আয়ুর্বেদিক ও রূপ চর্চায় প্রকৃতিক মেডিসিন হলুদ

0
804
Print Friendly, PDF & Email

গোত্রীয় দিক থেকে হলুদ একটি ভেষজ উপাদান। এই হলুদ আমাদের দৈনন্দিন জীবনে নানাভাবে কাজে লাগে। ওষুধ হিসেবে, রান্নায়, আচার-অনুষ্ঠানে, এমনকি রুপচর্চায়ও হলুদ ব্যবহার হয়। হাজার বছর আগে থেকে ভারতেই সর্বপ্রথম হলুদের চাষ হয়। হলুদের ইতিহাস থেকে পাওয়া গেছে এরপর সময়ের বিবর্তনে পাকিস্তান ও অন্যান্য দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোতে হলুদের ব্যবহার বিস্তৃতি লাভ করে। হলুদ আগে শুধুমাত্র রঙের জন্য ব্যবহার করা হত, পরে খাবারে এবং ঔষধি হিসেবে বেশি ব্যবহার করা হয়।

আমাদের খাবার রান্নার একটি প্রধান উপাদান হলুদ। হলুদ ব্যবহার করা হয় শরীরের ভিতরে ও বাইরের রোগের ইনফেকশন প্রতিরোধে। এছাড়াও চাইনিজ আয়ুর্বেদিক মেডিসিন হিসেবে হলুদের ব্যবহার দেখা যায়।

প্রকৃতিক এন্টিসেপ্টিক

হলুদ প্রকৃতিক এন্টিসেপ্টিক। সাধারণ কাঁটাছেঁড়ায় হলুদ এন্টিসেপ্টিকের কাজ করে।

অ্যাজমা ও ক্যান্সারের প্রতিকার

সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, হলুদ একটি প্রাকৃতিক ভেষজ উপাদান। অ্যাজমা থেকে শুরু করে ক্যান্সারের মতো মারাত্মক ব্যাধিতেও হলুদ কার্যকরী ভূমিকা রাখে।

মস্তিষ্কের স্নায়ুকোষ

জার্মান গবেষকদের এক গবেষণায দেখা গেছে, হলুদে এ্যারোমেটিক টারমেরোন বলে একটি উপাদান আছে যা মস্তিষ্কের ক্ষতিগ্রস্ত স্নায়ুকোষ সারিয়ে তুলতে বা নতুন কোষ সৃষ্টি করতে সহায়ক হয়।

গ্লান্ড ব্লাডারে ক্যান্সার

যখন ফুলকপির সাথে হলুদ মিশিয়ে খাওয়া হয় তখন তা গ্লান্ড ব্লাডারে ক্যান্সার প্রতিরোধে সাহায্য করে।

ব্রেস্ট ক্যন্সার

ব্রেস্ট ক্যন্সার লাংস পর্যন্ত যাতে ছড়াতে না পারে তা প্রতিরোধ করে হলুদ।

লিউকমিয়া

শরীরের ভিতরে ও বাইরের রোগের ইনফেকশন প্রতিরোধে হলুদকে মেডিসিন হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এটা শৈশবে লিউকমিয়ার ঝুঁকি কমায়।

বিষণ্ণতা কমাতে

চাইনিজ আয়ুর্বেদিক মেডিসিনে হলুদ ব্যবহার করা হয় শরীরের ভিতরে ও বাইরের রোগের ইনফেকশন প্রতিরোধে। চাইনিজরা বিষণ্ণতা কমাতে অনেক আগে থেকেই হলুদের ভেষজ চিকিৎসা করে আসছে।

অ্যালার্জির প্রতিকার

ক্ষতিগ্রস্থ ত্বক বা যাদের ত্বকে অ্যালার্জির প্রকোপ বেশি তা কমাতে এবং নতুন কোষ গঠনেও হলুদ উপকারী।

লিভার সিরোসিস

লিভার ড্যামেজ যা একসময় সিরোসিসে রূপ নেয় তা প্রতিরোধে হলুদের উপকার অনস্বীকার্য।

ক্যান্সার সেল দুর্বল করতে

গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে, হলুদের মাধ্যমে পুর্ব চিকিৎসা নেয়া হলে তা ক্যান্সার সেল কে দুর্বল করে দেয় এবং এতে করে ক্যন্সার সহজে ছড়াতে পারেনা।

হলুদ সুস্বাস্থ্য রক্ষায়ও যথেষ্ট উপকারী। প্রতিদিনের খাবারে হলুদের ব্যবহার একটা নতুন মাত্রা যোগ করে ও স্বাদও বাড়ায়। স্ট্রেস কমাতে বা হঠাৎ দুর্বল লাগলে বা জ্বর হলে দুধের সাথে হলুদ মিশিয়ে খেলে যথেষ্ট উপকার পাওয়া যায়। এ তো গেল হলুদের চিকিৎসা ক্ষেত্রে বা রোগ প্রতিরোধে সহায়তার কথা।

কিন্তু হলুদের ব্যবহার এখানেই শেষ না। ত্বকের যত্নে ও রূপচর্চায়ও রয়েছে এর ব্যপক ব্যবহার।

হলুদের ফেস প্যাক

হলুদ ফেস প্যাক হিসেবেও ব্যবহার করা যায়। আপনি চাইলে কাঁচা হলুদ বেটে অথবা পাউডার হলুদ মিক্স করেও ফেস প্যাক বানাতে পারেন।

ত্বকের স্ক্রাব

প্রথমে ২ চামচ ময়দার সাথে দই ও অল্প একটু হলুদ ভালোভাবে মিশিয়ে মুখে লাগান। যখন দেখবেন শুকিয়ে আসছে তখন মুখের চারপাশে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে স্ক্রাব করুন।

ব্রণ নিরসনে

হলুদ আপনার ত্বকের ব্রণ নিরসনে সাহায্য করবে যা তৈলাক্ত ত্বক হওয়ার প্রধান কারণ। যখন আপনি এই মিক্সটিকে স্ক্রাবারের মতো ব্যবহার করবেন এটা আপনার ত্বকের মৃত কোষকে দূর করতেও সাহায্য করবে।

শুষ্ক ত্বকের জন্য

আপনার ত্বক যদি শুষ্ক হয় তাহলে আপনি ডিমের সাদা অংশের সাথে কয়েক ফোটা লেবুর রস, গোলাপ জল ও একটু অলিভ অয়েল এবং এর সাথে এক চিমটি হলুদের গুঁড়া মিশিয়ে প্যাক তৈরি করুন। তারপর আপনি প্যাকটি মুখে লাগান।

কনুই বা গোড়ালি যত্নে

আপনার কনুই বা গোড়ালিও যদি শুষ্ক হয় তাহলে সেখানেও এই প্যাকটি ব্যবহার করতে পারেন। ব্যবহারের পর এটি পুরোপুরি শুকাতে দিন এবং শুকানোর পর কুসুম গরম পানিতে ধুয়ে ফেলুন। এটি আপনার ত্বকের আর্দ্রতা বাড়াবে।

ত্বকের বলিরেখা

ত্বকের বলিরেখা দূর করতে মসুরে ডাল বাটা, কাঁচা হলুদ ও মধু একসাথে মিশিয়ে ত্বকে লাগান।

সাবধানতা অবলম্বন: হলুদ দিয়ে রুপ চর্চা করবেন রাতের বেলা। কারণ হলুদ দিয়ে কখনো রোদে বের হলে ত্বক পুরে কালো হয়ে যাবে।

আরও জানুন » দাঁত ঝকঝকে ও সাদা করার প্রাকৃতিক ৯ টি উপায় »

Comments

comments