অধরা ভালবাসা

0
699
অধরা-ভালবাসা
Print Friendly, PDF & Email

অধরা ভালবাসা

– কাউসার আহাম্মদ

রাতের আকাশের চাদঁটাকে আজ প্রচন্ড সুন্দর দেখাচ্ছে। চাঁদের আলোয় আলোকিত চারদিক। বিশাল ঐ আকাশটাকে ছোট্ট ঐ চাঁদটি আরও সুন্দর ও অপুর্ব করে তুলেছে। খুব বেশি মনে পড়ছে আজ আমার ভালবাসার মানুষটাকে। দেখতে খুব ইচ্ছে করছে তাকে। কিন্তুওওওওওওওওওওও। রাতের আকাশের নিস্তব্ধতায় খুববেশি অনুভব করছি অধরাকে। আলোকিত আকাশে জ্বলে আছে লক্ষ তারা। বিশাল আকাশটা অকৃপণ হাতে বুকটাতে আকড়ে ধরেছে ঐ তারাগুলোকে। হঠাৎ একটি তারা ছুটতে শুরু করলো। হয়তো তারাটি অন্য কোন সুখের সন্ধানে ছুটছে। হয়তো চাইছে পৃথিবিতে আসতে এই সুন্দর পৃথিবীর ভালবাসার টানে। নাকি আকাশটা ছুড়ে ফেলে দিয়েছে তারাটাকে? কিন্তু সবচেয়ে বড় সত্য হলোও তারাটাতো পৃথিবিতে আসেনি। তাহলে কোথায়? কোথায় হারিয়ে গেল? যেখানেই হারিয়ে যাক না কেন। কেউ তার কোন খোঁজই রাখে না বা রাখবে না। মনটা খুব খারাপ হয়ে গেল। আমিতো চেয়েছি আমার ভালবাসার মানুষকে নিয়ে সুখী হতে। হয়তো সেও আমাকে ছুড়ে ফেলে দিয়েছে। অথবা প্রয়োজন ফুরিয়ে গেছে তার কাছে। যেমন করে প্রয়োজন ফুরিয়ে গেছে ঐ তারাটার। নিঃস¦ার্থ ভালবাসার পরিণতি বোধ হয় এমনই হয়। রাতের ঐ হিমেল বাতাস কানে কানে বলেওতুমি ভুল করেছো আবির। আমি বলিওআমি ভুল করিনি। ভালবাসা কি ভুলও শুদ্ধ বিচার করে হয়? হয় না।

