গর্ভবতী সময়ের ১৩টি মানসিক চাপ ও প্রতিকার

0
606
গর্ভবতী সময়ের ১৩টি মানসিক চাপ ও প্রতিকার
Print Friendly, PDF & Email

নারীদের জীবনের অন্যতম সুন্দর ও স্বর্গীয় দিন হলো যে দিন নারী গর্ভধারণ করে। যেদিন একজন নারী জানতে পারে তার ভেতরে নিজের অস্তিত্ব জানান দিয়ে তার সন্তানের আগমন ঘটে গেছে। প্রথম কিছুদিন অনেক বেশি আনন্দ আর তারপর হঠাৎ নতুন দায়িত্ববোধ ভেতর থেকে অনেকটাই শঙ্কিত করে তোলে। ঘটনা এতদুর গড়ায় যে খুব বেশি মাত্রার গভীর মানসিক চিন্তার শিকার হতে হয় একজন গর্ভবতীকে। গর্ভবতী মায়ের মানসিক চাপের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হলো-

১. অনুভুতিগুলকে উপভোগ-

সর্ব প্রথম নিজের অবস্থা বুঝতে চেষ্টা করুন। অনাগত শিশুকে নিয়ে সুন্দর, আনন্দের কিছু স্বপ্ন দেখুন। মা হওয়া ব্যাপারটিকে শুধু গুরুদায়িত্ব না ভেবে নিজের নতুন অবস্থা সম্পর্কে সচেতন হন ও এই অনুভুতিগুলকে উপভোগ করার চেষ্টা করুন।

২. ভালো ভালো কাজ-

নিজে যে ভালো ভালো কাজ করেছেন তার সম্পর্কে ভাবুন। সবার সাথে ভালো ব্যবহার করুন। নিজেকে সবার সাথে জড়িয়ে রাখুন ও নিজের আনন্দ সবার সাথে ভাগাভাগি করে নিন।

৩. পছন্দের গান শুনুন বা সিনেমা-

একঘেয়েমি কাটাতে পছন্দের গান শুনুন বা সিনেমা দেখুন বা ভাল কোন বই পড়ুন। নিজের দৈনন্দিন কাজ গুলো কমিয়ে দিন বা সবার সাথে ভাগ করে নিন।

৪. আত্মবিশ্বাস

স্বামী বাসায় থাকলে তাকে আপনার সাথে কাজ করতে উৎসাহিত করুন। এতে আপনার কাজে সাহায্য হবার সাথে সাথে আপনার প্রিয় মানুষটি সাথে সম্পর্ক্য গভীর হবে এবং আপনার মাঝে আত্মবিশ্বাস তৈরি হবে।

৫. অল্প অল্প স্বাস্থ্যকর ও পরিপূর্ণ খাবার-

এ সময় আপনার ও আপনার সন্তানের জন্য স্বাস্থ্যকর ও পরিপূর্ণ খাবার বেশি মাত্রায় খাবেন যেন আপনাকে শারীরিক দুর্বলতা পেয়ে না বসে। খাবার অবশ্যই কিছুক্ষণ পর পর অল্প অল্প করে খান। আর শারীরিক দুর্বলতা থেকেও অনেক সময় মানসিক অবসাদ তৈরি হয়।

৬. ব্যায়াম বা হাটাহাটি-

একজন গর্ভবতী মায়ের জন্য এক্সারসাইজ বা শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম নিরাপদ ও এটি একটি সহজ ব্যায়াম। গর্ভাবস্থায় নির্দিষ্ট ধাপ পার করার পর আপনি হালকা ব্যায়াম বা হাটাহাটি করতে পারেন তবে অবশ্যই আপনার ডাক্তার এর সাথে পরামর্শ করে। এসময় হালকা ব্যায়াম আপনার মানসিক চাপ কমাতে অনেক সাহায্য করে।

৭. অভিজ্ঞতার মুখমুখি-

মনে রাখবেন আপনি মা। আপনার সন্তানের ভালো মন্দ আপনি সব থেকে ভাল বুঝতে পারেন। মা হবার সময় সবার অভিজ্ঞতা এক হবে না। কারো খারাপ কিছু অভিজ্ঞতা হলে যেমন…. কোন খাবার খাওয়ার পরে বা কোন কাজ করার পরে সমস্যা হওয়া মানে এই না যে আপনিও সেই অভিজ্ঞতার মুখমুখি হবেন। তাই শোনা কথায় কান দেবেন না।

