ফ্যাশন জগতের টুকটাক ১১টি কৌশল

0
599
ফ্যাশন জগতের টুকটাক ১১টি কৌশল
ছবি কৃতজ্ঞতাঃ Sangram bhowmick // Photographer
Print Friendly, PDF & Email

নদীর গতি প্রবাহের মতই মানুষের সাংস্কৃতিক প্রবাহ। আকীদা-বিশ্বাস, আচার-আচরন, শিক্ষা-দীক্ষা, পরিবেশ-পরিস্থিতি ও সামাজিক রীতিনীতি ইত্যাদি বহু উপাদানের মিশ্রণে এক এক জাতির এক একটি সাংস্কৃতিক পরিমন্ডল। এক একটি কালচারাল পরিধি। আর এই কালচারাল পরিধির সাথে তাল মিলিয়ে প্রতিটি নারী-পুরুষ চায় নিজেকে সুন্দর করে তুলতে, হোক না সে কালো, শ্যামলা, মোটা কিংবা বেটে। এটা সম্ভব যদি আপনি নিজেকে জানতে পারেন। আপনার জন্য মানাবে এমন কাপড়টি আসলে কি রকম হওয়া প্রয়োজন সেটা আগে জেনে নিন। ফ্যাশন সম্পর্কে সচেতনতা না থাকলে আপনার ফ্যাশন বড়জোর কাঁক তাড়াবে।

১. কাপড়ের রং নির্বাচন

কাপড়ের রং নির্বাচন করুন আপনার দৈর্ঘ্য, ত্বক এর রং এবং সময় ও কাল বুঝে, যেমন সকাল, দিন, রাত এবং বর্ষা, রোদ্দুর কিংবা শীতকাল। আপনি যদি হউন শ্যামলা তাহলে কটকটে চোখে লাগে এমন রংগুলো কিংবা বড় ছাপার গারো রংগুলো এড়িয়ে চলাই ভালো, রোদ্রজ্জ্বল দিনে হালকা রংগুলো পড়ুন যেমন হালকা গোলাপী, ঘিয়া, হালকা কলাপাতা সবুজ, আকাশী, শেওলা ইত্যাদি রংগুলোর ছোট প্রিন্টের কিংবা সুতোর কাজের কাপড়গুলো যেমনি আরামদায়ক তেমনি মার্জিত।

২. রাত আর দিনের প্রার্থক্য

শোরুমগুলোতে পুতুলের গায়ের পোশাকটি দেখে খুব ভালো লাগে বলেই চট করে কিনে ফেলি, বাসায় এসে যখন পড়ে দেখিন তখন রাত আর দিনের তফাত টি বোঝা যায়। ত্বক এর সাথে কিংবা লম্বার সাথে পোশাকটি মানাবে কিনা তা বুঝতে হবে আপনাকেই।

৩.ফ্যাশনের ধর্ম

ফেশন ঋতুর সাথে, বছরের সাথে নতুন ঢঙে বদলাবে এটাই ফ্যাশনের ধর্ম। কিন্তু সেটার সাথে আপনি যখন নিজেকে বদলাতে চাবেন তখন আপনার লক্ষ রাখতে হবে পোশাকটি আপনাকে কতটুকু মানিয়েছে। প্রয়োজন হলে আপনি নিজের মতো করে পোশাকটি তৈরী করে নিন যাতে ফিটনেস এর ক্ষেত্রে কোনো বাজে অনুভূতি তৈরী না হয়।

৪. চুল

সুন্দর পোশাকটি পরিধানের সময় লক্ষ রাখুন আপনার চুল এর সাজ এবং মেকাপ এর দিকে।

৫. বিডস, স্টোন বা কারুকাজ

আপনার সন্ধার পোশাকটি যদি হয় অনেক বেশি বিডস, স্টোন দিয়ে কারুকাজ করা তাহলে হালকা মেলানো অলংকার পড়া উচিত। অলংকার আর পোশাক দুটোকেই সবার দৃষ্টিগোচর করতে চাইলে খুব বাজে দেখায়।

৬. পার্টি বা অনুষ্ঠান

পার্টির ধরন, কাজের ক্ষেত্র, সময়, কাল ইত্যাদি অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ পোশাক নির্বাচন এর ক্ষেত্রে। তার সাথে সাথে বয়স, গরন, স্বাস্থ্য ইত্যাদিও খেয়াল রাখতে হবে।

৭. জুতো কিংবা ব্যাগ

আপনার অনেক সুন্দর পোশাকটি কিংবা সাজটি মলিন হয়ে যেতে পারে আপনার অসামঞ্জস্য জুতো কিংবা ব্যাগ এর কারণে। এদিকটা সব সময় লক্ষ রাখা উচিত।

৮. হাতা

হাতা ছাড়া কিংবা নেট কাপড়ের হাতা এর পোশাকের ক্ষেত্রে আপনার সাজটা যদি আপনার ব্যাক্তিত্বের অন্তরায় হয়ে দাড়ায় তাহলে সেটা এড়িয়ে চলাই ভালো। নতুবা চুরিদার হাতে বা থ্রি কোয়ার্টার হাতা পড়তে পারেন।

৯. মোটা কাপড়

মোটা কাপড় এর পোশাক মোটা মানুষকে আরো মোটা দেখায়, তেমনি গারো রং এর বড় ছাপা কাপড়ও শরীরকে আরো প্রশস্ত দেখায়।

১০. চুরিদার পাজামা

চুরিদার পাজামা চিকনদের জন্য মানানসই। তেমনি ভারী বা মোটাদের জন্য পাজামার কাপড়টি প্যান্ট এর মতো করে বানিয়ে নিন।

১১. শর্ট কামিজ

ফিটিং কামিজ কিংবা শর্ট কামিজ চিকন স্বাস্থ্যের জন্য ভালো, তবে বাল্কি ফিগারের জন্য নিজের মতো করে পোশাকটি তৈরী করে নিতে পারেন।

সেজেগুজে স্মার্ট হলে বড়জোর কারো একটা প্রশংসা পাওয়া যায়। লোকের কাছে আপনি একজন ফ্যাশন সচেতন হিসেবে আখ্যা পাওয়া পর্যন্তই এ যাত্রার সমাপ্তি। আর অর্থনৈতিক অবস্থা থেকে অতিরিক্ত করলে লোকে সামনে মুখ বাঁকা হাসি হাসবে পিছনে খিস্তি দিতে ছেড়ে কথা বলবে না। তাই আপনার এই ছোট্ট প্রয়াসই আপনার প্রচেষ্টা।

 

আরও জানুন » এই গরমে চুলের রুক্ষতা দূর করার ১২টি কার্যকরী কৌশল »

Comments

comments