মনের অজান্তেই চোখ হতে গড়িয়ে পড়ল কয়েক ফোটা অশ্রু। চোখটাও মনে হয় অশ্রুগুলোকে ছুড়ে ফেলে দিলো। জীবনে বেঁচে থাকার জন্য খুব বেশি চাওয়াও পাওয়া নেই আমার। চেয়েছিলাম সুন্দর কিছু মুহূর্ত আর তোমারওওওও। জীবনের বাস্তবতায় মানুষ বেঁচে থাকে হোক না তা আশায় বা নিরাশায়। কিন্তু বেঁচে থাকলেও কি পারে তার ভালবাসার মানুষটিকে ভুলে থাকতে? না পারে না। যদি না সে হৃদয়হীন রোবট হয়। ডাইরীতে কথাগুলো লিখতে লিখতে ঘুমিয়ে পড়ে আবির। আবির দৌড়াচ্ছে। ছুটে চলছে দ্রুত গতিতে। মনে হয় যেন কোন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহন করেছে সে। হ্যাঁ, প্রতিযোগিতাই। তবে তা জীবন বাচাঁনোর প্রতিযোগিতা। আবিরের পেছনে কেউ একজন দৌড়াচ্ছে আবিরকে খুন করার জন্য। দৌড়াতে দৌড়াতে পাহাড়ের উপর উঠে পড়ে সে। কিছুক্ষনের মধ্যে পাহাড়ের চূড়ার শেষ প্রান্তে পৌছে যায়। আর যাবার কোন পথ নেই। পেছনে তাকাতেই দেখতে পেল সেই ভয়ঙ্কর লোকটাকে। হঠাৎ করে পা ফসকে পড়ে যায় আবির। না তখন পর্যন্ত মারা যায়নি আবির। কেননা জীবন বাঁচানোর তাগিদে হাত দিয়ে আকড়ে ধরলো মাটিকে। উপরের দিকে তাকিয়ে অধরাকে দেখতে পেল আবির। অধরার দিকে হাত বাড়িয়ে বললোও আমার হাতটা ধর অধরা। আমাকে উপরে টেনে তুলে নাও। অধরা কোন প্রতিত্তর দিল না। দাড়িয়ে রইলো নির্বাক হয়ে। আবির আবার অধরাকে অনুরোধ করলোও আমাকে বাঁচাও। আমি বাঁচতে চাই অধরা। অধরা কিছুই করলো না। শুধু দাড়িয়েই রইলো। আবির আর নিজেকে আকড়ে রাখতে পারলো না। পড়ে গেল উচু পাহাড় হতে। হারিয়ে গেল চিরতরে এই পৃথিবী থেকে। ভয়ে হাপাতে হাপাতে ঘুম থেকে জেগে উঠলো আবির। জেগেই স¦স্থির নিঃশ্বাস। নাহ এতক্ষন স¦প্ন দেখছিলাম। বিছানার পাশের টেবিলটাতে রাখা জগ আর গ্লাস নিয়ে এক চুমুকেই এক গ্লাস পানি পান করে নিল। কোন দূর্ঘটনা কি ঘটেছে অধরার? কোন অশুভ সংকেত নয়তো? এরকম স¦প্ন দেখার অর্থটা কি? মনটা ব্যাকুল হয়ে উঠলো অধরাকে দেখার জন্য। যেন এক তৃষ্ণান্ত চাতক পানির অভাবে ব্যাকুল হয়ে আছে। বিছানা হতে উঠে দাড়ালো। কিন্তু দাড়িয়ে থাকতে পাড়লো না। প্রচন্ড ব্যথায় মাথার চুলগুলো খামছে ধরলো আবির। মাটিতে লুটিয়ে পড়লো প্রচন্ড চিৎকার করে।
ওমা আমার মাথাটা প্রচন্ড ব্যথা করছে। যেন কেউ মাথার ভেতর আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছে। আমি আর পারছি না। জ্ঞান হারিয়ে ফেললো আবির। জ্ঞান ফিরে আসতেই বিছানায় চট করে বসে পড়লো। ব্যাকুল মনটা কেঁদে উঠলো অধরার জন্য। বিছানা থেকে উঠে বাহিরে তাকিয়ে সুন্দর ঐ আকাশটাকে আনমনে দেখতে লাগলো। ভাবলো ঐ নীল আকাশটাকে যদি আপন একান্ত আমার করে পেতাম। যেন সুন্দর নীল শাড়িতে সেজেছে আকাশটা, সাথে সুমিষ্ট বেলী ফুলের সুবাস। যেন এক স¦র্গীয় সুধা। গোসল করে নাস্তা সেরে বাইরে যাবার জন্য রওনা হলো। পেছন থেকে মায়ের ডাক ও তারাহুড়ো করে কোথায় যাচ্ছিস? দুপুরে ফিরবি নাকি? কোন কথা শোনার বিন্দুমাত্র সময় নেই তার। যত শীঘ্রই সম্ভব অধরার সাথে দেখা করতে হবে। মায়ের কথাগুলো কান পর্যন্ত পৌছেছে বলেও মনে হলো না আবিরের।

