আজ ১১ জুলাই বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস

0
107
১১ জুলাই বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস
Print Friendly, PDF & Email

আজ ১১ জুলাই, বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস। ‘নারী ও শিশু সবার আগে, বিপদে-দুর্যোগে প্রাধান্য পাবে’ এই প্রতিপাদ্য স্লোগান সামনে রেখে দিবসটি উপলক্ষে অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও সরকারি এবং বেসরকারিভাবে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। বাংলাদেশ সহ বিশ্বের সব দেশে এই দিবসটি পালিত হচ্ছে। এবারের দিবসটির প্রতিপাদ্য হল সার্বজনীন প্রজনন স্বাস্থ্যের জন্য পরিবার পরিকল্পনা। ১৯৮৭ সালের ১১ জুলাই পৃথিবীর জনসংখ্যা ৫০০ কোটিতে উন্নীত হয়। এর পর থেকে প্রতিবছর ১১ জুলাই বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস পালন করা হয়।

এক জরিপে দেখা গেছে যে, বর্তমানে জন্মগ্রহণকারী ১০০ জন শিশুর মধ্যে ৯৭ জন জন্মগ্রহণ করে তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে, যারা এমনিতেই অধিক জনসংখ্যার দেশে। ১৮০৪ সালে পৃথিবীর জনসংখ্যা ছিল ১০০ কোটি। জনসংখ্যা ২০০ কোটি হতে সময় লেগেছিল ১২৩ বছর। ধারণা করা হচ্ছে সামনের ১০০ কোটি বাড়তে সময় লাগবে ১১ বছর। জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে, আন্তর্জাতিক অভিবাসন বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলো তাদের নাগরিকদের হারাচ্ছে। মাত্রাতিরিক্ত জনংখ্যার কারণে যেহেতু এই দেশগুলো তাদের নাগরিকদের পর্যাপ্ত সুযোগ সুবিধা দিতে ব্যর্থ হয়-এমনকি অনেক সময় মৌলিক চাহিদাও পূরণ করতে পারে না সেহেতু বহু মানুষ উন্নত দেশগুলোর দিকে পা বাড়ায়।

বর্তমানে বাংলাদেশের জনসংখ্যা প্রায় ১৭ কোটি। ২০৫০ সালে তা বেড়ে প্রায় ২২ কোটিতে দাঁড়াবে। নারী ও শিশুরা জলবায়ু পরিবর্তনে মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়বে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশের মতো গরিব দেশের খাদ্য নিরাপত্তা চরম হুমকির মুখে রয়েছে। দেশের বিশাল দরিদ্র জনগোষ্ঠী এ হুমকির মুখে বসবাস করছে। একদিকে বিশাল জনগোষ্ঠী প্রাকৃতিক দুর্যোগের শঙ্কা মাথায় নিয়ে সমুদ্র উপকূলবর্তী এলাকাগুলোতে বসবাস করছে, অন্যদিকে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে খাদ্যপণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় নতুন করে তাদের সামনে খাদ্য নিরাপত্তা হুমকি হয়ে দেখা দিয়েছে।

এ দেশে জনসংখ্যা বৃদ্ধির বিষয়টি আজ ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। আয়তনের হিসেব করলে এই ছোট্ট দেশে প্রায় ১৮ কোটি মানুষের বাস তা ভাবাই কঠিন। অবিশ্বাস্য ব্যাপার হলো, গত ৪০ বছরে আমাদের দেশের জনসংখ্যা বেড়েছে প্রায় তিনগুন। বহুল জনসংখ্যার এই পরিস্থিতিতে দেশে যে সামগ্রিক সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে, তা মহাদুর্গতির চেয়ে কোন অংশেই কম নয়। ভয়ের ব্যাপার এতোটা ছিল না, যদি বর্ধিত জনসংখ্যাকে বর্ধিত জনশক্তিতে রূপান্তরের একটা যথাযথ সুপরিকল্পিত উদ্যোগ থাকতো দেশের কর্ণধারদের। অত্যন্ত পরিতাপের সঙ্গে বলতে হয় যে, জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়া সত্ত্বেও অন্যসব ক্ষেত্রের মতো এ ক্ষেত্রটিতেও আমাদের তেমন কোনো সুদুরপ্রসারী পরিকল্পনা নেই, নেই তেমন কোন মাথাব্যথা। ফলে কোন এক সময়ে দেশের জনসংখ্যা অসহনীয় হয়ে উঠবে। মালথাসের ভবিষ্যৎদ্বাণী সত্য হবে, নির্মমভাবে পরিবেশের ভারসাম্য বিনষ্ট হওয়ার কারণে আঘাত হানবে প্রকৃতি। অনাগত এ রকম ভয়াল পরিস্থিতির ভবিষ্যৎ নিয়ে আসলে আমরা কতটা ভাবছি? দেশের নীতি-নির্ধারকদের কি এ নিয়ে আছে কোন উৎকণ্ঠা? এদেশে বিশ বছর আগেও জন্মের হার এ রকম ছিল না। মাঝখানের সময়টুকুতে এ হার নেমে আসার কিঞ্চিৎ অগ্রগতিটি পূর্ববর্তী সময়ের প্রচার-প্রপাগান্ডার ফলই বলা যায়।

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সমস্যা এর বিশাল জনগোষ্ঠী, যা তার ভৌগোলিক আয়তন ও প্রাকৃতিক সম্পদের তুলনায় কল্পনাতীত বিশাল। বর্তমানে ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে সরকারের গৃহীত নানামুখি উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড বাধাগ্রস্থ হচ্ছে, সেই সঙ্গে পরিবেশের উপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। যার উদাহরণ আমাদের রাজধানী ঢাকা শহর। অত্যাধিক জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে মানুষের মৌলিক চাহিদা অন্ন, বস্ত্র, শিক্ষা, চিকিৎসা, বাসস্থানসহ রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক সকল প্রকার সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। ফলে সমাজে বাড়ছে দারিদ্র্য, বেকারত্ব, বাসস্থান সংকট, খাদ্য সমস্যা, অপরাধ, সন্ত্রাস, দুনীর্তি, অপুষ্টি, পতিতাবৃত্তি, ভিক্ষাবৃত্তি, মাদকাসক্তি, নিরাপত্তাহীনতাসহ আরো নানাবিধ সমস্যা।

পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ১৯৫১ সালে বাংলাদেশে (তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান) জনসংখ্যা ছিল দুই কোটি তিন লাখ। বর্তমানে দেশের জনসংখ্যা প্রায় ১৬ কোটি ৭০ লাখ। জনসংখ্যা বৃদ্ধির বার্ষিক হার ১ দশমিক ৩৪ শতাংশ। প্রতি বর্গকিলোমিটারে এখানে বাস করে ৯৭৯ জন।

আরও জানুন » নাগরিক সুবিধার প্রতীক্ষায় ছিটমহলের মানুষ »

Comments

comments