অদ্ভুত ছবিগুলো (১৯)

0
335
আলী আহসান রচিত অদ্ভুত ছবিগুলো উপন্যাস
আলী আহসান রচিত অদ্ভুত ছবিগুলো উপন্যাস
Print Friendly, PDF & Email

অদ্ভুত ছবিগুলো (১৮) পড়ুন এখানে ক্লিক করে

সোফায় একটু হেলান দিয়ে বসলেন মোস্তফা সাহেব। তারপর বাঁ পায়ের উপর ডান পা-টা একটু ভাঁজ করে রাখতে রাখতে বললেন, বাইরে দাঁড়িয়ে আসলে মনে করার চেষ্টা করছিলাম মেয়েটাকে কেমন চেনা চেনা মনে হচ্ছে। কিন্তু মনে পড়ছিল না কেন চেনা মনে হচ্ছে। এজন্যই অনেকক্ষণ ধরে দাঁড়িয়ে ছিলাম বাইরে। তারপর ভেতরে যেয়েও অনেকক্ষণ ছবিটার সামনে দাঁড়িয়ে ছিলাম।

হঠাৎ করেই মনে পড়লো কোথায় দেখেছি এই মেয়েকে। একই রকম একটা লাল রঙ এর কোট পরা ছিলো মেয়েটা। আই মিন, ফ্রেমের ছবিতে যে মেয়েটাকে দেখেছিলাম। ওই কোটটার জন্যই আসলে মনে পড়ে গেল।

হাসান গরম চা খুব তাড়াতাড়ি খেতে পারে না। ওর বাবার কাছ থেকেই এই অভ্যাসটা পেয়েছে। চা একটু গরম থাকলে যদি ভুল করে একুটু বেশি চা চুমুক দেয় তাহলে জিহ্বা অবশ্যই পুড়ে যাবে। মোস্তফা সাহেবের এই কথাটা শোনার পর নিজের অজান্তেই গরম চা একটু বেশি চুমুক দিয়ে ফেলেছে। জিহ্বাটা পুড়ে গেছে মনে হয়। এতক্ষণ খুব ধীরে ধীরে চুমুক দিচ্ছিল হাসান চায়ের মগে।

ঠিক বুঝতে পারছিল না মোস্তফা সাহেব কেন ত্রিরঞ্জন এর সাথে দেখা করতে চান। ওর ধারণা ছিলো ত্রিরঞ্জনকে দিয়ে হয়ত কোনও পোর্ট্রেট আঁকিয়ে নেবেন। কিন্তু এখন আর তা মনে হচ্ছে না। ত্রিরঞ্জনের দিকে তাকালো হাসান। মনে হলো, ওর মুখের রক্ত সবটুকু কেউ শুষে নিলো। একদম সাদা হয়ে গেছে ওর মুখটা।

কিন্তু নিজের অবাক হওয়াটা মোস্তফা সাহেবকে বুঝতে দিলো না হাসান। ভদ্রলোকের দিকে তাকিয়ে শুধু হ্যাঁ সুচক মাথা নেড়ে গেল। কারণ তিনি ওর দিকে তাকিয়ে কথা বলছেন এখন। সম্মতিসুচক ভাবে হাসান মাথা নেড়ে বললো , জ্বী! মনে আছে, আপনি অনেকক্ষণ ছবিটার দিকে তাকিয়ে ছিলেন।

ত্রিরঞ্জন হতবাক হয়ে গেছে, অজানা ভীতিটা ওর ভেতর এক ধরনের নতুন উপসর্গ নিয়ে হাজির হলো। অপার্থিব কিছু অনুভূতি এই মুহূর্তে ওকে বিবশ করছে। এটা কিভাবে ঘটল? যাকে কখনও দেখেনি, যার সাথে কোনও পরিচয় নেই, কোনও সম্পর্ক নেই, অথচ সেই মানুষটা এই দেশেরই কোনও এক প্রান্তে আছে?

মাথাটা ঘুরতে শুরু করেছে হঠাৎ করেই। তীব্র মাথা ব্যাথা অনুভব করছে ও। খুব জানতে ইচ্ছা হচ্ছে মেয়েটা কোথায় থাকে, কি করে, কেন এই অজানা মানুষটাকে সে ঘোরের ভেতর ওই ভাবে দেখতে পেল? হাসান থামতেই ও জিজ্ঞাসা করলো, আপনি কি ব্যক্তিগত ভাবে চেনেন মেয়েটাকে?

না, আমি চিনি না তবে আমার বন্ধুর সাথে কথা বলে জানতে পারবো। ছবিটা আমার বন্ধুর জন্যই কিনেছি। ওকে যখন এটা দেবো তখনই জিজ্ঞাসা করবো।

আপনার বন্ধু কোথায় থাকেন? আমি কি দেখা করতে পারি উনার সাথে?

অবশ্যই পারেন। কিন্তু ও তো বাংলাদেশে থাকে না!

তাহলে?