আবির ও অধরা উভয়েই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে। তাই তাদের দেখা করার একমাত্র স্থানও সেখানে। আবির দ্রুত বাসে উঠতে গিয়েই ঘটলো এক দূর্ঘটনা। পা পিছলে পড়ে গেল। চলন্ত বাসের হাতলের সাথে ব্যথা পেল আবির। তারপরও তার অন্যকোন চিন্তা নেই। আজকে সে তার মনের কথা অধরাকে বলবেই। দ্রুত সে টি,এস,সিতে হাজির হলো। মুঠোফোনে অধরাকে কল করলোও অধরা তাড়াতাড়ি টি,এস,সিতে আসো। একটা জরুরী কথা আছে।
ও আমি আধা ঘন্টার মধ্যে হাজির হবো। অধরার উত্তর।
আবির কিভাবে তার ভালবাসার কথা বলবে তা ঠিক করতে পারছিলো না। এর আগেও যে ভালবাসার কথা বলার চেষ্টা করেনি, তা না। কিন্তু যখনই ভালবাসার প্রসঙ্গ আসতো অধরার মন্তব্যও ভালবাসার অর্থ কি? ভালবাসা কাকে বলে? এ যুগের সংজ্ঞাতো হাতে হাত রেখে ঘুড়ে বেড়ানো,ডেটিং ও খাওয়া। আমি কখনোই এরকম ভালবাসায় বিশ্বাস করিনা।
আমি আজ অধরাকে বুঝাবোও ভালবাসা হচ্ছে ভালবাসার মানুষের সুখে সুখী হওয়া, দুঃখে দুখী হওয়া। তার ভালও মন্দ সব কিছু নিজের করে নেয়া। নিজের অস্তিত্বে সবসময় ভালবাসার মানুষকে অনুভব করা। আর ভাবতে পারলো না আবির। প্রচন্ড ব্যথায় চারপাশটা অন্ধকার হয়ে এলো। খামছে ছিড়ে ফেলতে ইচ্ছে করছে মাথাটা। ইচ্ছে করছে মাথাটাকে দেহ থেকে আলাদা করে ফেলতে। তাতেই যেন তার মুক্তি ঘটবে। এরই মধ্যে অধরা এসে উপস্থিত হলো।
ওকি ব্যাপার ? তুমি না বললে তোমার আধা ঘন্টা লাগবে। খুব কষ্ট করে ব্যথা লুকিয়ে আবিরের প্রশ্ন।
ও তোমাকে রাগানোর জন্য বলেছিলাম। ঝগড়া করতে ইচ্ছে করছিলো। কিন্তু তোমার কোন প্রতিক্রিয়াই দেখলাম না। কি হয়েছে তোমার?
ও না কিছু না। একটা কথা বলার ছিলো।
ও আমিও তোমাকে একটা সুসংবাদ দেয়ার জন্য এখানে এসেছি।
ও কি সুসংবাদ? জলদি বলো।
ও তুমি মন খারাপ করবে নাতো?
ও সুসংবাদে মন খারাপ হয় নাকি?
ও না তা না। তোমার সাথে কথা না বলেই সিদ্ধান্তটা নিলাম তো তাই।
ও ঠিক আছে রাগ করবো না। মন খারাপও করবো না।
ও আমার বিয়ে ঠিক হয়েছে। অধরা বললো।
আবির যেন কথাটা ঠিক শুনতে বা বুঝতে পারেনি। তার প্রশ্ন- কি বললে?
ও আমার বিয়ে ঠিক হয়েছে। পাত্র আমেরিকা প্রবাসী। বিয়ের পর আমাকে আমেরিকা নিয়ে যাবে।
খুব উচ্ছলতার সাথে কথাগুলো বলে যাচ্ছিল অধরা। আবির শুনছিল। এই প্রথম অধরার কোন কথা তার হৃদয়ে বিষ মাখানো তীরের মতো বিদ্ধ হচ্ছে। ক্ষতওবিক্ষত হয়ে গেছে তার হৃদয়।
ও তুমি খুশি হওনি?
ও হ্যাঁ। অবশ্যই। কেন খুশি হবো না? প্রচন্ড খুশি হয়েছি। খুশি হবার কথাইতো।
ও তোমাকে কিন্তু বাবুর্চি হতে হবে। ভুলে গেছো তোমার ওয়াদার কথা? আমার বিয়েতে তুমি রান্না করবে বলেছিলে। আমার কথা বাদ দাও।তোমার কথা বলো।
ও নাহ থাক। অন্য একদিন বলবো। আজ একটুডাক্তারের কাছে যেতে হবে।
ও কেন? শরীর খারাপ নাকি? তোমার সাথে আমিও যাব।

