ফেসবুক আসক্তির কারণ ও প্রতিরোধ

0
353
ফেসবুক আসক্তির কারণ ও প্রতিরোধ
ফেসবুক আসক্তির কারণ ও প্রতিরোধ
Print Friendly, PDF & Email

সময়ের সাথে সাথে পাল্লা দিয়ে ফেসবুকের প্রতি মানুষের আকর্ষণ বাড়ছে। বন্ধুদের সাথে আড্ডায় কোন ভালো রেস্টুরেন্টে গেলেন বা ঘুরতে যাচ্ছেন কয়দিনের জন্য কোন জায়গায়, ব্যাস দিয়ে দিলেন চেক ইন যা থেকে জানা যাবে কোথায় আছেন আপনি। এরকম একটু একটু ভাবেই ফেসবুক যা সোশ্যাল নেটওয়ার্ক হিসেবে পরিচিত আমাদেরকে নিয়ন্ত্রণ করছে। এই আসক্তি অনেকসময় এলকোহল বা সিগারেট থেকেও বেশি হতে পারে। এই আসক্তি আপনার স্ট্রেস বাড়িয়ে আপনাকে দুশ্চিন্তায় রাখতে পারে, প্রিয় মানুষটির সাথে আপনার সম্পর্ক খারাপ করতে পারে, আপনার পরিবারের সাথেও আপনার দূরত্ব বাড়িয়ে দেবে।

একাকীত্বে

যারা সাধারণত একাকীত্বে ভোগে বা পড়ালেখা শেষ করার পর করার মতো কিছু থাকেনা তারাই ফেসবুকে বেশি সময় কাটায়। অজানা লোকের সাথে কথা বলে তার একাকীত্ব দূর করার জন্য। অনেকের সাথে কথা বলে জানা গেছে, আবার কেউ মানসিকভাবে বিপর্যস্ত থাকে তখন ইতিবাচক পোস্ট বা লেখা দেখার মধ্য দিয়ে নিজেকে সান্ত্বনা দেয়। অথবা এমন কোন মানুষের সাথে তার কষ্ট শেয়ার করতে চায় যার সাথে কথা বললে তার মন ভালো লাগবে, হতে পারে সে কোন বন্ধু বা অচেনা কেউ। একটা মানসিক প্রশান্তির আশায় তারা ফেসবুকে বসে।

হিংসাত্মক মনোভাব

কারো কারো মধ্যে হিংসাত্মক মনোভাবও কাজ করে যে তার পোস্টে কতোটা লাইক বা কমেন্টস আসলো আর অন্যদের পোস্টে কতোটা এটার একটা তুলনা করতে থাকে তারা সবসময়।

সহজেই পরিচিতি আশায়

অনেকে তাদের প্রতিভা বা কাজের কদর ঠিকভাবে পায়না। এই সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে সহজেই পরিচিতি বা প্রশংসা পাওয়া যায়। এমনকি কাজের ক্ষেত্র বা সুযোগও পায় অনেকে। তাই সবসময় আপডেট এবং যোগাযোগ রক্ষার জন্যও এই মাধ্যমে মানুষ এতোটা নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে।

দূরের মানুষদের সাথে যোগাযোগ

দূরের কোন বন্ধুর মেসেজ পেতে ভালো লাগে, তাদের ছবি দেখতে ভালো লাগে। দূরের মানুষদের সাথে প্রতিনিয়ত যোগাযোগটা ধরে রাখার জন্য অনেকে ফেসবুকে আসে।

আপনারা আসলেই ফেসবুকে আসক্ত কিনা কিছু মজার প্রশ্নের উত্তরের মাধ্যমে জেনে নিতে পারেন?

– আপনি কি ফেসবুক একাউন্ট ডিএক্টিভেট করার কিছুদিন পর আবারও এক্টিভেট করেন?
– আপনার পড়ালেখা ও কাজে কি আপনি আগের থেকে কম মনোযোগী হয়ে পড়ছেন?
– আপনার যখন মন খারাপ থাকে বা খুব আনন্দে থাকেন তখন কি মনে হয় ফেসবুকে শেয়ার করলে ভালো হতো?
– আপনি কি বারবার চেক করছেন আপনার পোস্টে কয়টা লাইক বা কমেন্টস পড়লো?