ইংল্যান্ডের একটা কনভেন্টের টিচার ও।

ও আচ্ছা ! ত্রিরঞ্জন বেশ দমে গেল। ভাবলো, তাহলে কি ওর ছবির মেয়েটা ইংল্যান্ডের কোথাও থাকে? সবকিছু খুব বেশি ওলট পালট লাগছে ওর কাছে। নিজের কাছেই অসম্ভব মনে হচ্ছে ব্যাপারটা। ছবিটা প্রথমবার দেখার পর হাসানওর কাছে জানতে চেয়েছে মেয়েটাকে ও চেনে কিনা।

হাসানকে ওর বলা হয়নি ঠিক কিভাবে একটা ঘোরের ভেতর মেয়েটাকে সে দেখেছে। শুধুই একটা মুহূর্তের ঘোরলাগা স্মৃতি, আর কিছুই না। মনে হচ্ছে এখান থেকে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বেরিয়ে যাওয়া উচিৎ ওর। হাসানের দিকে তাকিয়ে চোখের ইশারা করলো ত্রিরঞ্জন। জানে, ওর এই ইশারা বুঝতে পারবে হাসান।

হাসানও দারুন অবাক হয়েছে কথাটা শুনে। ঠিক বিঃশ্বাসযোগ্য মনে হচ্ছে না ব্যাপারটা। ত্রিরঞ্জন মেয়েটাকে চেনে না, বহুবার একথা ও বলেছে। হাসানের মনে সবসময় এই প্রশ্ন হয়েছে অচেনা একজন মানুষের ছবি কিভাবে আঁকল ত্রিরঞ্জন। কিন্তু ভদ্রলোকের কথা শুনে বুঝতে পারল মেয়েটা বাস্তবের কেউ। অথচ ত্রিরঞ্জন মেয়েটাকে চেনে না। তাহলে?

অনেক প্রশ্ন ওর মধ্যে জমে গেল কিন্তু বুঝতে পারছে না ওর কি বলা উচিৎ। শুধু অনুভব করলো ত্রিরঞ্জন এই মুহূর্তে বের হতে চাচ্ছে। ওর ইশারাও বুঝতে পারল হাসান। ভাবলো ভদ্রলোক হয়ত ভুল করছেন কোথাও। তাই জানতে চাইলো, আপনি শিওর এই মেয়েটার ছবিই আপনি দেখেছেন আপনার বন্ধুর কাছে?

মোস্তফা সাহেব মাথা নাড়লেন। যতদূর মনে পড়ে, আমি ঠিকই দেখেছি। এই মেয়েটার ছবিই ছিলো ফ্রেমে। যদি কিছু মনে না করেন, আপনার নাম্বারটা যদি দিতেন। উঠে যেয়ে একটা ছোট ফোন ইনডেক্সের মতো  কিছু নিয়ে আসলেন তিনি, সাথে একটা কলম। ত্রিরঞ্জনের দিকে এগিয়ে দিলেন তিনি।

……    চলবে

আরও জানুন » অদ্ভুত ছবিগুলো (২০) »

জন্ম ২৪ শে মে যশোর। শৈশব, বাল্যকাল ও তারুন্যের একটা দীর্ঘ সময় কেটেছে কবিতা, গল্প ও প্রবন্ধ লেখার মধ্যমে। স্কুল ম্যাগাজিন অগ্রজ, যশোর শিশুসাহিত্য কেন্দ্রের কিশোরমেলা, কলেজের ক্র্যাচ এবং দেশের বিভিন্ন দৈনিকে বিচ্ছিন্নভাবে প্রকাশিত কবিতা ও গল্প। তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং পড়াকালীন “সময়” সংকলন এবং নির্বাচিত সাহিত্য সম্পাদক হিসাবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেছেন। বিমানের পাইলট ও ক্যাপ্টেনদের ককপিট ইন্সট্রুমেন্টেশান প্রশিক্ষক ও পরবর্তীতে জার্মানী থেকে ইনফরমেশন ও কমুউনিকেশন্স এ উচ্চশিক্ষা গ্রহনের পর আই.বি.এম ও বিভিন্ন গ্লোবাল কোম্পানিতে আই টি স্পেশিয়ালিষ্ট হিসাবে কর্মরত। পেশাগত কারনে দীর্ঘদিন লেখালেখি থেকে বিরত থাকার পর আবার সাহিত্যের অঙ্গনে প্রত্যাবর্তন কবিতা,গল্প, উপন্যাস ও গবেষনা ভিত্তিক প্রবন্ধ লেখার মাধ্যমে। বর্তমানে যুক্তরাজ্যের প্রবাস জীবনে বিভিন্ন ব্লগে কবিতা, গল্প ও উপন্যাস ধারাবাহিক ভাবে প্রকাশ করেন।

ব্যক্তিজীবনে ভীষন বন্ধুভাবাপন্ন, অত্যন্ত সদালাপী এবং আড্ডাপরায়ণ। বর্তমানে স্ত্রী, পুত্র ও কন্যা সন্তানকে নিয়ে থাকেন ইংল্যান্ডের মিডল্যান্ডের মার্সটন গ্রিনে।

Comments

comments