আবিরের খুব ইচ্ছে হচ্ছিলো অধরাকে নিয়ে যেতে। কিন্তু তা হওয়ার নয়। আবির বললোও তুমি বরং বাড়িতে যাও। আমি একাই যাব। ইনশাল্লাহ আগামীকাল আবার দেখা হবে।
অধরার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে ডাক্তারের চে¤¦ারের উদ্দেশ্যে রওনা হলো আবির। অর্ধেক পথ যেতেই তার মনটা অস্থির হয়ে উঠলো। ছুটে গেল সেই স্থানে যেখানে প্রথম সাক্ষাত হয়েছিল অধরার সাথে। একাকী কাটালো সারাটা দিন। প্রায় রাত ১০টায় বাড়ি ফিরল আবির। মনটা ভালো নেই। মায়ের প্রশ্নও কিরে। কি হয়েছে? শরীর খারাপ করেছে?
ও নাহ। কিছু হয়নি তো।
কিছুক্ষন চুপ থেকে আবির বললো ওমা আমি গ্রামের বাড়ি বেড়াতে যাব। অনেক দিন গ্রামে যাই না।
ওসে তো ভাল কথা। তো কবে যেতে চাচ্ছিস?
ও আগামীকাল।
আবির তার নিজের ঘরে চলে গেলো। কিছুক্ষন পর আপার ডাকও আবিরও এই আবির।চল খাবার খেতে চল। উঠ।
ও তুমি যাও আমি খাব না। খাবার খেয়ে এসেছি। যাবার সময় বাতিটা নিভিয়ে দিয়ে যেও।

বাতিটা নেভানোর পর ঘরটা সম্পূর্ন অন্ধকার হয়ে গেল। অধরার জন্য মনটা ভীষণ ভাবে কেঁদে উঠল। নিজেকে স¦ান্তনা দিতে চেষ্টা করলো আর ভাবলোও কিছু কিছু মানুষতো ভালবাসে শুধু দুঃখ পাবার জন্য। কখনোই তারা ভালবাসা পায় না। হয়তো ভালবাসা পাবার যোগ্যতাই তাদের নেই। আমিও সেই হতভাগাদের দলভূক্ত। তারপরও স¦ান্তনা আমি আমার ভালবাসার মানুষটিকে ভালবাসি। ভালবাসি আমার সমস্ত অস্তিত্ব দিয়ে। ভালবাসি একান্ত নিজের জন্য ও নিজে বেঁচে থাকার জন্য। কিছুতেই ঘুম আসছিলো না তার। ভীষণ অস্থির লাগছে। প্রচন্ড কান্না পেল কিন্তু কাঁদতে পারল না। বুকের বেদনাগুলো যেন আরও প্রজ্বলিত হয়ে উঠলো। মেলে দিলো তাদের লেলিহান শিখা। ছারখার করে দিচ্ছে আবিরের হৃদয়টা। বিছানা ছেড়ে ছাদে গেল আবির। শেষ বারের মতো দেখে নিলো এই চিরচেনা পরিবেশটাকে। হ্যাঁ,শেষ বারের জন্যই দেখলো। কেননা আবির সিদ্ধান্ত নিলো এই চেনা পরিবেশ ও চেনা মানুষ সব কিছু ছেড়ে চলে যাবে সে। চলে যাবে অজানায়। যেখানে কেউ তাকে চিনবে না। কাপড়-চোপড় গুছিয়ে নিলো আবির। নিরবে মা ও বাবার ঘরে গেলো। তারপর তাদের দিকে অপলক তাকিয়ে রইল যেন জীবনে আর কখনই দেখা হবে না। চোখ থেকে দুফোটা অশ্রু গড়িয়ে পড়ল। বেড়িয়ে পড়ল আবির। বিন্দুমাত্র পেছন ফিরে তাকালো না। যদি আবার দুর্বল হয়ে পড়ে ভালবাসার টানে। গভীর রাতে রাস্তায় লোকজনের চলাচল কম। আবির চড়ে বসলো একটি বাসে। পাড়ি দিলো অজানায়। প্রচন্ড গতিতে ছুটছে বাসটা। যেন ঘুমন্ত কালো ঘর-বাড়িগুলো পেছনের দিকে দৌড়াচ্ছে। হঠাৎ বিকট শব্দ। তারপর সব নিস্তব্ধ। আবির যে বাসে চড়েছে সেটা মারাক্তক দূর্ঘটনায় পতিত হয়েছে। নিহত ৪জন, আহত ৩০ জনকে নিকটস্থ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এদিকে আবিরের মাওবাবা, আপা সবাই খোঁজ করল। কিন্তু কোন সন্ধান পেল না তারা আবিরের। দূর্ঘটনায় মারাক্তক আহত হয়ে হাসপাতালে আবির। প্রায় দুই মাস কেটে গেল। আবির এখন সুস্থ। কিন্তু সম্পূর্ন নয়। ডাক্তারের নিকট আবিরের প্রশ্নও আমি কবে ছাড়া পাব?
ও আপনাকে আজই রিলিজ করে দিব। কিছুক্ষন চুপ থেকে ডাক্তারের প্রশ্নও আপনার আত্বীয় ও স¦জন কাউকে খবর দেননি কেন?
ও কেন? কিছু বলবেন? যা বলার আমাকেই বলুন। যে কোন পরিস্থিতির জন্যই আমি প্রস্তুত আছি।
ও ঠিক আছে। দেখুন এই পৃথিবিতে মানুষ বেশিদিন বাঁেচ না। আমিও মরে যাব।
ও আপনি যা বলার সরাসরি বলতে পারেন।
ও আপনার ব্রেন টিউমার। অপারেশন অসম্ভব। একদম শেষ স্টেজ। আপনি আর মাত্র ১মাস বাচঁবেন।

