গেরস্থলীর কাজে ২২টি সাধারণ উপকরণের অসাধারণ ব্যবহার

0
8981
ডিমের খোসা
Print Friendly, PDF & Email

আমাদের হাতের কাছের এমন অপ্রয়োজনীয় জিনিস আছে যার সঠিক ব্যবহার আমরা জানিনা। অপ্রয়োজনীয় জিনিস মোটেও ফেলনা কোন কিছু নয় বরং এই অপ্রয়োজনীয় জিনিসের গুণের কোন অন্ত নেই। যার অল্প একটু ব্যবহারের ফলে আমাদের প্রতিদিনের কাজ আরো সহজ হয়ে যাবে। গেরস্থলীর ব্যবহারের জিনিসপত্র পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে এবং নষ্ট হওয়া থেকে বাঁচতে, এসব উপকরণ সামান্য ব্যবহারে আপনার যেমন সময় বাঁচবে তেমনি আসবাবপত্র গুলো হবে ঝকঝকে তকতকে।

১. গন্ধ দূর করতে ম্যাচের কাঠি

দীর্ঘদিন দরজা-জানালা বন্ধ থাকা বা অব্যবহৃত ঘর খুললে একটা ভ্যাপসা গন্ধ বের হয়। দু-তিনটা ম্যাচের কাঠি জ্বালান, কয়েক মিনিটের মধ্যে ঘর থেকে গন্ধ দূর হয়ে যাবে।

২. কর্পূর ব্যবহার

কয়েক টুকরো কর্পূর আধাকাপ পানিতে ভিজিয়ে খাটের নিচে রেখে দিন। সব মশা পালাবে। এবং ভালোভাবে মুখ বন্ধ করা শিশিতে কর্পূর ভরে যন্ত্রপাতির বাক্সে রেখে দিন। এতে যন্ত্রপাতিতে দীর্ঘদিনেও মরচে পড়বে না।

৩. পাতিলেবুর রস

চামড়ার ব্যাগ বা স্যুটকেসের উজ্জ্বলতা বাড়াতে এক টুকরো ফ্লানেল বা কম্বলের কাপড়ে পাতিলেবুর রস মাখিয়ে ঘষুন। পার্থক্যটা নিজেই বুঝতে পারবেন।

৪.  চা পাতা দিয়ে ফোটানো পানি

পুরানো কাঠের আসবাবপত্রে ময়লা আস্তর পরে। কাঠের আসবাবপত্র থেকে ময়লা আস্তর দূর করতে ও ঝকঝকে রাখতে তিন কাপ পানিতে চা পাতা দিয়ে ফোটানো পানি ঠান্ডা করে পালিশ করতে পারেন।

৫. ডিটারজেন্টের সাথে লেবুর রস

বাথরুমের টাইলসে দীর্ঘ সময়ের জমে থাকা ময়লা দূর করতে ডিটারজেন্টের সাথে লেবুর রস ও এক চামচ ফিনাইল মিশিয়ে বাথরুমের টাইলস ঘষেঘষে পরিস্কার করুন। দেখবেন ঝকঝকে হয়ে উঠেছে।

৬. সিগারেটের ছাই

কাঠের ওপর থেকে কলমের কালি দিয়ে লেখা বা দাগ তুলতে সিগারেটের ছাই খুব কার্যকর। পাতলা কাপড়ে সিগারেটের ছাই নিয়ে কাঠের ওপর ঘষে ঘষে খুব সহজেই দাগ তোলা যায়। এই কাজ কেরোসিন দিয়েও করা সম্ভব।

৭. গরম পানিতে ভেজানো রুমাল

যদি বোতলের ছিপি খুব শক্ত হয়ে আটকে যায়, তবে একটি রুমাল গরম পানিতে ভিজিয়ে হালকা ভাবে চিপে নিয়ে বোতলের ছিপির নিচে জড়িয়ে রাখুন। কিছুক্ষণ পরেই ছিপিটি আলগা হয়ে আসবে।

৮. অ্যাকোরিয়ামের পানি

অ্যাকোরিয়ামের পানি ফেলে না দিয়ে গাছের গোড়ায় দিন। এটা গাছের সার হিসেবে খুব ভাল কাজ করে।

৯. সাধারণ বা পানি কালার নেলপালিশ

পোড়ামাটির দ্রব্য পরিষ্কার রাখতে, ওগুলোর ওপর সাধারণ রঙের নেলপালিশ লাগান। রং ঝকঝকে থাকবে আর জিনিসটিও নোংরা হবে না। এবং অলংকার বা গহনার তীক্ষ্ণ বা ধারালো প্রান্তে ন্যাচারাল কালার নেলপালিশ লাগান। এতে খোঁচা লেগে পোশাকের ক্ষতি হবে না।

১০. ভিনেগার

এক ফোঁটা ভিনেগার দিয়ে চশমার কাঁচ ভালোভাবে পালিশ করুন, চশমার কাচ ঝকঝকে পরিষ্কার হয়ে যাবে।

