সত্যিকারের টাইগার হয়ে উঠা

0
110
সত্যিকারের টাইগার হয়ে উঠা
Print Friendly, PDF & Email

কোন সন্দেহ নেই বাংলাদেশ ক্রিকেট টিম বর্তমানে আমাদের ক্রিকেট ইতিহাসের সেরা সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে… সমগ্র বিশ্বের বুকে আমাদের ১৮ কোটির এক মানচিত্রকে করেছে সমৃদ্ধ, একের পর এক দিয়ে যাচ্ছে আনন্দের উপলক্ষ। বিশ্ব ক্রিকেটের মোড়লকে বুঝিয়ে দিচ্ছে সুযোগ পেলে আমরা কি করতে পারি? এই ধারা অব্যাহত থাকবে এটা শুধু আশা নয় আমাদের আস্থা এবং বিশ্বাস। বলতে বাধা নেই আমার গুটিকয়েক অতিবিচক্ষণ বুদ্ধিজীবী পরিচিতজন আছেন যারা বাংলাদেশের ১ম ম্যাচ জয়ের পর দলকে ন্যূনতম শুভেচ্ছাটুকুও জানায়নি উল্টা বলতে দেখেছি “হুজুগে বাঙ্গালী” হেন তেন… হ্যাঁ বাঙ্গালী আবেগী জাতি! এই আবেগটা যদি হয় ১৮ কোটি মানুষকে একসূতায় গেথে রাখার তো আমারো আবেগী হতে বিন্দু মাত্র অনিহা নেই! কারণ এক জীবনে এর ছেয়ে সুন্দর আবেগ আর কি হতে পারে? হয়তো কখনো কখনো এই আবেগের বহিঃপ্রকাশের মাত্রাটা অতিরিক্ত হয়ে যায় কিন্তু আপনি যদি আপনার চারপাশের মানুষের আবেগ মিশ্রিত ভাষা না বুঝেন সেটা আপনার অযোগ্যতা ছাড়া আর কিছুনা! এরকম অনেক মানুষ আছেন যারা নিজেদের এতোবেশি জ্ঞানী মনে করে যে ওরা “পাবলিক সেন্টিমেন্ট”ই বুঝেনা! আলমারি ভর্তি বই কিংবা ড্রয়ার ভর্তি সার্টিফিকেট থাকলে গ্রাজুয়েট হওয়া হয়তো যায় কিন্তু সুশিক্ষিত হওয়া যায়না! আপনি এবং আপনাদের জ্ঞানের লেভেল এমন করুণা করার পর্যায়ে যে আজকে কেন মানুষ এতো উল্লাস করছে সেই বোধটুকুও নেই! আপনাদেরকে বুঝেতে হবে আপনার সাথে কেউ অহংকার করতে পারে কিন্তু ক্ষমতার অপব্যবহার করলে আপনি যেদিন এর জবাব দিতে পারবেন সেদিন আপনার উপলব্ধি কেমন হবে? আর যেদিন বিশ্বকাপে পৈশাচিক নির্মমতাটুকু আপনার দেশের ১৬ কোটি মানুষের স্বপ্নের সাথে করেছেন সারা বিশ্বকে সাক্ষী রেখে সেদিন এই ১৬ কোটি মানুষের ৩২ কোটি নয়নের অশ্রুধারা হয়তো আপনি উপলব্ধি করতে পারেন্নি? মাননীয় স্ব-ভাবিত জ্ঞানীবর্গ আগে বুঝুন শিখুন কোন পরিপ্রেক্ষিতে কোন কথা বলতে হয়! আপনি যদি আপনার ঘরের মানুষের কিংবা আপনার চারপাশের মানুষের ভাষা না বুঝেন সেটা আপনার দুর্ভাগ্য বৈ অন্য কিছুনা!

