জাপানঃ ছোট্ট একটা সাজানো ফুলের বাগান

0
212
পিস মেমরিয়াল জাদুঘর
Print Friendly, PDF & Email

দিনটা ছিল ২৩ আগস্ট; চির স্মরণীয় কয়েকটি দিনের ১টি! ৪ চারটি বিমানবন্দরের দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় অবশেষে স্পর্শ করলাম আমার স্বপ্নের মাটিতে! ইমিগ্রেশন অফিসারের সামনে গিয়েই বুঝতে পারলাম কেন জাপান এত পরিপাটি আর গোছানো? আমাদেরকে অপরুপ জাপানের ভূমিতে প্রবেশ করতে ইমিগ্রেশনে ২০ মিনিটের একটু ধকল সইতে হলো সত্যি কিন্তু চোখের এক পলকেই মনে হলো দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার সার্থকতা মাত্র ১ মিনিটই যথেষ্ট!

ফুকুওকা বিমানবন্দর পার হয়ে যখন প্রথম কদম দিলাম মিষ্টি একটা অনুভূতি যেন স্পর্শ করে গেল, শিরা উপশিরায় যেন উত্তেজনার আবহ সৃষ্টি হলো। মুহূর্তেই মনে হল পৃথিবীর সবচেয়ে ক্লান্ত মানুষটিও হয়তো এই সাজানো বাগানে পা দিলে তরতাজা হয়ে যাবে। সারি সারি গাড়ি আর অজস্র মানুষের মিলনমেলা কিন্তু কি নিদারুন সুনসান নিস্তব্ধতা! এতো রঙ্গিন মলাটে মোড়ানো জাপান দেখে মনে হলো জীবনে প্রথম কোন রঙ্গিন ফ্রেমে প্রবেশ করলাম! বিমানবন্দর থেকে আমাদের গন্তব্য ছিল দূর পথ সিরোহামা ধাঞ্ছি অথচ প্রথম দিনের সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হলো সম্পূর্ণ নতুন একটা জায়গায় পাবলিক ট্রেনে এবং বাসে পৌঁছে গেলাম; বলে রাখা ভালো জাপানের যাতায়াত খরচ আমাদের সাধ্যের অনেকটা বাহিরে! আপনি ১০০ কিমি যেতে হয়তো ৩০ মিনিট যথেষ্ট কিন্তু এর জন্য আপনাকে গুনতে হবে বাংলার ৩০০০-৪০০০ টাকা। পাবলিক যানবাহনে সেটা আবার অর্ধকের ও কম।

এতোদিন শুধু বই খাতায় জেনেছি কিন্তু নিজের চোখে যতই দেখছি আর অবাক হচ্ছি কেমন করে একটা দেশ এতো পরিপাটি হতে পারে? হাজার হাজার লাক্সারীয়াস গাড়ি বলে দেয় কেন জাপান পৃথিবীর অন্যতম সেরা প্রযুক্তির দেশ। জাপানীরা মনেহয় তাদের বাড়ি থেকে রাস্তাকেই প্রাধান্য দেয় না হলে এতো প্রশস্ত রাস্তা কিন্তু ছোট ছোট তাদের বসতবাড়ি! সিরোহামা ধাঞ্ছি পৌঁছে একটু বিশ্রাম নিয়ে সন্ধাবেলায় বেরিয়ে পড়লাম এখানকার মনোমুগ্ধকর এওন শপিংমলে! রঙ্গিন নিয়ন আলোয় যেন পৃথিবীর সব সৌন্দর্য লুটোপুটি খাচ্ছে! বিশাল শপিংমলে সব পণ্যের সারিসারি সমাহার, দামে আকাশ্চুম্বি হওয়ায় তেমন কিছু কেনা হয়নি কিন্তু আলো ঝলমলে পরিবেশে সময় যেন পাগলাঘোড়া! টেরই পাইনি কখন ২-৩ ঘণ্টা কেটে গেছে।

