গরমে পানিশূণ্যতার হাত থেকে রক্ষা পেতে কার্যকরী ১৬টি উপায়

0
485
গরমে পানিশূণ্যতা
Print Friendly, PDF & Email

প্রচণ্ড দাবদাহে সবাই অতিষ্ঠ। প্রচণ্ড গরমে দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে জীবন। চলাফেরা করতে প্রচুর কষ্ট হচ্ছে সবার। আর এ তীব্র গরমে মূল সমস্যা হচ্ছে শরীর থেকে ঘামের সাথে পানি ও অন্যান্য খণিজ লবণ বের হয়ে যাওয়া। এর ফলে শরীরে তৈরি হয় পানিশূন্যতা। চলুন জেনে নেয়া যাক, কিভাবে এ গরমে পানি শূন্যতার সমস্যা থেকে প্রতিকার পাবেন –

এই গরমের দিনে সবাইকে বেশী বা কম বাহিরে বের হতেই হয়। কারো কারো বেশ বড় একটা সময় জুড়ে বাইরে থাকতে হয়, তাই এই গরমে পোশাক ও আরো আনুষাঙ্গিক জিনিস নির্বাচন একটা বেশ গুরত্বপূর্ণ বিষয়। কি ধরনের পোশাক পরা উচিৎ যেগুলো সূর্যের উত্তাপ থেকে দেহকে রাখবে সুরক্ষিত।

পোশাকপরিচ্ছদ নির্বাচনের ক্ষেত্রে গুরত্বপূর্ণ বিষয়গুলো-

১. ঢিলেঢালা,পাতলা পোশাক

এই গরম থেকে বাঁচতে প্রথম কাজটি হবে ঢিলেঢালা, পাতলা পোশাক পরা যার ফলে আপনি পাবেন আরাম ও আপনাকে রাখবে সতেজ।

২. সুতির জামা

গরম কালে সুতির জামা কাপড় পরার চেষ্টা করুন। গরমে সুতির থেকে ভাল ফেব্রিক আর কিছুই হতে পারে না। সুতি কাপড় শুধু হালকা নয়, শরীরকে সতেজ রাখতে কার্যকরী ভুমিকা রাখে।

৩. হালকা রঙ

চেষ্টা করুন সাদা কিংবা হালকা রঙের পোশাক পরতে। কারণ রঙ্গিন পোশাক অধিক তাপ শোষণ করে, ফলে শরীর স্বাভাবিকভাবে শীতল হতে পারে না। আর এর ফলে শরীরে থাকা পানি বাষ্প আকারে বের হয়ে যেতে শুরু করে।

৪. বিছানার চাদর

এই গরমে সাদার মত হালকা রঙের ঘরের পর্দা, বিছানার চাদর, বালিশের কাভার, ব্যবহার করুন। সাদা রঙের কাপড় তাপ শুষে নেয় না বরং তাপের প্রতিফলন ঘটায়। আর ঘর শীতল রাখতে সাহায্য করে।

আনুষাঙ্গিক উপকরণ নির্বাচন

৫. সানগ্লাস

চোখের সুরক্ষায় ব্যবহার করুন সানগ্লাস। কারণ তীব্র গরমে সূর্যের আলোর ক্ষতিকর বেগুনি রশ্মি চোখের কর্ণিয়া ও জলীয় অংশের জন্য প্রচন্ড ক্ষতিকারক। এক্ষেত্রে আপনার চোখের সুরক্ষায় কাজ করবে সানগ্লাস।

৬. ছাতা ব্যবহার

আমাদের শরীরের তাপ সংবেদনশীল স্নায়ুগুলি ঘাড়ে অবস্থিত। তাই রোদে বের হলে এই স্থানটিকে ঢেকে রাখুন। মাথায় ক্যাপ বা টুপি ব্যবহার করতে পারেন। বেশ চমৎকার সমাধান হিসেবে ছাতা ব্যবহার করতে পারেন। এর ফলে তীব্র গরমে হাঁটাহাঁটি করলেও আপনার শরীর খুব একটা ঘামাবে না। এছাড়া তীব্র গরমে মুখে বলিরেখা পড়ার যে ঝুঁকি থাকে সেটাও কমে যাবে।

৭. সানস্ক্রিণ ও লিপ-জেল

গরমে ত্বকের সুরক্ষায় ব্যবহার করতে পারেন সানস্ক্রিণ। এছাড়া ঠোঁটের আর্দ্রতা রক্ষায় লাগাতে পারেন লিপ-জেল।

৮. স্প্রে, জেল, টিস্যু

গরমকালে ব্যাগে রাখুন রোজ ওয়াটার স্প্রে, অ্যালোভেরা জেল, ওয়েট টিস্যু জাতীয় জিনিস। যখনই ক্লান্ত লাগবে ওয়েট টিস্যু দিয়ে মুখ মুছে নিয়ে রোজ ওয়াটার স্প্রে করে নিন বা অ্যলোভেরা জেল লাগিয়ে নিন।

