আপনার অজানা কাজুবাদামের ১১ টি তথ্য

0
4195
আপনার অজানা কাজুবাদামের ১১ টি তথ্য
কাজুবাদাম
Print Friendly, PDF & Email

প্রচুর পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ কাজুবাদাম। আমাদের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে কাজু বাদামের গুনের তুলনা হয়না। কাজুবাদাম অনেক ঔষধি গুণাগুণের জন্য পরিচিত। এতে প্রচুর আঁশ ও পুষ্টিকর উপাদান রয়েছে। হৃৎপিণ্ডের জন্য বেশ উপকারি। এটি চিনি ও কার্বহাইড্রেট মুক্ত। সবচেয়ে ভালো বিষয় হলো এর স্বাদ অসাধারণ। তাই শরীরকে ফিট ও সুস্থ রাখতে কাজু বাদাম খাওয়ার কোন বিকল্প হয়না।

গবেষণায় জানা গেছে, যারা নিয়মিত বাদাম খান, তারা অন্যদের তুলনায় বেশি দিন বাঁচে। এ ছাড়াও তাদের মধ্যে ক্যানসার ও হৃদরোগের হার কম থাকে। জেনে নিন কাজুবাদামের নানা উপকারিতা ও ব্যবহার-

১. সংক্রমণকারী রোগ প্রতিরোধ বৃদ্ধি

সবুজ কাজুবাদাম সুস্বাস্থ্যের জন্য শরীরে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমূহ জমা করে এবং শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ বের করে দেয়। সবুজ কাজুবাদাম শরীরে রোগ প্রতিরোধক কার্যক্রম বৃদ্ধি করে এবং সংক্রমণকারী রোগ প্রতিরোধ করে।

২. কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে

প্রতিদিন বাদাম খাওয়ার ফলে আপনার শরীরের বাড়তি ও ক্ষতিকর কোলেস্টেরল কমিয়ে ফেলে। এটি আমাদের শরীরের এইচ,ডি,এল বাড়িয়ে তোলে এবং এল,ডি,এল নিয়ন্ত্রণে রাখে। আর এ কারনেই শরীর ফিট রাখতে প্রতিদিন সামান্য পরিমাণ হলেও কাজু বাদাম খাওয়া উত্তম।

 ৩. ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে

কাজু বাদাম রক্তে সুগারের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে ও ডায়াবেটিস সংক্রান্ত স্বাস্থ্য ঝুঁকি কমিয়ে তোলে। কাজু বাদামে উপস্থিত উপকারী ফ্যাটস, ভিটামিন, মিনারেলস শরীরে গ্লুকোজের ভারসাম্য রক্ষা করে। তাই ব্লাড সুগার লেভেল নিয়ন্ত্রনে রাখতে প্রতিদিন খাবার খাওয়ার আগে প্রায় আধ ছটাক পরিমাণ কাজু বাদাম খাওয়া বাঞ্ছনীয়।

৪. মস্তিষ্কের কার্যশক্তি বৃদ্ধি

কাজু বাদাম আপনার মস্তিষ্কের জন্য একটি অন্যতম সেরা খাদ্য। ভিটামিন ই সমৃদ্ধ কাজু বাদাম আপনার মস্তিষ্কের কার্যক্রম সঠিক রাখতে ও স্মরণশক্তি বাড়াতে খুব সাহায্য করে। এছাড়া বাদামের জিঙ্ক উপাদান ও মিনারেল মস্তিষ্কের সেল ড্যামেজ থেকে রক্ষা করে। তাই নিজের স্মরণশক্তি বাড়াতে ও মস্তিষ্ক সক্রিয় রাখতে প্রতিদিন একমুঠো কাজু বাদাম গ্রহণ করুন।

৫. ওজন কমাতে

নিয়মিত চার-পাঁচটি কাজু বাদাম খেলে এলডিএল কোলেস্টেরল বা ব্যাড কোলেস্টেরলের মাত্রা কমে যায়। ফলে হৃদরোগের আশঙ্কা থাকে না। ফাইবার আর প্রোটিন সমৃদ্ধ কাজু বাদাম অত্যন্ত যত্ন সহকারে আপনার শরীরের বাড়তি ওজনটুকু ঝরিয়ে দেবে।

৬. শক্তিশালী হাড় গঠনে

কাজু বাদামের ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস উপাদান আপনার শরীরের হাড়ের সুষ্ঠু গঠন নিশ্চিত করে। মজবুত আর শক্তিশালী হাড় গঠনে কাজু বাদামের সাথে অন্য কিছুর তুলনা হয়না। এছাড়া উষ্ণ বাদাম তেলের মালিশ আপনার বাচ্চার দেহের হাড় মজবুত করতে অগ্রণী ভূমিকা রাখে। আমরা প্রায়ই বাদাম আর কাজু বাদামকে এক করে ফেলি। কিন্তু মনে রাখতে হবে বাদাম আর কাজু বাদাম এক নয় আর এদের পুষ্টিমান আর গুনাবলিও এক নয়।

৭. শ্বাসকষ্ট প্রতিরোধে

সব বাদামের মধ্যে আলমন্ড বেশি পরিমাণে আছে। যা শ্বাসকষ্ট, কোষ্ঠকাঠিন্য ও ত্বকের নানা রকমের সমস্যা নিয়ন্ত্রণ করে। উজ্জ্বল, প্রাণবন্ত, উদ্বীপ্ত ত্বকের পাশাপাশি ত্বকের বলিরেখা দূর করতে কাজু বাদামের জুড়ি নেই।

৮. হৃদরোগে প্রতিরোধে

হৃৎপিণ্ডের জন্য বেশ উপকারি। কাজু বাদাম খেলে এলডিএল কোলেস্টেরল বা ব্যাড কোলেস্টেরলের মাত্রা কমে যায়। ফলে হৃদরোগের আশঙ্কা অনেক গুণ কমে যায়।

৯. চুলের গোঁড়া মজবুত করতে

সবুজ কাজু বাদাম এর ভিটামিন এবং খনিজ পদার্থ চুলের গোঁড়ায় পুষ্টি যোগায়। ফলে চুল পড়া কমে গিয়ে চুলের গোরা হয় সুস্থ ও মজবুত। এবং চুল হয় আকর্ষনীয়।

১০. ত্বকের যত্নে

ত্বকের জন্য যেসব খাদ্য সবচেয়ে ভালো সেসব হল-উচ্চ মাত্রার অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিড এবং ভিটামিন সি এবং ই সৌন্দর্যকে ধরে রাখবে। কাজু বাদাম হলো ভারী ময়েশ্চারাইজার। ভারী হলেও এটি মুখের ব্ল্যাকহেডস, ব্রণ দূর করতে সাহায্য করে। বিশেষ করে তৈলাক্ত ত্বক এ যারা ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে পারে না, তাদের জন্য অনেক উপকারী।

১১. চোখের নীচে কালো দাগ

কাজু বাদামের তেল চোখের নীচের কালো দাগ দূর করে। তাছাড়া কাজু বাদাম বেটে, ওই পেস্ট রাতে ঘুমানোর সময় চোখে দিয়ে ঘুমালে, চোখের নীচের কালো দাগ চলে যায়। চোখের বলিরেখা, চোখ ফুলা ভাবও কমে যায়। কাজু বাদাম চোখের নীচের দাগ দূর করতে যেকোনো ভালো আই ক্রিম এর থেকেও ভালো।

আরও জানুন » সুমিষ্ট গন্ধ ও পুষ্টিগুণে পাকা আনারসের ১৪টি গুণ »

Comments

comments