শিশুর ডায়রিয়া ও করণীয়

0
670
শিশুর ডায়রিয়া
Print Friendly, PDF & Email

কমোডে যাওয়ার আগে মাঝে-মধ্যে দুর্ঘটনা ঘটা এক  কথা, কিন্তু আপনার শিশুর ডায়রিয়া হলে এ রকম দুর্ঘটনা ভয়ানক বিপর্যয়ের মত দেখা দেয় । বারবার অঘটিত অথবা পানির মত পায়খানা হওয়া খুব বিশ্রী ব্যাপার –তা ছাড়া এটা বিপজ্জনকও ।

 ডায়রিয়া  শরীর থেকে তরলের  পরিমাণ কমিয়ে দেয় । আর যদি তরল প্রতিস্থাপন করা না হয়, তা হলে শরীর তার নিজস্ব ভান্ডার থেকে তরল টেনে নেয় ।

এ ঘটনা ঘটলে শিশু দ্রুত পানিশূন্যতার ঝুঁকির মধ্যে চলে যায় । খাদ্যজনিত কারণে যেমন বেশি মাত্রায় ফলের রস কিংবা আঁশ গ্রহণের ফলে ডায়রিয়া হতে পারে, শিশুকে নতুন কোন খাবার খাওয়ালেও ডায়রিয়া হতে পারে । তবে সচারাচর ডায়রিয়া হয় ভাইরাসজনিত কারণে । ডায়রিয়া ভাইরাসের দ্বারা হোক বা না হোক , বেশির ভাগ ক্ষেত্রে এটা সাধারণত তীব্র  ভাবে দেখা দেয় । যদিও এটা দীর্ঘদিন থাকে না, তবু তীব্র ডায়রিয়া সবচেয়ে বেশি বিপজ্জনক, কারণ এর সাথে জ্বর থাকে , যা পানিশূন্যতার সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয় । আবার কিছু শিশুর রোগের রহস্যময়  প্রকোপ দেখে দেয়, যেটাকে বলে দীর্ঘস্থায়ী ডায়রিয়া । এটার সুনির্দিষ্ট কারণ নেই এবং সাধারণত এটা নির্দোষ প্রকৃতির । তবে যেকোনো ধরণের ডারিয়ার আক্রমণে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে ।

ডায়রিয়া সাধারণত ঘরে বসেই চিকিৎসা করা সম্ভব । তবে যেহেতু ডায়রিয়া এমন সব পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ঘটাতে পারে, যা জীবনের জন্য হুমকিস্বরূপ কিংবা অনেক মারাত্মক রোগের উপসর্গ হিসাবেও ডায়রিয়া দেখা দিতে পারে । তাই প্রথমেই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে । এখানে বেশ কিছু ডায়রিয়ার প্রতিকার ব্যবস্থার উল্লেখ করা হলো, যা অনুসরণ করলে শিশু দ্রুত আরোগ্য লাভ করবে ।

 

প্রচুর পরিমাণ তরল পান করান

 

ডায়রিয়া হলে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হলো – রোগীকে প্রচুর তরল পান করানো  । শিশুর ডায়রিয়া হলে তাকে প্রচুর পরিমাণ  তরল পান করাবেন । প্রচুর তরল পান করানোর একটাই উদ্দেশ্য- তা হলো, পানিশূন্যতা রোধ করা । শিশুকে যেকোনো  তরলই পান করানো যাবে । যেমন ভাতের মাড়, চালের গুঁড়োর স্যালাইন, ডাবের পানি, কুচানো বরফ ইত্যাদি । এমনকী শিশুর যদি ঠাণ্ডা ভেজা পরিষ্কার কাপড়ও মুখে নিয়ে চোষে তা হলেও উপশম হবে ।

শিশুকে চা, আদা মেশানো পানীয়, লবণ- গুড়ের শরবত খাওয়াতে পারেন । এ ছাড়া শিশুকে ওআরএস বা খাবার স্যালাইন খাওয়াতে হবে, এটা ওষুধের দোকানে কিনতে পাবেন ।

২০ পাউন্ড পর্যন্ত ওজনের শিশুর ডায়রিয়া হলে এবং জ্বর বা বমি থাকলে তার পানিশূন্যতা প্রতিরোধ করার জন্য তাকে প্রতি পাউন্ডের জন্য দৈনিক প্রায় তিন আউন্স তরল খাওয়াতে হবে । শিশুর বয়স ২০ পাউন্ডের বেশি হলে প্রতি পাউন্ডের জন্য দৈনিক এক থেকে দেড় আউন্স তরল খাওয়াতে হবে ।

 

