ইন্টারনেট পর্ণগ্রাফি পূরুষদের যৌন ক্ষমতা নষ্ট করে ফেলছে

0
1516
ইন্টারনেট পর্ণগ্রাফি পূরুষদের যৌন ক্ষমতা নষ্ট করে ফেলছে
ইন্টারনেট পর্ণগ্রাফি পূরুষদের যৌন ক্ষমতা নষ্ট করে ফেলছে
Print Friendly, PDF & Email

 ইন্টারনেট পর্ণগ্রাফি এমন একটি তরুন প্রজন্ম তৈরী করছে যারা শোয়ার ঘরে একেবারেই হতাশা জনক বলে প্রমাণিত। সম্প্রতি এক গবেষনা রিপোর্টে প্রকাশ পেয়েছে ইন্টারনেট পর্ণগ্রাফিতে তরুন প্রজন্ম এমন ভাবে আকৃষ্ট এবং প্রভাবিত হয়েছে যে, তারা প্রকৃত নারীর স্পর্শে তেমন একটা আকর্ষন অনুভব করছে না।

আমাদের প্রত্যেকের মনে রাখা প্রয়োজন “সেক্স এডুকেশন” আর “সেক্স” এক জিনিস নয়।

যৌন অক্ষমতা এখন কেবল আর খারাপ শরীরের প্রৌঢ়দের মাঝেই সীমাবদ্ধ নেই। তরুন জনগোষ্ঠির ভেতর এটা এখন প্রকট হতে শুরু করেছে।

পাশাপাশি অনেকেই জানে না যে, ইন্টারনেট পর্ণগ্রাফি এভাবে যৌন উত্তেজনাকে কমিয়ে ফেলতে পারে। এবং এটা জানার পর তারা মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়ে।

যারা পর্ণ দেখে তাদের যৌন উত্তেজনা তৈরীতে ব্রেইনে এক্সট্রিম উত্তেজনার (ডাক্তারী ভাষায় এটাকে বলে “ডোপামাইন স্পাইক”) প্রয়োজন হয়। আর একবার এই উত্তেজনায় অভ্যস্ত হয়ে গেলে, তখন সাধারণ নারীতে আর সেই উত্তেজনা আসে না। এবং ব্রেইন ঠিক মতো ফাংশন করে না। ফলে,তারা নপুংশক হয়ে যায়।

উঠতি বয়সী তরুনদের হাতে এখন কম্পিউটার, মোবাইল এবং ইন্টারনেট রয়েছে। এর অর্থ হলো,  পর্ণগ্রাফি ২৪ ঘন্টাই তাদের হাতের কাছে রয়েছে। আর ওই বয়সে একবার তাতে অভ্যস্ত হয়ে গেলে, তার পুরো জীবনের উপর সেটা প্রভাব ফেলতে বাধ্য।

অনেক যুবকের উপর গবেষণা করে দেখা গেছে, তাদের উপর এই ডোপামাইন স্পাইকের প্রভাব এতই বেশি যে ইন্টারনেটের মাধ্যমে ক্রমাগত পর্ণ না দেখলে তারা যৌন উত্তজনাই অনুভব করে না। তাদের কেউ কেউ খুবই হতাশ হয়ে পড়েন যখন দেখতে পান যে, তাদের স্বাভাবিক যৌন জীবন আর স্বাভাবিক থাকছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের খুবই সন্মানজনক গবেষণা জার্নাল “সাইকোলজী টুডে”-তে একটি গবেষনাপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই বিষয়টি এখন এতই সাধারণ হয়ে গিয়েছে যে, মাত্র ২০ বছরের তাজা যুবকও প্রকৃত অর্থে স্বাভাবিক যৌনাচরণ করতে পারছে না।

ফলে এর প্রভাব অনেক বেশি ক্ষতিকর। রিপোর্টটির লেখিকা মারনিয়া রবিনসন্স বলেন, যৌন উত্তজক গল্প, ছবি, ভিডিও এগুলো আগেও ছিল। কিন্তু ইন্টারনেটের সহজলভ্যতার কারণে এই ক্ষতিকর প্রভাব সীমাহীন পর্যায়ে চলে যেতে পারে।

তার মতে এর থেকে মুক্তির উপায় হলো, ব্রেইনকে আবার রিবুট করা। অর্থ্যাৎ, পর্ণগ্রাফি দেখা একদম বন্ধ করে দেয়া; এবং কয়েক মাস পুরোপুরি বিশ্রাম নেয়া। এর ফলে ব্রেইন থেকে সেই অতি উত্তজনাকর সিগনালগুলো দূর্বল হয়ে যাবে, এবং একটা সময়ে সেই মানুষটি স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতেও পারে।

তাই ভুল কোনও ধারণার বশবর্তী না হয়ে, সঠিক শিক্ষাটি নিন। প্রতিটি বাবা-মা’র উচিৎ হবে, এই বিষয়গুলো তার সন্তানদেরকে ভালো করে বুঝিয়ে দেয়া। এবং তরুন বয়সী ছেলেমেয়েদের বিষয়টি সম্পর্কে পরিষ্কার ধারনা থাকা। মনে রাখবেন,”সেক্স এডুকেশন” আর “সেক্স” এক জিনিস নয়। সুশিক্ষা মানুষের মঙ্কে পরিচ্ছন্ন করে।

আরও জানুন » উচ্চ শব্দে গান শোনার কারণে কানের শ্রবণশক্তি কমে যাচ্ছে – বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা »

Comments

comments