প্রিন্টারের মূল্যবান কালি বাঁচাতে ৭টি কৌশল

0
289
প্রিন্টারের মূল্যবান কালি বাঁচাতে ৭টি কৌশল
Print Friendly, PDF & Email

প্রিন্টার এখন ব্যাপকভাবে ব্যবহার হওয়া একটি আউটপুট ডিভাইস৷ ব্যক্তিগত কাজে, অফিসের কাজে এবং অন্যান্য কাজেও প্রিন্টার ব্যবহার করা হচ্ছে। আজকাল খুব অল্প দামে মানসম্মত প্রিন্টার পাওয়া যায়। দামী বা কমদামী প্রিন্টার নিয়ে বিতর্ক থাকলেও প্রিন্টারের কালির ক্ষেত্রে সবার মতামত মিলে যায়। কারণ এর দাম অনেক বেশি। আর আসল উৎপাদনকারী ছাড়া অন্যদের উৎপাদিত কালি ব্যবহার করলে বেশ কিছু সমস্যার পড়তে হয়। তাই প্রিন্টারের কালি বাঁচানোর চিন্তাটাই মাথায় আসে সবার প্রথমে। তাই কালি বাচাঁতে এই পরিক্ষীত ৭ টি কৌশল অনুসরণ করতে পারেন –

১. লেআউট চেক করুন

প্রিন্ট বাটনে প্রেস করার আগে প্রিন্ট লেআউট চেক করে নিন। এমনও হতে পারে ছোট ছোট অনেকগুলো লেখা আপনি একটি পৃষ্ঠাতেই প্রিন্ট করে নিতে পারছেন। এছাড়া প্রিন্টারের সেটিং অপশনে গিয়ে “লো-কোয়ালিটিকে” ডিফল্ট অপশন হিসেবে নির্বাচন করুন। এছাড়া রেজুলেশন কমিয়ে এবং সাদা-কালোতে প্রিন্ট করে প্রিন্টারের অনেক কালি বাঁচানো সম্ভব।

২. ইকো-ফন্ট

এমন কিছু ফন্ট আছে যা ব্যবহার করলে সাধারণ ফন্টের চেয়ে প্রায় ২০% কম কালি খরচ হয়। এদের বলা হয় ইকো-ফন্ট। ইকো-ফন্ট ডাউনলোড করে নিন। ইকো-ফন্ট শুধু প্রিন্টারের কালিই নয়, কাগজ ও বাঁচায় অনেকটাই। এই লিঙ্কে http://www.ecofont.com/en/products/green/font/download-the-ink-saving-font.html যেয়ে প্রয়োজনীয় ইকো-ফন্ট ডাউনলোড করে নিতে পারেন।

৩. ইপসনের কালি

ইপসনের কালি দেশের যে কোন কম্পিউটার দোকানে পাওয়া যায়। কালি/রিফিল কেনার সময় ইনটেক প্যাকেট কিনা তা দেখে নিন। অনেক সময় প্যাকেট ব্রেক থাকতে পারে। আর ডাক্তারের দোকান থেকে সিরিঞ্জ কিনে নিন চারটা। প্রত্যেকটি পাঁচটাকা করে নিবে। সিরিঞ্জ কিনার সময় সাবধান থাকবেন। অনেক সিরিঞ্জ আছে ওয়ান টাইম ব্যবহারের জন্য। চেক করে কিনবেন যাতে বার বার ব্যবহার করা যায়। ব্যাস বাসায় এসে রিফিল করবেন। এইটা দিয়ে আনুমানিক ৬ থেকে ১২ মাস চলে যাবে। তারপরও অনেক কালি বেঁচে যেতে পারে।

৪. প্রয়োজনীয় অংশ

ইন্টারনেট থেকে সংগ্রহ করা অনেক জিনিসই আমাদের প্রিন্ট করার প্রয়োজন হয়। ধরা যাক, একটা ওয়েবসাইটে নির্দিষ্ট কোন পেইজ আপনার প্রিন্ট করতে হবে। সেই পেইজে লেখার পাশাপাশি আছে ছবি, এডভারটাইজ ইত্যাদি অপ্রয়োজনীয় জিনিস যা আপনার প্রিন্টারের কালি নষ্ট করবে। এমন অবস্থায় আপনার ঠিক যতটুকু প্রয়োজন ততটুকু প্রিন্ট করুন।

৫. কালি সম্পূর্ণ শেষ করুন

প্রিন্টার, কালি শেষ হলে আপনাকে সতর্ক করে দেয়। কিন্তু দেখা যায় আরও ১০-১৫% কালি তখনো বাকি রয়ে গিয়েছে। তাই প্রিন্টার সতর্ক করলেও প্রিন্ট করতে থাকুন যতক্ষণ না প্রিন্টারের কালির শেষ হয়ে বন্ধ না হয়ে যায়।

৬. কালার কার্টিজ চেক করে নিন

কার্টিজের উপরে স্টিকার পাবেন সেটি খুলে কালি দিতে হবে। ব্লাক ও কালার দুটোতেই তিনটা করে ছিদ্র পাবেন। কালো কার্টিজের যে কোন ছিদ্র দিয়ে কালি ঢুকালেই হবে তারপরও বড় ছিদ্র দিয়ে পরিমান মত কালি দিন। আর কালার কার্টিজের ক্ষেত্রে আগে চেক করে নিন কোন ছিদ্রে কোন কালি আছে। সেই হিসাবে কালি দিন। আর কালি দেয়ার পর টেপ দিয়ে ছিদ্র বন্ধ করে মিনিমান ছয় ঘন্টা রেখে দিন। তাহলে ভালভাবে প্রিন্ট করতে পারবেন কালিও কম খরচ হবে।

৭. অপ্রয়োজনীয় প্রিন্ট

অনেক ডকুমেন্ট প্রিন্ট করার পর দেখা যায় আসলে তার প্রয়োজন হচ্ছে না। এক্ষেত্রে প্রিন্ট করার আগেই ভালভাবে ভেবে দেখুন আসলেই তা প্রিন্ট করার দরকার হচ্ছে কি না। কয়েক পৃষ্ঠার প্রয়োজনে পুরো বইটাই প্রিন্ট করবেন না।

আরও জানুন » স্মার্টফোন ও ট্যাব সুরক্ষায় ৯টি কার্যকরী তথ্য »

Comments

comments