সুস্থ ও দীর্ঘ জীবনের জন্য খাদ্য গ্রহণ সংক্রান্ত ৮ টি পরামর্শ

0
7991
সুস্থ ও দীর্ঘ জীবনের জন্য খাদ্য গ্রহণ সংক্রান্ত ৮ টি পরামর্শ
সুস্থ ও দীর্ঘ জীবনের জন্য খাদ্য গ্রহণ সংক্রান্ত ৮ টি পরামর্শ
Print Friendly, PDF & Email

দীর্ঘতম সুন্দর ও সুস্থ জীবনের জন্য খাদ্য বিশেষ ভুমিকা রাখে। সুতরাং খাদ্য গ্রহণের ব্যাপারে সচেতন হওয়া উচিৎ। তাই যথেষ্ট জ্ঞান থাকতে হবে খাদ্য গ্রহণের ক্ষেত্রে। তাই আপনার দৈনন্দিন খাদ্য তালিকায় সুষম খবার যোগ করুন। খাদ্য গ্রহণে দেহের কর্ম ক্ষমতা সঠিক ভাবে পরিচালিত হয় এবং কর্মশক্তি বৃদ্ধি পায়। দেহকে সুস্থ, সবল ও কর্মক্ষম রাখে যেসব উপাদান, সে সব উপাদান সমূহকে খাদ্য বলে। আসুন জেনে নেই পরিমিত খাদ্য খাওয়ার কিছু কৌশল-

সুস্বাস্থ্যের জন্য-

দৈহিক ও মানসিক শক্তির সমন্বয়ে মানুষ সুস্থ ও সঠিক ভাবে কাজ করতে পারে। তাই শরীরকে ভালো রাখতে চাইলে সময়মত ও পরিমাণমত খাবার গ্রহণ করতে হবে।

কোলেস্টল কমাতে-

প্রতিদিন আঁশযুক্ত খাবার আমাদের খাদ্য তালিকায় থাকা উচিৎ। আমদের কোষ্ঠ-কাঠিন্য পরিষ্কার করে পেট ভাল রাখে আঁশযুক্ত খাবার। আঁশযুক্ত খাবার রক্তে খারাপ কোলেস্টলের পরিমাণ কমিয়ে ভাল কোলেস্টলের পরিমাণ বাড়ায়। আঁশযুক্ত খাবার গ্রহণের ফলে পেট ভরা থাকার অনুভুতি দেয় তাই শর্করা জাতীয় খাবারের চাপ কমায় ফলে ওজন বাড়েনা।

ত্বক সুস্থ রাখতে-

আপনার প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় গাঢ় সবুজ শাক যোগ করুন, সবুজ শাকের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট আপনার ত্বকের লাবন্য বাড়াবে। ভিটামিন চামড়াকে করে প্রদীপ্ত। ত্বকের বলি রেখা দূর করতে সহায়তা করে টক ফলে বিদ্যমান ভিটামিন সি। ত্বক ভালো রাখতে কমলা, জম্বুরা, স্ট্রবেরি, আমড়া, ইত্যাদি টক ফল খেতে পারেন। প্রাকৃতিক তেল সমৃদ্ধ খাবার আখরোট এবং কাজুবাদাম চামড়াকে করে মসৃণ ও সুন্দর।

চুলের পুষ্টিতে-

চুল, ত্বক ও দাঁত মানুষের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে। বিশেষ করে চুল না থাকলে মানুষকে অন্যজগতের প্রাণী বলে মনে হয়। তাই চুলের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে আমাদের খাবার গ্রহণে সচেতন হওয়া দরকার। ডিম, মিষ্টি আলু, পালং শাক, মসুরের ডাল, সয়াবিন, মটরশুটি, মাসকলাইয়ের ডাল, ক্যাপসিকামে বিদ্যমান পুষ্টি উপাদান মাথার ত্বকে পুষ্টি যোগায়। আয়রনসমৃদ্ধ খাবার আমাদের চুলের কোষ বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।

অপুষ্টিজনিত রোগ প্রতিরোধে-

গ্যাস্ট্রিক, আলসার, হার্ট ডিজিজ, ডায়াবেটিস, হাইপারটেনশান নানা রকম দূরারোগ্য ব্যাধি এগুলো অপুষ্টিজনিত রোগ যা মানুষকে ধীরে ধীরে নিঃশেষ করে। যা আপনার স্বাভাবিক জীবনের চলার ছন্দকে ব্যাহত করে। তাই বয়স অনুপাতে খাবার গ্রহণ করে এসব রোগ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

পরিমিত বা পরিমাণে-

আমাদের সবার দেহের গঠন একরকম নয়। এবং সবার বয়সও একরকম নয়। বিশেষ করে আমাদের বয়স অনুপাতে পরিমাণ মতো খাবার গ্রহণ করা উচিৎ এতে করে আমরা নিজেদের সুস্থ, সতেজ রাখতে পারব। তাই পরিমাণ মতো সুষম খাবার খেতে হবে। খাবার যেমন জীবন বাঁচায় তেমনি অধিক খাবারে ফলে মৃত্যুও ঘটে।

দেহের জন্য পানি-

মাথা ব্যথা ও অনিদ্রার মতো শারীরিক সমস্যা হতে পারে যারা পরিমাণে কম পানি পান করেন। আমাদের প্রত্যকের উচিৎ সারা দিনে ১৬ গ্লাসেরও বেশি পানি খাওয়া। পানি দেহের ভিতরে বিভিন্ন বিষাক্ত বর্জ্য নিষ্কাশন করে। এভাবে পানি খাওয়ার ফলে আপনি আপনার ত্বকের যৌবন ধরে রাখতে পারেন।

খাবার গ্রহণের কিছু মৌলিক নিয়ম-

সকালে মুখ ধুয়েই এক থেকে দুই গ্লাস পানি খা‌ওয়া ভাল এতে সহজে কোন পেটের রোগ হয় না। খাওয়া মনযোগসহকারে একটু ধীরে ধীরে ভালমত চিবিয়ে খাওয়া উচিত। খাবার যত চিবিয়ে খাওয়া যায় তত তাড়াতাড়ি হজম হয়। রাতে খাওয়ার অনন্ত আধ ঘন্টা থেকে এক ঘন্টা পরে ঘুমাতে যওয়া উচিত। টিভি, ফোন, কম্পিউটার খাওয়ার সময় বন্ধ রাখুন। বাংলায় একটি প্রবাদ আছে, সকালে জমিদারের মতো, দুপুরে প্রজার মতো, রাতে ভিখিরির মতো  সুস্থ থাকার মূলমন্ত্র।

আরও জানুন » নিজেকে সুস্থ রাখতে পরিমিত ঘুমের প্রয়োজনীয়তা »

Comments

comments