আমি মুসলীম কোন জঙ্গি নই

0
353
আমি মুসলীম কোন জঙ্গি নই
আমি মুসলীম কোন জঙ্গি নই
Print Friendly, PDF & Email

বাচ্চা মেয়েটিকে স্কুল থেকে তুলেই ছোট রাস্তা থেকে যখন বড় রাস্তায় উঠার জন্য মা অপেক্ষা করছে তখন ট্র্যাফিক সিগন্যাল লাল থাকায় অনেক গাড়ী এসে দাঁড়িয়েছিল। সিগন্যাল সবুজ হলেই গাড়ীগুলি ধীর গতিতে চলার শুরু করলো। হঠাৎ করে মা দেখতে পেলেন একটি ব্রিটিশ লোক তাকে হাত দিয়ে যাবার জন্য ইশারা করলো। মা তাকে হাত দিয়ে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে গাড়ি টান দিলেই লোকটি খুব জোরে তার গাড়ীও টান দিলো। সৌভাগ্যক্রমে কিছু বোঝার আগেই মায়ের হাত-পা নিজের অজান্তেই কঠিন ভাবে ব্রেক করে গাড়ীকে দাড় করিয়ে ফেললো। এতো জোরে মা ব্রেক করলো যে গাড়ীর চাকা রাস্তার সাথে ঘষা খেয়ে তীব্র জোরে চিৎকার করে উঠলো এবং বাচ্চা মেয়েটাও সামনে ঝুকে গেল কিন্ত সিট বেল্ট জোরে আটকিয়ে দেওয়ার কারনে মেয়েটি ব্যথা পেলো না। মা এবং বাচ্চা দুইজনেই হতবাক হয়ে গেল? তারা সারা রাস্তায় চিন্তা করতে থাকলো ব্রিটিশ লোকটি কেন বা যাওয়ার জন্য হাত দেখালো আবার কেনই বা মত বদলে আবার জোরে গাড়ী টান দিলো। মা সঠিক সময় ব্রেকটা না করলে অনেক বড় একটা দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারতো।

হঠাৎ করে বাচ্চা মেয়েটি মাকে বললো, ও আমি বুঝেছি মা, ও কেন এই রকম করেছে। আজ ৭ই জুলাই, ২০০৭ সালে এই দিনে মুসলীম জঙ্গিরা লন্ডনে একসাথে টিউব লাইনে এবং ডবলডেকার বাসে বোমা হামলা করেছিল। অনেক নিরীহ মানুষ মারা গিয়েছিল এবং যারা এখনও বেঁচে আছে তারা পুঙ্গত্বকে বরন করে বেঁচে আছে। মা জানতে চাইলো, তুমি কিভাবে জানো? আজ সেই দিন এবং ওটার সাথে এটার সম্পর্ক কি? মেয়েটি বললো, আজ সকাল ১১:৩০ মিনিটে সব স্কুল এবং অফিস থেকে শুরু করে সবাই ওই সব নিহত এবং আহত মানুষদেরজন্য ১ মিনিট নিরবতা পালন করেছিল। সেই সাথে আমরাও তাদের জন্য প্রার্থনা করেছিলাম। তোমার মাথায় ওড়না দেখেই লোকটা তোমাকে মুসলীম মনে করেছ তাই ও তোমার উপর রাগ করেই খুব ঠান্ডা মাথায় কাজটা করেছে। মেয়েটি বললো মা, সবাই মুসলীমদের প্রথমেই জঙ্গি হিসাবেই ধরে নেয়। কারণ তারাতো জানে না জঙ্গিদের সাথে ইসলামের কোন সম্পর্ক নেই।

মা চুপ করে ১০ বছর বয়সী মেয়ের কথা শুনছিলেন। মেয়েটি জানতে চাইলো, এই জঙ্গিরাও তো মুসলীম তাহলে তারা কিভাবে নিরিহ মানুষদের হত্যা করে? মা, কোন উওর দিতে পারলেন না। তখন মায়ের মাথায় চিন্তার ঝড় শুরু হয়েছে বাবা নামক মানুষটা আজ লন্ডনে গিয়েছে। টিউবে করে তাকে অফিস যেতে হবে। মা ছেলের স্কুলে এসে পৌছালে, ছেলে এবং তার ব্রিটিশ বন্ধু গাড়ীতে উঠে বসতেই মেয়েটি ভাইকে এই ঘটনাটা বললো। ১৩ বছরের ছেলে সাথে সাথে উওর দিলো, আমাদের দুর্ভাগ্য কারণ আমরা যারা মুসলীম যারা আল্লাহকে বিশ্বাস করি এবং শুধু মাত্র আল্লাহ পাকের কিতাবে বিশ্বাসী তাদের কারো মাথায় লেখা থাকে না যে আমরা নিজেরাও জঙ্গিদের ভয় পাই! ব্রিটিশ ছেলেটা ২ বছর ধরে বাংলাদেশী এই মুসলীম পরিবারটির সাথে যাতায়াত করার কারণে সেও এখন কিছু কিছু বাংলা শব্দ বুঝতে পারে। তাই জঙ্গি শব্দটা শুনেই সে বুঝে গেলে।