কোন প্রতিক্রিয়া নেই আবিরের। ভাবল ভালই হয়েছে। মৃতের মতো বাঁচার চেয়ে মরে যাওয়া অনেক ভালো।
হাসপাতাল থেকে বেড়িয়ে গ্রামের আকাঁবাকাঁ পথ দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে একটা চায়ের দোকানের সামনে এসে দাড়ালো আবির। এ যেন অন্য এক পৃথিবী। যেখানে অন্য কোন চিন্তা নেই। শুধু মৃত্যুর প্রহর গুনতে থাকা। সবকিছুই খুব সুন্দর লাগছে আবিরের কাছে। আল্লাাহতায়ালা খুব সুন্দর করে সাজিয়েছেন পৃথিবিটাকে। কিন্তু আমার পৃথিবিটা কি আদৌ সুন্দর? নিজের কাছেই প্রশ্ন আবিরের। চায়ের অর্ডার দিয়ে পাশের কাঠের টুলটাতে বসে পড়ল সে। চায়ে চুমুক দিচ্ছিল আর পত্রিকার পাতা উল্টাচ্ছিল। হঠাৎ একটা সংবাদে তার চোখ আটকে গেল। “সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসুন।একজন মূমুর্ষ রোগীকে বাঁচান। অধরা আহমেদ এর দুটি কিডনি নষ্ট হয়ে গেছে। আপনার একটি কিডনি দিয়ে মেয়েটির মূল্যবান জীবন বাঁচান। যোগাযোগ:স্কয়ার হসপিটাল, পান্থপথ, ঢাকা-১১০০। হৃদয় মোচড় দিয়ে উঠলো। আমার ভালবাসার মানুষটা আজ মৃত্যূর সাথে লড়াই করছে? বিন্দুমাত্র দেরি না করে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হলো আবির।

ঢাকা এসে হাসপাতালের কর্তব্যরত ডাক্তারের সাথে কথা বলল আবির। বলল সে অধরাকে একটা কিডনি দিবে। ডাক্তার তার পরিচয় জানতে চাইল। কিন্তু আবিরের শর্ত পরিচয় গোপন রাখতে হবে। ডাক্তার আবিরের শরীরের প্রয়োজনীয় সব পরীক্ষা-নীরিক্ষা করলেন। সিদ্ধান্ত নেয়া হলো আগামী ২ সেপ্টে¤¦র, রবিবার অপারেশন করা হবে। অপারেশনের পূর্বে অধরাকে শেষবারের মতো দেখে নিল আবির। খুব জড়িয়ে ধরতে ইচ্ছে করল। কিন্তু পারলো না। ভাবতেই চোখ হতে অশ্রু গড়িয়ে পড়ল। হয়তো আর কোনদিন স্পর্শ করতে পারব না তার ভালবাসার মানুষটিকে।