শিশুর ক্ষুধা পেলে পুনরায় খাওয়ান

শিশু আবার খেতে চাইলে কিছু কিছু চিকিৎসক শিশুকে তথাকথিত BRAT খাবার খাওয়ানোর পরামর্শ দেন । BRAT দ্বারা বোঝানো হয় Banana (কলা), Rice (চাউল), Apple sauce (আপেল সস), এবং TOAST(টোস্ট) । এসব খাবার পায়খানাকে একত্রবন্ধন করে শক্ত করে তলে । তবে নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, BRAT খাবার ভাইরাসজনিত সংক্রমণকে দীর্ঘায়িত করতে পারে, যা ডায়রিয়া ঘটায় । সীমাবদ্ধ BRAT খাবারের পরিবর্তে, বেশির ভাগ বিশেষজ্ঞ ডায়রিয়া আক্রান্ত শিশুকে দুধ বাদে সব ধরনের খাবার দেওয়ার সুপারিশ করছেন –শিশু যে খাবারই খেতে চায় তাকে সে খাবার খেতে দিতে হবে ।

দুধ বা দুধ জাতীয় খাবার দেবেন না

অসুস্থতায় সময় প্রচুর পরিমাণ দুধ হজম করতে শিশুর সমস্যা হয় । এর কারণ হলো- অসুস্থতা সচারাচর অন্ত্রের উপরিতলকে ক্ষতিগ্রস্থ করে । যার ফলে স্বাভাবিক ল্যাকটেজ উৎপাদন ব্যাহত হয় । ল্যাকটেজ হলো একটি এনজাইম, যা দুধে বিদ্যমান ল্যাকটেজকে হজমে সাহায্য করে ।

যদি আপনার শিশু বিধিসম্মত গরুর দুধ খেতে থাকে, সেটা পরিবর্তন করে তাকে সয়া অথবা হাইপো অ্যালার্জেনিক র্ফমুলা খাওয়ান, যার মধ্যে ল্যাকটোজ নেই । বেশি ভাগ ফার্মেসিতে আপনি এসব  দুধবিহীন  ফর্মুলা কিনতে পাবেন ।

আর যদি আপনার শিশু বুকের দুধ খায়, তা হলে তার শক্তি ধরে রাখার জন্য তাকে যতটা পারেন বুকের দুধ খাওয়া চালিয়ে যাবেন ।

সতর্কতার সাথে বেবি ফর্মুলার লেবেল পড়ুন

যদি আপনি ভুলভাবে বেবি ফর্মুলা মিশ্রণ করে থাকেন, তা হলে আপনার এই অসাবধানতার ফলে শিশুর ডায়রিয়া হবে । আপনি যে বেবি ফর্মুলা কিনবেন, দুধ তৈরি করার আগে ভাল করে লেবেল পড়ে নেবেন, যাতে আপনি নির্ভুলভাবে মিশ্রণ তৈরি করতে পারেন । লেবেল পড়ে নিশ্চিত হয়ে নেবেন-আপনার পরিমাপ যেন সঠিক হয় ।

ফলের রস কমিয়ে দিন

শিশুদের ক্ষেত্রে, বিশেষ করে অতিরিক্ত পরিমাণ ফলের রস ডায়রিয়া ঘটাতে পারে কিংবা ডায়রিয়াকে আরও খারাপ করে তুলতে পারে । কিছু বিশেষজ্ঞ দিনে মাত্র দুই থেকে তিন বার সামান্য পরিমাণ খাওয়ানোর সুপারিশ করেন । তবে এই সামান্য পরিমাণটা যেন ভিটামিন সি-সমৃদ্ধ ফলের রসের (যেমন কমলার রস)এক-তৃতীয়াংশ কাপের বেশি না হয় । যদি আপনার শিশু আরও বেশি চায়, তা হলে তাতে পানি মিশিয়ে পাতলা করে দেবেন ।

চর্বিযুক্ত খাবার দিন

কিছু প্রমাণ রয়েছে, স্বল্পচর্বির খাবার শিশুর নির্দিষ্ট ধরনের দীর্ঘস্থায়ী ডায়রিয়া বাড়াতে পারে । বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন সব্জীতে মার্জারিন মিশিয়ে শিশুকে খাওয়াতে । এ ছাড়া পরিবেশিত মাছ, মুরগির মাংস প্রভৃতিতে মাঝারি ধরনের চর্বি থাকে । শিশুকে সে সব খাওয়ানো যেতে পারে । শিশুর বয়স দুই বছরের কম হলে তাকে স্বল্প চর্বির দুধের পরিবর্তে সম্পুর্ণ দুধ দিতে হবে ।