৮. মানসিক চাপ কমাতে-

আপনার গর্ভকালীন সময়টা লেখার মাধ্যমে ধরে রাখুন। কোন কিছু নিয়ে মন খারাপ হলে সাথে সাথে লিখে ফেলুন, দেখবেন মানসিক চাপ অনেক কমে গেছে।

৯. গর্ভাবস্থা বন্ধু-

ভালো হয় যদি আপনি আপনার কাছের কাউকে বেছে নিতে পারেন আপনার গর্ভাবস্থা বন্ধু হিসেবে, যার সাথে আপনি আপনার যাবতীয় কথা শেয়ার করতে পারেন। সেই কাছের মানুষটি হতে পারে আপনার স্বামী, মা, শাশুড়ি, বোন, বান্ধবি বা অন্য কেউ।

১০. পরিবারের সহায়তা-

আমাদের সমাজে হবু মায়েদের উপরে পরিবার থেকে অনেক চাপ  দেওয়া হয়….অনেক সময় অনেক কিছু খেতে দেয়া হয়না বা নিষেধ করা হয় বা কিছু আচার অনুষ্ঠান পালন করতে বলা হয় যা পালন করতে না পারলে বাচ্চার ক্ষতি হতে পারে। কিন্তু এই কথাগুলো মোটেও ঠিক না। সন্তানের অমঙ্গলের চিন্তা থেকে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই মায়েদের অধিক মানসিক চাপ সৃষ্টি হতে পারে। এ বিষয়ে পরিবার কে আরো সচেতন হতে হবে।

১১. ক্ষতির সম্ভাবনা থেকে করণীয়-

অযথা চিন্তা করতে যাবেন না। খাওয়ার ব্যাপারে ডাক্তার এর কাছে থেকে বিধি নিষেধ জেনে নিন এবং বাসায় সবাইকে তা বুঝিয়ে বলুন। কিছু আচার অনুষ্ঠান পালন করার আগে বিষয়টি সম্পর্কে ভাল ভাবে বুঝে নিন। বুঝিয়ে বলুন যে আপনার নিজের উপরে চাপ দিয়ে কোন কাজ করতে গেলে আপনার অনাগত সন্তানের ক্ষতির সম্ভাবনা অনেক বেশি হবে।

১২. গর্ভবতীর আত্মবিস্বাস-

সন্তানের মঙ্গলের জন্য কত কিছুই তো করেন। এবার একটু নিজেকে নিয়েই না হয় সচেতন হলেন। গর্ভাবস্থায় এমন হয় কি হয় না, হতে পারে কি পারে না- এইসব না ভেবে নিজেকে নিয়ে ভাবুন, আপনার সন্তানকে নিয়ে ভাবুন। আপনার নিজের দিকে বাড়ানো ছোট একটা পদক্ষেপ কিন্তু আপনার সন্তানকে একটা সুস্থ ও সুন্দর ভবিষ্যৎ দিতে পারে।

১৩. ঘুমের প্রয়োজন-

ঘুমের সময় বাড়িয়ে দিন। মনে রাখবেন আপনার শরীর আপনার অনাগত সন্তানকে সঠিক ভাবে বেড়ে উঠতে সাহায্য করবে ঘুম। তাই আপনার বেশি ঘুমের প্রয়োজন আছে।

একটি  সুন্দর ও সুস্থ শিশুই গড়তে পারে একটি সুন্দর পৃথিবী…..একজন গর্ভবতী মায়ের জন্য মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য প্রাকৃতিক নির্মল পরিবেশে হাঁটা, চিত্তবিনোদনের ব্যবস্থা, নিয়মিত ধর্ম পালন, পরনিন্দা বা পরচর্চা না করা, অনৈতিক কোনো ভাবনা মনের মধ্যে না আনা, এছাড়াও ধূমপায়ীদের থেকে দূরে থাকা, ভাইরাসজনিত রোগে আক্রান্ত কারো সংস্পর্শে না আসা উচিৎ। 

আরও জানুন » আগামী প্রজন্মের জন্য ডায়াবেটিস মারাত্মক হুমকি »

Comments

comments