কাগজ দিয়ে তৈরি করুন নিজের ব্যবহারের জিনিস পত্র

0
6904
কাগজ দিয়ে তৈরি করুন নিজের ব্যবহারের জিনিস পত্র
কাগজ দিয়ে তৈরি করুন নিজের ব্যবহারের জিনিস পত্র
Print Friendly, PDF & Email

সভ্যতার ক্রমবিকাশের শুরু থেকে মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে আছে কাগজ। বুদ্ধিদ্বীপ্ত মানুষ যখন কথা প্রকাশের সাথে সাথে মনের ভাব লিখে আদান প্রদানের তাগিদ অনুভব করল তখন থেকে কাগজের ব্যবহার শুরু হলো। বই-খাতা থেকে শুরু করে খাবারের মোড়ক, এমনকি বিনিময়ের মাধ্যম টাকা – সবই কাগজের তৈরি!

সুদূর অতীতে প্রাচীন মিশরে প্যাপিরাস নামক নলখাগড়া থেকে কাগজ তৈরি হতো। কাগজের ইংরেজি প্রতিশব্দ Paper। তবে সেই প্রাচীন কাগজ এবং বর্তমান কাগজের মধ্যে রয়েছে ব্যাপক পার্থক্য। ধারণা করা হয়, আধুনিক কাগজের উদ্ভব ঘটেছিল চীনে প্রায় ২০০ খ্রিষ্টাব্দে। পরবর্তীতে চীনের কাগজ সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে মুসলিম বিশ্বের মাধ্যমে যারা যৌথভাবে কাগজ তৈরির মূল উপাদান হিসেবে কাঠের মণ্ড তৈরির মেশিন এবং কাগজ তৈরির প্রক্রিয়া উদ্ভাবন করেন। তাঁদের উদ্ভাবিত পদ্ধতি অনুসরণ করেই বর্তমানের নিউজপ্রিন্ট ও অন্যান্য কাগজ উৎপাদন করা হয়।

হাতে তৈরি কাগজের বৈশিষ্ট্য

কাগজকলে যেমন নানা ধরনের কাগজ তৈরি হয়, তেমনি কিছু কাগজ হাতেও তৈরি করা হয়। এবড়োখেবড়ো জমিনের এই মোটা কাগজগুলো অ্যামবুস পেপার নামেও পরিচিত। এগুলোকে বলা হয় হ্যান্ডমেড পেপার। নানা রং ও ডিজাইনের হ্যান্ডমেড পেপার বাজারে কিনতে পাওয়া যায়। এসব কাগজ মেশিনে তৈরি কাগজের মতো পাতলা ও মসৃণ হয় না। অমসৃণতাই হ্যান্ডমেড পেপারের বৈশিষ্ট্য।

হ্যান্ডমেড এর ব্যবহার

হ্যান্ডমেড পেপার আসলে লেখার জন্য তৈরি করা হয় না। এগুলো মূলত ছবি আঁকা ও পেপারক্রাফট তৈরি করার জন্য ব্যবহার করা হয়। যেমন – কলমদানী, ডায়েরি, নোটবুক, ফটো অ্যালবাম, ফটোফ্রেম, মুখোশ, কাগজের ফুল, শোপিস, জুয়েলারি বক্স, গয়না, ল্যাম্পশেড ইত্যাদি তৈরিতে হ্যান্ডমেড পেপার ব্যবহার করা হয়।

সিল্ক পেপার

কিছু কাগজ বানানো হয় কাপড়ের মতো পাতলা, এগুলোকে বলে সিল্ক পেপার। এ কাগজ একরঙা পাওয়া যায়, আবার নানা ডিজাইনেরও পাওয়া যায়। কাপড়ের মতো সিল্ক পেপারেও ব্লকপ্রিন্ট ও স্ক্রিনপ্রিন্ট দিয়ে নকশা করা হয়। এসব কাগজ মূলত উপহারের মোড়ক হিসেবে ব্যবহার করা হয়।

পেপার ক্রাফট বহুল পরিচিত এবং জনপ্রিয় একটি শিল্প। কাগজের তৈরি ল্যাম্পশেড, মুখোশ ও শোপিস দিয়ে ঘর সাজিয়ে আকর্ষণীয় পরিবেশ তৈরি করা যায়। কাগজের তৈরি অন্য শিল্পগুলোও অত্যন্ত চমৎকার হয়ে থাকে।

হাতে তৈরি কাগজের আসবাবপত্র

রাতের বেলা কাগজ পানিতে ভিজিয়ে রাখা হয়। পরদিন সকালে এসব ভিজানো কাগজ ভাতের মাড় বা আটার মাড় দিয়ে মুন্ডু তৈরি করা হয়। এই মুন্ডু ব্যবহার করে বিভিন্ন আকৃতি দিয়ে তৈরি করে নিতে পারেন নিজের প্রয়োজনীয় জিনিস। সংসারের কাজের ফাঁকে ফাঁকে একান্ত নিজের পরিকল্পনা থেকেই তৈরি করে নিতে পারেন সোফাসেট, টেবিল, টি-টেবিল, চেয়ার, ফুলদানী, মোড়া, আলনা, পীড়া ইত্যাদি জিনিস। পরে এগুলোতে বিভিন্ন রং দিয়ে আল্পনা করে মনের মতো করে নিতে পারেন।

বর্ষার সময় বা বৃষ্টি হলে এসব তৈরি করা যায় না। কেবলমাত্র প্রচন্ড রোদের সময় তৈরি করা হয়। কারন এ গুলো তৈরির পর অনেক রোদে শুকাতে হয়। ভালো করে না শুকালে তেমন শক্ত হয় না। একবার তৈরি করে রোদে শুকালে কাঠের আসবাবপত্রের মতই শক্ত ও মজবুত হয়।

নিজেকে কর্মদক্ষ মানুষ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করুন। নিজে শিখুন ও অন্যকে শেখান। নিজের উদ্যোগে আত্মকর্মসংস্থান গড়ে তুলুন। আগামী প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে সহযোগিতা করুন।

আরও জানুন » ক্লান্তি দূর করতে সহজ ১১ টি উপায় »

Comments

comments