ইবোলা ভাইরাস সম্পর্কে জানুন, নিরাপদ থাকুন!

0
368
Print Friendly, PDF & Email

ইবোলা ভাইরাস কী?

  • ইবোলা ভাইরাস রোগ (EVD), পূর্বে পরিচিত ছিল ইবোলা রক্তপ্রদাহজনিত জ্বর নামে, যা গুরুতর, এবং মানব দেহে মারাত্মক অসুস্থতার সৃষ্টি করে ।
  • এই ভাইরাসটি বন্য প্রাণী থেকে মানব দেহে সংক্রমিত হয় এবং পরবর্তীতে একজন মানুষের শরীর থেকে আরেকজন মানুষের শরীরে সংক্রমিত হয়ে থাকে ।
  • ইবোলা ভাইরাস রোগে আক্রান্ত মানুষের মধ্যে গড়ে শতকরা ৫০ ভাগ মানুষ মারা যায় । যদিও অতীতে যখন মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়েছিল তখন গড় মৃত্যুর হার ছিল ২৫% – ৯০% পর্যন্ত ।
  • ইবোলার প্রথম সংক্রমণ শুরু হয় মধ্য আফ্রিকার প্রত্যন্ত গ্রাম, ক্রান্তীয় চিরহরিত বনভূমির কাছাকাছি অঞ্চল থেকে, তবে সম্প্রতি যে ইবোলার প্রাদুর্ভাব শুরু হয়েছে তার মধ্যে পশ্চিম আফ্রিকার অনেক শহুরে ও গ্রামীণ এলাকাও অন্তর্ভূক্ত রয়েছে ।
  • ইবোলা সংক্রমণ ঠেকানো সম্ভব যদি সমাজের সবাই একসাথে উদ্যোগী হয় । বড় ধরনের প্রাদুর্ভাব থেকে রক্ষার জন্য জরুরী হল সমন্বিত পদক্ষেপ, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল, ইবোলা আক্রান্ত ব্যক্তির সঠিক ব্যবস্থাপনা, নজরদারি এবং আক্রান্ত ব্যক্তির সাথে সম্পর্কযুক্ত মানুষদের সনাক্ত করা, ভালোভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার মত ব্যবস্থা, মৃতদেহ নিরাপদে সমাহিত করা আর সামাজিক সংহতি ।
  • ইবোলা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীকে প্রাথমিক অবস্থায় সনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করলে বাচাঁনোর সম্ভাবনা বহুলাংশে বেড়ে যায় ।
  • এখন পর্যন্ত ইবোলা ভাইরাস এর কোনো স্বীকৃত প্রতিষেধক আবিষ্কৃত হয়নি । তবে, কিছু প্রতিরোধমূলক ঔষধ ও চিকিতসা পদ্ধতি নিয়ে কাজ চলছে যা শীঘ্রই হয়ত মানবকল্যাণে ব্যবহার করা যাবে ।
  • যদিও ইবোলা ভাইরাসের সর্বস্বীকৃত কোনো প্রতিষেধক আবিষ্কৃত হয়নি তবে, ২ টি প্রতিষেধক আবিষ্কৃত হয়েছে যা এখন স্বীকৃতির অপেক্ষায় পর্যবেক্ষণাধীন আছে ।

 

ইবোলা ভাইরাস রোগের উপসর্গসমূহঃ

শরীরে ভাইরাস প্রবেশের ২ – ২১ দিনের মধ্যে উপসর্গসমূহ প্রকাশ পেতে থাকে । যতক্ষণনা পর্যন্ত উপসর্গসমূহ দেখা দেয়া শুরু হয় ততক্ষণ পর্যন্ত ভাইরাসের সংক্রমণ হয় না ।

  • জ্বর
  • পেশী ও অস্থিসন্ধীতে ব্যাথা
  • মাথা ব্যাথা
  • গলা ব্যাথা
  • বমি (মাঝে মাঝে রক্তসহ)
  • ডায়রিয়া (মাঝে মাঝে রক্তসহ)
  • দাঁতের মাড়ি থেকে রক্তক্ষরণ
  • ত্বকে র‍্যাশ
  • দেহে শ্বেত রক্তকণিকা ও অনুচক্রিকার পরিমাণ হ্রাস পাওয়া
  • যকৃত থেকে মাত্রাতিরিক্ত হরমোন নিঃসৃত হওয়া


আপনার এলাকার কোনো ব্যাক্তি যদি ইবোলা ভাইরাসে আক্রান্ত হয় বা কোনো ব্যাক্তি কোনো ইবোলা আক্রান্ত ব্যাক্তির সংস্পর্শে এসেছে বলে শুনতে পান তাহলে অতি দ্রুত তাকে চিকিতসকের কাছে নিয়ে যান ।

– জনসচেতনতায় বাঙালিয়ানা Magazine

আরও জানুন » শিশুর ডায়রিয়া ও করণীয় »

Comments

comments