সুসম্পর্ক্য বজায় রাখতে ৬টি নেতিবাচক চিন্তা থেকে দূরে থাকুন

0
1088
ইতিবাচক চিন্তা
Print Friendly, PDF & Email

সম্পর্ক উন্নয়নে জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলো ইতিবাচক চিন্তা। একজন মানুষ তত বেশি সফল ও জনপ্রিয় যত বেশি মানুষের সঙ্গে তার সম্পর্কের উন্নয়ন হয়। শুভ কামনা, ভালো চাওয়া, ভালো করা, আন্তরিকতা দেখানো, অন্যের উন্নতিতে ভালোবোধ করা, মানুষের দুঃখে দুঃখবোধ করা এই সকল অবস্তুগত সম্পদ বা অন্তর্গত সম্পর্ক মানুষকে যত দেবেন তত ভালোবোধ করবেন এবং এই সম্পর্ক মানুষের হৃদয়কে স্পর্শ করে।

নেতিবাচক সমালোচনা করা, বদনাম করা, গিবত করা সম্পর্ক উন্নয়নে একটি বড় বাধা। একটি বড় ক্ষতিকারক দিক।

ইতিবাচক চিন্তা করলে সকল কাজে আপনি সফল হতে পারবেন। আর নেতিবাচক চিন্তা পরাজয়ের আগেই আমাদের পরাজয়ের সাথে পরিচয় করিয়ে দেবে। এমন কিছু নেতিবাচক চিন্তা আছে যেগুলোর জন্য আশেপাশের মানুষরা আমাদের থেকে দূরে সরে যায়। সুসম্পর্ক্য বজায় রাখতে যে ৬টি নেতিবাচক চিন্তা থেকে দূরে থাকবেন-

১. গায়ে পড়ে উপকার করা 

আমরা অনেকে এমন গায়ে পড়ে উপকার করি বা সাহায্য করি যা আমাদের নিজেদের মূল্যবোধ কমিয়ে দেয়।আমরা যাকে উপকার করলাম সেও ভুল বুঝতে পারে। আবার আমাদের আশেপাশের লোক তারা এটা নিয়ে অনেক রকম কথার সৃষ্টি করতে পারে। যার ফলে আপনার সাথে ও আপনার আশেপাশের সবার সাথে আপনার সম্পর্ক্য খারাপ দিকে চলে যেতে পারে। নিজেকে যদি অন্য সবার সাথে জড়িয়ে রাখতে চান তাহলে গায়ে পড়ে উপকার করার অভ্যাস বাদ দিন।

২. নিজের গায়ে মাখা বা ব্যক্তিগতভাবে নেওয়া

একসঙ্গে যখন অনেকগুলো মানুষ কোন আড্ডায় মেতে উঠে তখন এমন অনেক রকম কথাবার্তাই সেখানে আলোচনা হতে পারে যেগুলো হয়তো আপনার সাথে পুরোটাই মিলে যায়। আর এই ক্ষেত্রে আপনি যদি ভেবে বসেন এই আলোচনা বা সমালোচনা যেটাই হচ্ছে তার সবটা আসলে আপনাকে শুনিয়ে করা হচ্ছে তাহলে এটি হবে আপনার সবচেয়ে বড় নেতিবাচক চিন্তা। আর আপনার এই চিন্তাধারার কারণে অন্যরা আপনার সঙ্গ ত্যাগ করতে বাধ্য হবে। তাই সবকিছু নিজের গায়ে মাখা বা ব্যক্তিগতভাবে নেওয়ার অভ্যাস বা চিন্তা আপনি নিজেই ত্যাগ করুন।

৩. পরিবর্তন করার চেষ্টা 

আমাদের একটি খুব বাজে অভ্যাস বা চিন্তা হল নিজের অধিকার অন্যর উপর চাপিয়ে দিয়ে তাকে পরিবর্তন করা, যা একটি নিষ্ফল চেষ্টা। সবার একটি নিজস্ব সত্ত্বা থাকে, একটি নিজস্ব জগত থাকে। আর কাউকে আপনি ততক্ষণ পরিবর্তন করতে পারবেন না যতক্ষণ না সে নিজে থেকে নিজেকে পরিবর্তন করে। যার ফলাফল দাঁড়ায়, হতাশা আর অবসাদ। আপনার এই নিষ্ফল চেষ্টা থেকে জন্ম নেওয়া অন্যকে পরিবর্তন করার চেষ্টা আপনার অন্যতম নেতিবাচক চিন্তা। যার ফলে অন্যরা নিজেকে আপনার থেকে দূরে সরিয়ে নেবে।

৪. পার্থক্য বা  তুলনা করা

নিজেকে অন্যের সাথে পার্থক্য বা তুলনা করা আমাদের নেতিবাচক চিন্তাধারার মধ্যে সবচেয়ে সাধারণ কিন্তু সবচেয়ে মারাত্মক চিন্তা হলো অন্যের সাথে নিজেকে তুলনা করা। আপনি যদি কথায় কথায় নিজেকে আর দশটা মানুষের সাথে তুলনা করতে থাকেন তাহলে স্বাভাবিকভাবেই অন্যরা আপনার প্রতি বিরক্তিবোধ করবে, চাইবে আপনাকে এড়িয়ে চলতে। তাই যদি অন্য সবার সাথে মিলেমিশে থাকতে চান তাহলে অন্যের সাথে নিজের তুলনা করা অভ্যাস বাদ দিন।

৫. দোষ ধরা বা দোষারোপ করা

যখন কেউ আপনার কাছে তার সম্পর্কে বা তার সাথে ঘটে যাওয়া কোন ঘটনা নিয়ে আলোচনা করে তখন আপনার উচিৎ তাকে সম্মান করা, আগ্রহ নিয়ে তার কথা শোনা বা বোঝার চেষ্টা করা। কিন্তু আপনি  যদি উল্টো তার দোষ ধরাতে নিজেকে বেশী ব্যস্ত করে ফেলেন তাহলে অন্যরা আপনাকে সব সময় এড়িয়ে চলতেই চেষ্টা করবে। তাই আপনি যদি চান অন্য সবার মতো আপনার চারপাশটা বন্ধু আর প্রিয় মানুষে ভরে থাক তাহলে অন্যের দোষ ধরার মতো খারাপ বা নেতিবাচক চিন্তা বাদ দিন।

৬. অপরাধী বা দোষী ভাবা

নিজেকে যেকোন কিছুর জন্য দায়ীভাবা একটি মানসিক রোগও বলা যায়। আপনার সাথে যাই ঘটুক না কেন সব সময় যদি নিজেকে সেই ঘটনার জন্য দায়ী ভাবতে থাকেন একসময় অন্যরা আপনার উপর বিরক্তবোধ করতে শুরু করবে।  তাই আপনার করণীয় হবে শুধু শুধু নিজেকে কোন ব্যাপারের জন্য দায়ী ভাবা চিন্তাধারা থেকে বের হয়ে আসা।

চেতনা, এই চৈতন্য লালন করতে পারলেই যেমন একজন আদর্শবান, সুন্দর মানুষ হওয়া যায় তেমনি সবার ভালোবাসা পাওয়া সম্ভব। সর্বোপরি সবার সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখা এবং সম্পর্ক উন্নয়ন করা সম্ভব। তবেই এইসব নেতিবাচক চিন্তা ভাবনা আমাদের মধ্যে কোনরূপ খারাপ প্রভাব ফেলতে পারবেনা।

আরও জানুন » প্রকৃত সুখ খুঁজতে ২০টি বিষয় »

Comments

comments