ব্রিটিশ ছেলেটি বললো, ইসলাম আর জঙ্গি দুইটা ভিন্ন জিনিস কিন্ত সাধারণ মানুষরা এটা খুব কমই জানে। মা তখন চিন্তা করছেন, এই মুসলীমরা কেমন মুসলীম, এরা কি আল্লাহ পাকের একটা মাত্র আসমানী কিতাব পড়েনি? এরা কি আমাদের প্রিয় রাসুলের জীবনী পড়েনি। রাসুলকে যখন মক্কা থেকে মক্কাবাসীরা বিতাড়িত করেছিল তখনতো তিনি মক্কাবাসীর দিকে অস্ত্র তোলেননি? এমনকি যুদ্ধের মাঠে যখন কোন শত্রু নিরস্ত্র থাকতো তখন তিনি সেই শত্রুকে শুধু বন্দি করতেন কিন্ত কখনও নিরস্ত্র কোন শত্রুকে তিনি হত্যা করেননি। এমনকি তাঁকে নিয়ে কেউ কোন কটুক্তি করলেও তিনি তার কোন জবাব দিতেন না।

মা চিন্তা করছেন সেই ছোট বেলায় পাঠ্যপুস্তকে পড়েছিলেন হযরত মুহাম্মদ (স:) যে রাস্তা দিয়ে যেতেন এক বুড়ি তার রাস্তায় প্রতিদিন কাঁটা বিছিয়ে রাখতেন। একদিন রাসুল রাস্তায় কাঁটা না পেয়ে খুব চিন্তিত হয়ে পড়লেন এবং বুড়ির খোঁজ নিতে তার বাড়ীতে গেলেন। তখন বুড়িকে অসুস্থ দেখে রাসুল নিজে তার সেবা করলেন। বুড়ি মা এতোই অবাক হয়ে গিয়েছিলেন যে পরে তিনি ইসলাম গ্রহন করেছিলেন। তাহলে আজ যুবক-যুবতীরা ইসলামের নামে কোন জিহাদের কথা বলে নি্রীহ মানুষদের কাপুরুষের মত পিছন থেকে নির্বিচারে হত্যা করছে? আত্মহত্যা যেখানে মহা পাপ হিসাবে ইসলামে গন্য করা হয় সেখানে এই মুসলীম ভাই-বোনেরা কিভাবে ইসলামের নাম করে সুইসাইড বোমা পড়ে নিরীহ মানুষদেরকে নিয়ে আত্মহত্যা করছে? তার নিজের জীবন নেওয়ার অধিকারই বা কে তাকে দিয়েছে? তাহলে সে কি পবিত্র কোরআন সঠিক ভাবে পড়েনি। যেখানে আল্লাহ স্বয়ং নিজেই বলেছেন, ঈমান দেওয়ার মালিক আমি। রাসুল (হে মুহাম্মদ) তুমি আমার প্রেরীত পুরুষ, তোমার একমাত্র কাজ হলো, আমার বাণী মানুষের কাছে পৌছে দেওয়া। ইসলামকে রক্ষা করার দায়িত্ব শুধুই আমার। হে রাসুল, তুমি যা জানো, আমি তা জানি। কিন্ত তুমি যা জানো না, আমি তাও জানি। তাইতো আমি কিছু লোককে ঈমান দিয়েছি। এবং কিছু লোককে ঈমান দেইনি। তুমি যতই চেষ্টা করো না কেন, তারা ঈমান আনবে না এবং তার বড় প্রমানই ছিল আমাদের প্রিয় রাসুলের ছোট চাচা, যিনি তার মৃত্যুর সময়ও ঈমান আনেন নাই। বরং সব সময় আমাদের রাসুলকে কটুক্তি করে বলতেন, “তুমিতো অনেক বড় জাদুকর হে মুহাম্মদ” !