অপারেশন শুরু হলো ঠিক ৫টায়। ২ঘন্টা পেড়িয়ে গেল। ডাক্তার অপারেশন থিয়েটার থেকে বেড়িয়ে অধরার বাবাকে বলল অপারেশন সাকসেসফুল।কোন ভয় নেই। আপনার মেয়ে ভাল আছে।
অধরার বাবার প্রশ্ন কে অধরাকে কিডনি দান করল?
ডাক্তার কিছু না বলে পাশ কেটে চলে গেলেন। কিছুক্ষন পর নার্স এসে ডাক্তারকে বলল ১৩ ন¤¦র বেডের রোগীর অবস্থা খুব খারাপ। ডাক্তার, নার্স সবাই আবিরের নিকট আসল। আপ্রান চেষ্টা করল তারা আবিরকে বাঁচানোর জন্য। কিন্তু তাদের সমস্ত চেষ্টা বৃথা করে পৃথিবী থেকে বিদায় নিল আবির। কাকতালীয়ভাবে একটা জিনিস খুব অবাক লাগছে। অধরার জন্মদিন ২রা সেপ্টে¤¦র। প্রতি বছর সুন্দর উপহার দেয় আবির। এ বছর জীবনটাকে উপহার দিয়ে নিজেই চলে গেল পৃথিবী থেকে। অধরা বেঁচে উঠল নতুন করে। সমাপ্তি ঘটল একটি অপ্রকাশিত ভালবাসার।

আরও জানুন » ভাঙ্গা হৃদয়ের চিৎকার »

লেখাটি আপনার কেমন লাগলো তা আমাদেরকে অবশ্যই জানাবেন। আপনার মতামত আমাদের কাছে খুবই মূল্যবান। আপনি যদি আপনার নিজের লেখা কবিতা, গল্প, প্রবন্ধ বা অন্য যেকোনো বিষয় বাঙালিয়ানা Magazine এ প্রকাশ করতে চান, তবে আমরা অত্যন্ত আনন্দের সাথে আপনার লেখা প্রকাশে সচেষ্ট হব । আগ্রহীদের এই ইমেইল ঠিকানায় bangalianamagazine@gmail.com যোগাযোগের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হল । Copy করা কোন লেখা পাঠাবেন না। দয়া করে আপনাকে নিশ্চিত করতে হবে যে, আপনার পাঠানো লেখাটি অনলাইনে আগে কোথাও প্রকাশিত হয়নি। যদি অনলাইনে আগে অন্য কোথাও আপনার লেখাটি প্রকাশিত হয়ে থাকে, তাহলে আমরা সেটা প্রকাশ করতে পারব না। আমরা অরাজনৈতিক, অসাম্প্রদায়িক এবং নিরপেক্ষ।
বিঃ দ্রঃ লেখাটি কোনরকম পরিমার্জন ব্যতিরেকে সম্পুর্ণ লেখকের ভাষায় প্রকাশিত হল। লেখকের মতামত, চরিত্র এবং শব্দ-চয়ন সম্পুর্ণই লেখকের নিজস্ব । বাঙালিয়ানা Magazine প্রকাশিত কোন লেখা, ছবি, মন্তব্যের দায়দায়িত্ব বাঙালিয়ানা Magazine কর্তৃপক্ষ বহন করবে না।

জন্ম ১৯৮৩ সনে নারায়ণঞ্জের ফতুল্লা থানার রসুলপুর গ্রামে। ছোট্ট মধ্যবিত্ত সুখি পরিবারের ৪ সদস্যের মধ্যে আমি ছোট। বাবা স্কুলশিক্ষক ছিলেন ও মা গৃহিনী। Bangladesh Institute of Science & Technology হতে বি.বি.এ করার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হতে এম.বি.এ শেষ করে বর্তমানে ইউনাটেড কর্মাশিয়াল ব্যাংক লিমিটেড এ কর্মরত আছি।

Comments

comments