অ্যালার্জি হওয়ার ৮ টি কারণ ও মুক্তির উপায়

0
5332
অ্যালার্জি হওয়ার ৮ টি কারণ ও মুক্তির উপায়
অ্যালার্জি হওয়ার ৮ টি কারণ ও মুক্তির উপায়
Print Friendly, PDF & Email

পৃথিবীর সর্বত্র বহুবিস্তৃত একটি রোগ হলো অ্যালার্জি। কোনো না কোনো সময় প্রতি তিনজন ব্যক্তির মধ্যে একজন ব্যক্তি অ্যালার্জিতে আক্রান্ত হয়। অ্যালার্জির হওয়ার বহুবিধ কারণ রয়েছে। এর উপসর্গ অনেক রকম-মৃদু থেকে মারাত্মক ও জীবনঘাতি হতে পারে। আসুন জেনে নেই অ্যালার্জি হওয়ার ৮ টি কারণ ও মুক্তির উপায় সমূহ-

আসবাবপত্র ও বিছানা-

বিছানার চাদর, বালিশের কভার, বালিশ, লেপ, তোষক, মেট্রেস,কম্বল, মশারিতে প্রতিদিন আক্রমণ করে ধূলোবালি, জীবাণু ও ঘরে থাকা মাইট ডাস্ট জীবাণু। ঘরে থাকা মাইট ডাস্ট জীবাণুগুলো দেখতে মাকড়সা জাতীয় ক্ষুদ্র কীট। আমাদের ত্বক থেকে প্রতিনিয়ত ঝরে যায় অসংখ্য মৃত কোষ আর তা খেয়ে বেঁচে থাকে ডাস্ট মাইট জীবাণু। আর এরা প্রতিনিয়ত প্রচুর বিষ্ঠা ত্যাগ করে। আর ঘরবাড়ি-বিছানাপত্র ঝাট দেওয়ার সময় এই বিষ্ঠাগুলো বাতাসে ভেসে বেড়ায় ও আমাদের নাক মুখ দিয়ে আমাদের অজান্তেই আমদের শরীরে ঢুকে পড়ে। ডাস্ট মাইট এর বিষ্ঠাই আমাদের শরীরে অ্যালার্জি হওয়ার মূল কারণ।

পরামর্শ-

বিছানা ও ঘরে থাকা ডাস্ট মাইট জীবাণু থেকে বাঁচার উপায়, বিছানার চাদর, বালিশের কভার, লেপের কভার, মশারি ভালো করে ধূয়ে সব সময় পরিষ্কার রাখতে হবে। এবং ঘরের মেঝে ও ঘরের আশপাশ পানি ও ক্লিনার দিয়ে সবসময় পরিষ্কার করতে হবে। তাহলেই অ্যালার্জেন থেকে মুক্ত থাকা সম্ভব। অন্ততপক্ষে সপ্তাহে এক বার বিছানাপত্র রোদে ভালো করে শুকিয়ে নিন। আর রোদে থাকা আল্ট্রা ভায়োলেট রশ্মিতে হাউজ ডাস্ট-মাইট জীবাণুরা মরে যায়।

আর বাড়িতে থাকা আসবাবপত্র ও কাঠের আসবাবপত্র প্রতিদিন ঝাড়া মোছা করা প্রয়োজন এতে করে অ্যালার্জি থেকে বাঁচতে পারব।

বই পুস্তক-

আমরা যারা বই পড়তে ভালোবাসি তারা যত্ন সহকারে বই বুক সেলফে সাজিয়ে রাখি। আর বাতাসে উড়ে বেড়ানো ধুলোবালি বই-পুস্তকে গিয়ে জমে থাকে আর জমে থাকা ধুলোবালি সৃষ্টি করে অ্যালার্জি।

পরামর্শ

তাই দু-এক দিন পর বা সপ্তাহে একবার বুক-সেলফ পরিষ্কার করা উচিৎ। এতে করে ধুলোবালিতে তৈরি হওয়া ডাস্ট মাইট জীবাণু বুক-সেলফে জমে থাকতে পারবেনা।

আরও জানুন » বইয়ের যত্নে ৭ টি পরামর্শ »