আমাদের প্রিয় রাসুলতো কখনও তাকে খারাপ কোন জবাব দেন নাই। এমনকি কোন সাহাবীও তো রাসুলের চাচাকে হত্যা করার কোন চেষ্টা করেন নাই। তাহলে আজকের এই যুব সমাজ কথায় কথায় কেন অস্ত্র তুলে নেয় হাতে ? কিসের এতো ভয় এই চরমপন্থি মুসলীমদের? ইসলামকে কি এতোই নাজুক একটা ধর্ম বলে তারা মনে করেন? তাই কোন অমুসলীম আমাদের রাসুলের নামে কোন কটুক্তি করলে অথবা তাকে নিয়ে কার্টুন বানালেই কি আমাদের রাসুল ছোট হয়ে যাবেন? কেউ আল্লাহকে অবিশ্বাস করলেই কি আল্লাহর অস্বিত্ব নিয়ে প্রশ্ন চলে আসবে?

আবার এই পশ্চিমা বিশ্বের কোন লেখক যখন আমাদের রাসুলকে নিয়ে এবং সেই সাথে ইসলাম নিয়ে ভাল কিছু লেখেন তখন কেন এই চরমপন্থি মুসলীমরা তাদের পুরষ্কার দেন না ? যেমনমাইকেল এইচ হার্টের লেখা The 100, A Ranking of the most influencial persons in History (New York 1978) বইতে হযরত মুহম্মদ (সঃ) প্রথম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব বলে আখ্যা দিয়েছিলেন তখন কেন এই চরমপন্থিরা তাকে সন্মানে ভূষিত করেন নাই। কেন এই বই এবং এই লেখকের নাম সব মুসলীম ভাই-বোনরা জানেন না। কেন শুধুমাত্র অবিশ্বাসী সলেমান রুশদির খারাপ কথাটাই সব মুসলীমরা জানে? ফ্রান্সের কার্টুনিষ্টের অবাস্তব কার্টুন সম্পর্কে সবাই জানে? তাহলে এটা কি কোন চক্রান্ত, মুসলীম চরমপন্থীদের তৈরী করার এবং সেই সাথে ইসলামকে সারা বিশ্বের মানুষের কাছে জঙ্গি ধর্ম হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করা?

যুগে যুগে যত নবী রাসুল এসেছিলেন তাদের উপর নানা রকম নির্যাতন করা হয়েছিল কিন্ত কোরআনের কোথাও লেখা নেই আল্লাহ পাক সেই নবী- রাসুলদের কটুক্তির উত্তরে তাদেরকে ওই সব অবিশ্বাসীদের নি্রস্ত্র অবস্থায় পেছন থেকে হত্যা করতে বলেছিলেন? বরং আল্লাহ পাক কোরআনের সব জায়গায় বলেছেন, তোমরা ধ্বংসকারীদের দলভুক্ত হইও না। তোমরা পৃথিবীতে অরাজকতা সৃষ্টি করো না।

ইসলামই একমাত্র ধর্ম যেখানে গনতন্ত্রের কথা বলা হয়েছে। ইসলামে কোথাও কাউকে জোর করে কোন কিছু চাপিয়ে দেওয়ার কথা আল্লাহ পাক বলেননি। এই কারনেই আল্লাহ পাক বলেছেন, তুমি কাউকে হত্যা করো না। তুমি জানো না কাল হয়তো আমি তাকে ঈমান দিবো। তুমি তাকে হত্যা করলে সে আমার এই রহমত থেকে বঞ্চিত হবে। এটা পবিত্র রমজান মাস, এই মাসে আল্লাহ পাক আমাদের জন্য তার বাণী আমাদের প্রিয় রাসুলের কাছে পাঠিয়েছিলেন। যেখানে আল্লাহ পাক বলেছেন পবিত্র কোরআন শরীফ তোমাদের জন্য আমি পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান হিসাবে পাঠালাম। তোমরা পবিত্র কোরআন আস্তে আস্তে বুঝে তেলাওয়াত করো।

