করল্লার তেতো স্বাদের আড়ালে ১০টি ভাইরাস নাশক!

0
6078
করল্লার তেতো স্বাদের আড়ালে ১০টি ভাইরাস নাশক!
করল্লার তেতো স্বাদের আড়ালে ১০টি ভাইরাস নাশক!
Print Friendly, PDF & Email

“উস্তা” বাংলাদেশে গ্রাম বাংলার করল্লার আরেকটি নাম হিসেবে প্রচলিত আছে। বিটার মেলন যার বাংলা নাম করল্লা তবে এটির পছন্দের চাইতে অপছন্দের তালিকাই দীর্ঘ। এর তিক্ত স্বাদের জন্য অনেকেই, বিশেষ করে শিশুরা তেমন খেতে চায়না। করল্লায় আছে পালং শাকের চেয়ে দ্বিগুণ ক্যালশিয়াম আর কলার চেয়ে দ্বিগুণ পটাশিয়াম। আছে যথেষ্ট লৌহ, প্রচুর ভিটামিন এ, ভিটামিন সি এবং আঁশ।

ভিটামিন এ এবং ভিটামিন সি এন্টি অক্সিডেন্ট, যা কিনা শরীরের কোষগুলোকে রক্ষা করে বার্ধক্য ঠেকিয়েও রাখতে পারে! আরও আছে লুটিন আর লাইকোপিন। এগুলো রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। লাইকোপিন শক্তিশালী এন্টি অক্সিডেন্টও বটে। ফলে খাদ্য হজম হয় দ্রুত ও সহজে। এবং একারণেই তা ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক।

শত বছর ধরে চীন এবং ভারতে তথা সম্পূর্ণ এশিয়াতেই করল্লা ব্যবহৃত হয়ে আসছে ডায়বেটিসের ওষূধ হিসেবে। এতে প্ল্যান্ট ইনসুলিন আছে যা রক্তে গ্লুকোজ লেভেল কম রাখে।

দক্ষিণ আমেরিকার আমাজান অঞ্চলের আদিবাসীরাও বহু বছর ধরেই করল্লাকে ডায়াবেটিস, পেটের গ্যাস, হাম ও হেপাটাইটিসের ওষুধ হিসাবে ব্যবহার করে আসছে। ব্যবহার করে আসছে উচ্চ রক্তচাপ কমাতে, ম্যালেরিয়া জ্বরে এবং মাথা ব্যথায়ও।

১. ক্যান্সার প্রতিরোধ

গবেষনায় দেখা গেছে যে টেস্ট টিউবে রাখা মানুষের অগ্ন্যাশয়ের ক্যান্সার কোষে করল্লার জুস প্রয়োগে কোষের মৃত্যুর হার বেড়েছে। মূলত দ্রূত বর্ধনশীল ক্যান্সার কোষের বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজন প্রচুর গ্লুকোস বা চিনি। করল্লা ইন্সুলিন এর নিঃসরন বাড়িয়ে এই গ্লুকোস মেটাবলিজম ভেঙ্গে ফেলার ব্যবস্থা করে। ফলে ক্যান্সার কোষ বাড়তে না পেরে মরে যায়।

২. রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ

এছাড়াও রক্তের চর্বি তথা ট্রাইগ্লিসারাইড কমায় করল্লা। এবং ভাল কোলেস্টেরল এইচডিএল কে বাড়ায়। রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে কার্যকরী ভূমিকা রাখে।

৩. ভাইরাস নাশক

করল্লাতে আছে এন্টি অক্সিডেন্ট, যা ভাইরাস নাশক হিশাবেও সমান কার্যকারী। হেপাটাইটিস এ, হারপিস ভাইরাস, ফ্লু ইত্যাদির বিরুদ্ধে শক্ত প্রতিরোধ সৃষ্টি করে। করল্লার রস নিয়মিত পান করার ফলে দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায় এবং নানা ধরণের ইনফেকশনের হাত থেকে রেহাই পাওয়া যায়।

৪. লিউকেমিয়া প্রতিরোধ 

করল্লার এন্টি অক্সিডেন্ট লিভার ক্যান্সার, লিউকেমিয়া, মেলানোমা ইত্যাদি প্রতিরোধ করতে পারে। করল্লার রস লিভার পরিষ্কারে সহায়ক এবং লিভারকে টক্সিনমুক্ত রাখতে সহায়তা করে। এছাড়াও এটি রক্ত সঞ্চালনের মাত্রা উন্নত করে।

৫. ডায়রিয়া প্রতিরোধ

করল্লার ল্যাক্সেটিভ পায়খানাকে নরম রাখে, ও কোষ্ঠ কাঠিন্য দূর করে। জীবাণুনাশী-বিশেষ করে ইকোলাই নামক জীবাণুর বিরুদ্ধে কার্যকর। ফলে ডায়রিয়াও প্রতিরোধ হয়।

৬. চর্মরোগ প্রতিরোধ

এছাড়া করল্লা নানান রকম চর্মরোগ প্রতিরোধ করতেও অত্যন্ত কার্যকর। করল্লার জুস লিভারের কর্মক্ষমতা বাড়ায়, রক্ত পরিশোধনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ক্রিমিনাশক হিসাবেও করল্লার তুলনা মেলা ভার। পরীক্ষিত ভাবে প্রমাণিত যে করল্লা স্ট্যামিনা ও এনার্জি লেভেল বাড়ায়।

৭. নিউট্রাল টিউব

গর্ভধারণের প্রাথমিক সময়ে নারীরা করল্লা নিয়মিত খেলে তা গর্ভের শিশুদের নিউট্রাল টিউব ডিফেক্ট হতে রক্ষা করে।

৮. ডায়বেটিস নিয়ন্ত্রণ

করল্লার নানা পুষ্টি উপাদান রক্তের সুগারের মাত্রা কমায় এবং টাইপ-২ ডায়বেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করে।

৯. কোষ্ঠকাঠিন্যে প্রতিরোধ

হজমে সমস্যা এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দূর করতেও করল্লার জুড়ি নেই।

 ১০. ফাঙ্গাস জনিত সমস্যা প্রতিরোধ

নিয়মিত করল্লার রস পানের অভ্যাস সোরাইসিসের অবস্থা উন্নত করে এবং ফাঙ্গাস জনিত সমস্যা থেকে মুক্তি দেয়।

ভোজন রসিক বাঙ্গালিই কেবল বোঝেন করল্লার আসল স্বাদ। হতে পারে করল্লা বিচ্ছিরি তেতো। তবে এই তেতো হওয়াটাই এর স্বাদ।

আরও জানুন » নিম পাতার ১০ টি গুণ »

Comments

comments