ঘরের পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রাখতে ৮টি পরামর্শ

0
1061
ঘরের পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রাখতে ৮টি পরামর্শ
Print Friendly, PDF & Email

পাখি যেমন সারাদিন পর সন্ধ্যায় বাসায় ফিরে। ঠিক আমরা বাইরে সারাদিন কাজকর্ম করে ঘরে ফিরে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলি। আমাদের সবার আপ্রাণ চেষ্টা থাকে ঘরের আসবাব থেকে শুরু করে সাজসজ্জাটাও যেন সুন্দর থাকে। কিন্তু ঘর সুন্দর করলেই তো হবে না। এই যে ঘরে থাকছি, যে মানুষদের পাশে নিয়ে বসবাস করছি তাদের সাথে যদি আমার সম্পর্ক শান্তিপূর্ণ না হয় তাহলে পুরো সাজসজ্জাটাই বৃথা। ঘরের শান্তি বজায় রাখতে জেনে নিন ৮ টি পরামর্শ-

১. কুশল বিনিময় করা

পরিবারের সদস্যরা একে অন্যের সাথে কুশল বিনিময় করা এবং ভাবের আদান প্রদান করা। আদরের সাথে জড়িয়ে ধরা যেমন মায়ের সাথে কৌশল বিনিময়,  স্ত্রী সাথে কৌশল বিনিময় আবার সন্তানকে জড়িয়ে জানতে চাইতে পারি আমার বাবুটার মন কেমন আছে। এই যে ভাবের আদান প্রদান, এর ফলে পরিবারে সবার সম্পর্ক গভীর বন্ধনে আবদ্ধ থাকে।

২. অপারগতা

এখানে আমরা একটি উদাহরণ দিয়ে শুরু করি “রেগে গেলেন তো হেরে গেলেন” সময় ও পরিস্থিতি্র কথা ভেবে দেখুন হয়ত এখন সম্ভব না পড়ে কখনও সম্ভব কিংবা আপনার সামর্থ্যের বাইরে। তখন উত্তেজিত না হয়ে কি কারণে পারছেননা সেটা বুঝিয়ে বলুন। পরিবারের প্রত্যেকে প্রত্যেকের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনুন। মনোযোগ দেয়া মানে শ্রদ্ধা করা যা সম্পর্ককে মজবুত করে।

আমাদের সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও অনেক সময় বয়স বা আনুষঙ্গিক কারণে আমরা সন্তানের সব চাওয়া পূরণ করি না। এটার কারণটাও সন্তানকে বুঝিয়ে বলতে হবে। মনে রাখবেন সন্তান শুধু পিতা-মাতাকে শ্রদ্ধা করবে বিষয়টা এমন না, পিতা-মাতাকেও সন্তানের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ রাখতে হবে।

৩. অপমানজনক বিভিন্ন কথা

একে অন্যকে ছোট করে কথা বলবেন না….যেমন তুমি কেমন ঘরের মেয়ে বা ছেলে তা আমার জানা আছে,….অন্য বাচ্চারা পারবে তোমার মত গাধা এটা পারবে না ইত্যাদি। গালাগালি করা থেকে বিরত থাকুন। এসকল কথা বা শব্দ যতই ছোট হোক না কেন সম্পর্কের মিষ্টতা নষ্ট করে দেয়।

৪. কাছে থাকার মুহুর্ত

একসাথে মজা করুন ও আনন্দময় মুহূর্ত কাটান। যতটা সম্ভব কাছে থাকার চেষ্টা করুন। রাতে খাবার টেবিলে এক সাথে গল্প করতে করতে খাওয়া, কিংবা খাওয়া-দাওয়া শেষে একসাথে গোল হয়ে বসে কোন খেলাধুলা করা বা হাসাহাসি করুন। পিতা-মাতা সন্তানের সাথে খেলাধুলা করবেন। স্বামী-স্ত্রী একে অন্যের সাথে কিছুটা সময় গল্প ও হাসি-ঠাট্টা করে কাটাবেন। এতে বন্ধন আরও দৃঢ় হয় ও ঘর শান্তিপূর্ণ থাকে।

৫. মতামত 

একসাথে বসবাস করলেই যে সব বিষয়ে একমত হতেই হবে এমনটা নয়। প্রত্যেক সদস্যের নিজস্ব মতামত ও দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে। আরেকজনের মতের প্রতি শ্রদ্ধা দেখানো আর মত মেনে নেয়া এক কথা নয়। পরিবারের অন্য সদস্যদের মতামতকে শ্রদ্ধা রেখেই নিজ মতামত প্রকাশ করার সুযোগ করে নিতে হবে। অনেক সময় স্বামী তার স্ত্রীর উপর অন্যায়ভাবে মতামত চাপিয়ে দিতে চান আর স্ত্রীরাও স্বামীর মতকে শ্রদ্ধা করেন না। এতে করে ঘরে অশান্তিপূর্ণ পরিবেশ তৈরি হয়।

৬. মা বাবাকে মূল্যায়ন করা

বাবা বাড়ির কর্তা তাই সবাই তার কথাকেই মূল্যায়ন করে অন্যদিকে মায়ের কথাকে গুরুত্ব বা  মূল্যায়ন করে না। এর ফলে বাবা-মায়ের মধ্যে সম্মানজনক সম্পর্ক বজায় থাকে না, ঘরে অশান্তি তৈরি হয়। বাবা-মা দুজনকেই মূল্যায়ন করা সন্তান হিসাবে আপনার দায়িত্ব।

৭. ছেলে মেয়ে উভয়কে মর্যাদা দিন

সন্তান মেয়ে বলে অতিরিক্ত সুবিধা পাবে আর ছেলে বলে অবহেলা কিংবা তার বিপরীতে ছেলে বলে সুবিধা পাবে এমনটা যেন না হয়। আমাদের সামাজিক অবস্থার জন্য এখনও অনেক পরিবারে মেয়েদের ও ছেলেদের সুবিধা বা মর্যাদার ক্ষেত্রে পার্থক্য করা হয়। এই প্রভাব কাটাতে আমাদেরকেই পদক্ষেপ নিতে হবে আগে।

৮. সততা ও নিষ্ঠা

পরিবারের প্রত্যেকের কথা মনোযোগ দেয়া মানে শ্রদ্ধা করা যা সম্পর্ককে মজবুত করে। এর পাশাপাশি বিশ্বাস আমাদের আরো একটি বড় হাতিয়ার। যার সঠিক ব্যবহারে আমদের জীবনে শান্তি আসবেই নিশ্চিত।

আমরা একজন অন্যজনের মত না। প্রত্যেকেই প্রত্যেকের মত। তাই একে অন্যকে সম্মান ও সম্প্রীতি বজায় রেখেই গড়ে তুলতে পারি শান্তির নীড়। কবিতার দুইটি লাইন ” আপনাকে যে বড় বলে বড় সে নয় , লোকে যাকে বড় বলে বড় সেই হয়” বড় যদি হতে চাও ছোট হও তবে।”

আরও জানুন » সুসম্পর্ক্য বজায় রাখতে ৬টি নেতিবাচক চিন্তা থেকে দূরে থাকুন »

Comments

comments