করে দাও, আমি তোমার কোনো ক্ষতি করবো না।

পলাশ কাঁপা হাতে লিখলো, কিন্তু ভিডিওটা … আমিও সেখানে আছি …

-ডোন্ট ওয়ারি। এই ভিডিও পুলিশের কাছে যাবে না। আমি সুজনের স্বীকারোক্তিতেই সুজনকে অপরাধী প্রমাণ করবো। তুমি শুধু সুজনের সাথে আমার কথা বলার একটা ব্যবস্হা করে দাও। কিভাবে করবে সেটাও আমি তোমাকে বলে দিবো।

– বলেন। আপনি যা বলবেন আমি করবো। আমারে মাফ কইরা দেন। সুজন যা বলছে আমি করছি, আমি নিরূপায়। ঐসব না করলে ও আমারে ফাঁসায়ে দিতো …

– তুমি ভয় পেও না। তুমি শুধু এখন সুজনের রুমে যাও, আর ওর ল্যাপটপের চার্জারটা অন করে দাও। সুজন ভোরে উঠে ফেসবুকে আসে। আমি তখন ওর সাথে ফেসবুকে কথা বলবো। শ্বেতমুক্তা হয়ে কথা বলবো। তোমাকে আর কিছু করতে হবে না।

– ভোরে ফেসবুকে কথা বলবেন, তার জন্য এখন চার্জার অন করতে হবে কেন আপা ?

– পলাশ, আমাকে প্রশ্ন করার অবস্হায় তুমি নেই। আমাকে প্রশ্ন না করে তুমি এই কাজটা করো।

– জ্বী আপা, করছি। আপা, একটা কথা বলবেন ?

– বলো।

– আপনি এতোকিছু জানেন কিভাবে ? আপনি কোথায় থাকেন আপা ?

কিছুক্ষণ কোনো রিপ্লাই আসলো না। পলাশ লক্ষ্য করলো ও থরথর করে কাঁপছে। ওর হঠাত খুব ঠান্ডা লাগছে। সেপ্টেম্বর মাসে এতো ঠান্ডা লাগার কথা না। পলাশ এসি বন্ধ করলো, টলতে টলতে উঠে গিয়ে গায়ে কাঁথা জড়ালো। কিন্তু ঠান্ডাটা যাচ্ছে না। ল্যাপটপের সামনে বসতেই পলাশের মাথা ঘুরে উঠলো। ওর মনে হলো ও চেয়ার থেকে পড়ে যাবে। মনে হলো চেয়ার টেবিল খাট আর ঘরের সমস্ত জিনিসপত্র ভাসছে। পলাশ ওর হাতের দিকে তাকিয়ে চমকে উঠলো। ওর হাত ফুলে উঠছে। পলাশ নিশ্বাস নিতে পারছে না। ওর মনে হচ্ছে ওর বুকের ভিতরে কিছু একটা জমাট বেঁধে আছে।

পলাশের রুমের লাইট দুইবার ব্লিপ করে নিভে গেলো। কিন্তু ওর ল্যাপটপ তখনও অন। শ্বেতমুক্তা জাবিন ছবি পাঠাচ্ছে। ছবির রঙ নিকষ কালো, কিন্তু সেই কালোতে অস্পষ্টভাবে কিছু মানুষের অবয়ব দেখা যাচ্ছে। এখনকার ছবিগুলোতে অবয়বগুলো স্পষ্ট হচ্ছে। বিভিন্ন আকৃতির মানুষ … নারী, পুরুষ, বৃদ্ধ, শিশু। তাদের শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ফুলে আছে। মানুষগুলো নড়াচড়া করছে না, কিন্তু অন্ধকারে ভাসছে। এর মধ্যে কিছু মানুষ বিকলাঙ্গ, কিছু মানুষের চেহারা বিকৃত হয়ে গেছে। বিভত্স দৃশ্য। পলাশের গা গুলিয়ে আসছে, বমিভাব হচ্ছে।

শ্বেতমুক্তা এবার মেসেজ করেছে। মেসেজে লেখা, আমি এখানে থাকি পলাশ। এদের সাথে থাকি। এই অন্ধকারের অন্তঃস্রোতে।

পলাশ নিজের অজান্তেই বিড়বিড় করে বললো, আপনি আমারে মাফ কইরা দেন আপা ….

