চাকরির পরীক্ষার দক্ষতা বাড়ানোর ১০টি কার্যকরী কৌশল

0
620
চাকরির পরীক্ষার দক্ষতা
Print Friendly, PDF & Email

স্বপ্ন সেটা নয়, যেটা মানুষ ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে দেখে, স্বপ্ন সেটাই যেটা পূরণের প্রত্যাশা মানুষকে ঘুমাতে দেয় না। সবার জীবনে একটা ভালো চাকরি পাবার স্বপ্ন কাজ করে। আমাদের জীবন একটাই ও এই জীবনের সময় খুব সংক্ষিপ্ত তাই সফল হবার জন্য আমাদের নিজে নিজেকে সহযোগিতা করাটাই উত্তম। তাই নিজের মধ্যে কিছু সম্ভাব্না তৈরি করুন ও সম্ভাব্না গুলো সুন্দর ভাবে উপস্থাপন করুন। আত্মবিশ্বাস, পেশাদারিত্ব আর শিষ্টাচার এসবের মাঝে সুন্দর ভারসাম্য রক্ষা করতে পারলে জয় আপনার হবেই। জেনে নিন চাকরির পরীক্ষার দক্ষতা বাড়ানোর ১০ টি কার্যকরী কৌশল-

১. উপস্থিতি বা সূচনা

কথা না বলেই পরীক্ষা ক্ষেত্রে ঢুকে প্রথমেই আপনার জোরোলো উপস্থিতি বুঝাতে সালাম দিন বা অভিবাদন জানান। তাদের চোখে চোখ রাখুন, এরপর ভদ্রভাবে, আত্মবিশ্বাস নিয়ে কৌশল বিনিময় করুন। এভাবে কোনো কথা ছাড়া আচরণের মাধ্যমেই আপনার ইন্টারভিউয়ের দারুণ সূচনা হতে পারে।

২. মার্জিত পোশাক

আপনার মার্জিত পোশাকই আপনার ব্যক্তিত্ব ফুটিয়ে তুলে। তাই আপনাকে মার্জিত পোশাক পড়তে হবে। আপনার মাঝে পেশাদা্রীত্ব ও দক্ষতার ছাপ থাকা জরুরী। যে প্রতিষ্ঠানে, যে পদের জন্য আবেদন করেছেন আপনি, তার সাথে সঙ্গতি রেখে মার্জিত পোশাক পরা উচিত।

৩.মনযোগ দিয়ে শুনুন

চাকরি পরীক্ষার শুরু থেকেই প্রশ্নকর্তা আপনাকে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে বেশ কিছু তথ্য দিতে পারেন। প্রশ্নকর্তা কি বলছেন মনযোগ সহকারে শুনুন  এবং কোন ভঙ্গিমায় কথা বলছেন, তা উপলব্ধি করুন। যদি সেগুলো আপনি উপলব্ধি না করেন তাহলে বড় কোনো সুযোগ হারাতে পারেন।

৪. বেশি কথা বলবেন না

ভালো যোগাযোগের ক্ষেত্রে শোনা এবং যিনি কথা বলছেন তার কথাগুলো যে আপনি শুনেছেন, সেটি তাকে বোঝানো জরুরী। তাই প্রশ্নকর্তা যা জানতে চান, তার চেয়ে বেশি কথা বলা আপনার জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে।

৫. অতিরিক্ত ভাব বা অনীহা প্রকাশ

চাকরি পরীক্ষা একটি পেশাগত সাক্ষাৎ তাই বেশি গা ছাড়া ভাব দেখাবেন না। এই সময়ে আপনার ব্যক্তিত্বের স্ফুরণ, আত্মবিশ্বাস, আগ্রহ প্রকাশ করা এবং প্রাসঙ্গিক প্রশ্ন করাও জরুরী। তবে খেয়াল রাখতে হবে এসব যেন দৃষ্টিকটু না হয় ।

৬. উপযুক্ত ভাষার প্রয়োগ

চাকরি পরীক্ষার সময় আপনাকে পেশাগত ভাষায় কথা বলতে হবে। খেয়াল রাখবেন যেন আপনার কোনো অনুপযুক্ত শব্দ বা বাক্য যেন প্রশ্নকর্তাদের বিব্রত না করে।

৭. শিষ্টাচার বজায় রাখা

চাকরি পরীক্ষার ক্ষেত্রে আপনার আচরণ একটি বড় ধরণের ভূমিকা রাখে। আত্মবিশ্বাস, পেশাদারিত্ব আর শিষ্টাচার এসবের মাঝে সুন্দর ভারসাম্য রক্ষা করতে পারলে জয় আপনার হবেই। উল্টো দিকে আপনি যোগ্যতর হলেও অতি মাত্রায় আত্মবিশ্বাস আর উদ্ধত আচরণ আপনার সুযোগ নষ্ট করে দিতে পারে।

৮. সতর্কতার সাথে উত্তর দেওয়া

প্রশ্নকর্তা যখন আপনার কর্মপরিকল্পনার আগের কোনো ঘটনা জানতে চান, তখন আপনার আচরণের ধরণ বোঝারও চেষ্টা করেন তিনি। এক্ষেত্রে যদি নির্দিষ্ট উদাহরণ দিয়ে উত্তর দিতে না পারেন, তাহলে একাধারে আপনি নিজের যোগ্যতা প্রমাণের পাশাপাশি নিজের দক্ষতা সম্পর্কেও কথা বলার সুযোগ হারাবেন।

৯. প্রশ্ন করুন

প্রশ্নকর্তা যখন জিজ্ঞেস করেন, ‘আপনার কোনো প্রশ্ন আছে কিনা?’ তখন বেশিরভাগ প্রার্থী উত্তর দেন ‘না’। এটি আসলে ভুল। যেসব প্রশ্ন আপনাকে করা হয়েছে, সেগুলোর মধ্য থেকেই বিস্তারিত কিছু জানতে প্রয়োজনীয় প্রশ্ন আপনি পেয়ে যেতে পারেন। প্রশ্ন করার মাধ্যমে আপনি জানতে পারেন, প্রতিষ্ঠানটি আপনার জন্য সঠিক জায়গা হবে কি না।

১০.মরিয়া হবেন না

নিজেকে ধীর, স্থির ও দৃঢ়সংকল্প রাখুন। আপনি জানেন চাকরিটা পাওয়ার যোগ্যতা আছে আপনার, প্রশ্নকর্তাকেও সেটা বুঝতে দিন। ‘প্লিজ আমাকে চাকরিটা দিন’ এ ধরণের মরিয়া ভাব দেখাবেন না। এটা আপনার আত্মবিশ্বাস ক্ষতিগ্রস্ত করবে।

আপনি যতো সুযোগ্য প্রার্থীই হোন না কেন, চাকরির পরীক্ষায় যেতে হলে আপনাকে প্রস্তুতি নিতেই হবে। এটা একটা যুদ্ধক্ষেত্রের মত। এখানে প্রথমেই নিজের সম্পর্কে খুব ভালো ধারণা দিতে হবে। ভুল করলে দ্বিতীয় সুযোগ আর পাওয়া যাবে না।

আরও জানুন » পেশা পরিবর্তন করবেন কেন »

Comments

comments