কিভাবে বুঝবেন আপনার কাছের কেউ মাদকাসক্ত কিনা?

0
356
মাদকাসক্ত
Print Friendly, PDF & Email

আসক্তি হলো এক ধরনের অভ্যাস, আচরণ বা পরিণতি। যখন মানুষ কোনো একটি নির্দিষ্ট কাজে, চিন্তায় বা আচরণে অভ্যস্ত হয়ে যায়। যে কাজটি বা অভ্যাসটি থেকে চেষ্টা করেও বের হয়ে আসতে পারেনা। ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক বা পেশাগত জীবনে যে আচরণটি ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

অথচ সেই কাজটি করার জন্য মনের ভেতর এক ধরনের তোলপাড় চলতে থাকে, তখন সেটা আসক্তির পর্যায়েই পরে। নির্দিষ্ট সেই কাজ বা চিন্তাটি সম্পন্ন করার জন্য অত্যন্ত প্রবল এক ধরনের ইচ্ছা ভেতরে কাজ করে। সাধারণত সেটি ক্ষতিকরই হয়ে থাকে। একজন মাদকাসক্ত ব্যক্তি নিজেও বুঝতে পারেন তার এই রোগটি দিন দিন জটিল হচ্ছে কিন্তু মাদকের ভয়াবহ থাবা থেকে নিজেকে উদ্ধার করার কোন মানসিক শক্তি আর অবশিষ্ট থাকেনা। মাদকাসক্তির প্রাথমিক লক্ষণগুলো সবার বেলাতেই একই, জেনে নিন লক্ষণগুলো-

শারীরিক লক্ষণগুলো বুঝতে

ওজন

খাওয়ার প্রবণতা এবং ঘুমের সময়সীমায় পরিবর্তন চলে আসলে। শারীরিক ওজন হঠাৎ করেই বেড়ে বা কমে গেলে।

চোখ

চোখ লাল হয়ে থাকলে এবং চোখের মণি স্বাভাবিকের চেয়ে বড় বা ছোট দেখালে।

নাক দিয়ে রক্ত পড়লে

নাক দিয়ে প্রায়ই রক্ত পড়লে। সাধারণ কোকেইন বা নিঃশ্বাসের সাহায্য গ্রহণ করতে হয় এমন মাদকের বেলায় এই লক্ষণ দেখা যায়।

অপরিচ্ছন্ন থাকা

চেহারা এবং পোশাকের পরিধান ও যত্নে অবনতি দেখা দিলে।

ক্ষত বা কাটা-ছেড়া

শরীরে এমন কোন ক্ষত বা কাটা-ছেড়া দেখা গেলে যা সম্পর্কে তারা জানে না অথবা কিভাবে সে আঘাত পেলো তা আপনাকে বলতে না চাইলে।

অদ্ভুত গন্ধ

তাদের মুখে,শরীর বা পোষাকে অদ্ভুত বা অপরিচিত কোন গন্ধ পেলে।

আচরণগত পরিবর্তন বুঝতে

উপস্থিতি

ক্লাস বা অফিস ঘন ঘন যেতে না চাওয়া, এসব প্রতিষ্ঠানে হঠাৎ কোন ঝামেলায় জড়িয়ে পরতে থাকলে।

আগ্রহ হারিয়ে ফেলা

ক্লাস বা অফিসে কাজের অমনযোগী হলে বা আগ্রহ হারিয়ে ফেললে। ব্যক্তিগত শখ খেলাধুলা ইত্যাদিতে আর কোন আগ্রহ হারিয়ে ফেললে।

নালিশ প্রাপ্ত হওয়া

তার সহকর্মী, শিক্ষক ও বন্ধুদের কাছ থেকে ঘনঘন নালিশ আসতে থাকলে।

চুরির অভ্যস্ত হওয়া

বাসায় রাখা টাকার হিসাব না মিললে। কারণ নেশার দ্রব্য কিনতে বা সংগ্রহ করতে টাকা লাগে। তাই সাধারণত নেশার দ্রব্যের মূল্য পরিশোধের জন্য আপনার সন্তান টাকা, মূল্যবান সামগ্রী ও অলংকার ইত্যাদি চুরি করতে পারে।

খিটখিটে ও চুপচাপ

পরিবারের সদস্যদের সাথে ব্যবহারের পরিবর্তন আসলে। মাদকাসক্তির সময়গুলোতে সাধারণত তারা হয় খুব খিটখিটে মেজাজের হয়ে যায়, অথবা নীরব হয়ে থাকে। এ ধরণের আকস্মিক পরিবর্তনগুলো খুব সহজেই চোখে পড়ে।

একান্তে বাস

বেশির ভাগ সময় একা থাকতে চাইলে বা প্রাইভেসি সচেতন হয়ে গেলে। রুমের দরজা সারাদিন বন্ধ রাখলে এবং কথা বলার সময় আপনার চোখের দিকে না তাকিয়ে অন্য দিকে তাকালে।

পুরানো বন্ধুদের এড়িয়ে চললে

পুরানো বন্ধুদের পরিবর্তে নতুন নতুন বন্ধু চোখে পড়লে, প্রিয় আড্ডা দেয়ার জায়গাগুলো এড়িয়ে চললে।

ঝগড়া করা

প্রায়ই কারো না কারো সাথে মারামারি, ঝগড়া ইত্যাদিতে জড়িয়ে পড়তে থাকলে।

অতিরিক্ত প্রসাধনী ব্যবহার

সব সময় রুমে এবং শরীরে পারফিউম, এয়ার ফ্রেশনার অতিরিক্ত মাত্রায় ব্যবহার করতে থাকল। বিশেষ করে মাদক দ্রব্যের গন্ধ লুকানোর জন্য।

ড্রপ ব্যবহার

চোখের লাল ভাব কাটানোর জন্য ড্রপ ব্যবহার শুরু করলে।

মানসিক পরিবর্তন বুঝতে

– ব্রেইন এর সাধারণ যে সিগনাল বা যোগাযোগ ব্যবস্থা আছে তার গতিপথকে বাড়িয়ে বা কমিয়ে দিতে সহায়তা করতে পারে।

– কোনো কারণ ছাড়া রেগে গেলে, হাসলে বা বিরক্ত হলে।
– কোন কাজ করার প্রেরণা হারিয়ে ফেললে, কাজে মনযোগী হতে না পারলে।
– কোন কারণ ছাড়াই ভয়ে বা আতংকে থাকলে।

মাদকে নষ্ট হয়ে যায় মস্তিস্কের আনন্দচক্র। দিনের পর দিন মাদক নেয়ার ফলে ব্যক্তি নিজে যেমন অনেক অসহায় হন তেমনি তার পরিবার ও আপনজনেরা বিমর্ষ ও আশাহত হয়ে পড়েন। এই রোগ নিরাময়ে কোন ব্যক্তি একা নয় তার পরিবারকে ও সমাজকে এগিয়ে আসতে হবে। সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এর প্রতিরোধ করা সম্ভব।

আরও জানুন » প্রকৃত সুখ খুঁজতে ২০টি বিষয় »

Comments

comments