শ্বেতমুক্তা আবার লিখলো, তুমি সুজনের ল্যাপটপের চার্জারটা অন করে দাও পলাশ।

– আপনি এখানে থাকেন কেন আপা …. আপনি কে … ?

– আমি ডাক্তার মেহজাবিন সুলতানা মুক্তা। পলির সাথে থাকতাম। গতমাসের তিন তারিখ রাতে পলির খোঁজ না পেয়ে আমি সুজনকে ফোন করি। সুজন আমাকে সদরপুর আসতে বলে। আমি পরদিন ভোরে সদরপুর আসি। সেখানে এসে সুজনকে আবার ফোন করি। সুজন আমাকে ঢাকা আসতে বলে। আমি কেওরাকান্দি ঘাট থেকে মাওয়ার উদ্দেশ্যে যাওয়ার জন্য একটা লন্চে উঠি। এরপর কি হয় তুমি কি জানো পলাশ ?

– আপনি সেই লন্চে ছিলেন ! …. সেই লন্চ … যেইটা ….

– সেই লন্চটা মাওয়া পৌঁছায়নি পলাশ। আমি লোয়ার ডেকে ছিলাম, লন্চ থেকে পালাতে পারিনি। পানির গভীরে নিকষ কালো অন্ধকার পলাশ। সেখানে প্রচন্ড স্রোত। তুমি কি জানো সেই স্রোতের শক্তি কতো প্রখর ? আমি এখন জানি। আমি সেই অন্তঃস্রোতের সাথে থাকি। নদীর বুকে যেই স্রোত আমরা দেখি, নদীর গভীরের স্রোত তার চেয়েও অনেক তীব্র। আমি তোমাকে সেই অন্তঃস্রোতের একটা স্পর্শ দিলাম পলাশ। কেমন লাগলো তোমার ?

এরপর কি হলো পলাশের আর মনে নেই। ওর শুধু মনে হলো ও জ্ঞান হারালো, বা মারা গেলো।

পরদিন খুব ভোরে পলাশের ঘুম ভাঙলো ‘আগুন’ ‘আগুন’ চিত্কারে। এরপর ধুপধাপ শব্দ, হৈচৈ আর ধস্তাধস্তিতে পলাশ আবার জ্ঞান হারালো। ওর জ্ঞান যখন ফিরলো তখন ও হাজতে। কিছুক্ষণের মধ্যে ও জানতে পারলো যে সুজনকে হত্যা করার চক্রান্তে ওকে সন্দেহভাজন হিসাবে গ্রেফতার করা হয়েছে। নিজের রুমে আগুনে দগ্ধ হয়ে সুজনের মৃত্যু হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী ল্যাপটপের ব্যাটারী বিস্ফোরণের কারণে সুজনের রুমে আগুন লেগে যায়। ব্যাটারীটা অনেক পুরানো আর ফল্টি ছিলো, আর কেউ ব্যাটারীটাকে সারারাত চার্জে রেখেছিলো। ভোরে সেই ব্যাটারীর বিস্ফোরণে সুজনের মশারীতে আগুন লেগে যায়। পুলিশ পলাশের রুম থেকে একটা ভেজা কাগজে লেখা নোট পেয়েছে। নোটটাতে লেখা, ‘আজকে রাতেই ল্যাপটপের চার্জার অন করে রাখবে। সুজনকে আজকে রাতেই মরতে হবে’। পুলিশের সন্দেহ হলো কারো প্ররোচনায় পলাশ সুজনের ল্যাপটপের চার্জার অন করে রেখেছিলো। তবে সেই সন্দেহ খুব একটা পোক্ত সন্দেহ না। কারণ সুজনের রুমের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ ছিলো। দরজা ভেঙে ঢুকতে হয়েছে। সেখানে মশারীর ভেতরে সুজনকে ঝলসানো অবস্হায় পাওয়া গেছে।

তবে পলাশ আর সুজনের রুমে তল্লাশি চালিয়ে পুলিশ সাইবার-ক্রাইম আর অন্যান্য অপরাধের অনেক আলামত সংগ্রহ করেছে। এসব আলামত পলাশকে অপরাধী হিসাবে চিহ্নিত করার জন্য যথেষ্ট। পলাশকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করে সুজন-হত্যা তদন্তের খুব একটা অগ্রগতি হয়নি। পলাশ মানসিকভাবে বিকারগ্রস্ত আচরণ করছে, উল্টাপাল্টা কথাবার্তা বলছে। বারবার পুলিশকে অনুরোধ করছে কাসানোভা রাসপুটিন নামের ফেসবুকের একটা এ্যাকাউন্ট চেক করে সেখানে শ্বেতমুক্তা জাবিনের সাথে হওয়া কনভারসেশনটা দেখতে। পুলিশ সেই এ্যাকাউন্ট চেক করে সেরকম কোনো কনভারসেশন পায়নি। শ্বেতমুক্তা জাবিন নামের কোনো আইডিও পাওয়া যায়নি।