১১. গ্লিসারিন

এক বালতি পানিতে আধা চামচ গ্লিসারিন মিশিয়ে নিন। উলের পোশাক ধোওয়ার পর এই মিশ্রনটিতে ডুবিয়ে নিয়ে শুকাতে দিন। এতে পোশাকের নরম ভাব বজায় থাকবে। এবং জানালার কাঁচ, কাঠ বা স্টিলের টেবিলের দাগ উঠাতে ফ্লানেলের টুকরোতে গ্লিসারিন ভিজিয়ে দাগের অংশে ঘষুন। দাগ উঠে যাবে।

১২. লবণ ছিটিয়ে

গরমে পিপড়ে, মাছির উপদ্রব বাড়ে। মেঝেতে লবণ ছিটিয়ে নিয়ে পানি দিয়ে ভালোভাবে মুছে ফেলুন। পিঁপড়া, মাছির উপদ্রব কমে যাবে।

১৩. তোয়ালে

শিশুকে গোসল কারনোর আগে বাথরুমের মেঝেতে তোয়ালে বিছিয়ে দিন। এতে বাচ্চা হড়কে যাবে না, আবার বসেও আরাম পাবে।

১৪. সেলোটেপ

সেলোটেপের মুখ খুঁজে না পেলে ১০ মিনিটের জন্য ফ্রিজে ঢুকিয়ে রাখুন। সেলোটেপের রিলটা খুলে আসবে।

১৫. স্টিকার তুলতে

স্টিলের পাত্রের স্টিকার তুলতে, স্টিকার লাগানো অংশের উল্টোপিঠটা গরম করে নিন। এরপর স্টিকার খুব সহজেই উঠে আসবে।

১৬. টুথপেস্ট, লবন আর রিঠা

সোনা-রূপার গয়না টুথপেস্ট দিয়ে ঘষে নিন। পানি দেয়ার দরকার নেই। শুকনো কাপড় দিয়ে পেস্ট মুছে ফেলুন। দেখবেন গয়না আরো ঝকঝক করে উঠবে। এবং পানির সাথে লবণ আর রিঠা দিয়ে তাতে রূপার গয়না পনেরো মিনিট ফোটালে রূপোর স্বাভাবিক রং ফিরে আসে।

১৭. চাল ধোয়া পানিতে

চাল ধোয়া পানিতে স্টিল ও কাঁচের বাসন কিছুক্ষণ ডুবিয়ে রেখে তারপর ধুয়ে ফেলুন। বাসন ঝকঝক করবে।

১৮. আলুর খোসা

রান্নার সময় হাতে হলুদের দাগ ধরে গেছে? আলুর খোসা ছাড়িয়ে হাতে ঘষে নিন। তারপর হাত ধুয়ে নিলে আর হলুদের দাগ থাকবে না।

১৯. ডিমের খোসা

আপনার ঘরের কোনো জেদি দাগ বা টয়লেটের প্যানের নোংরা দাগ তুলতে ডিমের খোসার তুলনা হয় না। তাই ডিমের খোসা ফেলে না দিয়ে সেটা সংরক্ষণ করে রাখুন। প্রয়োজনে এই খোসা ভেঙ্গে গুঁড়ো করে আপনার ঘরের মেঝে বা টয়লেটের প্যান পরিষ্কারের কাজে ব্যবহার করুন।

২০. স্পিরিট, কেরোসিন ও চকের গুঁড়া

চকের গুঁড়োর সাথে পানি আর স্পিরিট বা কেরোসিন মিশিয়ে দাগ ধরা জানালা বা দরজার কাঁচের ওপর মাখুন। শুকিয়ে গেলে খবরের কাগজ দিয়ে ঘষে ঘষে মুছে ফেলুন। দেখবেন কাঁচ ঝকঝক করছে।

২১. ইউক্যালিপটাস তেল

এক বালতি পানিতে দুই টেবিল চামচ ইউক্যালিপটাস তেল মিশিয়ে নিন। এরপর ধুয়ে নেয়া গরম পোশাক বা সিল্কের কাপড় পানিতে ডুবিয়ে নিয়ে শুকাতে দিন। এতে পোশাক পোকায় কাটার ভয় থাকবে না। পোশাকের উজ্জ্বলতা বাড়বে।

২২. ফ্রিজের দাগ তুলতে টুথপেস্ট

দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহারে ফ্রিজের গায়ে বসে যাওয়া দাগ উঠাতে স্পঞ্জে টুথপেস্ট লাগিয়ে ভালোভাবে ঘষুন, দাগ উঠে যাবে।

সাধারণ জিনিসের এতোগুলো অসাধারণ ব্যবহার দেখার পর, নিশ্চয়ই আর এই জিনিস গুলোকে কখনো অপ্রয়োজনীয় বা ফেলনা      উপকরণ হিসেবে মনে হবে না

আরও জানুন » বর্তন ব্যবহার উপযোগী রাখার জন্য ১৪টি উপায় »

Comments

comments