কার্পেট ও ম্যাট-

কার্পেট, ম্যাট ঘরের সৌন্দর্য বাড়িয়ে তুলে। অনেকে শীতের সময় ঘর উষ্ণ রাখতে মেঝেতে ম্যাট বা কার্পেট বিছিয়ে রাখে কিন্তু ম্যাট বা কার্পেটে প্রতিদিন প্রচুর ধুলাবালি জমে। এই ময়লা থেকে জন্মায় ডাস্ট মাইট জীবাণু বিশেষ করে ছোট বাচ্চারা ম্যাট বা কার্পেটে বসে খেলে সে কারণে বাচ্চারা অ্যালার্জিতে আক্রান্ত হয় এবং বাঁধিয়ে ফেলে নানান আসুখ।

পরামর্শ-

ম্যাট বা কার্পেট থেকে ডাস্ট মাইট দূর করতে প্রায় প্রতিদিন ভ্যাকুয়াম ক্লিনার দিয়ে পরিষ্কার করতে হবে অথবা ছাদে নিয়ে ম্যাট কার্পেট রোদে দিয়ে শুকাতে হবে ও ঝাট দিয়ে পরিষ্কার করতে হবে।

জানালা ও দরজার পর্দা-

ঘরের সৌন্দর্য বাড়াতে আমরা দরজা বা জানালায় পর্দা ব্যবহার করে থাকি। বাসাবাড়ির দরজা,জানালায় পর্দা ভাঁজে ভাঁজে জমে প্রচুর ময়লা আর তৈরি হয় ডাস্ট মাইট অ্যালার্জি। পর্দা নাড়াচাড়া করার সময় ডাস্ট মাইট জীবাণু আমাদের নাক মুখে প্রবেশ করে মানুষের মধ্যে অ্যালার্জির তৈরি করে।

পরামর্শ-

প্রায় প্রতিদিনই দরজা, জানালার পর্দা ঝেড়ে ফেলতে হবে। প্রয়োজনে এক সপ্তাহ পর পর পর্দা ধুয়ে দিতে হবে। যদি মোটা কাপড়ের পর্দা হয় তাহলে ভেজা কাপড় দিয়ে মুছে দিতে হবে অন্তত মাসে এক বার পর্দা ধুয়ে দিতে হবে। তাহলে অনাহুত অ্যালার্জি থেকে সহজেই রক্ষা পাওয়া যাবে।

রান্নাঘর-

রান্নাঘরে আমাদের প্রতিদিনই কাজ থাকে। মাছ, মাংস, তরি-তরকারি, পেঁয়াজ-রসুন, মরিচ ইত্যাদি উপকরণের আবর্জনা ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকে। রাতের অন্ধকারে সেই আবর্জনায় হামলা করে ইদুর ও পোকামাকড়। এতে করে রান্না ঘরে তৈরি হয় ছত্রাক ও ডাস্ট মাইট। তাছাড়া ময়লা-আবর্জনায় পচে দুর্গন্ধ ছড়ায়।

পরামর্শ-

রান্নাঘর পরিষ্কার রাখতে হলে প্রতিদিন ফ্লোর ক্লিনার বা গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে অথবা মুছে ফেলতে হবে। রান্না ঘরে রাখা হাঁড়ি-পাতিল, মসলার কৌটা, থালা-বাসন, জার ও গ্যাসের চুলা প্রতিদিন পরিষ্কার করা। এতে করে ধুলাবালি, ছত্রাক ও ডাস্ট মাইট জীবাণু থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে।

গোসলখানা-

গোসলখানা ব্যবহার করার পর ভেজা থাকার কারণে স্যাঁতেস্যাঁতে হয়ে যায়। তাছাড়া বাথ-টাব,প্যান ও মেঝেতে শ্যাওলা পড়ে লালচে হয়ে যায়। এর ফলে গোসলখানায় সৃষ্টি হয় ছত্রাক জীবাণু। তাছাড়া মেঝে পিচ্ছিল হয়ে যায়। এই অস্বাস্থ্যকর গোসলখানা ব্যবহার করার ফলে আমাদের শরীরে ছড়িয়ে পড়ে নানা ধরণের জীবাণু ও ডাস্ট মাইট অ্যালার্জি।

পরামর্শ-

গোসলখানা ব্যবহারের পর পানির কল ভালোভাবে বন্ধ করা। গোসলখানার জানালা খোলা রাখতে হবে যেন আলো-বাতাস প্রবেশ করতে পারে। আর চেষ্টা করতে হবে গোসলখানা যাতে শুকনো থাকে। প্রতিদিন গোসলখানার মেঝে ক্লিনার দিয়ে পরিষ্কার রাখতে হবে।