খাবার

৯. পানি পান করুন

প্রচুর পরিমাণে বিশুদ্ধ পানি পান করুন। কারণে তীব্র গরমে দেহ থেকে ঘামের সাথে প্রচুর পরিমাণ পানি বেরিয়ে যায়। পানিশূণ্যতার হাত থেকে বাঁচতে শুধু পানি নয় খেতে পারেন অন্য কিছুও। জুস তৈরি করে পান করুন। ফল, কাঁচা সবজি যা ইচ্ছে জুস তৈরি করে পান করে ফেলুন। নিজেকে রক্ষা করতে পারবেন পানিশূন্যতার হাত থেকে।

আরও জানুন » গ্রীষ্মের গরমে স্নিগ্ধ, সতেজ থাকতে শরবত »
১০.স্যালাইন

স্যালাইন দেহের পানিশূণ্যতা রোধ করার বেশ ভালো একটি উপায়। তাই শুধু পানি পান না করতে চাইলে পানিতে স্যালাইন গুলিয়ে পান করে ফেলুন। চাইলে লেবুর রস পানিতে মিশিয়ে পান করে নিতে পারেন।

১১. সুস্বাদু ফল

আমাদের দেশে গ্রীষ্মকাল মানেই বিভিন্ন সুস্বাদু ফলের মৌসুম। তাই চেষ্টা করুন ফল থেকে সরাসরি তৈরি করা জুস পান করতে। ফলে দেহে পানিশূণ্যতারোধ  করবে এবং বিভিন্ন খণিজ ও পুষ্টি উপাদানের সরবরাহও করবে।

১২. শাক সবজি

খাবারের তালিকায় রাখুন ফলমূল ও শাক সবজি। শাক সবজি আঁশ জাতীয় খাবার যা আপনার পরিপাকতন্ত্রের কার্যপ্রক্রিয়া ঠিক রাখবে।

আরও জানুন » সবজিই মন ভালো রাখবে »
১৩. কম চর্বিযুক্ত খাবার

চর্বিযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলুন। চর্বিযুক্ত খাবার আপনার রক্তের কোলেস্টেরল পরিমাণ বৃদ্ধির করতে সহায়ক। চর্বি জাতীয় খাবার আপনার মধ্যে অস্থিরতা ভাব সৃষ্টি করবে তাই চর্বি জাতীয় খাবার কম খাওয়াই স্বাস্থ্যের জন্য উপকার।

১৪. ক্যাফেইন যুক্ত পানীয়

ক্যাফেইন যুক্ত পানীয় যেমন- চা, কফি যথাসম্ভব পরিহার করুন। কারণ এসব পানীয় দেহে পানিশূন্যতা তৈরি করে।

নিজে যা করবেন শরীর ঠাণ্ডা রাখতে

১৫. কব্জি পায়ের পাতা

আমাদের শরীরের কব্জির ধমনী দিয়েই শরীরের উপরিভাগে রক্ত চলাচল করে। প্রত্যেক হাতের কব্জি ১০ সেকেন্ড ধরে ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে নিন। এছাড়া পায়ের পাতাও ঠাণ্ডা পানিতে ভিজিয়ে রাখতে পারেন। এতে কমপক্ষে একঘণ্টা আপনার শরীর ঠাণ্ডা থাকবে। আবার বেশীক্ষণ পানিতে ভিজিয়ে রাখলে সর্দি লেগে যেতে পারে।

১৬. ভারি কাজ করবেন না

মনে রাখতে হবে, সকাল ১১ টা থেকে দুপুর ৩টা পর্যন্ত আবহাওয়া সবচেয়ে বেশি উত্তপ্ত থাকে। তাই এই সময় সব ভারি কাজ যেমন ব্যায়াম, জগিং, খেলাধুলা বন্ধ রাখতে হবে।

গরমে অনেক ঘাম হয় যার সাথে দেহের প্রয়োজনীয় পানি বের হয়ে যায়। পানি অতিরিক্ত পরিমাণে শরীর থেকে বের হয়ে গেলে আমরা পানিশূন্যতায় ভুগে আক্রান্ত হই নানা রোগে এবং দেহ হয়ে পড়ে দুর্বল। তাই এই সময়টাতে শরীরের দিকে বিশেষ ভাবে নজর দিতে হবে। ভাল থাকুন চরম গরমেও। আপনার সুখ, সৌন্দর্য ও ঐশ্বর্য আপনার নিয়ন্ত্রণে রাখুন।

আরও জানুন » দুর্গন্ধযুক্ত ঘাম থেকে মুক্তি পেতে ১১ টি কার্যকরী পরামর্শ »

Comments

comments