রান্নাবাড়ার ছোট ছোট ১৬টি কৌশল

0
9225
রান্নাবাড়ার ছোট ছোট ১৬টি কৌশল
Print Friendly, PDF & Email

জীবন চালিকা শক্তি খাবার। জীবনের সাথে জড়িত সব চাইতে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। আর খাবার তৈরি বিষয়টি একটি শিল্প। তাই প্রতিদিনের চলার পথে রান্নার কাজটি মুখ্য একটি বিষয়। এখন শুধু মেয়েরা রান্না পছন্দ করে না ছেলেরাও কম বেশি রান্না পছন্দ করে।

সংসার সুখের হয় রমণীর গুণে, রান্না মজা হয় রাঁধুনীর গুণে। ভালো রাঁধুনী হতে কে না চায়, তাই বলে কি সবাই ভালো রাঁধুনী হতে পারে? সত্যি বলতে কি, চাইলেই পারে। খাবার মজাদার করতে সবার প্রথমে দরকার মসলার গুণ। মসলা ব্যবহারের কৌশলটা একটু আয়ত্ব করতে পারলেই রান্না মজার হয়। তাই জেনে নিন রান্না সম্পর্কে ছোট ছোট ১৬টি কৌশল-

১. চুলার আঁচ বা জ্বাল

নতুন অবস্থায় রান্না করতে গেলে রান্না করার সময় অবশ্যই চুলার জ্বাল কমিয়ে নিন তারপর রান্নার পরিস্থিতি বুঝে জ্বাল একটু বাড়িয়ে নিন।

২. মসলার ব্যবহার

সবার প্রথমে জেনে নিন কোন খাবারে কি ধরণের মসলার ব্যবহার করা হয়।

৩. সহজ কিছু

প্রথমে বেশী কঠিন রান্না বেছে নিবেন না। মোটামুটি সহজ খাবার দিয়ে শুরু করুন।

৪. পরিষ্কার

যে কোনও কিছু রান্না করবার আগে ভালো করে ধুয়ে নিবেন। খাবারে নোংরা লেগে থাকলে মজা হবার প্রশ্নই ওঠে না।

৫. কষানো

রান্নার অন্যতম গুণ কষানোর মধ্যে, মশলা ভালো করে কষিয়ে নিবেন অবশ্যই। অল্প পানি দিয়ে মাঝারি আঁচে মশলা কষানোর পর যখন তেলের ওপরে ভেসে উঠবে, কেবল তখনই মাছ- মাংস- সবজি দিবেন। তা না হলে খাবার থেকে মশলার কাঁচা গন্ধ করবে।

৬. পিঁয়াজ, কাঁচা মরিচ, হলুদ

সবজি ভাজিতে গাদা খানিক তেল মশলা না দিয়ে, কিংবা কি মশলা দিবেন জানা না থাকলে কেবল পিঁয়াজ, কাঁচা মরিচ, হলুদ দিয়ে ভাজি করুন। দেখবেন ভীষণ ভালো লাগছে খেতে।

৭. অল্প পরিমাণ পানি

সবজি হোক বা মাছ মাংস, কখনো অনেকটা পানি দিয়ে ফেলবেন না। তাতে তরকারীর স্বাদ ভালো হয়না।

৮. অল্প পরিমাণ হলুদ

বেশি হলুদ দিতে যাবেন না। ১ চামচ মরিচ = ১/৩ চামচ হলুদ। মানে মরিচ থেকে হলুদ একটু কম।

৯. অল্প পরিমাণ লবণ

লবণের পরিমাপ বুঝতে সমস্যা হলে অল্প করে লবণ দিবেন, আর চেখে দেখবেন। লবণ একসাথে বেশি করে দিবেন না। একসাথে দিলে লবণ বেশি যাবে।

১০. নতুন তেল

ভাজা ভুজি করতে চাইলে তেলটা সবসময় নতুন নিন। পুরানো তেলে ভাজা খাবার এমনিতেই বাজে লাগবে খেতে।

১১. স্বাদ বাড়াতে সস

ভালো দেখে কয়েক রকম সস বাড়িতে রাখুন। খাবারে বাড়তি স্বাদের জন্য জরুরী। কিন্তু বেশি পরিমাণ ব্যবহার করবেন না।  খাবার অল্প পরিমাণে হলে ১ চামচ বা বেশি পরিমাণে হলে পরিমাণ বুঝে।

১২. আটার খামির

আটার মধ্যে একটু একটু পানি দিয়ে মাখানোকে খামির বলে। রুটি পরোটা বেলতে চাইলে আগে থেকে খামির করে রাখুন। অন্তত আধ ঘণ্টা আগে থেকে করে ঢেকে রাখুন। রুটি পরোটা মোলায়েম হবে।

১৩. অল্প পরিমাণ মসলা

কোনও মশলা আপনার কাছে ভালো লাগে বলেই সেইটা বেশি দিয়ে দিবেন না। এমনটা না যে, সব খাবার রান্নার জন্য মসলার পরিমাণ আছে। তাই জানা না থাকলে অল্প মসলা দিয়ে রান্নাই ভাল। বেশি হলে খেতে পারবেন না।

১৪. দুধ রাখার পাত্র

দুধ বা দুধ জাতীয় খাবারের জন্য আলাদা বাসন বা পাত্র ব্যবহার করবেন।

১৫. আদা রসুন

অনেকেই আছেন আদা রসুন বেটে ফ্রিজে রাখেন,পরে তা দিয়ে রান্না করেন। এই কাজটি করবেন না। তাজা মশলা দিয়ে রেঁধেই দেখুন, কি চমৎকার স্বাদ হবে। প্রয়োজনে ব্লেন্ডার ব্যবহার করুন।

১৬. খাবার জ্বাল দেয়ার সময়

অল্প করে কাঁচা মরিচ ব্যবহার করুন। রান্নায় আলাদা একটা মজার সুবাস আসবে।

পরিশেষে বলতে হয় একেবারে নতুন রাঁধুনী যারা তারা একটা রেসিপি বুক বেছে নিবেন, রেসিপি বুক মানেই কিন্তু নিখুঁত নয়। এক্ষেত্রে আপনি বাঙালিয়ানার রেসিপি বিভাগটি নিয়মিত অনুসরণ করতে পারেন 🙂

আরও জানুন » বেগুন মাসালা ফ্রাই – রেসিপি »

Comments

comments