ক্যানভাসে আঁধার – ফয়সল সাইফ

0
261
ফয়সল সাইফের মনস্তাত্বিক উপন্যাস ‘ক্যানভাসে আঁধার’
ফয়সল সাইফের মনস্তাত্বিক উপন্যাস ‘ক্যানভাসে আঁধার’
Print Friendly, PDF & Email

শুরু হয়েছে বাঙালির প্রানের মেলা ‘অমর একুশে গ্রন্থমেলা-২০১৫’। আর এ মেলাতেই আসছে ফয়সল সাইফের মনস্তাত্বিক উপন্যাস ‘ক্যানভাসে আঁধার’। বইটি প্রকাশ করেছে জাগৃতি প্রকাশনী। মেলায় জাগৃতি প্রকাশনীর তিনটি স্টল যথাক্রমে ১৮৩, ১৮৪ ও ১৮৫’র সবগুলোতেই পাওয়া যাবে বইটি। বইটির মূল্য রাখা হয়েছে ২শ’ ৮০ টাকা।

ফয়সল সাইফের লেখা ক্যানভাসে আঁধার উপন্যাসটি একটি গভীর মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস। এর গল্পটি মূলত লেখা হয়েছে মাদকের নেশা এবং জীবনের দ্বন্ধ নিয়ে। একটা প্রতিযোগীতামূলক সমাজের আর দশটা ছেলের মতই অপুও একজন। অন্যদের চেয়ে যাঁর অগ্রগতির পরিমাণ কিছুটা বেশি। সৃজনশীল, আদর্শবাদী, শিক্ষিত এবং কর্মক্ষম। পারিবারিকভাবেও স্বচ্ছল। এক সময় পরিবারের বাধ্য ছেলে অপুর সাথে মাদক আর মেহজাবিন নামে এক সুন্দরী মেয়ের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। মেয়েটা অপুকে ভীষণ ভালবাসলেও; অপুর ভালবাসার একাংশ ক্রমশ দখল করে নিতে থাকে মাদক। প্রথম প্রথম মেহজাবিনের চোখে মাদক জিনিসটা গুরুত্বর কিছু মনে না হলেও; কিছুদিনের মধ্যেই যখন সবার অমতে বিয়ে করে তাঁরা নতুন জীবন শুরু করে, তখন অপুর মাতলামী চরমে পৌঁছায়। সিলেটে এসে যখন দুজনে থাকতে শুরু করে, ততদিনে অপু নেশার জগতে পুরোপুরি আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছে। দরকারি কোনো কাজকর্মের প্রতিই আর তাঁর মনোযোগ নেই। তাই দুজনের সংসারের বোঝাটা টানতে হয় মেহজাবিনকে একা। নারীর সংসার কেন্দ্রিক সহজাত মনোভাব এবং অপুর প্রতি ভালবাসা থেকে মেহজাবিন সব মেনে নেয়। পুরোনো দিনের প্রবল ভালবাসার টানে অপুও তাঁর বউকে যতটা পারে বিব্রত না করার চেষ্টা করে। সে অনেকটা নীরবেই তাঁর নেশার জগত নিয়ে পড়ে থাকে। বেশিরভাগ দিনই সকাল থেকে পুরোটা সময় বাইরে কাটানোর পর রাতে বাসায় ফিরে। বাসা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর আর বাসার কথা ভাবেও না। বাসায় ফেরার আগ পর্যন্ত মেহজাবিনেরও কোনো খবর নেয় না। যেদিন রাতের খাবার বাইরে থেকে খেয়ে আসে, সেদিন তাড়াতাড়ি গিয়ে বিছানায় শুয়ে পড়ে। ঘুমের সেই সময়টাতে মাঝে মাঝেই নিজের অজান্তে সে হারিয়ে যায় নস্টালজিয়ায়।

কখনো কখনো আবার অপু নিজের এ জীবনের প্রতি বিরক্তিবোধ করে। মেহজাবিনের অসহায়ত্বের কথা চিন্তা করে, স্বাভাবিক জীবনে ফেরার কথা ভাবে। দুয়েকদিন চেষ্টা করে। তারপর আবার ভূলে যায়। ফিরে যায় নিজের জগতে। এভাবে আসা-যাওয়ার মধ্যে অপুর ভেতর এক মানুষিক দ্বন্ধ কাজ করতে থাকে। ক্রমেই নিজের প্রতি বিরক্ত হয়ে উঠে সে। মনের মধ্যে নতুন পরিবর্তন এলেই, অপু সবার সাথে মেলামেশা ত্যাগ করে। মেহজাবিনের সাথেও সহজে মিশতে পারে না। সব সময় কোথাও না কোথাও একটা বাধা অনুভব করে। নীরবে একা একা বসে, প্রায় সময়ই সে আগের জীবনে ফেরার আকাঙ্ক্ষা বোধ করে। কিন্তু সেটা সহজ মনে হয় না। ফলে সে দিনের পর দিন নিজের মন্দ ভাগ্যের চিন্তায় মগ্ন থাকে। সেই সাথে দুঃখকষ্টে এতই অবসন্ন হয়ে পড়ে যে, ওই মুহূর্তে অবচেতন মনে নিজের অজান্তেই আবার সে মদ-গাঁজার মধ্যে বিশ্রাম খুঁজতে থাকে।