পলাশ বলেছে শ্বেতমুক্তা জাবিনের আসল নাম ডাক্তার মেহজাবিন সুলতানা মুক্তা, তবে তার ব্যাপারে ওর আর কিছুই মনে নেই। তার সাথে হওয়া কনভারসেশনের কিছুও ওর মনে নেই। ডাক্তার মেহজাবিন সুলতানা মুক্তা নামের একজনের নিখোঁজ হওয়ার রেকর্ড অবশ্য পুলিশ খুঁজে পেয়েছে। তার বাসা ফরিদপুরের মসজিদ বাড়ি রোডে। তিনি গতমাসের চার তারিখ থেকে নিঁখোজ। তিনি তার এক বন্ধুকে শেষবার ফোন করেছিলেন চার তারিখ ভোরে … জানিয়েছিলেন একটা জরুরী কাজে সদরপুরে এসেছেন। এরপর আর তার কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।

সেই একই ঠিকানায় থাকতেন এমন আরেকজন নিঁখোজ রয়েছেন। তার নাম জুবাইরা আক্তার পলি। তার নিঁখোজ হওয়ার রিপোর্ট ডাক্তার মেহজাবিনই করেছিলেন। গত একমাসে পুলিশ এদের দুইজনের কাউকেই খুঁজে পায়নি।

(এই গল্পটিসহ কেতন শেখ-এর লেখা নয়টি ছোটগল্পের সংকলন অন্তঃস্রোত প্রকাশ পেয়েছে অমর একুশে গ্রন্হমেলা ২০১৫-এ, পাওয়া যাচ্ছে জাগৃতি স্টলে)

আরও জানুন » ভালবাসি নিভৃতে »

সাহিত্য, কাব্য, সঙ্গীত আর শিল্প নিয়ে কেতন শেখ-এর স্বপ্নময় জীবন। ২০১৩ থেকে জাগৃতি প্রকাশনীর সাথে নিয়মিত লিখছেন। কাজল, নীল গাড়ি ও সাদা স্বপ্ন, এক-দুই-আড়াই, অধরা অনুরাগ ও অভিসরণ আলোচিত উপন্যাস। এ ছাড়াও লিখেছেন অন্তঃস্রোত (গল্পগ্রন্হ) ও চতুষ্পথ (কাব্যগ্রন্হ)। বাংলা কবিতা, বাঙালিয়ানা ম্যাগাজিন, প্রিয়.কম সাহিত্য পত্রিকা, আলফি পত্রিকা, নক্ষত্র ও অন্যান্য ব্লগে ও পত্রিকায় নিয়মিত লেখেন।

জন্ম ঢাকায়। ভ্রমণ শৌখিন। পৃথিবীকে দেখার স্বপ্ন নিয়ে ভ্রমণ করেছেন ভারত, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, স্পেন, সুইজারল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড, চীন, কোরিয়া ও অন্যান্য দেশে। পেশায় অর্থনীতিবিদ। যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অফ সাউদাম্পটন থেকে অর্থনীতিতে পি এইচ ডি ডিগ্রি অর্জন করেছেন। বর্তমানে লন্ডনের ইউনিভার্সিটি অফ ওয়েস্টমিন্স্টারে অর্থনীতির সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত। লেখালেখির মতো সঙ্গীতও তাঁর অন্যতম প্রিয় শখ। তাই মাঝে মাঝে অবসরে তিনি তাঁর ব্যক্তিগত রেকর্ডিং স্টুডিও এপসিলনে নীল বাতি জ্বালিয়ে সুর সৃষ্টি করেন।

ব্যক্তিজীবনে আড্ডাপ্রিয় ও বন্ধুপরায়ণ। স্ত্রী ও দুই পুত্রকে নিয়ে থাকেন ইংল্যান্ডের এইল্সবারীতে।

Comments

comments