ফুকুওকাতে অগাস্ট মাসের আবহাওয়া অনেকটা আমাদের দেশের মতো হওয়াতে সহজে মানিয়ে নিয়েছি। ভোর ৮টায় কিতাক্যুশু বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক সেমিনারে আমার নিজের গবেষণার উপর বক্তব্য আছে তাই নিখাদ ঘুম দিলাম। ভোর ৬টায় ঘুম থেকে উঠে ঠিক জাপানিদের মতো সময়ের কাছ থেকে আমার পাওনা সবটুকুন বুঝে নেওয়ার সংগ্রামে নেমে পড়লাম! বাহারী নামের জাপানি ট্রেনগুলো! সাবওয়ে, মেট্রো, মনোরেল, জে’আর, সিংকাঞ্ছেন বা বুলেট ট্রেন! ২দিনের আন্তর্জাতিক সেমিনারে কাছ থেকে দেখলাম জাপানী মানুষগুলোর একনিষ্ঠতা আর কাজের গতি! প্রফেসর হিরুয়েকি মিয়াকে (Hiroyuki Miyake) যিনি একজন খাটি বাঙ্গালি প্রেমি মানুষ, বাংলাদেশের পরিবেশগত উন্নয়নের জন্য নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন সেই মহান কাজ পাগল মানুষটার কাজের ধারা দেখলাম। কিতাক্যুশু বিশ্ববিদ্যালয়ে ২য় দিনটা ছিল অভূত সম্মানের এক নিদর্শন, জাপানের ঐতিহ্যবাহি কিমোনো পরলাম আর সাথে ট্র্যাডিশনাল গ্রীন টি পরিবেশন, নিজেকে খুব সম্মানিত অনুভব করলাম।

কিমোনো

দুই দিনের আন্তর্জাতিক সম্মেলন শেষ করে বেরিয়ে পড়লাম গন্তব্য হিরোশিমা! হ্যাঁ সেই ছোটবেলার শিহরন জাগানো হিরোশিমা! জাপান এসে স্বপ্নের হিরোশিমাকে না দেখে চলে যাব এটা কেমন করে হবে? ফুকুওকা থেকে হিরোশিমার দূরত্ব মাত্র ২৮৪ কি.মি.! মাত্রই কারন স্বপ্নিল বুলেট ট্রেন আছেনা? মাত্র ৫০ মিনিটে ৯৫০০ ইয়েনের টিকেটের বিনিময়ে পৌঁছে গেলাম হিরোশিমা। নিজেকে বিশ্বাস করাতে পারছিনা আমি দাঁড়িয়ে আছি বহুকাল ধরে লালন করা স্বপ্নের হিরোশিমায়! জাপানের বিখ্যাত সব ট্রেন সার্ভিসে চড়ে এসে যখন হিরোশিমায় নামলাম তখন আলো ঝলমলে রাত। আমাদের দেশে মানুষ বিয়েবাড়ি যেমন করে সাজায় সমগ্র রাতের জাপান যেন ৩৬৫ দিনের বয়সি পৃথিবীতে প্রতিদিন বিয়েবাড়ি। এই প্রথম রাত্রিযাপন করতে হবে কোন হোটেলে আর জাপানের ভালোমানের হোটেলে একটি রাত্রি থাকা মানে বাংলাদেশের মধ্যবৃত্তের গুনে গুনে ১৫ দিনের কামাই!

সুতরাং আমাদের খোঁজ ১টা ক্যাপসুল হোটেলরুম। খোঁজাখুঁজির পর ২ জাপানী বন্ধুর সহযোগিতায় পেয়েও গেলাম। রাতের ডিনার অক্টোপাসের নুডুলস আর সুপ।

এটমবোম ডোম

পরেরদিন সকালে আমরা গেলাম হিরোশিমার এটমবোম ডোম এ। প্রথমেই আঁতকে উঠলাম এটমবোম ডোম দেখে, ১টা আস্ত কঙ্কালসার বিল্ডিং ঠায় দাঁড়িয়ে আছে ৭০ বছরের ইতিহাস হয়ে। লেকের কূলকুল পানির মৃদু শব্দের সাথে যেন নিরব মিতালী, যেন নিবৃতে কেঁদে চলছে কালের সাক্ষি হয়ে একসময়ের বাণিজ্যিক ভূমি এটমবোম ডোম বিল্ডিং। সুনসান নীরবতায় যেন বয়ে বেরাচ্ছে ইতিহাসের কালো ১টা অধ্যায় “২য় বিশ্বযুদ্ধ” কে। আবেগহীন জাপানী যেন প্রবল আবেগের স্রোতধারায় কেঁদে উঠে এখানে এসে। এখান থেকে ১০ মিনিট হেঁটে গেলে “পিস মেমরিয়াল জাদুঘর- PEACE MEMORIAL MUSEUM” ভারাক্রান্তচিত্তে প্রবেশ করলাম। একি! নিজেকে বিশ্বাস করাতে পারছিনা আমিকি এই সময়ে দাঁড়িয়ে নাকি ১৯৪৫ সালের সেই ভয়ার্ত সময়ের কোন এক করালগ্রাসে নিমজ্জিত! যাদুঘরে পা রেখেই মনেহলো আমি ফিরে গিয়েছি ৭০ বছর আগের হিংস্র সময়ের চোরাবালিতে। তেজস্ক্রিয়তায় জ্বলে ছারখার গাড়ি, বাড়ি, প্রাসাদ, অট্টালিকা, স্থাপনা। ঝলসে পড়ছে নারী, শিশু, বৃদ্ধ, আবাল, বনিতার মাংসপেশি। এ যেন কেয়ামতের চিনহ, মনটা গুমোটবাধা বিষণ্ণতায় ভরে গেল। আজ থেকে ৭০ বছর আগের ঘটনা হয়তো আমার বাবারও ঠিক মনেনেই কিন্তু নিজের চোখে হিংস্রতার একটু আলামত আমাকে কিছুটা বিচলিত করলো। শোক বইতে কিছু কথা লিখে আসলাম “Nuclear bomb is always crucial, please keep peace on your world. This is your, our and every single people’s world; let make peace!” হোটেলের পথে ট্রেনে তেজস্ক্রিয়তার অভিশাপ দেখলাম ২জন মানসিক বিকলাঙ্গ মানুষের মাঝে। নির্মল আনন্দের মাঝে এই হিরোশিমা পটভূমি প্রজাপতি পাখনা মেলা মন বলাকাকে বিষণ্ণ করে দিলো নীরব নিস্তব্দ হয়ে হোটেলে ফিরে আসলাম।

