অগ্রীম টিকিট সংগ্রহের যুদ্ধ

0
60
টিকিট
Print Friendly, PDF & Email

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে আজ বৃহস্পতিবার থেকে ট্রেনের আগাম টিকিট বিক্রি শুরু করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। ঢাকার কমলাপুর ও চট্টগ্রাম স্টেশনসহ দেশের বিভিন্ন স্টেশনের কাউন্টার থেকে আজ সকাল নয়টায় আগাম টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে।

টিকিট সংগ্রহ করার যুদ্ধে জয়ী হতে গতকাল বুধবার রাত থেকেই শুরু হয়েছে প্রস্তুতি। সবার লক্ষ্য একটাই—কাঙ্ক্ষিত তারিখে নির্দিষ্ট গন্তব্যের প্রয়োজনীয় টিকিট। ইফতার করে অনেকেই চলে এসেছেন রাজধানীর কমলাপুর স্টেশনে। সেখানেই কাটিয়েছেন সারা রাত। মানুষের দীর্ঘ সারি রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশনের প্ল্যাটফর্ম ছাড়িয়ে বাইরের দিকে চলে গেছে অনেকটা দূর পর্যন্ত। গতকাল বুধবার রাত থেকেই শুরু হয়েছে এই ভিড়। তাই আগামীকাল শুক্রবার শুরু হবে মহাযুদ্ধ। আজ থেকে মানুষ বানের পানির মতো ছুটছে গ্রামের উদ্দেশে।

টিকিট-প্রত্যাশীদের ভিড়ে নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই পরিপূর্ণ হয়ে গেছে রেলস্টেশন। সকাল নয়টায় টিকিট বিতরণ শুরু হলে তাদের মধ্যে এক ধরনের স্বস্তি নেমে আসে। তবে পরক্ষণেই শুরু হয় আরেক ধরনের শঙ্কা—শেষমেশ টিকিট মিলবে তো!

সবার আগে পেতে হবে টিকিট। তাই কাউন্টারের সামনেই বিছানা পেতে ঘুমাচ্ছেন একজন। কাউন্টার খোলামাত্রই টিকিট চাই। তাই কাউন্টারের সামনের স্বল্প পরিসরে ঘুমাচ্ছেন এক বৃদ্ধ। যদি সকালে ঘুম না ভাঙে। তাই জেগে থাকতে হবে। কাউন্টারের সামনে লাইনে দাঁড়ানোর জায়গায় বসে চলছে তাস খেলা।

রেলওয়ে সূত্র জানায়, আজ ৯ জুলাই থেকে ১৩ জুলাই পর্যন্ত টানা পাঁচ দিন টিকিট বিক্রি করা হবে। আজ বিক্রি হচ্ছে ১৩ জুলাইয়ের টিকিট। কাল ১০ জুলাই দেওয়া হবে ১৪ জুলাইয়ের টিকিট। ১১ জুলাই ১৫ জুলাইয়ের, ১২ জুলাই ১৬ জুলাইয়ের, ১৩ জুলাই বিক্রি হবে ১৭ জুলাইয়ের টিকিট।

রেলওয়ে এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, ঘরমুখো মানুষের যাত্রীসেবা নিশ্চিত করতে সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাও নিশ্চিত করা হয়েছে। ট্রেনের টিকিট দেয়া উপলক্ষে যে কোন ধরনের বিশৃঙ্খলা, কালোবাজারি ঠেকাতে বুধবার রাত থেকে বাড়তি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশের বিশেষ টিম কাজ করে যাচ্ছে। এছাড়া কালোবাজারিকে চিহ্নিত করার জন্য সিসি টিভি স্থাপন করা হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে নিরাপত্তার জন্য যা কিছু দরকার সব ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

বৃষ্টি, যানজট, ভাঙাচোরা সড়ক, প্রতিকূল আবহাওয়ার সঙ্গে লড়াই করে পৌঁছাতে হবে নিজ নিজ গন্তব্যে। বৃহস্পতিবার থেকে স্বল্প পরিসরে মানুষ রাজধানী ছেড়ে গেছে। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন শুক্রবার থেকে নামবে গ্রামমুখো মানুষের স্রোত।

আরও জানুন » নাগরিক সুবিধার প্রতীক্ষায় ছিটমহলের মানুষ »

Comments

comments