ধারণা করা হয় ২১ রোজা থেকে শুরু করে ৩০ রোজার মধ্যে কোন একটা বেজোর রাত্রিতে আল্লাহ পাক রাসুলের উপর এই পবিত্র গ্রন্থ নাজিল করেছিলেন। তাইতো রোজার শেষের দশদিন মুসলীম বিশ্ব আল্লাহর করুনা, রহমত এবং সে সাথে ঈমান পাওয়ার আশায় সারারাত ইবাদত করেন। আজ সারা বিশ্বের মুসলীমরা বড়ই অস্থির একটা সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তারা নিজেরাই এখন নিজেদের বড় শত্রুতে পরিণত হয়েছে। আল্লাহ পাক বার বার করে বলেছেন, ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করো না। যখন বাংলাদেশে ৭১ সালে পাকিস্তানী মুসলীমরা নির্বিচারে বাংলাদেশের মুসলীম ভাই-বোনদের হত্যা করেছিল তখন কেন কোন মুসলিম দেশ এগিয়ে আসে নাই আমাদের মুসলীম ভাই-বোনদের বাঁচাতে? তাহলে তখন কি আমরা মুসলীম ছিলাম না? আজ কেন বাংলাদেশী মুসলীম ভাই-বোনেরা প্রতিদিন আফগানস্তানে, সিরিয়াতে জিহাদের নাম করে চলে যাচ্ছে? তাহলে কি আফগানস্তান, সিরিয়ার মানুষরা শুধু মুসলীম? তাই তাদের ব্যথায় অন্য মুসলীম ভাই-বোনরা জিহাদের নাম করে পরিবারদের অগোচরে এই জঙ্গি বাহিনীতে নাম দিচ্ছে? নাকি এই দেশগুলি কোন মুসলীম দেশদ্বারা আক্রমন না হয়ে অমুসলীমদের দ্বারা আক্রান্ত হয়েছে এই জন্য? তাহলে কি দাঁড়ালো, মুসলীমরা চাইলে যেকোন নিরিহ মুসলীমকে হত্যা করতে পারবে। তাইতো কোন মুসলীম দেশ বাংলাদেশের মুসলীম ভাই-বোনদের বাঁচানোর জন্য সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়নি। তাহলে পাকিস্তানীদের সেই হত্যাযঞ্জ কি মুসলীম বিশ্বের কাছে শুধু মাত্র যুদ্ধ ছিল? যখন কোন অবিশ্বাসীরা অথবা অন্য ধর্মের লোকেরা মুসলীম দেশ আক্রমন করবে তখনই কি সেটা জিহাদ হবে?

আজ ব্রিটেনের সরকার এই ব্রিটিশ এশিয়ান মুসলীম ছেলে-মেয়েদের জিহাদ নামধারী চরম পন্থিদের কর্মকান্ড নিয়ে খুবই চিন্তিত হয়ে পড়েছে। এটা শুধু ব্রিটেনেই নয় সমস্ত বিশ্ব আজ এই জঙ্গিদের হাতে বন্দি হতে চলেছে। একদিকে মা-বাবাদের উৎকন্ঠা যেমন বেড়ে চলেছে, অন্যদিকে তাদের ছেলে-মেয়েদেরকে নিরাপত্তার সাথে দেশে ফিরিয়ে নিয়ে আসার জন্য সরকারের উপর পরিবারের চাপ বাড়ছে।

এরইমধ্যে হঠাৎ করে মায়ের খেয়াল হল ব্রিটিশ খ্রিষ্টান ছেলে এবং বাংলাদেশী ছেলেটি তখনও এই উগ্র পন্থিদের নিয়ে আলোচনা করছে। বাংলাদেশী ছেলেটি তার মাকে বললো, মা, আমি লজ্জা পাই যখন দেখি, আমাদের টিচাররা বলেন না, শুধু মাত্র যত অমুসলীম মারা গিয়েছে তাদের আত্মার শান্তিকে সন্মান জানিয়ে এক মিনিট প্রার্থনা করো। তারা সবার জন্য, মুসলীম, হিন্দু, খ্রিষ্টান, অবিশ্বাসী সব মানুষদেরকেই স্মরণ করতে এবং সেই সাথে সন্মান জানাতে বলেন। এটাকেই বলে মনুষ্যত্ব যেটা ইসলাম মুসলীমদের শিখিয়েছিল। আজ জঙ্গি, চরমপন্থির সংঙ্গা কেউ জানতে চাইলেই অমুসলীমরা কেন মুসলীমদের উদাহরণ দেয়? কিভাবে আমরা আবার প্রমান করবো, ইসলাম শান্তির ধর্ম? মা কোন ভাষা খুঁজে পেলেন না। খ্রিষ্টান ছেলেটি বললো, এটা থেকে বের হওয়ার জন্য সব মুসলীমদের এই জঙ্গিদের নিন্দা করা উচিৎ এবং সেই সাথে মুসলীমদের নিজেদের মধ্যে জনসচেতনতা বাড়ানো উচিৎ।

