নীল চাষ ভাগ্য উন্নয়ন ও জীবিকার পথ

0
79
নীল চাষ
Print Friendly, PDF & Email

ইংরেজদের জুলুমে বাধ্য হয়ে ফসলের জমিতে নীল চাষ করতেন কৃষকেরা। তাই ব্রিটিশ আমলে নীল চাষ নিয়ে ছিল কৃষকদের মনে আতঙ্ক। কিন্তু বর্তমানে কৃষকেরা নীল চাষ করেন লাভের আশায়। তাঁদেরই একজন রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার যুবক নিখিল রায়। তিনি শুধু নীল চাষই করেন না, নীল তৈরির পর তা বিক্রিও করেন। গঙ্গাচড়ায় বাণিজ্যিকভাবে নীল উৎপাদনে পথিকৃত তিনি। তাঁর কারখানায় কাজ করে স্থানীয় অনেক দুস্থ পরিবার খুঁজে পেয়েছে জীবিকার পথ।

নীল তৈরির পদ্ধতি

প্রথমে নীলগাছের পাতা জোগাড় করা হয়। পাতাগুলো ১২ ঘণ্টা ড্রামের পানিতে ভিজিয়ে রাখা হয়। পানির রং হালকা সবুজ হলে তা আরেকটি ড্রামে ঢালা হয়। ৩০ মিনিট ধরে ঝাঁকুনি দেওয়ার পর ড্রামের পানিতে প্রচুর ফেনা হয়। ফেনাসহ পানি ড্রাম থেকে নল বা বালতির সাহায্যে পাতলা কাপড় বিছানো বাঁশের ঝুড়িতে ঢালা হয়। ১০-১২ ঘণ্টার মধ্যে পানি কাপড় ভেদ করে বের হয়ে যায়। তখন কাপড়ের ওপর এক ধরনের তরল তলানি পড়ে। চামচের সাহায্যে তলানি সংগ্রহ করে তা রোদে শুকানো হয়। দুই-তিন দিন রোদে শুকালে এটি কঠিন হয়ে যায়। এই কঠিন জিনিসটি পিষে নীল তৈরি করা হয়। নীলের সঙ্গে হরিতকীর গুঁড়া মেশালে তা সোনালি রং ধারণ করে। কলার মোচা পিষে মেশালে নীলে কালচে আভা পড়ে। প্রতিবছর জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত নীল তৈরি করা হয়।

নীলগাছের আরও গুণ

বিনামূল্যে বীজ বিতরণসহ চাষিদের উদ্বুদ্ধ করার কারণে এখন ব্যাপকভাবে নীল চাষ হচ্ছে। নীলচাষির সংখ্যা এর মধ্যে এক হাজার ছাড়িয়েছে।

সবুজ সার তৈরির উপকরণ

নীলগাছ উন্নতমানের সবুজ সার তৈরির উপকরণ। এলাকাবাসীর কাছে নীলগাছ ‘মালগাছ’ নামে পরিচিত। নীলগাছ সাধারণত পাঁচ-ছয় ফুট লম্বা হয়। পাতা খুব সরু ও ছোট। গরু-ছাগল নীলগাছের পাতা খায় না। গাছ উৎপাদনে রাসায়নিক বা গোবর সারের প্রয়োজন হয় না।
ঠাকুরপাড়া গ্রামের কৃষক শামসুল হক জানান, কচি নীলগাছ মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিলে তা উন্নতমানের সবুজ সারে পরিণত হয়। এ ছাড়া গাছ উঠিয়ে গর্তে পচিয়েও সবুজ সার তৈরি করা হয়।
শলেয়াশাহ গ্রামের সাদেকুল ইসলাম বলেন, আলু ও তামাক চাষের আগে জমিতে সবুজ সার হিসেবে নীল চাষ করলে ফলন বাড়ে। জ্বালানি হিসেবে এ অঞ্চলে নীলগাছের প্রচুর চাহিদা রয়েছে।

নীল থেকে আয়

বিক্রি করেন ঢাকার বিভিন্ন সুতা ও কাপড় তৈরির কারখানায়। প্রতি কেজি নীল উৎপাদনে শ্রমিকের মজুরিসহ খরচ পড়ে প্রায় এক হাজার টাকা। উৎপাদিত প্রতি কেজি নীল বিক্রি করার পর পাওয়া যায় দেড় হাজার টাকা। বছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত পাঁচ মাসে প্রায় ১২ লাখ টাকার নীল উৎপাদন করে বিক্রি করা হয়। এতে লাভ হয় প্রায় তিন লাখ টাকা।

দেশের অর্থনীতিতে প্রভাব

দুস্থ পরিবার খুঁজে পেয়েছে জীবিকার পথ। দুস্থ নারী শ্রমিক নীল তৈরির কাজ করে সন্তানদের লেখাপড়া শেখানোর পাশাপাশি তাদের আর্থিক উয়ন্ননের পথ খুঁজে পেয়েছে।

গঙ্গাচড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল লতিফ বলেন, উন্নতমানের সবুজ সার পাওয়া যায় বলে এ অঞ্চলের অনেক কৃষক এখন নীল চাষের দিকে ঝুঁকেছেন।

সূত্র: প্রথম আলো

আরও জানুন » কৃষি উন্নয়নে প্রয়োজন গ্রামমুখি বিনিয়োগ »

Comments

comments