সুদির গৌতমকে হয়রানী বিষয়ে কিছু কথাঃ আজকে মোটামুটি সব অনলাইন সংবাদে দেখলাম যে ইন্ডিয়ান ক্রিকেট সমর্থক সুদির গৌতমকে হয়রানী করা হয়েছে! এটা কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়, এটা আমাদের মতো অতিথি পরায়ন জাতির জন্য ভীষণ লজ্জার। আমি জানিনা এই ঘটনার বিশ্বস্ততা কতোটা (মিথ্যে সংবাদ হলেই খুশি হবো) কিন্তু এটা জানি সুদির কিংবা টাইগার মিলনরা বিশ্ব ক্রিকেট এর বন্ধুত্ব এবং শান্তির প্রতীক। আমি যতদূর জানি যে এই সুদিরকে বিশ্ব ক্রিকেটের লিজেন্ড শ্রী শচিন রমেশ টেন্ডুলকার অনেক ভালোবাসেন, সহযোগিতা করেন। সারাবিশ্বে বখে যাওয়ার মতো এতো এতো উপকরনের মাঝে স্পোর্টস বা খেলা ই নিঃসন্দেহে সবছেয়ে বড় মাধ্যম যেটা হিংসা বিদ্ধেষ কিংবা স্বার্থের উর্ধে গিয়ে একসূতায় গেথে রাখে জাতি থেকে জাতিকে, প্রজন্ম থেকে প্রজন্মকে… প্রশাসন নিশ্চয় এই ব্যাপারে পদক্ষেপ নিবে এবং ঘটনার সত্যতা যাচাই সাপেক্ষে যদি কেউ দোষী হয় তাকে কঠিন শাস্তি দিবে বলে আশা করি। কারণ আমাদের হাজার বছরের লালিত ঐতিহ্যকে কোন একটা ছোট্ট ঘটনা কুলশিত করুক এটা আমরা হতে দিতে পারিনা। এই বিচ্ছিন্ন ঘটনায় আমাদের জাতীয় বীরদের অর্জনকে এতটুকু খাটো করুক সেটা হতে পারেনা। আমরা আমাদের অর্জন নিয়ে গর্বিত হতে পারি আর আমাদের উত্তর প্রজন্মকে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিতে পারি যে এভাবে খেলতে হয় দেশের জন্য আর এভাবে জিততে হয়! আমরা আমাদের প্রজন্মকে টেন্ডুলকার, লারাদের গল্প নয় বরং তামিম, সাকিব, মুশফিক কিংবা মাশরাফিদের দেখিয়ে দিয়ে সাহসী করে তুলতে পারি। ওয়াসিম আকরাম, জনসন কিংবা মিছেল স্টারক নয় মোস্তাফিজরাই হবে আমাদের প্রজন্ম থেকে প্রজন্মের স্বপ্ন পুরনের বাহন! দুই যুগ ধরে হামাগুড়ি দিয়ে চলতে চলতে আজ আমাদের টাইগারেরা উঠে দাঁড়িয়েছে; শিখেছে দৌড়াতে! দুরন্ত গতিতে… দুর্বার এই গতিকে আরো বেগবান করার দায়িত্ব সংশ্লিষ্টদের যেমন তেমনি আমাদের সমর্থকদেরকেও বুঝতে হবে আমরা যা জবাব দিবো সেটা মাঠে দিব। আমাদের ছেলেরা নিজেদের যোগ্যতায় আজকের অবস্থানে এসেছে কারো দয়ায় নয়। সুতরাং সমর্থক হিসেবেও আমাদেরকে দায়িত্বশীল হতে হবে, বিনয়ী হতে হবে। কিংবদন্তি সুনীল গাভাস্কার বারবার বলেন “বাংলাদেশের সমর্থকেরা পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ সমর্থক” সুতরাং কিছু হটকারীতার কারণে আমাদের ক্রিকেট এ কলঙ্কিত হউক সেটা আমরা হতে দিতে পারিনা।

পাদটিকাঃ মহান আল্লাহর কাছে শোকরিয়া যে “মোস্তাফিজুর রহমান” নামক এক হীরক খণ্ড পড়ে ছিল সাতক্ষীরার অজো পাড়াগাঁয়ে অতঃপর কেবল মাত্র ১৬ কোটি বাঙ্গালীর পরম সৌভাগ্যই তাকে মীরপুরের ২২ গজের মাটিতে এনে দাঁড় করিয়েছে! আমরা এটা বলছিনা যে মোস্তাফিজ একাই আমাদের জিতিয়ে দিয়েছে কিন্তু হ্যাঁ এটা অবশ্যই বলতে হবে বিশ্বের পরাক্রমশালী ব্যাটিং শক্তিকে ধূলিসাৎ করতে আমাদের একজন মোস্তাফিজের দরকার ছিল আর এই ছেলেটি সেটাই করেছে যেটা বিশ্বকাপের সেই দগদগে ক্ষতে শুধু মলমই লাগায়নি বরং অহংকারী প্রতিপক্ষের আঁতে আঘাত করেছে! চরম আঘাত! এ আঘাত হয়তো মোচন যোগ্য নয় সারাজীবনে…!

পরিশেষেঃ বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড সংশ্লিষ্টরা ছাড়া ১৬ কোটি বাঙ্গালী মোস্তাফিজকে চিনে মাত্র ১টি টি২০ আর ২টি ওডিআই ম্যাচ দিয়ে আমার বিশ্বাস উর্বর এদেশের পথে প্রান্তরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে অসংখ্য মোস্তাফিজ যারা এই ক্রিকেট দিয়েই বিশ্বের দরবারে আমাদের শির উন্নত করতে পারে। আশাকরি বিসিবি এ ব্যাপারে আরও সচেষ্ট ও যত্নবান হবেন।

আরও জানুন » বিস্মিত ক্রিকেট দুনিয়া ১ বলে ২৮৬ রান! »

ওয়াহিদ উদ্দিন একজন তরুণ ফ্রিলান্স লেখক যুক্ত আছেন পরিবেশ দূষণ ও উন্নয়নমূলক গবেষণার সাথে। একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে গবেষণা সহকারী হিসেবে কর্মরত জনাব ওয়াহিদ পরিবেশ বিজ্ঞানে অনার্স মাস্টার্স শেষে যোগ দিয়েছিলেন ব্লাকস্মিথ ইনস্টিটিউট নামক আমেরিকার একটি পরিবেশ উন্নয়ন বিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠানে এবং বাংলাদেশ ডিজাস্টার প্রিপেয়ার্ডনেস সেন্টারে জাতীয় দুর্যোগ অধিদপ্তরের একটি প্রকল্পে জেলা সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করার কারণে ঘুরে বেড়িয়েছেন বাংলাদেশের প্রাকৃতিক লীলাভূমি সহ দুর্যোগ কবলিত বহু এলাকা আর অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর জীবনধারণ পদ্ধতির। ভ্রমন পিয়াসু এই লেখকের দেশি ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গবেষণাপত্র প্রকাশের পাশাপাশি পরিবেশ, সামাজিক প্রেক্ষাপট, সংস্কৃতি এবং ভ্রমন বিষয়ে একাধিক লেখা ছাড়াও অসীম আগ্রহ রয়েছে। বন্ধুপ্রতিম এই লেখক স্বপ্ন দেখেন দূষণমুক্ত সুন্দর এক বাংলাদেশের।

Comments

comments