পোষা প্রাণী থেকে-

অনেকে বাড়িতে নানান জাতীয় পশু-পাখি পুষে থাকেন। বিশেষ করে প্রভুভক্ত কুকুর, বাড়ি পাহারার জন্য ও নিজেদের সুরক্ষিত রাখতে কুকুর পুষে থাকেন। অনেকেই হয়তো জানেন না অতিপ্রিয় পোষা প্রাণীদের শরীরে প্রতিদিন প্রচুর ডাস্ট মাইট জন্মায় ও লোম, পশুপাখির মলমূত্র ও লালা থেকে অ্যালার্জি সৃষ্টি হয়।

পরামর্শ-

পশুপাখিদের প্রতিদিন না হলে ও দু-একদিন পর পর গোসল করিয়ে দেওয়া। গোসলে যদি সাবান ব্যবহার করা যায় তাহলে আরও ভালো। পশুপাখি যেখানে থাকে সেই জায়গাটা প্রতিদিন গরম পানি দিয়ে পরিষ্কার করা। প্রয়োজনে পশুপাখির ঊচ্ছিষ্ট খাবার ও মলমূত্র যেন একটি নিদিষ্ট পাত্রে পড়ে সেই ব্যবস্থা করা। এক মাস অন্তর অন্তর পশু-পাখিকে ডাক্তার দেখানোর প্রয়োজন। এতে করে অ্যালার্জি প্রতিরোধ করা সম্ভব।

ঠান্ডা থেকে অ্যালার্জি-

বাংলাদেশ ঋতু বৈচিত্রের দেশ। ঋতুর পরিবর্তনে আবহাওয়ার পরিবর্তনে আমাদের স্বাস্থ্যের উপর বিরুপ প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। বিভিন্ন বয়সে মানুষের শীতকালীন কিছু উপসর্গ দেখা যায়। শীতকালে কোল্ড অ্যালার্জি দেখা দেয়। ঠান্ডা বাতাস, সিগারেটের ধোয়া, তীব্র গন্ধ, ফুলের রেনু উপস্থিতির কারণে কোল্ড অ্যালার্জি দেখা দেয়। ফলে সারা শীতেই অনেকেই অসুস্থ থাকে।

পরামর্শ-

যেসব উপসর্গ থেকে অ্যালার্জি হয় সেগুলো থেকে দূরে থাকা। ফ্লানেল কাপড়ের তৈরি কাপড় ব্যবহার করা, কান ঢেকে রাখা, মুখোশ ব্যবহার করা।

আরও জানুন » রুপচর্চায় নখের যত্ন »

লেখাটি আপনার কেমন লাগলো তা আমাদেরকে অবশ্যই জানাবেন। আপনার মতামত আমাদের কাছে খুবই মূল্যবান। আপনি যদি আপনার নিজের লেখা কবিতা, গল্প, প্রবন্ধ বা অন্য যেকোনো বিষয় বাঙালিয়ানা Magazine এ প্রকাশ করতে চান, তবে আমরা অত্যন্ত আনন্দের সাথে আপনার লেখা প্রকাশে সচেষ্ট হব । আগ্রহীদের এই ইমেইল ঠিকানায় bangalianamagazine@gmail.com যোগাযোগের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হল । Copy করা কোন লেখা পাঠাবেন না। দয়া করে আপনাকে নিশ্চিত করতে হবে যে, আপনার পাঠানো লেখাটি অনলাইনে আগে কোথাও প্রকাশিত হয়নি। যদি অনলাইনে আগে অন্য কোথাও আপনার লেখাটি প্রকাশিত হয়ে থাকে, তাহলে আমরা সেটা প্রকাশ করতে পারব না। আমরা অরাজনৈতিক, অসাম্প্রদায়িক এবং নিরপেক্ষ।

বিঃ দ্রঃ লেখাটি কোনরকম পরিমার্জন ব্যতিরেকে সম্পুর্ণ লেখকের ভাষায় প্রকাশিত হল। লেখকের মতামত, চরিত্র এবং শব্দ-চয়ন সম্পুর্ণই লেখকের নিজস্ব । বাঙালিয়ানা Magazine প্রকাশিত কোন লেখা, ছবি, মন্তব্যের দায়দায়িত্ব বাঙালিয়ানা Magazine কর্তৃপক্ষ বহন করবে না।

Comments

comments