মায়ের মনে এই কথাটা খুব ভাল লাগলো। তাই তিনি চিন্তা করলেন এই পবিত্র রমজান মাসে সবাইকে জানাবেন কেন আল্লাহ পাক আমাদের এই পবিত্র মাস দিয়েছেন? আসুন আমরা সবাই বিশ্বের মুসলীমদের জন্য দোয়া করি আল্লাহ যেন আমাদেরকে সঠিক রাস্তায় চলার তৌফিক দেন। কেউ আমাদের রাসুল অথবা আল্লাহকে নিয়ে কটুক্তি করলে আমরা তার উপর ঝাপিয়ে না পড়ে তার জন্য আল্লাহর কাছে যেন ঈমান চাইতে পারি এবং ওই ব্যক্তির সাথে আমরা যেন আমাদের প্রিয় রাসুলের মত নরম সুরে কথা বলতে পারি। আল্লাহ পাক এদের সবাইকে যেন ঈমান দেন। এবং সেই সাথে আমরা যারা বাবা –মা আছি তারা যেন লক্ষ রাখি, আমাদের সন্তানরা কোথায় নামাজ পড়ছেন, কি কথা তারা ইসলামী আলোচনায় শুনছে?

পরিবার থেকে যেহেতু বাচ্চারা প্রাথমিক শিক্ষা পায় তাই এই সব বিষয়ে পরিবারকে আরও সচেতন হতে হবে। আমরা ঘরেই পুরো পরিবার একসাথে হয়ে মাঝে মাঝে বাচ্চাদের জন্য পবিত্র কোরআন শরীফের বিভিন্ন আয়াত নিয়ে আলোচনা করতে পারি। বাচ্চাদের জন্মদিনে আমরা রাসুলদের জীবনীমূলক বই উপহার দিতে পারি। তাহলে নতুন প্রজন্ম ছোট বেলা থেকেই ইসলামের সঠিক শিক্ষায় বড় হতে পারবে। তখন এই চরমপন্থি জঙ্গিবাদীরা যতই চেষ্টা করুক না কেন এই যুবসমাজকে হত্যারু বানাতে পারবে না। সেই সাথে মুসলীম সমাজ অমুসলীমদের কাছে প্রমান করতে পারবে, আমরা মুসলীম, কোন জঙ্গি নই। ইসলাম মানবতার ধর্ম, ইসলাম মানুষের কথা বলে, গনতন্ত্রের কথা বলে। সবাইকে জানাই মাহে রমজানের শুভেচ্ছা। এবং আসুন আজ আবার একসাথে সমস্ত মুসলীম উম্মাহর জন্য আল্লাহ পাকের কাছে সাহায্য চাই। একমাত্র আল্লাহ পাকই পারেন আমাদের সঠিক রাস্তা দেখাতে। তিনি মহান এবং দয়ালু। তিনি ছাড়া আমাদেরকে এই ধ্বংসের হাত থেকে আর কেউ রক্ষা করতে পারবেন না।

আরও জানুন » আমরা কি পাবো না সেরকম ডাক্তারদের? »

লেখালেখি বলতে যা বোঝায় সেটা কখনই আমি লিখি না। তবে ছোটবেলা থেকেই প্রচুর সাহিত্য, জীবন ধর্মী লেখার নিয়মিত পাঠিকা। বেগম, দেশ এমন অনেক পত্রিকার একনিষ্ঠ পাঠিকা। প্রবাস জীবনে চারিপাশের মানুষদের দেখে, নিজের জীবনের বিভিন্ন ঘটনা থেকে দেখে অনেক অনুভূতি হয়। সেগুলো মাঝে মাঝেই ইচ্চা হয় অন্যদের সাথে শেয়ার করি যেন তারা আমার এই অভিজ্ঞতা থেকে কিছু নিতে পারে। যদি আমার একটা অভিজ্ঞতা অন্য কারো কাজে লাগে, এই ভেবেই লেখা। ইতিহাসের উপর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্স এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাষ্টার্স পাশ করার পর কিছুদিন বেসরকারী চাকরিতে ছিলাম। এরপর ফ্যাশন টেকনোলজীর উপর ডিপ্লোমা এবং বর্তমানে বিভিন্ন ধরণের কেক এবং বেকিং নিয়ে পড়াশুনা করি। বাংলাদেশ এবং বিশ্বের ক্যান্সার নিপীড়িত মানুষের কল্যাণে মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরীর উদ্দেশ্যেই এই কেক এর পেছনে কাজ করে যাওয়া। জীবনবোধ থেকে লিখতে চাই আমার অনুভূতিগুলো।

Comments

comments