এসব কারণেই একদিন মেহজাবিনের ওপর হাত পর্যন্ত তুলে। তারপরও দুজনের সম্পর্কটা স্বাভাবিক থেকে যায়। কারণ তাঁদের মধ্যকার ভালোবাসা অকৃত্রিম নয়।

কিন্তু অপুর মাদকের নেশা তাঁদের দুজনের জীবনের মাঝে সব সময়ই মূল প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়ায়। একদিন অপুর প্রতি মেহজাবিনের সব বিশ্বাস-আশা হারিয়ে গেলে, দৈবচক্রে মেয়েটা অপুর জীবন থেকে হারিয়ে যায়। আর এরপর থেকেই অপুর মানসিক অবস্থার এক অদ্ভুত পর্যায় শুরু হয়। বেঁচে থাকার জন্য যা থেকে মুক্তি পেলে, সে হয়তো কিছুটা শান্তি পেত। কিন্তু এটা ছিল অসম্ভব। আর এটা না পারলে অচিরেই তাঁর ধ্বংস অনিবার্য। এমন একটি অনিশ্চয়তা মধ্য দিয়েই শেষ হয় উপন্যাসটির মূল গল্প।

ফয়সল সাইফ ১৯৯০ সালের ১৫ই সেপ্টম্বর জন্ম গ্রহণ করেন হবিগঞ্জের ছোট এক শহর, শায়েস্তাগঞ্জে। বর্তমানে বাস করছেন সেখানেই। হিসাববিজ্ঞানে বিবিএ পড়ছেন শেষ বর্ষে। ছোটবেলা থেকেই তিনি পাঠ্যের বাইরে প্রচুর বই পড়তে ভালবাসতেন। রাশিয়ান সাহিত্য তাঁকে সবচেয়ে বেশি আকর্ষণ করে। যদিও তিনি জার্মান, আমেরিকান ও ব্রিটিশ সাহিত্যেকে সমান শ্রদ্ধা করেন। ক্যানভাসে আঁধার তাঁর লেখা প্রথম পূর্ণাঙ্গ উপন্যাস। যদিও তিনি বইটি লিখেছেন ১৮-৩০ বছর বয়সীদের কথা মাথায় রেখে, তবুও তিনি আশা করেন বড়রাও সেটাকে গ্রহণ করবে। যদি অল্প কিছু মানুষও এ থেকে শিক্ষা নিয়ে নিজেদের জীবনকে বদলে নিতে পারে, সেটাও তাঁর কাছে অনেক কিছু বলে বিবেচিত হবে।

 

Book-Fair-2015

ফয়সল সাইফ ১৯৯০ সালের ১৫ই সেপ্টম্বর জন্ম গ্রহণ করেন হবিগঞ্জের ছোট এক শহর, শায়েস্তাগঞ্জে। বর্তমানে বাস করছেন সেখানেই। হিসাববিজ্ঞানে বিবিএ পড়ছেন শেষ বর্ষে। ছোটবেলা থেকেই তিনি পাঠ্যের বাইরে প্রচুর বই পড়তে ভালবাসতেন। রাশিয়ান সাহিত্য তাঁকে সবচেয়ে বেশি আকর্ষণ করে। যদিও তিনি জার্মান, আমেরিকান ও ব্রিটিশ সাহিত্যেকে সমান শ্রদ্ধা করেন। মূলত এভাবেই লেখালেখির ক্ষেত্রে তাঁদের সাহিত্যের মিশ্রণে প্রবলভাবে আক্রান্ত হন। পরবর্তীতে অগ্রজ লেখক শাখাওয়াৎ নয়নের উৎসাহ অনুপ্রেরণায় তিনি দেশীয় ধরণটি রপ্ত করতে শুরু করেন। ক্যানভাসে আঁধার তাঁর লেখা প্রথম পূর্ণাঙ্গ উপন্যাস। যদিও তিনি বইটি লিখেছেন ১৮-৩০ বছর বয়সীদের কথা মাথায় রেখে, তবুও তিনি আশা করেন বড়রাও সেটাকে গ্রহণ করবে।

Comments

comments