পরেরদিন সকাল ৮টায় রওয়ানা দিলাম হিরোশিমার প্রাকৃতিক লীলাভূমি “মিউজিমা দ্বীপের” উদ্দেশে। ফেরিতে ২০ মিনিটের ছোট্ট নদী পারাপার হয়ে টিকেট কেটে যেই না পা রাখলাম যাদুর এই দ্বীপে মনে হলো এ যেন স্বপ্নসীমা পাড়ি দিয়ে অন্য কোন জগতে এসে পড়লাম! ওমা একি! যে হরিণ দেখতে আমাদেরকে যেতে হয় বাংলাদেশের চিড়িয়াখানা কিংবা সুন্দরবনের অথবা নিঝুমদ্বীপের গহিন জঙ্গলে আর এই মিউজিমা দ্বীপে হরদমে ঘুরে বেরাচ্ছে হরিণ! প্রকৃতিও যেন দু’হাতে ভরে দিয়েছে জাপানকে।

প্রযুক্তি নির্ভর এই দেশটাতে প্রকৃতি যেন উদার! জাপানী মানুষগুলো ইংরেজিতে খুব বেশি পটু নয় কিন্তু মনের দিক থেকে বিশাল থেকে বিশালতর। যে কোন প্রশ্নের উত্তর হয়তো ইংরেজীতে দিতে পারেনা কিন্তু মাথা নাড়িয়ে “আরিগাতো হোজাইমাস্তআ” বলতে একটুও ভুল হয়না! আর জাপানী মেয়েদের কথা কি আর বলবো!

জাপান যেমন পৃথিবীর মাঝে আর একটা পৃথিবী তেমনি এখানকার মেয়েরাও যেন এক একটা বারবি ডল! কি লাজুক, বিনয়ী কিন্তু বন্ধুসুলভ তাদের মন, প্রতিটি প্রশ্নের উত্তরে একরাশ হাঁসি যেন লেগেই আছে তাদের চোখে মুখে। খুব চমৎকার একটা দিন পার করে ট্রেন এ চেপে বসলাম, আমাদের এবারের গন্তব্য কিয়োটো। বলে রাখা ভালো কিয়োটো জাপানের প্রাচীনতম শহর যেখানে শতশত উপশনালয়, টেম্পল আর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অনন্য উদাহরণ। জাতিসংঘ কিয়োটোকে ওয়ার্ল্ড হারিটেজ সাইট হিসেবে ঘোষণার মাধ্যমে আন্তর্জাতিকভাবে সম্মানিত করেছে। কিয়োটোকে অবলোকন করতে অন্তত ৫-৭ দিনের প্রয়োজন কিন্তু হাতে সময় খুব কম হওয়ায় মাত্র কয়েক ঘণ্টায় যতটুকু দেখলাম যেন নয়ন জুড়িয়ে গেলো! সুবিশাল টেম্পলের সামনে যখন দাঁড়ালাম শরীর মন যেন নৃত্যের দোলায় নেচে উঠলো। আশ্চর্যের ব্যাপার হলো জাপানী তরুন তরুনীরা কতটা ধর্মান্ধ হতে পারে এখানে আসলে বুঝা যায়। টেম্পলে এসে কত পূজা আর গাছের সাথে সুতা বেধে মনে মনে তাঁর প্রিয়তমকে ঝপছে সেটা কল্পনাতীত! দেখতে দেখতে বিকেল গড়িয়ে সাজবাতির সময় হয়ে যায় কিন্তু মনে আক্ষেপ জমে ইস আর একটু বেশি সময়ধরে যদি দেখতে পারতাম। রাতের জাপান সেতো নৈসর্গিক দৃশের এক সমাহার। হরেক রকমের বাতিগুলোর আলোকসজ্জায় সজ্জিত করেছে মোহনীয় জাপানকে।

