মনুষ্যত্বের লড়াই (১)

0
706
Print Friendly, PDF & Email

কাল রাত থেকে অঝোর ধারায় তুষারপাত হচ্ছে। তাই আজ এই এলাকার সব স্কুল কলেজ বন্ধ। বাচ্চারা এখনো ঘুমাচ্ছে। রোমেলের বিশ্ববিদ্যালয়ও আজ বন্ধ তাই সেও এখন ঘুমাচ্ছে ।স্কুল বন্ধ থাকলে জুঁইও দেরী করে ঘুম থেকে উঠে। কারন ছুটির দিনগুলিতে ও অনেক রাত পর্যন্ত জেগে সিনেমা দেখে। তারপর ভোর চারটার দিকে বিছানায় যায়। কালরাতেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। অনেক রাত পর্যন্ত জুলিয়া রবার্টসের স্লিপিং উইথ বিউটি (Sleeping with beauty) সিনেমা দেখেছিল। এই সিনেমাটা ও আগেও দেখেছে তারপরও কাল যখন সিডি গুলি নাড়াচাড়া করছিল তখন এই সিনেমাটা হাতে পড়লো। খুব মন চাইলো সিনেমাটাআবার দেখতে। সিনেমাটা ছেড়ে দুই মগ চা বানিয়ে আর রোমেলের জন্য কিছু বাদাম নিয়ে বসলো।

সিনেমা দেখার সময় রোমেলের কিছু না কিছু খেতেই হবে। সেটা চানাচুর হোক আর বাদাম অথবা চিপস। কিন্ত চানাচুর দিলে তার আবার আবদার শুরু হয়ে যায়, একটু মুড়ি আর সরিষার তেল দাও দয়া করে। এখানেই সে থামবে না। তারপর বলবে, ঘরে টমেটো থাকলে সেটা একটু দিও। চানাচুর মুড়ির সাথে টমেটো না দিলে ভাল লাগে না।তখন জুঁইকে আবার নতুন করে চপিং বোর্ড বের করে এইগুলি করতে হয় কিন্ত রাতের খাবার শেষ করে একবার রান্নাঘর পরিষ্কার করার পর আবার এইগুলি করতে মন চায় না। এইগুলি করা মানেই আবার রান্নাঘর পরিষ্কার করতে হবে। এইজন্য কাল রাতে বাদাম আর চিপস নিয়ে বসেই সিনেমা দেখেছিল।

কোনও কারন ছাড়াই কাল সারা দিন জুঁইয়ের মনটা খুবই অস্থির ছিল। রাতে যখন সিনেমা দেখেছিল সেই সময়টাও মনটা অস্থির লাগছিল। ঘুমাতে গেলেও সেই একই ব্যাপার। কেন জানি ঘুম বার বার ভেঙ্গে যাচ্ছিল। ঘুমের মধ্যেই ও বিভিন্ন মানুষের সাথে কথা বলছিল। কখনও স্বপ্নে আম্মা, কখনও ভাবী। মনে হচ্ছিল ও জেগেই আছে, হাটাহাটি করছে, বাসায় অনেক মানুষ, সবকিছুই এলোমেলো। এই রকম হলে জুঁইয়ের সকাল বেলায় বিছানা থেকে উঠতে মন চায় না। খুব মাথা ব্যথা করে আর মেজাজটা খারাপ থাকে। আজ সকালেও একই রকম হয়েছিল, শুধু একটাই ব্যতিক্রম ছিল। আজ আর বিছানায় শুয়ে থাকতে মন চাইছিল না।

তাই হাত মুখ ধুয়ে নীচে নেমেই কেটলটা অন করে একমগ চা বানিয়ে যখনই রান্না ঘর থেকে বের হবে সেই সময় ক্রিং ক্রিং তীব্র শব্দ করে ফোনটা বাজা শুরু হল। জুঁই খুব অবাক হয়ে গেলো, এতো সকালে কে ফোন করবে? বুকটার মধ্যে কেমন কেঁপে উঠলো, কোনও খারাপ খবর না-তো ? জুঁই চাইছিল না ফোনের শব্দে বাসার অন্য সবাই ঘুম থেকে উঠে যাক। তাই চা টেবিলে রেখেই দুইটা রিং হওয়ার সাথে সাথেই চিলের মত ছোঁ দিয়ে তাড়াতাড়ি ফোনটা ধরে ফেললো। ।ছুটির দিনে সবাই একটু দেরী করে খুব আয়েস করে ঘুম থেকে উঠতে চায়। কাজের দিন গুলি দিন শুরু হয় সেই সকাল ৫টা থেকে এবং সারাদিন সবাইকেই খুবই ব্যস্ত একটা দিন কাটাতে হয়। তাই সময়কে চাইলেও নিজের ইচ্ছা মত উপভোগ করা যায় না। একমাত্র ছুটির দিনেই সবাই তার নিজের মত করে সময়কে উপভোগ করতে পারে।

আরও জানুন » মনুষ্যত্বের লড়াই (২) »

 

লেখালেখি বলতে যা বোঝায় সেটা কখনই আমি লিখি না। তবে ছোটবেলা থেকেই প্রচুর সাহিত্য, জীবন ধর্মী লেখার নিয়মিত পাঠিকা। বেগম, দেশ এমন অনেক পত্রিকার একনিষ্ঠ পাঠিকা। প্রবাস জীবনে চারিপাশের মানুষদের দেখে, নিজের জীবনের বিভিন্ন ঘটনা থেকে দেখে অনেক অনুভূতি হয়। সেগুলো মাঝে মাঝেই ইচ্চা হয় অন্যদের সাথে শেয়ার করি যেন তারা আমার এই অভিজ্ঞতা থেকে কিছু নিতে পারে। যদি আমার একটা অভিজ্ঞতা অন্য কারো কাজে লাগে, এই ভেবেই লেখা। ইতিহাসের উপর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্স এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাষ্টার্স পাশ করার পর কিছুদিন বেসরকারী চাকরিতে ছিলাম। এরপর ফ্যাশন টেকনোলজীর উপর ডিপ্লোমা এবং বর্তমানে বিভিন্ন ধরণের কেক এবং বেকিং নিয়ে পড়াশুনা করি। বাংলাদেশ এবং বিশ্বের ক্যান্সার নিপীড়িত মানুষের কল্যাণে মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরীর উদ্দেশ্যেই এই কেক এর পেছনে কাজ করে যাওয়া। জীবনবোধ থেকে লিখতে চাই আমার অনুভূতিগুলো।

Comments

comments