কৃত্রিম মিষ্টি পরিহার করুন

খাবারে কৃত্রিম মিষ্টি যেমন সরবিটল এবং স্যাকারিন মেশালে তা ডায়রিয়া বাড়াতে পারে । এসব দ্রব্য মাশানো খাবার পরিহার করবেন ।

শিশুর নিম্নদেশ পযবেক্ষণ করুন

ডায়রিয়া আক্রান্ত শিশুর পায়ু বা মলদ্বারে যন্তণাদায়ক চুলকানি হতে পারে । এটার কারণ হলো –আমাদের খাবারকে হজম করতে সাহায্য করে যেসব এনজাইম, সেগুলো পায়খানাতে উপস্থিত থাকে, আর ওই সব এনজাইম পায়ু এলাকায় অস্বস্তি সৃষ্টি করে । আপানার শিসশুর ডায়রিয়া হলে পায়খানা খুব দ্রুত ও বারবার হতে থাকে । তখন পায়খনার সাথে বেরিয়ে আসা এনজাইমগুলো ত্বককেও ‘হজম’ করতে শুরু করে ।

 

যদি শিশুর পায়ুপথে চুলকানি বা জ্বালাপোড়ার সৃষ্টি হয়, তা হলে আপনার শিশুর পশ্চাৎদেশ ভাল করে সাবান পানি দিয়ে ধুয়ে দেবেন, এতে এনজাইম দূর হবে । কিন্তু শিশুর পশ্চাৎদেশ শুধু টয়লেট পেপার বা অন্যকিছু দিয়ে মুছবেন না, তার পশ্চাৎদেশ ভাল ভাবে ধুতে হবে, এর পর ভাল করে শুকাতে হবে । চিকিৎসক অনুমতি না দেয়া পর্যন্ত ওষুধ খাওয়াবেন না । শিশুদের জন্য ডায়রিয়া প্রতিরোধী অনেক ওষুধই পাওয়া যায়, কিন্তু তার মানে এই নয় যে, চিকিৎসক এসব ওষূধ খাওয়ানোর অনুমতি দেবেন । সত্যিকার অর্থে, চিকিৎসক বা শিশু বিশেষজ্ঞই আপনাকে বলে দেবেন কখন শিশুকে ওষুধ খাওয়াতে হবে কিংবা আদৌ খাওয়াতে হবে কি না । শিশুর যদি অন্য কোনো জটিলতা না থাকে তা হলে এসব ওষুধ মাত্র একদিন ব্যবহার করা যেতে পারে, এতে ডায়রিয়া কমে যাবে ও শিশু স্বস্তিবোধ করবে । আপনি যেকোনো অ্যান্টি ডায়রিয়া ওষূধ ব্যবহারের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন ।

রঙ দেখে ভয় পাবেন না

পাখানার রঙ বিভিন্ন ধরনের হতে পারে। শিশুর অদ্ভুত রঙের পায়খানা দেখে মা–বাবা ভয় পেতে পারেন । কিন্তু সাধারণত এতে ভয় পাওয়া কোনো কারণ নেই । যেমন, লাল রঙের পায়খানা হতে পারে । শিশুর অতিরিক্ত কোঁত দেওয়া জন্য খুব ছোট রক্তনালী ফেটে যাওয়ার কারণে অথবা শিশুকে অতিরিক্ত কুল এইড খাওয়ালে । শিশুকে যষ্টিমধু, আয়রন ওষুধ, স্পিনিজ এবং পেপটো বিসমল খাওয়ালে শিশুর পায়খানা কালো হতে পারে । নাশপাতি খাওয়ার কারণ পায়খানা হতে পারে বালিময় বা কাঁকরের মত । এমনকী কলা শিশুর পায়খানার রঙ অস্বাভাবিক করে তুলতে পারে ।

তবে শিশুর লাল পায়খানা কিংবা পায়খানার লাল লাল দাগ অভ্যান্তরীণ রক্তক্ষরণের চিহ্নও হতে পারে । এটা একটা মারাত্মক অবস্থা ।যদি এ ধরণের রঙের তাৎক্ষণিক ব্যাখ্যা না থাকে, তা হলে অবশ্যই চিকিৎসককে দেখাতে হবে ।

কখন চিকিৎসকের শরণাপন্ন হবেন

ডায়রিয়ার প্রথম চিহ্ন দেখা দেয়ার সাথে সাথেই চিকিৎসক ডাকতে হবে । ডায়রিয়র অনেক রোগের উৎসর্গ হিসেবে দেখা দিতে পারে, যা এক মাত্র চিকিৎসকই নিরূপণ করতে পারেন । খুব ছোট শিশুর ক্ষেত্রে পানিশূন্যতার মারাত্মক ভয় থাকে । শিশুর নীচের উপসর্গগুলো থাকলে মা-বাবাকে অবশ্যই সর্তক হতে হবে এবং যত তাড়াতাড়ি সম্ভব চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবেঃ

  • একসময় যদি শিশুর প্রস্রাব না হয় বা তার ডায়পার না ভেজে ।
  • শিশু কাঁদতে থাকলে তার চোখে যদি পানি না আসে ।
  • যদি শিশুর ত্বকের স্থিতিস্থাপকতা নষ্ট হয়, অর্থাৎ শিশুর শরীরের ত্বক ধরে টেনে ছেড়ে দিলে যদি দ্রুত আগের অবস্থায় ফিরে না যায় ।
  • খুব ছোট শিশুর ক্ষেত্রে (একবছর বয়সের কম) যদি তার মাথার তালুর নরম অংশ ঢালু হয়ে যায় ।
  • যদি শিশুর অস্বাভাবিক দীর্ঘ ঘুম দেয় কিংবা নিস্তেজ হয়ে পড়ে থাকে ।
  • যদি শিশুর ডায়রিয়ার সাথে বমি থাকে ।
  • আর আপনাকে আবারও চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে, যদি আপনার শিশুর ডায়রিয়া তিন সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হয়, তার পায়খানার সাথে রক্ত পড়ে অথবা তার মারাত্মক পেট ব্যথা বা বমি থাকে । যেসব শিশুর বয়স প্রায় ছয় মাস থেকে তিন বছরের মধ্যে, তাদের ডায়রিয়া হলে ইনটাসাসেপশন হওয়ার ঝুঁকি থাকে । ইনটাসাসেপশন হলো এমন একটা অবস্থা-যে ক্ষেত্রে অন্ত্রের একটা অংশ তার নীচের অংশের ভেতরে ঢুকে যায় । যদি আপনার শিশুর হঠাত পেটে তীব্র ব্যথা করে এবং কালো পায়খানা হয়, যা দেখতে কিশমিশ জেলির মত –তা হলে তার জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন । সে ক্ষেত্রে দেরি না করে আপনার চিকিৎসককে ডাকুন অথবা শিশুকে হাসপাতালে জরুরি বিভাগে নিয়ে যান ।

আরও জানুন » মস্তিষ্ক সম্পর্কে অজানা ১০ টি বিষয় (পর্ব-১) »

লেখাটি আপনার কেমন লাগলো তা আমাদেরকে অবশ্যই জানাবেন। আপনার মতামত আমাদের কাছে খুবই মূল্যবান। আপনি যদি আপনার নিজের লেখা কবিতা, গল্প, প্রবন্ধ বা অন্য যেকোনো বিষয় বাঙালিয়ানা Magazine এ প্রকাশ করতে চান, তবে আমরা অত্যন্ত আনন্দের সাথে আপনার লেখা প্রকাশে সচেষ্ট হব । আগ্রহীদের এই ইমেইল ঠিকানায় bangalianamagazine@gmail.com যোগাযোগের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হল । Copy করা কোন লেখা পাঠাবেন না। দয়া করে আপনাকে নিশ্চিত করতে হবে যে, আপনার পাঠানো লেখাটি অনলাইনে আগে কোথাও প্রকাশিত হয়নি। যদি অনলাইনে আগে অন্য কোথাও আপনার লেখাটি প্রকাশিত হয়ে থাকে, তাহলে আমরা সেটা প্রকাশ করতে পারব না। আমরা অরাজনৈতিক, অসাম্প্রদায়িক এবং নিরপেক্ষ।
বিঃ দ্রঃ লেখাটি কোনরকম পরিমার্জন ব্যতিরেকে সম্পুর্ণ লেখকের ভাষায় প্রকাশিত হল। লেখকের মতামত, চরিত্র এবং শব্দ-চয়ন সম্পুর্ণই লেখকের নিজস্ব । বাঙালিয়ানা Magazine প্রকাশিত কোন লেখা, ছবি, মন্তব্যের দায়দায়িত্ব বাঙালিয়ানা Magazine কর্তৃপক্ষ বহন করবে না।

লেখকঃ আবাসিক সার্জন, ঢাকা ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ।
চেম্বারঃ পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার লিঃ, ২ ইংলিশ রোড, ঢাকা । ল্যাব সাইন্স ডায়াগনস্টিক লিঃ, ১৫৩/১ গ্রিন রোড (পান্থপথের কাছে), ঢাকা । মোবাইলঃ ০১৫-৫২৩৪-৫৭৫৪

Comments

comments