যদি প্রশ্নগুলোর উত্তর হ্যাঁ হয় তাহলে আপনি ফেসবুক আসক্তিতে ভুগছেন।

ফেসবুকে আসক্ত থেকে মুক্তি পাওয়ার উপায়

বন্ধুদের সাথে মিশুন

ডিজিটাল দুনিয়া থেকে বের হয়ে সত্যিকারের দুনিয়াতে সত্যিকারের বন্ধুদের সাথে মিশুন, আড্ডা দিন, ঘুরতে যান।

পরিবারকে সময় দেওয়া

নিজের পরিবারকে আরও বেশি সময় দিন। সারাদিন অফিসের কাজে ব্যাস্ত থাকলে অন্তত রাতে একসাথে কিছুক্ষণ বসে গল্প করুন, একসাথে রাতের খাবার খান।

স্বজনপ্রীতি বোধ তৈরি করুন

আত্মীয়স্বজনদের খোঁজ ফেসবুকে না নিয়ে ফোন করুন বা বাসায় যেয়ে দেখা করে আসুন। এতে করে সম্পর্কটা আরও ভালো হবে এবং আপনারও ভালো লাগবে।

অবসর সময়

অবসরে ফেসবুকে বারবার না বসে গল্পের বই পড়ুন, ভালো সিনেমা দেখতে সিনেমা হলে যান বা বাসায় সবার সাথে বসে টিভি দেখতে পারেন।

চর্চা করা

গঠনমূলক কাজ করুন। হাতের কাজ শিখুন, নতুন রেসিপি চেষ্টা করুন, ভবিষ্যতে কাজে লাগতে পারে এমন কোন কিছুর চর্চা করুন।একা থাকলে বাগান করুন বা গাছের পরিচর্যা করুন, কোন কিছু লিখতে বসে যান। এতে আপনার স্বকীয়তারও প্রকাশ ঘটবে।

ফেসবুকে বসার নির্দিষ্ট সময়

বারবার না বসে দিনের শেষে কোন একটা নির্দিষ্ট সময়ে ফেসবুকে বসতে পারেন। এতে সময়ও অপচয় হবে না এবং আপনিও নিয়ন্ত্রনে থাকবেন।

একটানা

একটানা অনেকক্ষণ ফেসবুকে বসবেন না, তাহলে আরও একটু থাকি এরকম চিন্তা আসবে।

উপভোগ করুন

কোথাও ঘুরতে গেলে ফেসবুকে চেক ইন দেয়ার কথা চিন্তা না করে মন খুলে আপনার ঘোরার সময়টা উপভোগ করুন।

মনের অবসর

কোয়ালিটি সময় কাটান আপনার সঙ্গী বা সঙ্গিনীর সাথে। একসাথে কফি খেতে যান, একসাথে ছুটির দিনে রান্না করুন, বাসায় বসেই দুজন দুই দলে ভাগ হয়ে প্লে স্টেশন এ গেইম খেলুন, গান গাইতে পারেন দুজনে, গান ছেড়ে দিয়ে নাচুন একসাথে।

দূরে কোথাও ঘুরে আসুন

দূরে কোথাও গাড়ি নিয়ে ঘুরতে চলে যান আর সময়ের অভাবে তা সম্ভব না হলে কাছেই কোথাও রিক্সা নিয়ে দুজন মিলে ঘুরে আসুন। এভাবে দুজনের মধ্যে বোঝাপড়াটা ভালো থাকবে এবং সম্পর্কে একঘেয়েমি আসবে না।

নিজেকে ব্যস্ত রাখুন

আমরা সবাই সমাজিক জীব তাই সমাজ প্রীতি বা দেশ প্রেম নিজের মধ্যে গড়ে তুলুন। আর অন্যের জন্য যত ভাল কাজ করবেন নিজেকে ততই ভালো লাগবে। মানুষ হিসেবে নিজেকে সবার আগে বুঝতে হবে। নিজেকে বুঝার জন্য ভালো কাজ করুন।

অস্পৃশ্য ফেসবুকের মোহ থেকে কাছের মানুষের স্পর্শটাই নিশ্চয়ই ভালো লাগবে…। তাই ডিজিটাল গণ্ডি থেকে বের হয়ে এসে খোলা আকাশের নিচে দাড়িয়ে থেকে বুকভরে শ্বাস নিয়ে দেখুন তো কোনটা বেশি ভালো লাগছে আপনার….।

আরও জানুন » ঘুম আসতে সাহায্য করবে এমন ৭টি উপায় »

Comments

comments