ঘুম আসতে সাহায্য করবে এমন ৭টি উপায়

0
14839
ঘুম আসতে সাহায্য করবে এমন ৭টি উপায়
ঘুম আসতে সাহায্য করবে এমন ৭টি উপায়
Print Friendly, PDF & Email

ঘুমই হচ্ছে সুস্থ থাকার অন্যতম উপায়। ঘুম শব্দটি শুনলেই মনে বয়ে যায় এক ধরনের প্রশান্তি আর আরামের অনুভূতি। ঘুম এমন একটি বিষয় যা সুস্থ কিংবা অসুস্থ দুই ধরনের মানুষের জন্যই সমান জরুরি। প্রত্যেক মানুষের জন্য তাই ঘুমের গুরুত্ব অনেক। অনেক গবেষণায় দেখা গেছে, ভালোভাবে ঘুম হলে মানুষ অনেক বেশি কর্মক্ষম থাকে, সতেজ থাকে। যা তার শারীরিক ও মানসিক অবস্থার ওপর অনেক প্রভাব ফেলে। ভালোভাবে ঘুমাতে হলে মনের শান্তি একটি বড় বিষয়। আসুন জেনে নেই ঘুম আসতে সাহায্য করবে এমন ৭টি উপায়-

১.ঘুমের পরিবেশ নিশ্চিত করা

নিজের জন্য আরামদায়ক বিছানার ব্যবস্থা করা। আপনার উপযুক্ত বালিশ বেছে নিন- বালিশ না ব্যবহার করলে তা আপনার ঘুমে বিঘ্ন সৃষ্টি করবে। কারণ রক্ত আপনার মাথায় উঠে আসবে। বালিশ উঁচু হলে কাঁধে আর গলায় রক্তের চাপ বাড়বে।

ঘুমের জন্য দরকারি তাপমাত্রা, শব্দ এবং আলোর কথা মনে রাখতে হবে। খুব বেশি ঠাণ্ডা-গরম, শব্দ বা আলো ঘুমের সমস্যা করতে পারে।

শোবার ঘরে প্রয়োজনীয় বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা রাখা। নিজের সবচেয়ে আরামদায়ক পজিশনে শোয়াটাও অনেক জরুরি।

২. ঘুমের সহায়ক ব্যায়াম

হালকা ব্যায়াম ঘুমের গভীরতা আনতে সাহায্য করে। তবে তা ঘুমাতে যাওয়ার কমপক্ষে দু’ঘণ্টা আগে শেষ করতে হবে। হাঁটা,  জগিং, সাঁতার বা সাইকেল চালানো সপ্তাহে ৩ দিন ২০-৩০ মিনিটের জন্য। যা আপনার শরীরকে রিল্যাক্স করে আর গভীরভাবে ঘুমাতে সাহায্য করে।

৩.নিয়মিত জীবনযাপন

একই সময় ওঠুন আর একইসময় ঘুমান আর ঘুমানোর নিয়ম মেনে চলুন। রাত ৮ টার আগে খেয়ে ১১টার মধ্যে ঘুমানোর চেষ্টা করতে হবে।

৪.নিয়ম মেনে খাওয়া

বেশি খাবেন না- ঘুমানোর আগে বেশি খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য খারাপ তাতে ঘুমের ব্যাঘাত হয়। আবার একেবারে খিদের পেটও ঘুমের জন্য খারাপ। ঘুমাতে না পারলে শর্করা আর মিষ্টিজাতীয় খাবার কলা, মধু একটু খেতে পারেন।

৫. আরামদায়ক পোশাক

ঘুমানোর জন্য হাল্কা পোশাক ভালো। সুতির জামা পরুন। সুতির জামা যা ঘাম শুষে নিতে পারে আর বাতাস যেতে পারে এমন দেখে বেছে নিন। বেশি ফিটং জামা-কাপড় পরবেন না। চাইলে সাটিং ও সফট মকমলের পোশাক পড়তে পারেন।

৬.মেডিটেশন বা প্রার্থনা করুন

যখন ঘুম আসে না তখন প্রার্থনা করুন বা বিড়বিড় করুন। আপনি তখন ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়বেন। ঘুমানোর চেষ্টা করলে ঘুমে ব্যাঘাত হয়। তাই ঘুম না এলে বই পড়ার চেষ্টা করুন বা ১০০, ৯৯, ৯৮ এভাবে  সংখ্যা গুলো পুর্যন্ত গুনতে পারেন। ক্লান্তিতে ঘুম নেমে আসবে চোখে।

৭. মানসিক চাপের নিয়ন্ত্রণ

কোনো মনসিক চাপ থাকলে সেটা নিয়ন্ত্রণ করতে জানতে হবে বা সমস্যাটি সমাধান করতে হবে। কাজকর্মগুলো পরিকল্পিত ভাবে করতে হবে । অগ্রাধিকার ভিত্তিতে যেমন যেখানে আপনার যতটুকু দায়িত্ব  তা সঠিক ভাবে পালন করা। এভাবে আপনি মানসিক চাপ থেকে মুক্ত হতে পারেন। আর মানসিক চাপ না থাকলে আপনি পরিপূর্ণ ভাবে ঘুমাতে পারবেন।

ঘুমের চিকিৎসার বেশিরভাগই নির্ভর করে পিছনের কার্যকারণের উপর। অর্থাৎ কোনো মনসিক চাপ থাকলে সেটা নিয়ন্ত্রণ করতে জানতে হবে বা সমস্যাটি সমাধান করতে হবে। অন্য কোনো রোগের কারণে সমস্যা হয়ে থাকলে সেটির প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। পরিমিত ঘুম জীবন ও মনকে ভরিয়ে দিতে পারে প্রশান্তি আর প্রফুল্লতায়।

আরও জানুন » ক্লান্তি দূর করতে সহজ ১১ টি উপায় »

Comments

comments