দুর্গন্ধযুক্ত ঘাম থেকে মুক্তি পেতে ১১ টি কার্যকরী পরামর্শ

0
1834
দুর্গন্ধযুক্ত ঘাম থেকে মুক্তি পেতে ১১ টি কার্যকরী পরামর্শ
দুর্গন্ধযুক্ত ঘাম থেকে মুক্তি পেতে ১১ টি কার্যকরী পরামর্শ
Print Friendly, PDF & Email

খুব দুষ্কর এমন লোক খুঁজে পাওয়া যাদের ঘাম হয় না। প্রচণ্ড গরমে মানুষের জীবন যেন অতিষ্ঠ। শরীরের এই দুর্গন্ধ মানুষকে অস্বস্তিকর এবং বিব্রতকর অবস্থায় ফেলে। এই ঘামের ফলেই কারো কারো শরীরে অপ্রিয় ঘ্রাণের সৃষ্টি হয় যার মূল কারণ ব্যাকটেরিয়ার বংশবৃদ্ধি। একে চিকিৎসকরা বলেন Hyperhidrosis । শরীরের দুর্গন্ধ আমাদের দৈনন্দিন জীবনের সমস্যা হলেও এটা খুবই স্পর্শকাতর তাই এই বিষয় নিয়ে কেউ-ই কথা বলতে চাই না। গ্রীষ্মকালের কথা চিন্তা করে অনেকে মনে মনে উদ্বিগ্ন হওয়া শুরু করেছেন কি ভাবে মুক্তি পাবেন এই সমস্যা থেকে? দুর্গন্ধযুক্ত ঘাম থেকে মুক্তি পেতে জেনে নিন ১১ টি কার্যকরী পরামর্শ-

১. প্রতিদিন ফল ও সবজি – যারা মাছ, মাংস, ডিম, দুধ ইত্যাদি আমিষজাতীয় খাবার বেশি খায় তাদের ঘামের দুর্গন্ধ সাধারণত বেশি হয়। তাই প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় ফল ও সবজির পরিমাণ বেশি রাখুন।

২. সিনথেটিক পোষাক – সুতি কাপড় দেহ থেকে ঘাম শুষে নেয় ফলে দেহ থাকে ঘামের দুর্গন্ধ মুক্ত। গরমের সময় সিনথেটিক কাপড় এড়িয়ে চলুন।

৩. অন্তর্বাস পরিষ্কার – কাপড় চোপড় বিশেষ করে অন্তর্বাস নিয়মিত বদলাতে হবে এবং ধুয়ে পড়তে হবে। গরমের ঘামের কারণে শরীর ভিজে ভাপা ভাপা হয়ে থাকে ফলে তৈরি হয় দুর্গন্ধ। তাই অন্তর্বাস প্রতিদিন অন্তত ধুয়ে পরতে হবে।

৪. নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা – নিয়মিত পরিচ্ছন্নতার দিকে নজর দিন। অবাঞ্চিত লোম নিয়মিত পরিষ্কার করুন। এতে যেমন ঘাম নির্গমনের সময়কার অস্বস্তি দূর হবে তেমনি ব্যাকটেরিয়া জন্মাতেও বাধা দেবে।

৫. গোসলে গোলাপজল – প্রতিদিন গোসল করতে হবে। গোসলের পানিতে গোলাপজল ব্যবহার করুন। এতে ঘামের পরিমাণ কমবে।

৬. দুশ্চিন্তামুক্ত – মানসিক চাপ ঘর্মগ্রন্থির স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা ব্যাহত করে। তাই নিজেকে দুশ্চিন্তামুক্ত রাখার চেষ্টা করতে হবে।

৭. মিনারেল ডিওডোরেন্ট – পটাশিয়াম অ্যালাম নামের এক ধরনের লবণ থেকে তৈরি মিনারেল ডিওডোরেন্ট পাওয়া যায়, যা পানিতে ভিজিয়ে বগলে ডলে লাগালে ভালো কাজ দেয়।

৮. পানি – প্রচুর পরিমাণে পানি পান করতে হবে। পানি আপনাকে দেহের ভেতর থেকে পরিষ্কার করবে। এর ফলে ত্বকের ভেতরের ও বাইরের ব্যাকটেরিয়াগুলো দূর হয়ে যায়।

৯. বেকিং সোডা – বেকিং সোডা বহু বছর থেকেই বাজে গন্ধ দূর করতে ব্যবহার হয়ে আসছে। গোসলের পর সামান্য বেকিং সোডা হাতে নিয়ে বগলে লাগালে দুর্গন্ধ আয়ত্বে রাখা যাবে।

১০. ট্যালকম পাউডার – অনেকে ঘাম কমাতে ট্যালকম পাউডার ব্যবহার করে থাকে। এসব পাউডার ঘাম শুষে নিয়ে ত্বকে শুষ্কতা প্রদান করে। তবে এসব পাউডার ব্যবহার করার আগে দেখতে হবে তার PH লেভেল ঠিক আছে কিনা।

১১. ক্ষতিকর অ্যালুমিনিয়াম – বাজারে প্রচলিত ঘামনিরোধক স্প্রে বা রোল অন ব্যবহারে সতর্ক হতে হবে। কারণ এসবে নানা ধরনের বিষাক্ত কেমিক্যাল এবং ত্বকের জন্য ক্ষতিকর অ্যালুমিনিয়াম থাকে।

যাদের Hyperhidrosis এর প্রবণতা আছে তাদের চিকিত্‍সকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত।

ঘাম শরীরের জন্য উপকারী একটি জিনিস। কারণ ঘামের মাধ্যমে শরীর থেকে ক্ষতিকারক পদার্থগুলো বের হয়ে যায়। তাই ঘাম বন্ধ করতে চাওয়া মোটেই যুক্তিযুক্ত নয়। নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতাই পারে আপনার শরীরকে দুর্গন্ধমুক্ত রাখতে।

আরও জানুন » হার্ট অ্যাটাক কি? হার্ট অ্যাটাক এর কারণ, উপসর্গ ও প্রতিকারে করণীয় »

Comments

comments