নতুন কিছু শান্তির ছোয়া পেতে ১০ টি কাজ করেই দেখুন!

0
202
শান্তির ছোয়া পেতে ১০ টি কাজ
Print Friendly, PDF & Email

যারা সুখী মানুষ তারা আমাদের আশেপাশের সমাজ সংসারেই থাকেন, আমাদের চোখের সামনেই তাদের বসবাস। কিন্তু একবার ভেবে দেখেছেন কি, তাদের মধ্যে কী এমন জিনিস রয়েছে যা আপনার মধ্যে নেই এবং যার ফলে তিনি সুখী মানুষ কিন্তু আপনি নন? চিন্তার প্রতিফলন ঘটে স্বভাব বা প্রকৃতিতে। যদি কেউ মন্দ অভিপ্রায় নিয়ে কথা বলে বা কাজ করে দুঃখ তাকে অনুগমন করে। আর কেউ যদি সুচিন্তা নিয়ে কথা বলে বা কাজ করে সুখ তাকে ছায়ার মত অনুসরণ করে। সুখ-শান্তি পুরোপুরি মানসিক একটি ব্যাপার। আপনি যদি মনে করেন আপনি যা করছেন তাতে আপনি শান্তি পাচ্ছেন তাহলেই আপনি শান্তিতে থাকতে পারবেন। শুধু নিজের জন্য কিছু কোন কাজ হাসিল করাতেই শান্তি খোঁজা আসলে বোকামি। অন্যের জন্য করা কাজে শান্তি খুঁজে পাওয়া লাগে না এমনিতে আসে। মনের শান্তি খুঁজে পাওয়া যায় যদি অন্যের উপকারে আসা যায়। যদি আসলেই আপনি শান্তির খোঁজে থাকেন তাহলে অন্যদের জন্য নিজে কিছু করে দেখুন অবশ্যই শান্তি আপনার চারপাশ ঘিরে থাকবে।

১. অযথা সময় ব্যয়

একজন সুখী মানুষ কখনোই অলসতা করেন না। এবং তারা অযথা কোনো কিছুতে সময় ব্যয় করতেও আগ্রহী নন। সুখী মানুষ নিজের প্রতিটি মুহূর্ত কাজে লাগান জীবনটাকে ভালো করে উপভোগ করতে। আসলেই আপনি শান্তির খোঁজে থাকেন সময় কে সঠিক ভাবে ব্যবহার করেই দেখুন।

২. নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিশ্বাসী নন

আপনি চাইলেই সবকিছু নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারবেন না। এটি কখনোই সম্ভব নয়। একজন সুখী মানুষের সাথে আপনার পার্থক্য এইখানেই। তারা বিশ্বাস করেন তারা সব কিছু নিজের নিয়ন্ত্রণে আনতে পারবেন না। এবং সাধারণ মানুষ একটু নিয়ন্ত্রণের বাইরে জীবন চলে গেলেই দুশ্চিন্তায় পড়ে যান। ফলে মনের শান্তি একেবারেই গায়েব হয়ে যায়।

৩. অন্য কাউকে সাহায্য করে

খুব বিপদে পড়া একজন মানুষকে মন থেকে সাহায্য করে দেখুন। সাহায্য যে কোনো ভাবেই হতে পারে, অর্থ দিয়ে সাহায্য করা বা অন্যান্য মানসিক দিক দিয়ে সাহায্য করা। এমনকি নিজের ব্যস্ততার সময়েও কোনো বৃদ্ধ মানুষকে রাস্তা পার করে দেয়ার মতো সাহায্য করেও যতোটা সুখ পাবেন তা অর্থ খরচ করে পাবেন না।

৪. প্রযুক্তি থেকে দূরে থাকা

সকল ধরণের প্রযুক্তি থেকে দূরে থাকুন পুরো একটি দিন। টিভি, কম্পিউটার, ল্যাপটপ, মোবাইল ফোন থেকে দূরে থাকুন প্রয়োজনে নিজের কাছের মানুষ গুলোকে সময় দিন এবং বই পড়ে পার করে নিন সময়। দেখবেন মনের শান্তি খুঁজে পেয়েছেন।