কিয়োটোর পাট চুকিয়ে আমাদের গন্তব্য জাপানের ২য় বিখ্যাত ওসাকা সিটি। জাপানের প্রত্যেকটা পুরনো শহরের পরেই হয়েছে নতুন আর একটা শহর; যেমন ওসাকা থেকে সিন-ওসাকা, কোবে থেকে কোবে-সি। সমুদ্রের মাঝে প্রযুক্তির ছোঁয়ায় তৈরি হয়েছে বিখ্যাত কানসাই এয়ারপোর্ট আর এই এয়ারপোর্টের পাশেই দর্শনার্থীদের জন্য গড়ে তোলা হয়েছে কানসাই এয়ারপোর্ট মিউজিয়াম। আছে দুরানুবিক্ষনিক যন্ত্রের মাধ্যমে খুব কাছে থেকে রানওয়ে থেকে বিমানের উড্ডয়ন থেকে ল্যান্ডকরার দৃশ্য দেখার অপার সুযোগ। একেকটা দিন যতই জাপানকে দেখছি, মাথা কুর্নিশ করে জাপানী মানুষের বিনয়ের সাথে “আরিগাতো” বলার ঢং দেখছি ততোই মুগ্ধ থেকে মুগ্ধতর হচ্ছি। এরি মধ্যে ২-৪টা জাপানী বন্ধুকে যখন তাদের ভাষায় “সুনিমাছেন” কিংবা “অতাসিয়া আনাতায়ো আইস্তারু” অর্থাৎ ভালোবাসি কথাটা বলছি তাদের সেইকি খুশি!

জাপানের প্রায় প্রত্যেকটা সিটির মতো ওসাকাতে আছে সমগ্র শহর দেখার ওয়াচ টাওয়ার যার তীর্থে উঠলে মনে হয় এ যেন অন্য কোন গ্রহ থেকে জাপানকে নতুন রুপে দেখা! জাপানের বাহারি খাবারে মেনুতে আছে বৈচিত্র্যতা, ছোট ছোট ২টা কাঠি (চপ্সটীক) দিয়ে কেমন করে অনায়াশে নুডুলস, অক্টোপাস কিংবা শুকরের তৈরি খাবারগুলো খেয়ে ফেলে আজও কল্পনাতীত। জাপানী বন্ধুর সাহায্য নিয়ে অনেকবার চেষ্টা করেও কাঠি দিয়ে খাবার আয়ত্তে আনতে পারিনি! অথচ কি গোগ্রাসে তারা খেয়ে চলছে ওই কাঠি দিয়ে এ যেন এক ধাঁধাঁর খেলা। আর একটা বিষয় খুব অবাক লাগে এমনকি আপনি খুব ভালোভাবেই খেয়াল করবেন যখন জাপানের ট্রেন এ উঠবেন, সেটা হচ্ছে জাপানিদের অতি আত্মকেন্দ্রিক কিংবা রোবটিক্স বিষয়গুলো। একটা ট্রেনের কামরায় হয়ত ১০০জন মানুষ কিন্তু আপনি কোন টু শব্দটুকু শুনবেন না! কেবল প্রত্যেকটা স্টেশনের আগে পরে আরিগাতো বলে স্টেশনের নাম বলা ছাড়া; এখানে সবাই নিজের স্মার্টফোন নিয়ে ঠায় দাঁড়িয়ে আছে! একটু বয়সীরা হয়ত কমিকস এর বই পড়ছে, পাশের মানুষটার সাথে হয়ত ঘণ্টার পর ঘণ্টা ট্রেন এ বসে আছে কিন্তু কেউ কারো সাথে ১টা টু শব্দটা পর্যন্ত নাই। যন্ত্র নিয়ে তাদের যতটুকু আগ্রহ মানুষ নিয়ে নেই তাঁর সিকি পরিমাণ। এটা বলার অপেক্ষা রাখেনা কাজ পাগল জাপানিরা অনেক বেশি যান্ত্রিক হয়ে গেছে, যানবাহনের টিকেট থেকে শুরু করে খাবার-পানীয় কোন কিছুতেই মানুষের সরাসরি স্পর্শের দরকার হয়না। সন্দেহ নেই জাপানে অবস্থানের শেষদিনটা অন্যতম সেরা দিন কারন জগৎবিখ্যাত হলিউডের “ইউনিভারসেল ওয়ার্ল্ড” ভ্রমন আর বিশাল একুরিয়াম দেখা ছিল চোখ ধাঁধানো অভিজ্ঞতা।

