বইয়ের যত্নে ৭ টি পরামর্শ

0
682
বইয়ের যত্নে ৭ টি পরামর্শ
বইয়ের যত্নে ৭ টি পরামর্শ
Print Friendly, PDF & Email

বই আমাদের জ্ঞানের আলোয় আলোকিত করে। আমাদের জানার কোন শেষ নেই আর বই আমাদের জানার পথকে অসীম করে দেয়। আর বই মানুষের জীবনের খুব ভালো বন্ধু যা আমাদের সব সময় সঠিক পথ দেখায়। তাই আমাদের নিয়মিত ভালো ভালো বই পড়া উচিৎ। আমরা যারা বই পড়তে পছন্দ করি তারা ছোট হলেও বাসায় একটি বই শেলফ রাখি। বই পড়ার সাথে সাথে ও বইকে দীর্ঘ দিন ভালো রাখতে আমাদের সবার উচিৎ বই এর যত্ন নেওয়া। আসুন জেনে নেই বইয়ের যত্নে কয়েকটি উপায়-

বইয়ের সংরক্ষণ-

দীঘদিন বই সংরক্ষণ করতে আলো-বাতাসযুক্ত শুকনো জায়গা রাখতে পারি। আমরা অনেকেই পুরোনো বাড়িতে থাকি আর পুরোনো বাড়ি ভিজা ও স্যাঁতস্যাঁতে থাকে এই অবস্থা বই ঠান্ডায় ভিজে নষ্ট হয়ে যায়। তাই কয়েকদিন পরপর বইগুলো নরম রোদে দিতে হবে। আমরা অনেকে শখ করে বইয়ের মধ্যে ফুল, পাতা রেখে দেই এতে করে বইয়ের পাতার রঙ নষ্ট হয়ে যায়। খাবার খাওয়ার সময় বই পড়া উচিৎ নয় খাবারের দাগ লেগে যেতে পারে ও পোকামাকড় আক্রমণ করতে পারে। আর পানি থেকে বই দূরে রাখুন। বইয়ের পাতা ভাঁজ করবেন না এতে করে ভাঁজে ভাঁজে ছিড়ে যেতে পারে। দীর্ঘদিন বই সংরক্ষণ করে রাখতে বইয়ের পাতা সোজা করে রাখুন। কলম বা পেন্সিল দিয়ে বইয়ে না দাগানোই শ্রেয়।

বুক শেলফে-

বই ভালো রাখতে খাড়া করে রাখা উচিৎ। একটার উপর আরেকটা বই রাখা উচিৎ নয়। এতে বাঁধাই খুলে যেতে পারে। নিয়মিত বই পড়ার অভ্যাস করুন বই নাড়াচাড়া মধ্যে থাকলে বই ভালো থাকবে। বই সহজে খুজে পেতে বিষয় অনুযায়ী সাজিয়ে রাখতে পারেন। শেলফ থেকে বই নিলে আবার ঠিক জায়গায় বই রাখুন। এতে বই হারিয়ে যাবার সম্ভবনা কম থাকবে। বুক শেলফে যদি অল্প জায়গা থাকে তাহলে অল্প জায়গায় যে কটা বই রাখা যায় ঠিক সে কটা বই রাখুন গাদাগাদি করে বই রাখবেন না। দুইটা বইয়ের মাঝে একটু হলেও ফাঁকা রাখুন এতে বাতাস চলাচল করতে পারবে।

ধুলাবালি ও পোকামাকড়-

ধুলাবালি ও পোকামাকড় বইয়ের প্রধান শত্রু যাদের আক্রমণে আপনার বহু মূল্যবান বই নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তাই শেলফে বইয়ের পাশে ন্যাপথলিন বা কচি নিম পাতা রাখতে পারেন এতে করে বইয়ে পোকামাকড় আক্রমন করেনা এবং দূর্গন্ধ হয় না।

পরিষ্কার রাখতে-

নরম শুকনো সুতি কাপড় দিয়ে মুছে বই পরিষ্কার করুন। বইয়ের তাক সপ্তাহে একবার অন্তত পরিষ্কার করুন। বইয়ের তাক পরিষ্কারে ভ্যাকুয়াম ক্লিনার ব্যবহার করুন। বইয়ের পাতা ওল্টানোর ক্ষেত্রে থুথু ব্যবহার করা উচিৎ নয়। থুথু ব্যবহারের ফলে বই নষ্ট হয়ে যেতে পারে আর এটা অস্বাস্থ্যকর।

বিরক্তিকর কাজ-

আমরা অনেকেই এ কাজটা করে থাকি নিজেদের প্রয়োজনের ক্ষেত্রে বইয়ের দু-একটা পাতা ছিড়ে নেই। এটা খুব অনুচিত কাজ যেটা আমাদের কারোই করা উচিৎ না। বিশেষ প্রয়োজনের ক্ষেত্রে আমরা ফটোকপি করে নিতে পারি।

কাউকে পড়তে দিলে-

কাউকে বই পড়তে দেওয়ার সময় অবশ্যই যাকে পড়তে দিচ্ছেন তার নাম ও বইয়ের নাম লিখে রাখুন ফলে মনে রাখতে পারবেন কাকে বই দিয়ে ছিলেন। এতে বইটা হারিয়ে যাবার সম্ভাবনা কম থাকবে। আর যাকে বইটা পড়তে দিচ্ছেন দেওয়ার আগে নিশ্চিত হয়ে নিন তার কাছে বইটা সযত্নে থাকবে কিনা। আর আমাদের প্রত্যেকের উচিৎ কারো বই ধার নিলে সময় মতো বইটা ফেরত দেওয়ার চেষ্টা করা ও সযত্নে রাখা।

অনেক দিনের পুরানো বইয়ের ক্ষেত্রে-

অনেক দিনের  পুরানো বই ছিড়ে যায়, বাঁধাই খুলে যায় ও মলাট ছিড়ে যায় সে ক্ষেত্রে বইগুলো নতুন করে বাঁধাই করা বা সম্ভব হলে লেমিনেট করে রাখা। পুরানো বই উঠানো বা নামানোর ক্ষেত্রে সাবধানে করা উচিৎ।

বই আমাদের প্রিয় বন্ধু। বই আমাদের অবসর সময়কে সুন্দর করে তোলে। জ্ঞান অর্জনের জন্য বইয়ের কোনো বিকল্প নেই। আপনাদের কি জানা আছে বইয়ের যত্নে আরো কোনো কার্যকরী উপায়?

অনলাইনের আপনার পছন্দের বইটি অর্ডার করতে ঘুরে আস্তে পারেন অফুরন্ত ডট কম এ, লিঙ্ক https://goo.gl/YjKamj

আরও জানুন » বেদানা ফলের ৯ টি অজানা উপকারিতা »

Comments

comments