৫. অজানা জায়গায় একা ঘুরা

জীবনটা শুধুমাত্র কাজের জন্য এই কথাটি বিশ্বাস যোগ্য নয়। অচেনা অজানা জায়গায় একা ঘুরতে যাওয়ার অভিজ্ঞতা হয়েছে কখনো? যদি না হয়ে থাকে তাহলে হলেও এই কাজটি করুন। একেবারেই অচেনা জায়গায় কোনো কিছু প্ল্যান না করেই হুট করে চলে যান। কাটিয়ে আসুন কিছুটা সময়।

৬. তারাভরা খোলা আকাশ

নরম বিছানায়, হাইফাই এসি রুমে ঘুমাতে অনেক শান্তি তা অনেকেই একবাক্যে স্বীকার করবেন। কিন্তু তারাভরা খোলা আকাশের নিচে কখনো রাত কাটানোর মজা পেয়েছেন? যদি না পেয়ে থাকেন তাহলে এই শান্তিটুকু পেয়ে দেখুন কেমন লাগে।

৭. ফেলনা কিছু

ফেলনা কিছু দিয়ে দারুণ কোনো জিনিস তৈরি করার মজাই আলাদা। কাজের ব্যস্ততায় এমন অনেক কিছুই আছে যা কাজে লাগানো যায় তা ফেলে দেয়া হয়। একটি দিনের জন্য হলেও ব্যস্ততাকে ছুটি দিয়ে এমন কিছু নিয়ে বসে যান। সৃজনশীল যে কোনো কাজ অনেক প্রশান্তি এনে দেয় মনে।

৮. নতুন কিছু শিখুন

নতুন কিছু শিখুন কোনো স্বার্থ ছাড়াই। আমরা এতো ব্যস্ত থাকি যে প্রয়োজন না পড়লে নতুন কিছুর প্রতি আগ্রহী হই না একেবারেই। কাজের জন্য জরুরী বিষয় শিখতে বিরক্ত লাগলেও শিখে নিই কারণ তার প্রয়োজন রয়েছে। কিন্তু একেবারেই বিনা স্বার্থে নতুন কিছু শেখার আনন্দ থেকে এখনও যদি বঞ্চিত থাকেন তাহলে আপনারই ব্যর্থতা।

৯. নিজেকে ক্ষুধার্ত রেখে

নিজের খাবার অন্যকে দিয়ে দিয়েছেন কখনো? এই কাজটি করার ক্ষমতা এখনও আমাদের সাধারণ মানুষের হয়ে উঠেনি। নিজেকে ক্ষুধার্ত রেখে অন্য আরেকজন ক্ষুধার্তের মুখে খাবার আমরা তখনই তুলে দিতে পারি যখন তা রক্তের সম্পর্কের কেউ হন। কিন্তু মানুষ হিসেবে এই কাজটি পথে ঘাটে থাকা একজনের জন্য করে দেখুন।

১০.বিশ্বাস

সবাইকে অন্ধভাবে বিশ্বাস করা উচিৎ নয় তা আমরা সকলেই জানি। কিন্তু কাউকে বিশ্বাস না করতে পারা মনের মধ্যে যে অস্বস্তি এবং অশান্তির সৃষ্টি করে তা মনের সুখ একেবারেই দূর করে দেয়। তাই সুখী মানুষেরা সবাইকেই বিশ্বাস না করলেও কিছু মানুষকে বিশ্বাস করে। তাই আপনিও বিশ্বাস করে দেখুন।

সুখে থাকতে কে না চায়। আমাদের বেঁচে থাকার সকল চাহিদা পূরণের পরই আমরা ভাবি সুখে থাকার কথা। অনেকের কাছে অল্প কিছুর মধ্যে মানসিক শান্তি নিয়ে বেঁচে থাকার নামই সুখ।

আরও জানুন » প্রকৃত সুখ খুঁজতে ২০টি বিষয় »

Comments

comments