একুরিয়াম এর বড় বড় হাঙ্গর, ডলফিন, শার্ক থেকে শুরু করে নানান প্রজাতির মাছ যেন ঘিরে ধরেছে আমাকে! একুরিয়ামে ঢুকলে মনে হবে সমুদ্রের অতল গহীনে নিমজ্জিত আপনি আর আপনার চারদিকে শুধু সামুদ্রিক প্রানী আর মাছ। একুরিয়াম দেখা শেষে দুপুরে গেলাম ইউনিভারসেল ওয়ার্ল্ড দেখতে। প্রথমেই চোখে পড়লো ইউনিভার্সেল ওয়ার্ল্ড এর বিশাল ওয়ার্ল্ড গ্লোব। এত্তদিন যেটা বিদেশি সিনেমায় দেখেছি আজ স্বয়ং নিজের চোখে দেখছি! নিজের গায়ে আলতো করে চিমটি কাটলাম আর ভাবলাম আমি কি সত্যি ইউনিভার্সেল ওয়ার্ল্ড এর সামনে দাঁড়িয়ে আছি নাকি সিনেমা দেখছি? ইউনিভার্সেল ওয়ার্ল্ড এর ভিতরে প্রবেশ করার পর চোখ ছানাবড়া হয়ে গেল। একেকটা ইভেন্ট শরীরকে আন্দোলিত করে তুলল বহু গুন। ৪-ডি মুভি কিংবা ফলস জুরাসিকপার্ক এ ভ্রমন, বিশাল রোলার কোস্টার কোনটা রেখে কোনটা বলব? দিনটা ছিল আমার জাপানে অবস্থানের শেষ দিন তাই মনে আক্ষেপ নিয়ে ফিরতে হলো হোটেল রুমে। এ যেন শেষ হয়েও হলো না শেষ!

এত সুন্দর জাপানকে দেখে মনে মনে একটা প্রশ্নই জেগে উঠলো কবে আমার দেশটা ছবির মত হবে? পরের দিন সকাল বেলা উদগ্রীব হয়ে কানসাই এয়ারপোর্ট এ আসলাম কারণ এতো এতো সুন্দরের মাঝেও আমি উপলব্ধি করলাম আমার মাতৃভূমি আর প্রিয় মানুষের মুখগুলো, আমাকে যে ফিরে আসতে হবে নাড়ির টানে আমার প্রিয় ঢাকায় আমার নিজের ভূমিতে আর পিছনে রেখে আসলাম একরাশ সুখের স্মৃতি, জমা হয়ে আছে হৃদয়ের মণিকোঠায়।

আরও জানুন » তস্কর »

ওয়াহিদ উদ্দিন একজন তরুণ ফ্রিলান্স লেখক যুক্ত আছেন পরিবেশ দূষণ ও উন্নয়নমূলক গবেষণার সাথে। একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে গবেষণা সহকারী হিসেবে কর্মরত জনাব ওয়াহিদ পরিবেশ বিজ্ঞানে অনার্স মাস্টার্স শেষে যোগ দিয়েছিলেন ব্লাকস্মিথ ইনস্টিটিউট নামক আমেরিকার একটি পরিবেশ উন্নয়ন বিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠানে এবং বাংলাদেশ ডিজাস্টার প্রিপেয়ার্ডনেস সেন্টারে জাতীয় দুর্যোগ অধিদপ্তরের একটি প্রকল্পে জেলা সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করার কারণে ঘুরে বেড়িয়েছেন বাংলাদেশের প্রাকৃতিক লীলাভূমি সহ দুর্যোগ কবলিত বহু এলাকা আর অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর জীবনধারণ পদ্ধতির। ভ্রমন পিয়াসু এই লেখকের দেশি ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গবেষণাপত্র প্রকাশের পাশাপাশি পরিবেশ, সামাজিক প্রেক্ষাপট, সংস্কৃতি এবং ভ্রমন বিষয়ে একাধিক লেখা ছাড়াও অসীম আগ্রহ রয়েছে। বন্ধুপ্রতিম এই লেখক স্বপ্ন দেখেন দূষণমুক্ত সুন্দর এক বাংলাদেশের।

Comments

comments